টপিকঃ ভাষা বিষয়ক কচকচি...

প্রথমে একটা ছোট বাস্তব অভিজ্ঞতা বলিঃ

অনেক দিন আগে (স্কুল/কলেজ লাইফে) আমি একবার একা দাদা বাড়ী গেলাম। গ্রামের অন্য এক বাসাতে দেখা করতে গিয়েছি। পরিচিতা এক বয়ষ্কা মহিলা বললেন "তোমরা কোনবেলা আসলেন বাহে?"

আমি গিয়েছিলাম একা। তাই মনে মনে বললাম একা আসছি ... আমার ভাষা উনি বুঝবেন কি না জানিনা। তাই জোরে বললাম, "কাইল আসছি" (গতকাল এসেছি)। এরপর উনি জিজ্ঞেস করলেন, "বাসাত্ তোমরাগুলা কেমন আছেন?"

শুনামাত্র বিদ্যূৎ চমকের মত বুঝতে পারলাম যে, আমার এলাকার আঞ্চলিক ভাষাতে তোমরা হল একবচন (=তুমি, আপনি), আর, তোমরাগুলা হল বহুবচন (=তোমরা, আপনারা)।

গল্পটা বলার উদ্দেশ্য হল, আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষার ব্যাপারটা তুলে আনা। এই কথ্য ভাষাগুলো ভাষার অংশ। কাজেই এগুলোকে ভুল বলা নিজের স্বল্পজ্ঞানের পরিচায়ক।

বানান ভুল আর কথার ভুল এক জিনিস নয়।

ফাইস্যা গেছি .... এটা ঢাকার কথ্য ভাষা। কোন ব্যাকরণ বইয়ে এটা পাওয়া না গেলে সেটা ব্যাকরণবিদগণের  ব্যর্থতা, ভাষার নয়।

ভাষা একটি চলমান বিষয়। তা না হলে ৫০ বছর আগের ভাষা আর বর্তমান ভাষা একই রকম হত। ব্যাকরণের কাজ হল সেই সময়ের ভাষাকে বুঝার সুবিধার্থে একটা নিয়ম খুঁজে বের করা। মানুষের মুখের ভাষাগুলো বিশ্লেষন করে ব্যাকরণবিদগণ ভাষাটির নিয়মগুলো বের করে নিয়ে আসেন। তার পরেও দেখা যায় কিছু ভাষাকে এই নিয়মের মধ্যে ফেলা যাচ্ছে না ... তখন এগুলোকে ব্যতিক্রম বলে চালিয়ে দেন।
- আরও সংক্ষেপে বললে, ভাষা ব্যাকরণকে অনুকরণ করে না, বরং ব্যাকরণই ভাষাকে অনুসরণ করে।


যারা ভাষা নিয়ে, খুব কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছেন, তাঁরা কি কথাগুলো কখনো ভেবে দেখেছেন?

-----------------------------------
আমার সমস্যা হল, আমি সকলকে বুদ্ধিমান ভাবি। তাই, "আক্কেলমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি" ... এই প্রবাদবাক্য মেনে শুধু ইশারা করি। যারা ব্যাক্কল তাঁরা বুঝবে না, সেটা যত সোজাসুজিই বলা হোক না কেন ......

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

তা  বুজল না কে?? smile

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

আমিতো ঠিকই বুজতে পারছি। ভাষার জন্য ব্যাকরণ, ব্যাকরণের জন্য ভাষা নয়। তাইনা?

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম লিখেছেন:

...
- আরও সংক্ষেপে বললে, ভাষা ব্যাকরণকে অনুকরণ করে না, বরং ব্যাকরণই ভাষাকে অনুসরণ করে।
.....

খুব খাঁটি কথা।

রক্তের গ্রুপ: O+ve
আমার ব্লগ

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

একটা বিষয় লক্ষ্য করে ভীষন খারাপ লাগে। সেটা হল ভুল ভাষা সংক্রান্ত ... কারণ অনেকগুলো:

১. আমরা একটা ভাষাভিত্তিক জাতি। এই দেশের উৎপত্তির অন্যতম একটা ইস্যূ ছিল ভাষা। সেই ভাষাই যখন বিকৃত ভাবে উপস্থাপিত হয় সেটা দেখতে মন খারাপ লাগেই। যেমন অনেক সময় দেয়ালের লিখনে দেখি "জাতিয়" বানান ... মনটা এ্যাত যে খারাপ লাগে। জাতীয় বানানটা এমন -- কিন্তু সেই বানানটারই জাত মেরে দিয়েছে .... পরোক্ষ ভাবে এই প্রিয় ভাষা, যার জন্য এত মানুষ আবেগপ্রবণ হয়েছে, প্রাণ দিয়েছে সেই মানুষগুলোর আবেগ, বিবেচণাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অবমাননা করা হয় বলেই মনে হয়। জাতিয় বানানটা নিশ্চয়ই আঞ্চলিকতার ধোপে শুদ্ধ হবে না।

২. অপর একটা কারণ হল তাতে নিজের লজ্জা লাগে। ব্যাপারটা এমন, যে, কেউ যদি আমেরিকা কিংবা বৃটেনে গিয়ে দেখে যে কোন একটা এলাকার এরকম একটা পাবলিক প্রকাশনা মাধ্যমে ভাষা, বানান যাচ্ছেতাই ভাবে ভুল ভাবে লেখা (ইংরেজি তো তাদের মাতৃভাষা) ... তাহলে তো ঐ এলাকার লোকদের সম্পর্কে মনে কৌতুক অনুভব করবেনই।
আঞ্চলিকতা আর বানান ভিন্ন ইস্যূ ..... রিকশা সঠিক বানান, অনেক এলাকায় রিশকা বলে (অপভ্রংশ?)... কিন্তু তাই বলে রিকষা লেখা নিশ্চয়ই আঞ্চলিকতার ধোপে টিকবে না।
কোন একজন গণ্যমান্য লোককে বললাম যে, আসেন প্রজন্ম ফোরামে আসেন.... কিন্তু উনি এসে দেখবে সব জায়গায় ভুল বানান.... নব বাংলা ভেবে বিরূপ মনোভাব নিয়ে চলে যেতে পারে কিংবা বলবেন, শামীম আমারে কিসের সন্ধান দিল.... ও নিজেও জানেনা .... .... সত্যি লজ্জা পাই। কোন লোককে যেমন ভুলক্রমে পচা খাবার খেতে দিলে লজ্জায় পড়ে যাই (?) সেরকম লাগে ভুল ভাষা উপস্থাপন করতেও।

৩. শেষ আরেকটা বিষয়ে খুব মন খারাপ লাগে, সেটা হল মানুষ যখন নিজের ভুল স্বীকার করে না, বরং সেটাকেই হালাল করার চেষ্টা করে .... বিনয় বিষয়টা বোধহয় উপদেশ কনিকাতেই থেকে যাবে। আমার বানান, ভাষারীতি ভুল হতেই পারে। সেটা হতে পারে আমার অজ্ঞতার কারণে, কিংবা জানা জিনিস ভুল হতে পারে টাইপিং ভুলের কারণে, তাড়াহুড়ার কারণে (সকলেই যথেষ্ট ব্যস্ত), কিংবা অসতর্কতার কারণে। যে ভুলগুলো অজ্ঞতার কারণে সেগুলো কেউ শুদ্ধ করে দিলে, প্রথমে আরও দুই তিন জায়গা থেকে ক্রস-ভেরিফিকেশন করে নেই .... অবশ্য যিনি শুদ্ধ করে দিলেন, তিনি যদি তেমন নির্ভরযোগ্য লোক হন তাহলে তো বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নেই। আর জানা জিনিস ভুল করলে, কেউ ধরিয়ে দিলে সেটা সময়মত শুদ্ধ করে দেই।  উভয়ক্ষেত্রেই এই লজ্জার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কৃতজ্ঞ থাকি ভুল ধরে যে তাঁর প্রতি।

কিন্তু এখানে মাঝে মাঝে দেখি উল্টা ব্যাপার। ভুল ধরে দিলে তাকে উল্টা দোষী বানানো হয়।  আমার ভুল পাবলিকলি ধরলেও আমার কোন সমস্যা নাই। আমি জানি আমি কতটুকু জানি, নিজের কাছে আমার সম্মান তাতে ক্ষুন্ন হয় না (অতটা ঠুনকো নয় আমার আত্মসম্মানবোধ)..... বরং সেই ভুলটা ধরিয়ে না দিয়ে সবার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করতে থাকতে দিলেই বরং আমি লজ্জা পাই। আমি সবজান্তা নই ... ... আমার ভুল হতেই পারে। কিন্তু সেই ভুল শুদ্ধ করে আমি সামনে এগোতে চাই। ঐ ভুলের মধ্যেই ঘুরপাক খেতে চাই না।

কোন একটা কারণে মন খারাপ। কে জানি বলেছিল - উনি নিরপেক্ষ নন, উনি ন্যায়ের পক্ষে। অতবড় কথা বলার স্পর্ধা আমার নাই... আমি বলব, আমার বিবেচনায় যেটা ঠিক মনে হয় (আমার আদর্শ বা জীবনদর্শনের সাথে কনফ্লিক্ট করে না) আমি সেটার পক্ষেই থাকব। হতে পারে অন্যদের বিবেচনায় সেটা বেঠিক -- তাদের বিবেচনাকে এ্যাতটুকু ছোট না করেই বলতে চাই, না বুঝে আমি একটা জিনিসের পক্ষে বা বিপক্ষে মাথা নাড়তে রাজি নই।

আর সবার কাছে সম্মান হারালেও সবচেয়ে প্রিয়জনের কাছে সম্মান (আত্মসম্মান) হারাতে চাই না। কেউ এই পোস্টে কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম ভাই, সত্যিই খুব ভালো লিখেছেন। অামি প্রথম থেকেই এ ব্যপারটা নিয়ে কথা বলছিলাম। কিন্তু কোন রকম সাড়া তো পাইনি, বরং উল্টো কথা শুনতে হয়েছে। অবশ্যই ভাষা পরিবর্তনশীল। কিন্তু যা একবার মানদন্ডে উঠেছে এবং সর্বজন গৃহীত হয়েছে, তাকে সাদরে গ্রহণ করাই উচিত। তাছাড়া, কথ্য ভাষা অার লেখ্য ভাষা এক জিনিষ নয়। কথা বলার সময় কোন রকম ব্যকরণ ছাড়াই মনোভাব প্রকাশ করা যায়। কিন্তু লিখতে গেলে ব্যকরণ মানা খুবই জরুরী। তা নাহলে ভাব বোঝানো বড়ই মুশকিল।

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

আমরা সত্যিই আমাদের লেখায় ভাষাগত অনেক ভুল করি। দেখা যায় কথ্য রীতিতে লিখি। এক্ষেত্রে আমি বলতে চাই অনেক সময় আলোচনা করতে করতে মনে হয় যে পাশে বসেই কথা বলছি আর তখনি এই সমস্যাটা হয়। আর আমরা এত বেশি বেশি লিখতে চাই যে তখন অতটা সতর্ক হওয়া যায় না। কিন্তু আমার লক্ষ্য যদি হয় কার লেখায় ভুল আছে সেটা খুজে বের করা তখন দেখা যাবে যে  সবাই আমাকে বাংলাভাষার পন্ডিত ভাবতেছে।সত্যি কথা বলতে কি নিজের দোষ খোজার চেয়ে অপরের দোষ খোজাতে আমরা বেশি সাচ্ছন্দবোধ করি।
কিন্তু কেউ যদি ভুল সুধরাতে গিয়ে এইভাবে শুধরায় তখন আপনার ওই দাওয়াত করা গন্যমান্য লোকটি কি ভাববে?

বাবুর কৌতুকটা মাঝে দাঁড়ি, কমার অভাব। তাই আমি কিছু দাঁড়ি, কমা দিয়ে দিলাম -

একদিন অনিল আর সুনীল গেল তীর ফলা নিয়ে টার্গেট প্র্যাকটিস করতে। যথারীতি তারা একটা কাঁঠাল। গাছের সাথে টার্গেট লাগালো তো। প্রথমে অনিল মারলো, কিন্তু ওরটা একটু ডানদিক। "দিয়ে চলে গেলো ও," বললো ধূর শালা। ফস্কে গেলো তখন ঐ জায়গায় অনিলের বন্ধু। সুকুমার আসলো ও বললো, "এই, তুই এইভাবে গালি দিচ্ছিস। কেন এতে ভগবান রাগ করে? তোকে কঠিন শাস্তি দিতে পারে।" তখন অনিল বললো, "ভুল!" হয়ে গেছে এরপর ২য় ফলাটা| যেই মারলো, ওটা আবারও ডানদিক। "দিয়ে চলে গেলো ও," তখন আবার বললো ধূর শালা! ফস্কে গেলো অনিলের কথা। শেষ হতে না হতেই বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো আর পাশের কাঁঠাল। গাছটা জ্বলতে থাকলো এই সময়। ধোঁয়ার কুন্ডুলির মধ্যে ভগবানের দৈববাণী। শোনা গেল, "ধুর! শালা ফস্কে গেল।"

তারপরেও অযথা ভাষা নিয়া কচকচ করার ইচ্ছা নাই। বাংলাভাষায় আমরা কেউই পন্ডিত না তাই ভুল হতেই পারে। আর যিনি ভুল ধরবেন তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ক্ষেত্রে...

আমার গা-বাঁচানো কথাbig_smile: এই শ্রদ্ধাবোধ জোর করে আনা যায় না .. ভেতর থেকে আসতে হয়, কিংবা অর্জন করে নিতে হয়।
এক হাতে তালি বাজে না .... কেউ তালি বাজানোর জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে, আপনার হাত যদি বাড়াতেই হয় তবে তালি না দিয়ে হ্যান্ডশেক করুন cool

আর কার কথায় মন খারাপের বা কষ্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে...

কাজেই কেহ যদি কারো কথায় আঘাত পান, তাহলে তাঁকে গোপনবার্তা দিয়ে জানান (বিনয়ের সাথে, কারণ উনি হয়ত বুঝতে পারেন নি যে আপনি কষ্ট পাবেন) ... এবং আস্থা রাখুন যে উনি আপনার কথা বুঝবেন ---- পারস্পরিক আস্থা/বিশ্বাস ছাড়া বন্ধুত্ব হয়না।
---------
এই তো দুদিন আগে একজন আমাকে আঙ্কেল বলল ....? তারপর ব্যক্তিগত মেসেজে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছি? ........
আমার উত্তর ছিল: আংকেল ডাক শোনার পরেও ভাল আছি .... ....

আমিও এমন একজনকে গোপন বার্তা দিয়ে তার কুশল জানতে চাইছিলাম আর জবাবে সে বলেছিল"এই দিন দিন না আরো দিন আছে"
স্ররব

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

খুবই খাঁটি কথা। ব্যাকরণ ছাড়া কেউ লিখতে পারে কি না জানি না। আমাদের বাংলা ভাষায় ব্যাকরণের বাইরে গিয়ে লেখার পদ্ধতি জানা নেই। যদি কেউ জানেন দয়া করে জানাবেন।
বানানরীতি নিয়েও যথেষ্ঠ আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কেউ কি প্রমিত বানানের কথা বলতে পারবেন? কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমি একটি প্রমিত বানানরীতি বানিয়েছিলেন। সেটি আমাদের দেশেই অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত বানানরীতি অনেকে ব্যবহার করে আসছিলেন।
কিছুদিন আগে নূতনদিগন্তে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ভাষা সংস্কারের উপর একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। যার মূলকথা হতো ভাষা ক্রমপরিবর্তনশীল। এটির সঙস্কার করতে যাওয়া মানে এর উপর কৃত্রিম কিছু চাপিয়ে দেয়া। যে বানানরীতি এতদিন চলে আসছে তা সহসা বদলানোর দরকার পড়ল কেন?
এবার আসি এ ফোরামের ব্যাপারে। এখানে যারা লিখছেন তারা স্বতস্ফূর্তভাবেই লিখছেন। এসব লেখা আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তার মতোই, মোটেই সাহিত্যকর্ম নয়। এখানে কোনো বানান ভুল দেখে - কিংবা আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ দেখে কেউ যদি বাংলা ভাষা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চায় তাহলে সেটি সঙ্গত হবে না।
আমার সবাই চাই বানান ঠিক হোক, ভাষা ঠিক থাকুক। কিন্তু ভাষা যদি পরিবর্তন না ঘটে তাহলে আমরা নূতন ভাষা পাবো কীভাবে? জানি না আমাদের মাঝে আজ কেউ বঙ্কিমী ভাষার পক্ষে সাফাই গাইবেন কি না। হুতোমি ভাষার আগমণেও প্রতিক্রিয়া ছিল এই যে - হুতোমি ভাষা সাহিত্যের অযোগ্য। আমরা কি আজ সেই কথাই পুনরায় বলতে চাইছি?
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এখানে প্রদত্ত বক্তব্যের সাথে লেখকের বক্তব্যের মিল নাও থাকিতে পারে। ইহা কেবল সবার মাঝে বিতর্ক উসকাইয়া দেওয়ার জন্য।

রক্তের গ্রুপ: O+ve
আমার ব্লগ

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

বাবু ভাইকে,

বাবুর কৌতুকটা মাঝে দাঁড়ি, কমার অভাব। তাই আমি কিছু দাঁড়ি, কমা দিয়ে দিলাম -

একদিন অনিল আর সুনীল গেল তীর ফলা নিয়ে টার্গেট প্র্যাকটিস করতে। যথারীতি তারা একটা কাঁঠাল। গাছের সাথে টার্গেট লাগালো তো। প্রথমে অনিল মারলো, কিন্তু ওরটা একটু ডানদিক। "দিয়ে চলে গেলো ও," বললো ধূর শালা। ফস্কে গেলো তখন ঐ জায়গায় অনিলের বন্ধু। সুকুমার আসলো ও বললো, "এই, তুই এইভাবে গালি দিচ্ছিস। কেন এতে ভগবান রাগ করে? তোকে কঠিন শাস্তি দিতে পারে।" তখন অনিল বললো, "ভুল!" হয়ে গেছে এরপর ২য় ফলাটা| যেই মারলো, ওটা আবারও ডানদিক। "দিয়ে চলে গেলো ও," তখন আবার বললো ধূর শালা! ফস্কে গেলো অনিলের কথা। শেষ হতে না হতেই বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো আর পাশের কাঁঠাল। গাছটা জ্বলতে থাকলো এই সময়। ধোঁয়ার কুন্ডুলির মধ্যে ভগবানের দৈববাণী। শোনা গেল, "ধুর! শালা ফস্কে গেল।"

এইটাকে আমার একটা উন্নত জোক মনে হয়েছিলো .... এখনো তাই মনে হচ্ছে। এর আগেও কোথাও দেখেছিলাম যে, কারো বক্তব্যের মধ্যে কিছু যতিচিহ্ন বসিয়ে অর্থ পরিবর্তন করে মজা করা হয়।

আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, আপনার লেখা জোকটার দাড়ি কমা ঠিক ছিল! আমার ধারণা বাকী সবাই সেটা বুঝতে পারছে... আপনারটার যতিচিহ্ন ঠিক ছিল। তাহলে পরের টা কি দাঁড়ায়? --

দুটো বিকল্প সমাধান টেনেছিলাম আপনার রিয়্যাকশন দেখে --
১. আপনি বুঝতে পারেননি যে আপনারটা ঠিকই ছিল। অথবা,
২. আপনি বুঝতে পারছেন আপনারটা ঠিক ছিল। কিন্তু জোক মানতে পারেন না আপনি। কোন একটা জোক-এ আপনার নাম ব্যবহার করলে আপনি কঠিন মাইন্ড করেন। (আমিও একসময় করতাম ... কিন্তু "শাইম্যা হালা" শুনতে শুনতে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। আমি জানি আমি কে। অপরে কে কি বলল... সেটা পামপট্টি হোক বা গালি হোক .... তাতে এখন আমি বিভ্রান্ত হই না।)

--- অবশ্য সীমাবদ্ধ ধারণা নিয়ে, আমার বোঝার ভুল হতেই পারে।

এই শ্রদ্ধাবোধ জোর করে আনা যায় না .. ভেতর থেকে আসতে হয়, কিংবা অর্জন করে নিতে হয়।
এক হাতে তালি বাজে না .... কেউ তালি বাজানোর জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে, আপনার হাত যদি বাড়াতেই হয় তবে তালি না দিয়ে হ্যান্ডশেক করুন

-- এখনো আমার এই বক্তব্য সমর্থন করি।


কথ্য রীতিতে লেখার কোন অসুবিধা দেখছি না। দেখুন, এই থ্রেডের প্রথম পোস্টটি ঐ প্রসঙ্গেই করেছিলাম। কিন্তু রিকশা লিখতে যদি ড়িকষা লেখা হয় সেটার বিপক্ষে তো যাবই। আবার অনেকক্ষেত্রে বানান বিভ্রাটে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায় ..... 'বড়' (বৃহদাকার) লিখতে গিয়ে কেউ যদি 'বর' (বিবাহের পাত্র / দেবতা প্রদত্ত উপঢৌকন) লেখে তাহলে কোন কোন ক্ষেত্র সমস্যা হতেই পারে --- --- এই বানান সমস্যাগুলো কোনক্রমেই কথ্যরীতির সাথে সংঘর্ষমূলক নয়।

ইদানিং ভুল ধরা পোস্টগুলো একজায়গায় ডাম্প করছি ... এর মানে এই না যে, ভুলগুলোকে উৎসাহিত করছি; বরং
যেখানে ভুল ধরা হয়েছে সেই প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই ডাম্প করা হচ্ছে। যার ভুল শুধরানোর ইচ্ছা, তিনি পোস্টকারীকে গোপন বার্তায় জানান, কিংবা বানানরীতিতে লিখে রাখুন, নতুবা পরবর্তীতে সেটিকে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দেখতে পাবেন।

শেষে বলি, (অফটপিক)
কেউ কেউ আছেন স্যাডিস্টিক টাইপের মজা করতে পছন্দ করেন। টেকনিকটা হলো তাকে মজা পেতে না দেয়া। আপনাকে কিছু বলে ক্ষেপাতে পারলে বারবার ক্ষেপাবে, আপনার রাগ দেখে হেসে কুটিকুটি হবে। --- আর ক্ষেপে গেলে মানুষের সাধারণত ভুল বেশি হয় (হয়ত কথাটা একটু বেশি জেনেরালাইজড হয়ে গেল .... মাথা গরম থাকলে আমার ভুল হয় বেশি)।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম ভাই আমি না হয় বুঝলাম যে এটা একটা অতি উত্তম জোক, তো আমার প্রশ্ন ছিল ওই গন্যমান্য ব্যাক্তিটি কি লাইন(

বাবুর কৌতুকটা মাঝে দাঁড়ি, কমার অভাব। তাই আমি কিছু দাঁড়ি, কমা দিয়ে দিলাম

) দেখলে কি  বলতেন?
যদি ব্যপারটা এরকম হত যে হাসির বাক্সের ভুল ধরাটা আরো হাসির তাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু তাওতো না হাসির বাক্সেও তো সিরিয়াস ভুল ধরা হয়।
শেষমেষঃ

আপনাকে কিছু বলে ক্ষেপাতে পারলে বারবার ক্ষেপাবে, আপনার রাগ দেখে হেসে কুটিকুটি হবে।

thumbs_upthumbs_up
lol2lol2

১১

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম লিখেছেন:

১. আপনি বুঝতে পারেননি যে আপনারটা ঠিকই ছিল। অথবা,
২. আপনি বুঝতে পারছেন আপনারটা ঠিক ছিল। কিন্তু জোক মানতে পারেন না আপনি।

পাগলদের sense of humor কম থাকে।

hehe hehe hehe

প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

১২

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

বাবু লিখেছেন:

শামীম ভাই আমি না হয় বুঝলাম যে এটা একটা অতি উত্তম জোক, তো আমার প্রশ্ন ছিল ওই গন্যমান্য ব্যাক্তিটি কি লাইন(

বাবুর কৌতুকটা মাঝে দাঁড়ি, কমার অভাব। তাই আমি কিছু দাঁড়ি, কমা দিয়ে দিলাম

) দেখলে কি  বলতেন?
যদি ব্যপারটা এরকম হত যে হাসির বাক্সের ভুল ধরাটা আরো হাসির তাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু তাওতো না হাসির বাক্সেও তো সিরিয়াস ভুল ধরা হয়।
শেষমেষঃ

আপনাকে কিছু বলে ক্ষেপাতে পারলে বারবার ক্ষেপাবে, আপনার রাগ দেখে হেসে কুটিকুটি হবে।

thumbs_upthumbs_up
lol2lol2

বিচ্ছিন্ন ভাবে ঐ লাইনটা দেখলে বাবুকে বোকা মনে হবে।

কিন্তু শুধু ঐ পোস্টটা দেখলে ভাবনা আসে -- কোন বোকা লোক এটাতে আবার নতুন যতিচিহ্ন বসালো!

কিন্তু যেখানে ঐটা পোস্ট করা আছে ওখানে ওটার আগেই মূল পোস্ট আছে ... সুতরাং বুদ্ধিমান পাঠক পুরোটাই বুঝবে (দুটোই দুই ক্যাটাগরীর জোক)।

ইশতিয়াক লিখেছেন:

পাগলদের sense of humor কম থাকে।

একমত নই। অনেক পাগলের মারাত্নক সেন্স অব হিউমার থাকে।

তবে সবার সেন্স অব হিউমার বিভিন্ন কারণে এক রকম নয় বলে এমন ভুল বোঝাবুঝির উদ্ভব ঘটে।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বাবু (১৮-০৫-২০০৭ ১৪:১১)

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

cool

১৪

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

বাপ্রে ... .... ফোরামে আগে অনেক সিরিকাস ব্যাপার স্যাপার ভালোচনা হইতো

স্মৃতিচারণমূলক বাম্প

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম লিখেছেন:

বাপ্রে ... .... ফোরামে আগে অনেক সিরিকাস ব্যাপার স্যাপার ভালোচনা হইতো

স্মৃতিচারণমূলক বাম্প

হ , আমি পড়লাম আর বুঝলাম। তবে কিঞ্চিৎ ভীত হইলাম... ওই সময়ে ফোরামে ছিলাম না ভালই হইসে  big_smile নইলে আমার যেভাবে বানান ভুল হয়, জাতি তো পিঠের চামড়া দিনে দিয়ে শুকিয়ে এক্সপোর্ট করে দিত  ghusi

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম লিখেছেন:

স্মৃতিচারণমূলক বাম্প

উদাসিন দাদার চোখে পড়লে সতর্কতা বার্তা পাবেন ও সাথে টপিক লক করা হবে  big_smile

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

শামীম লিখেছেন:

বাপ্রে ... .... ফোরামে আগে অনেক সিরিকাস ব্যাপার স্যাপার ভালোচনা হইতো

স্মৃতিচারণমূলক বাম্প

এখনও হয় তবে এখনকার গুলো বেশী বিতর্কিত হয়ে যায়  tongue

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রণ_এথিক্যাল হ্যাকার (২৫-১০-২০১২ ০০:২৫)

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

চমৎকার টপিক।আসলেই প্রজন্মের শুরুর দিকগুলা এখন খুব মিস করি।এখন ফোরামে আমজনতার ভীড়ে কোয়ালিটি কথাবার্তা খুজে পাওয়া মুশকিল।

seeming is being

১৯

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

ভাই সত্যি আপনার একমত।
বানান ভুল নিয়ে আমার নিজেরও সমস্যা আছে।ই-কার বা ঈ-করের ভুলটা বেশী হয়।বাংলা বানান রীতিটাও বেশ কঠিন,তবে চর্চাতেই অসাধ্যকে সাধন করা যায়।
আমি ব্লোগ/ফোরামে প্রমিত ভাষার প্রমিত ভাষা ব্যবহারের পক্ষপাতী।
আমাদের পাবনার গ্রাম্য ভাষার নাটকগুলো ভালোই লাগে।খারপ লাগে যখন এটাকেও আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে স্থান না দিয়ে ভাষা বিকৃতির মধ্যে নিয়ে আসেন কিছু বিশিষ্ট জনেরা।সুন্দরভবে লেখার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

২০

Re: ভাষা বিষয়ক কচকচি...

২০০৭ সালের টপিক, খেয়াল না করে পড়ে যাচ্ছিলাম। শামীম ভাইয়ের কথাগুলো, পরবর্তীতে বিভিন্ন ফোরামিক বন্ধুদের মন্তব্য পড়ে বুঝলাম ভাষা নিয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞান দিয়ে আর যাই হোক নির্ভুল টপিক লেখা সম্ভব নয়। ফেসবুকে ইংরেজদের বর্ণমালায় বাংলা দেখলে যেমন কষ্ট পেতে হয়, তেমনি ভুল বানানের বাংলা দেখলেও কষ্ট হয়। তবে দুটোর পার্থক্য রয়েছে। যিনি ভুল করে হলেও বাংলায় লিখছেন তাকে শ্রদ্ধা করি, আর যিনি ইচ্ছে করেই ইংরেজীতে বাংলা লিখছেন তার প্রতি করুণা হয়। আমার মতো অলস একটা মানুষ কষ্ট করে হলেও প্রভাত লেআউট শিখে নিয়েছে, আর সেই ভদ্রলোক-ভদ্রমহিলারা কষ্টটুকু করতে চান না। আর কিছু না হোক ফোরামে, ফেসবুকে বাংলা লেখার তৃপ্তিটুকু তারা নিতে পারছেন না।

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত