সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ???? (০৩-০২-২০০৮ ২৩:৩০)

টপিকঃ অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

শাবিপ্রবি সমাবর্তন [৬ ডিসেম্বর, ০৭]
অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

http://forum.projanmo.com/uploads/2008/02/109_conv.JPG

[১]
আবার পুরোনো শহরে সবাই একসাথে হলাম। পাস করবার পরে ২ বার সিলেট গিয়েছি। কিন্তু, এইবারের মত এত নস্টালজিয়া কখনো চেপে ধরে নাই। নস্টালজিয়ার ধাক্কায় ভার্সিটির আনাচে-কানাচের ছবি পর্যন্ত তুলে ফেলি। “চায়ের টং”, “এখানে ময়লা ফেলুন”, “রোড টু ইনফিনিটি”, “ক্লাস-রুম”, “নোটিস বোর্ড”।

অবশ্য, অনেকেরই অবস্থা আমার মত। একসাথে জড়ো হওয়াতে মনে হচ্ছিল সবাই এখনো আগের মতই ছাত্র। অডিটোরিয়ামের দরজা খুললেই পরীক্ষা দিতে ঢুকবো।

শুধু মাঝখান থেকে কেটে গেছে দেড়টা বছর!



[২]
এইবার সিলেটে যাবার জন্যে ৩৪ জনের একটা ‘চিল্লা-চিল্লি’ গ্যাং গঠন করা গেলো। ট্রেনের বগিতে উচ্চ-কন্ঠ তানিম থাকাতে শুরু থেকেই সবাই মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম বেশ রাত পর্যন্ত দন্ত প্রদর্শন করা যাবে। যথারীতি, ঘন্টা-খানিকের মধ্যেই আমাদের বগি অন্য বগির যাত্রীদের মনোঃ-কষ্ট এবং ঘুম-কষ্টের কারণ হয়ে দাড়ালো। টিকেট-চেকারের মাধ্যমে তারা হুমকি দিলো, চিল্লা-মিল্লি না থামাইলে ট্রেন অবরোধ করা হবে। শোনার পরে ৩০ সেকেন্ডের মত বগি অবশ্যি শান্ত ছিল।

প্রথম দিন পোস্টালের রেস্ট হাউসে উঠলাম। পরদিন সিলেটের মদিনা মার্কেট। সিলেটে আমরা যারা ৯/বি, পাঠানটুলায় থাকতাম, তাদের জন্যে চাচার টং ছিল ফরজীয় লেভেলের রুটিন। ‘ফুটপাত হকার উচ্ছেদ অভিযানের’ অংশ হিসেবে সেই বড় টং আর নেই। তার বদলে চাচার ‘চ্যাং টং’ এখন ছোট্ট একটি দোকান হয়ে ঠিক আমাদের ৯/বি বাসার গেটের পাশেই আশ্রয় নিয়েছে। মদিনা মার্কেটে নেমেই বাসায় ঢুকবার আগে চাচার খোঁজ নিলাম। ভালোই আছেন। সেদিন রাতেই ছোট আরেকটা আড্ডা বসে গেল। অপরিহার্য সূরা সদস্য সিনিয়র শামসীর & রসি ভাই সহ!




[৩]
সিলেটে আমি যে রুমে থাকতাম সেখানে এখন ফিজিক্সের রাজী থাকে।  প্রতিবার ঢুকলেই একটা ধাক্কা মত খাই। শুধু সময়, মানুষ আর কিছু বাড়তি জিনিস বদলে গেছে। দেয়ালের সাথে দেয়াল-ঘড়িটা সেই একই আছে। এই ঘরের ফ্লোরের প্রতি ইঞ্চিতে নিজ পদ-চিহ্ন। বারান্দার গ্রিল দিয়ে এক ঝলক রাস্তা আর এই চোখের স্মৃতিও অভিন্ন।

বারান্দায় গেলেই অদ্ভুত কিছু স্মৃতি নাড়া দেয়। তৃতীয় বর্ষে থাকতে রাস্তার উলটো পাশের চটপটি দোকানে খেয়ে জন্ডিস বাঁধালাম। দেড় মাস ঢাকায় থেকে সুস্থ হয়ে যখন ফেরত আসছি তখনও শরীর কিছুটা দূর্বল। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে ৫/৬ দিন বাকি। ইন্ড্রাষ্টিয়াল আর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জন্যে চোখে অন্ধকার দেখছি (চশমা সহ)। এই সময় আমার সঙ্গী হিসেবে বারান্দায় আবির্ভূত হল একটি কবুতর। ২০ মিনিটের মধ্যে চাল দিয়ে এটাকে পোষ্‌ মানিয়ে ফেললাম। ঘরের জানালায় সে আশ্রয় নিল। কবুতরটা বৃদ্ধ, সাথে ঘুম-কাতুরে ছিল। হয় ঘুমাতো নাহয় ঢুলু ঢুলু চোখে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকত। ইন্ড্রাষ্টিয়াল পড়তে পড়তে যখনই বিরক্তির শেষ সীমায় পৌঁছাতাম, তখন আমিও দরজায় হেলান দিয়ে কবুতরের পাশে দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখতাম। দুপুরের কড়া রোদ কিংবা বিকালের শেষ আলো কিছুই আমাদের বিরক্ত করতো না। বারান্দায় গিয়ে দাড়ালেই ওটার কথা মনে হয়।

বড় বারান্দায় এইবারও ভাঙ্গা চেয়ারটাকেই পেলাম। এই চেয়ারের বয়স কমপক্ষে ৭ বছর। রূম-মেট সাফায়েত কিনেছিল। ওরা অস্ট্রেলিয়া চলে যাবার পরে চেয়ারটির জায়গা হয় বারান্দায়। ঝড় হোক বা বৃষ্টি-- এটাতে বসেই আমাদের মেসের নওজোয়ান সদস্যরা ডিজুসের ফ্রি মিনিটের সর্বোত্তম ব্যবহার করত। গ্রামীণ ফোণ কর্তৃপক্ষ যদি চেয়ারটির আত্ম-ত্যাগের কাহিনী শুনতেন তাহলে নিশ্চয়ই লোগোর অল্প একটু জায়গা জুড়ে এটি স্থান পেত।

সিলেটে এই প্রথম ট্যুর যেবার ২-কে ব্যাচের ‘নাতি’র সাথে দেখা হল না। বহুবার, বহুসময় ওর বাসায় গিয়েছি। কিন্তু, আংকেল মারা যাবার পরে এই প্রথম যাওয়া। বাসাটা পুরো খালি হয়ে আছে। একধরনের নিঃসঙ্গতা বোধ হল ওর বাসায় গিয়ে।


[৪]
৫ তারিখ খুব সকালেই গাউন আর আইডি কার্ডের জন্য ভার্সিটি গিয়ে আমরা হাজির। সোহাগ আর ফেকুকে এত সকালে ঘুম থেকে তোলা যাবে প্রথমে কেউ আশা করি নাই। অফিস জীবন সবাইকেই কিছু পরিবর্তন করেছে। ৮ টার মধ্যে সবাই ঘুম থেকে উঠে পড়ে!!

লাইনে দাড়ানো মাত্রই ফটো-সেশন শুরু হল। যথারীতি ধাক্কা-ধাক্কি করে লাইনে সবাই নিজের অবস্থান
পুনঃপুনঃপ্রতিষ্ঠিত করল। গাউন জোগাড় হবার পরে ক্লাসমেট তানভীর ‘স্যারের’ দর্শন নিতে রওনা দিলাম। দর্শন শেষে নিচে নেমে জাফর স্যারের সাথে ফটো-সেশন। সাথে টুকরো, টুকরো আড্ডা তো চলছেই।

পরদিন সমাবর্তন। দেড় ঘন্টা rally লাইনে দাঁড়িয়ে সহপাঠী মেজবা rally sort algorithm আবিষ্কার করে ফেললো। এরপর দুই ঘন্টা চেয়ারে বসে ঝিমোবার পরে রাষ্ট্রপতি মহোদয় আসলেন। আমরা গ্রাজুয়েট ঘোষিত হলাম। এরপর শুধু ক্যামেরার শাটারের শব্দ মনে পড়ছে। শেষ বিকেলে সিনিয়রদের সাথে আড্ডাটা অনেকেরই মনে থাকবে। জহির স্যার কিংবা তৌফিক ভাইদের মত বুড়োদের সাথে লম্বা আড্ডা হল।

কনভোকেশন রাতে আমরা গ্রাজুয়েশন পার্টিতে জড়ো হয়েছি সিলেটের চৌহাট্টার আল-হামাদান রেষ্টুরেন্টে, বিদায় ঘন্টা তখন ক্ষীণ স্বরে বাজতে শুরু করেছে। অনেকের অফিস শনিবার! ছাত্রত্ব অনুভূতি ত্যাগ করে আবার কর্মস্থলে ঢুকতে হবে। বৃহস্পতিবার রাতেই তারা সিলেট ছেড়ে রওনা দিলো।

পরদিন ইউনিভার্সিটিতে সার্টিফিকেট তুলবার পরে বিশ্বদার সাথে দেখা। ডি-বিল্ডিং এর সামনে ভাবীকে নিয়ে চুপচাপ বসে আছে। সামনে যাবার পরেই বললেন, ‘সুনামগঞ্জে যখনই আসি, ফেরত যাবার পথে রিক্সা করে ইউনিভার্সিটিতে একবার ঢুঁ মেরে যাই। গোল চত্বর থেকে এ-বিল্ডিং একবার রিক্সা দিয়ে ঘুরেই ভার্সিটি থেকে বের হয়ে পড়ি। রিক্সা থেকে নামি না। অথচ এইবার যেতে ইচ্ছা করছে না।’


[৫]

“Just like before
It’s yesterday once more”


সিলেট জীবনটাই ছিল অন্যরকম। যারা বাইরে থেকে সিলেটে প্রথমবার গিয়েছিলাম, তাদের কাছে অনেকটা হিজরত করার মত ব্যাপার। চেনা একটি শহর ছেড়ে অচেনা অন্য শহরে যাওয়া। সমাবর্তনের ২টি দিন শুধু সেই অচেনা শহরে ছয় বছর কাটানো সময়ের স্মৃতির ঝলকানি।

ভার্সিটির প্রথম (২০০১) এবং শেষদিন (২০০৬) এখনও অনায়াসে মনে পড়ে। বড় অডিটোরিয়ামে গিয়ে সবাই জড়ো হয়েছি। পার্থ স্যার এসে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজীতে লেকচার দেওয়া শুরু করেছে। একটু পরে জাফর স্যার এসে হাজির। বেড়াল মারার গল্প, সাথে ভারী ভারী কিছু কথা। বের হয়ে নতুন মেস সুরমায় চলে গেলাম। স্বাধীন জীবনের শুরু। মেসের ২/৩ জন মিলে চলে যাই আম্বরখানায় [মদিনা মার্কেট তখন শূন্য]। প্রয়োজনীয় হাড়ি-পাতিল কিনে আনি। রাতে বসে একনাগাড়ে এলোপাথাড়ী গল্প।

আর শেষদিন বড় অদ্ভুত। ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বসে আছি থিসিস প্রেজেন্টেশনের জন্যে। তারিখ পিছিয়ে পরের মাসে গেলো। যে যার মতো ফিরে আসলাম নিজ পিতৃস্থলে। শুরু এবং শেষটা একইরকম হল। যে যার মতো বিচ্ছিন্নভাবে সিলেটে গিয়েছিলাম, বিচ্ছিন্নভাবেই শেষবারের মত চলে এসেছি।

এর ঠিক দেড় বছর পর সমাবর্তনে আবার সবাই একসাথে হয়েছি। ভার্সিটি অনেক সুন্দর সাজিয়েছে। যেখানেই ঢুঁ মারি সেখানেই স্মৃতিও ছায়ার মত সাথে সাথে ঢুঁ মারে। কে যেন প্রথমদিন জিজ্ঞাসা করল, “ওই বড় টয়লেট চাপসে! কোনটাতে যামু রে?” একটু চিন্তা করে কোনো সন্দেহ ছাড়াই ৩১০ নম্বর রূমের উত্তর পাশের টয়লেটে যাবার পরামর্শ দিলাম। সমাবর্তনের পরদিন ১ম বর্ষেই ইন্ডিয়া এক্সপোর্টেড সমিত আসলো সিলেটে। ফোনে ওকে রাস্তা-ঘাট চেনাতে হল!! এরপর মেডিকেলের উল্টোদিকে রেষ্টুরেন্টে আড্ডা দিলাম।

সাত তারিখ রাতে বড় একটা গ্রুপ ঢাকায় ফেরত আসছে। বাস স্টেশনে গিয়েছি ওদের সিলেট থেকে আবার বিদায় দেবার জন্যে। এরমধ্যে দেখি রাজী আর নায়েম ভাই গাড়ী নিয়ে হাজির। খাদেম ব্রীজে যাবে। রওনা দিলাম ১১.৩০ টার দিকে। ব্রীজে যখন পৌছলাম তখন রাত ১২.৩০। পাশেই সুরমা নদী। তিনজনই শীতের মধ্যে লম্বা হয়ে ব্রীজের ফুটপাতে শুয়ে পড়লাম। ‘তারকা-স্নান’ বলে বাংলায় কোনো শব্দ আছে কিনা জানি না। তবে, তারাগুলো হাত বাড়িয়ে ধরতে কোনোমতে বাকি রেখেছিলাম।

Carpenters এর পুরোনো, অসম্ভব সুন্দর একটা গান আছে, স্মৃতি-জাগানিয়া টাইপের। স্মৃতি-চারণের সব গল্পই সম্ভবত অসমাপ্ত ধরণের হয়ে থাকে। একে যতিচিহ্ন দিয়ে পূর্ণ সমাপ্তি দেওয়া যায় না। চলতে থাকা এই বিচ্ছিন্ন গল্পগুলোও নাহয় “ইয়াস্টারডে ওয়ান্স মোর” এর আরেকটি সাক্ষী হয়ে থাকুক।।


Those were such happy times
And not so long ago
How I wondered where they'd gone
But they're back again
Just like a long lost friend
all the songs I loved so well....

http://forum.projanmo.com/uploads/2008/02/109_road.JPG

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

হঠাৎ করে মনে হল আমি যদি আপনার মত এইরকম নষ্টালজিয়ার অনুভূতি ব্যাক্ত করতে পারতাম। কিন্তু হায়, সব ক্ষমতা তো আর সবার থাকে না। খুব ভাল লাগল আপনার লেখা পড়ে। ধন্যবাদ এরকম হৃদয় ছোয়া লেখা দেবার জন্য।

...ঈশ্বরের মত
ভবঘুরে স্বপ্নগুলো.....                                                                        রক্তের গ্রুপঃ A+

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মুশাফ (০৫-০২-২০০৮ ০৩:৪৭)

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

পুরো লেখাটা পড়ে আমি প্রায় ভাষাহীন হয়ে গেছি মুগদ্ধতায়। কি চমৎকারভাবে প্রতিটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। খুবই ভাল লাগল পড়ে।

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

সত্যিই স্মরনীয়....
সময় হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু....নাকি বন্ধু!!!

কেমন জানি সব!!

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

কি চমৎকার সাবলীল লেখা! রুমন ভাই, হৃদয় ছুয়েঁ গেল।
আর ছবি কই? শুধু একটা দিয়ে হবে না। আরো ছবি চাই।

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

ধন্যবাদ তপুদা। :">

কিছু ছবি এখানে আছেঃ http://amader-kotha.blogspot.com/

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

আগের মতই বলবো
"কেনো যে এমন লিখতে পারি না !!!"

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

বুঝতে পারছি আবেগ উছলে পড়ছিলো লেখার সময় .... চমৎকার প্রকাশভঙ্গি। আমি এখনও ঘরের কাছের বুয়েটে গেলে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হই.. আর আপনার তো .... ।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রুমন (০৫-০২-২০০৮ ০৯:৪৫)

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

শামীম লিখেছেন:

বুঝতে পারছি আবেগ উছলে পড়ছিলো লেখার সময় .... চমৎকার প্রকাশভঙ্গি। আমি এখনও ঘরের কাছের বুয়েটে গেলে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হই.. আর আপনার তো .... ।

এইজন্যেই "অনেকটা হিজরত করার মত ব্যাপার" লিখেছি।:D ধন্যবাদ শামীম ভাই বিচ্ছিন্ন কিছু অনুভূতি পড়বার জন্যে।

বি.দ্রঃ একটা শূন্য পোস্ট হয়েছে আমার আগেরটাতে।:rolleyes: মডারেটরদেরকে অনুরোধ করছি মুছে দেয়ার জন্যে।

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শিপলু (০৫-০২-২০০৮ ১৫:৩৮)

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

শিরোনাম দেখে ভাবলাম কবিতা। তাই খুলতে এত দেরি।;q

শেষ ছবিটায় যা দেখলাম।
গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে।

আমাদের ব্যাচের সবার চাইতে সিলেটে আমি ১ মাস বেশি থেকেছি। চাকরীর জন্য। ঐ একমাস শুধু আপন মনে কাজই করেছি। আর কিছু নয়।
শেষ কদিন মন খুব খারাপ থাকত। বিভিন্ন ঘটনার কথা মনে পড়ত আর ভাবতাম এগুলো আর হবে না। গল্ফ ক্লাবে যেতাম সবাই বিকেল বেলা আড্ডা মারতে। সেখানেও গিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসে গেলাম। পুরো ফাকা লেগেছিল। কেউ নেই। একটা খা খা ভাব।
তল্পি-তল্পা সহ যখন শেষবারের জন্য বাসে উঠলাম, তখন মন খারাপের চুড়ান্ত। পুরো রাস্তাই ইউনিভার্সিটি লাইফের কথা ভেবেছি।

আমি যেমন নস্টালজিক তাতে এখনি বুঝতে পারি পরবর্তিকালে সিলেটে গেলে কেমন লাগবে।

আমরা হয়তো কনভোকেশনে যাব আরও ১০ বছর পর।
দুর্ভাগ্যবসত এই কনভোকেশনটা পেলাম না।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

শিপলু
১০ বছর পরে পেলেই হয়তো ভালো হবে।
আমার কাছে লেগেছে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে যেন ভার্সিটি ফিরে যাচ্ছি। এবং এর ২ দিন পর সারা জীবনের জন্য একটা অধ্যায় শেষ করে অনেক কিছু ফেলে রেখে - হয়তো জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, সবচেয়ে পীড়াদায়ক, সবচেয়ে উজ্জ্বল, সবচেয়ে ম্লান কিছুকে ফেলে রেখে কোথায় যেন ফিরে আসছি।
কিছু কিছু কথা বাংলায় অমন করে হয়তো বলা যায় না ----
আজকে এই সুযোগে বলে ফেলি ---
Thank you for being there at the time I was.

১৩

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

শিপলু লিখেছেন:

শেষ ছবিটায় যা দেখলাম।
গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে।

ছবিটা মাটিতে ক্যামেরা শুয়ে তোলা। যাতে শুধু গাছ আর আকাশ দেখা যায়। তবে, 'রোড টু ইনফিনিটির' গাছ  বেশ বড়ও হয়েছে।(y)

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

রুমন লিখেছেন:
শিপলু লিখেছেন:

শেষ ছবিটায় যা দেখলাম।
গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে।

ছবিটা মাটিতে ক্যামেরা শুয়ে তোলা। যাতে শুধু গাছ আর আকাশ দেখা যায়। তবে, 'রোড টু ইনফিনিটির' গাছ  বেশ বড়ও হয়েছে।(y)

যখন ভর্তি পরীক্ষা দেই তখন গাছগুলো একরকম চারা ছিল। বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকত। ভাবতাম, এ কোথায় এসেছি? এতো পুরো মরুভূমি। জুটিদের প্রেম করতে যায়গার শর্ট পরত। এখন ক্যাম্পাস যথেষ্ট সবুজ। বিশেষ বিশেষ সময়ে এ রাস্তায় হাঁটার মজাই ছিল অন্য রকম। যেমন, কনসার্ট শেষে রাত ন'টায় হেটে হেটে বাড়ি ফেরা, পড়ন্ত শীত/বসন্তের বিকেলে বাস মিস করে রিকশা না পেয়ে হেটে হেটে গেটে আসা।
আমি এবং আমাদের ব্যাচের আরও কয়েকজনের অভ্যাস ছিল ক্যাম্পাস থেকে হেটে হেটে চৌকিদেখি ফেরা। smile অবশ্যই রাতে।
নাহ থ্রেডটা বেশি নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছে।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন র'মুস্তাফিজ (০৭-০২-২০০৮ ১২:১৩)

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

চমৎকার একটি লেখা।পুরনো সব স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
কিন্তু আমি ভুলে থাকতে চাই সব।
তাইতো এই "ভবঘুরে ছন্দ"  ............

স্মৃতি বড় স্পর্শ কাতর,
কস্ট বাড়ায় বুকের ভিতর।
তাইতো সদাই থাকি ভুলে,
আবেগগুলো সব শিকেয় তুলে।

............................................................

বেশ ভাল আছি ...

১৬

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা কাটিয়েছি এই ক্যাম্পাসে! যখন প্রথম ক্যাম্পাসে যাই, ১৯৯৬, এত সবুজ ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই মরুভুমি ছিল। কোন গাছই টিকতে পারত না। চারিদিকে ছিল মরে যাওয়া গাছ। দীর্ঘ ছ'বছরের উচ্ছল সময়টা কাটিয়েছিলাম এখানে। কত কিছু যে করেছি, যখন যেটা মনে হয়েছে। আবৃত্তি ওয়ার্কশপ, রিম মিউজিক্যাল ক্লাবে অডিশন কত ধরণের পাগলামি! থিয়েটার সাস্ট যখন তৈরি করলাম আমরা বন্ধুরা মিলে। আমার ধারণাই ছিল না, এটা এত ভালো একটা সংগঠন হয়ে যাবে। তুপা (ক্লাসমেট, জার্মানী আছে এখন) আমাকে জোর করেই নামাল অভিনয় করতে। দু'টো নাটকে ছোট্ট দু'টো চরিত্র রূপায়ন করলাম ('মড়া'তে কিশোর, 'অতঃপর হরেণ মণ্ডল'-এ হরেণ মণ্ডল)। মোটামুটি উতরে গিয়েছিলাম। মাস্টার্সের শেষ বর্ষে প্রেমে পড়ে গেলাম। এটা যে কোত্থেকে পড়ল আমার উপর, বুঝতেই পারিনি। মাস্টার্সের শেষ বছরটা কাটল দু'বছরে (সেশন জ্যামের কল্যাণে)। এই দু'টো বছর সবচেয়ে রোমান্টিক সময় কাটে আমার। প্রায় সারদিন একসাথে থাকতাম আমরা দু'জন। প্রচুর স্মৃতি ওই ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসার পরও প্রায়ই যেতাম ঢাকা থেকে। খুবই ভালো লাগত।

কিন্তু এখন একটু পরিবর্তন হয়ে গেছে। ক্যাম্পাসে আর যেতে ইচ্ছে করে না আমার। বাহ্যিক রূপটা এখন খুব সুন্দর হলেও ভেতরে খুবই কুৎসিত। শিক্ষক-ছাত্র রাজনীতির কুৎসিত রূপ দেখেছি, ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসার পর। এবার যখন বাড়ি ঘুরে এলাম, একবারও যেতে ইচ্ছে করেনি ক্যাম্পাসে। এতে আমি নিজেও খুব অবাক হয়েছি। এই ক্যাম্পাস আমার পর হয়ে যাবে, এটা কখনও ভাবতেও পারিনি।

এই সমাবর্তনে যোগদানের জন্যই আমি গিয়েছিলাম দেশে। অথচ আমি সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলার পর জানলাম, সমাবর্তন পিছিয়েছে এক মাস। মাত্র ৩০ দিনের জন্য থাকতে পারলাম না অনুষ্ঠানটাতে। কত মজাই না হত। বউয়ের সাথে সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরতাম। পুরনো বন্ধুদের (ক্লাসমেট, সিনিয়র, জুনিয়র) সাথে দেখা হত। জম্পেশ একটা আড্ডা দিতাম। বউয়ের ছবিগুলো দেখে খুব মন খারাপ হয়েছিল। কী সুন্দর গাউন আর টুপি মাথায় দিয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলেছে। আমারও থাকার ইচ্ছে ছিল সেখানে। কপালে নাই তো কী আর করা sad

এখন আরও কাটা ঘাঁয়ে নুনের ছিটা দিল রুমন। দারুণ লিখেছ। আমারও হয়তো এরকম বা আরও সুন্দর কিছু স্মৃতি হত থাকতে পারলে। কপাল!!!

১৭

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

চমৎকার লিখেছেন। আমি কয়েকদিন ফোরমে অনুপস্থি্ত ছিলাম। তাই  অসাধারণ এই  টুকরো স্ম্বৃতি-কথাটি চোখ এঁড়িয়ে গিয়েছিল। এত সাবলীল  আবেগে লিখেছেন মনে হয়েছে যেন আমি নিজেই ছিলাম ঐ স্থানগুলিতে! আমি নিজেও ভয়ানক স্মৃতিকাতর। তবে বাস্তবতা হলো, প্রায়শ: বিরাট ধাক্কা খেয়েছি পুরোনো জায়গাগুলোতে স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে। আসলে নস্টালজিয়ায় সুখ-বেদনার স্ম্বতিগুলোতে কখন যে বাড়তি কিছু কল্পনা জুড়ে দেই-খেয়ালই করি না। তবুও পুরোনো দিনের গভীর গোপন সুখের নিবিড় পদ্ম-পুকুরে আনমনে ডুব দিতে ভালই লাগে। আপনার লেখাটি গভীর নাড়া দিয়েছে আমাকে। ফেলে আসা শিক্ষাজীবনের আনাচে কানাচে কখন যে অনায়াস পৌঁছে গেছি.....বলতেই পারি না। ধন্যবাদ আপনাকে। এরকম আবেগমন্ডিত লেখা আরও চাই।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

ধন্যবাদ রূপম ভাই, নাসিম ভাই এবং উদাসীনকে বিচ্ছিন্ন অনুভূতিগুলো পড়বার জন্যে।

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

হুমম:-?
ইস আমি আর ১ বছর পরেই আপনাদের সাথে কান্না করতে পারব)+D

I'll never say goodbye. shame

২০

Re: অবিশ্রান্ত স্মৃতির মিছিল

এই আমি লিখেছেন:

কান্না করতে পারব)+D

thinking

রংধনু দেখতে হলে বৃষ্টিকেও হাসিমুখে বরণ করতে হয়। বৃষ্টি নিজেই তখন রূপান্তরিত হয় আনন্দের উৎসে।

রুমন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত