টপিকঃ টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

খুব সুন্দর একটি ভোর। নাদিম এখনও ঘুমিয়ে আছে। গতকাল একটু রাত করেই ঘুমিয়েছে সে। নাদিম মাইক্রসফটের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা। সে থাকে ঢাকার ধানমন্ডির একটি বাড়িতে। ঘড়িতে ৭টা বাজে, ঠিক এমন সময় নাদিমের PDA (Personal Digital Assistant) টি তাকে ঘুম থেকে জাগালো। PDA টি তাকে সুপ্রভাত জানলো তারপর একে একে জানিয়ে দিল আজকের কাজ গুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজটি হলো সকাল ১১টায় মাইক্রসফটের চেয়ারম্যানের সাথে তার মিটিং রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। নাদিম ভাবলো হাতে কিছু সময় এখনও আছে। তাই দ্রুত নাস্তা সেরে বেরিয়ে পরলো ঢাকার নিউ মার্কেটের উদ্দেশ্যে। কিছু কেনাকাটা করতে।
কি পাঠক, ধাঁধায় পরে গেলেন ? নিশ্চয় ভাবছেন এতো রীতিমত গাঁজাখুরি ব্যাপার। যার আজ সকাল ১১টায় মাইক্রসফটের চেয়ারম্যানের সাথে আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে মিটিং রয়েছে  সে আজই সকালে আবার ঢাকার নিউ মার্কেটে সপিং এ যায় কিভাবে? আবার যে মাইক্রসফটে নিয়মিত কাজ করে, সে ঢাকার ধানমন্ডির বাড়িতে কি করে থাকে? নাহ্ একেবারেই অসম্ভব তাই না? হ্যাঁ বর্তমান সময়ে অসম্ভব কিন্তু আমি বলছি ভবিষ্যতের কথা। যখন লক্ষ লক্ষ মাইল দূরুত্ব পারি দেয়া যাবে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। আর এ অসম্ভব কাজটিকে সম্ভব করবে কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশন নামে নতুন এক টেকনলজি। চলুন পাঠক এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে নাদিমের গল্পটা আগে শেষ করি ।
নাদিম নিউ মার্কেট থেকে সপিং করে ফিরলো ঠিক ১০টায়। ফ্রেস হয়ে ১০:২৮ মিনিটে নাদিম তার রুমে এসে, বিশেষ একটি চেম্বারে ঢুকে তার দরজা টি বন্ধ করে দিল। একটি কি-বোর্ড এ দ্রুত কয়েকটা নাম্বার টাইপ করলো। তারপর আর একটি সুইচ চাপতেই চেম্বারের ভিতরটা উজ্জল আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল। কয়েক মুহূর্ত পরে নাদিম কে দেখা গেল মাইক্রসফটের অফিসের একই রকম একটি চেম্বারে। দরজা খুলে সে বেরিয়ে আসলো। তারপর ঠিক ১১টায় নাদিম মিটিংএ বসলো। একটি কর্মব্যাস্ত দিন কাটালো নাদিম। বিকেল ৫টায় সে আবার একই ভাবে তার ধানমন্ডির বাসায় ফিরে এলো।
আসলে অনেক আগেই হলিউডের মুভি গুলোতে কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশন এর ব্যাবহার শুরু হয়ে গেছে। হলিউডের সুপার হিট মুভি ‘স্টার ট্রেক’- এ অনেকেই ব্যাপারটা দেখ থাকবেন। ঐ মুভিতে দেখানো হয় কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশন এর মধ্যমে যে কোন জড় বা জীব বস্তুকে যে কোন স্থানে আলোর বেগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কল্প বিজ্ঞানের কথাতো অনেক হলো। এবার দেখি বর্তমান সময়ের বিজ্ঞান কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশন সম্পর্কে কি বলে। পদার্থ  বিজ্ঞানের একটি মৌলিক শাখা হলো কোয়ান্টাম মেকানিক্স যার জন্ম বিশ শতকের প্রথম দিকে। একক অণুর স্তরে যে সব ঘটনা ঘটে তা ব্যাখ্যা করাই কোয়ান্টাম মেকানিকস এর কাজ । এ শাখার সবচেয়ে মৌলিক এবং জটিল কিছু বিষয় নিয়েই কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশনের ধারনা গড়ে উঠেছে। গত শতকের শেষ দিকে বিজ্ঞানীরা কয়েকটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন- যার মাধ্যমে কোয়ামন্টাম মেকানিকস এর মৌলিক এবং অদ্ভুত কিছু সূত্রের বাস্তব প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এ সূত্র গুলোর সাহায্যেই কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশনের সম্ভাবনা উজ্জল হয়ে উঠেছে। তাই এখন আর কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশনকে নিছক সায়েন্স ফিকশন বলা যাবে না। বিজ্ঞানীরা কোয়ামন্টাম টেলিপোর্টেশনের কয়েকটি কাল্পনিক মডেলও ইতমধ্যে দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। প্রথম মডেলটি অনেকটা এ রকম- একটি বিশেষ স্ক্যানার প্রথমে যে বস্তু কে অন্য স্থানে পাঠানো হবে তাকে স্ক্যানিং করবে। স্ক্যানিং এর মাধ্যমে বস্তুর প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডাটা সংগ্রহ করবে। প্রাপ্ত ডাটা গুলোকে  ট্রান্সমিটারের সাহায্যে নির্দষ্ট একটি রিসিভিং ষ্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হবে। রিসিভিং ষ্টেশন প্রাপ্ত ডাটা গুলোকে বিন্যস্ত করে মূল বস্তুটির একটি অবিকল প্রতিরূপ তৈরি করবে। মডেলটি আসলে যত সহজ মনে  হচ্ছে আসলে কিন্তু মোটেই তত সহজ নয়।
২য় মডেলটি তৈরি করা হয়েছে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এর একটি সূত্রের উপর ভিত্তি করে। আইনস্টাইনের মতে বস্তু কে শক্তিতে বা শক্তিকে বস্তুতে রূপান্তর করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বস্তুকে প্রথমে বিদ্যুত্ শক্তিতে রূপন্তর করা হবে। রূপান্তরিত শক্তি বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে অন্য স্থানে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সেখানে বেতার তরঙ্গকে প্রথমে বিদ্যুত্ শক্তিতে এবং বিদ্যুত্ শক্তিকে  বস্তুতে রূপান্তর করা হবে।
আসলে উপরের দু’টি মডেলই কাল্পনিক। বাস্তবে বস্তুর টেলিপোর্টেশন করা এখন সম্ভব হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপরে আশাবাদী। কারন ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সিটিটিউট অব টেকনলজির  বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে খুব জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আলোর ফোটনের (আলোর ক্ষুদ্রতম কনা) টেলিপোর্টেশন করতে পেরেছেন। তবে একশ ভাগ সফল টেলিপোর্টেশন করার জন্য বিজ্ঞানীদের আরও আনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম বাধাটি হলো বিজ্ঞানী হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব। এ তত্ত্বে বলা হয়েছে “কোন বস্তু একই সময়  অন্য কোন বস্তুর পূর্ন অবস্থান ও ভরবেগ সম্পুর্ন নির্ভূল ভাবে নির্নয় করতে পরে না”। আবার কোন বস্তুর প্রতিটি অনুর ইলেকট্রনের অবস্থা এবং গতিবেগ নির্নয় করা হলে তাতে ভূল হবার সম্ভবনাই বেশি থাকে। তাই কোন বস্তুর পূর্ন কোয়ান্টাম অবস্থা ব্যাখ্যা করা প্রায় অসম্ভব। অথচ  বস্তুর টেলিপোর্টেশন করতে হলে বস্তুটির সঠিক কোয়ান্টাম অবস্থা ব্যাখ্যা করা জরুরী। তার পরেও বিজ্ঞানীরা জড় বস্তুর টেলিপোর্টেশনের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। কিন্তু সমস্যা হলো প্রাণীদের নিয়ে তারা শ্বাস নেয় তাপ বিকিরন করে আর তাদের রয়েছে স্মৃতি শক্তি। তাই প্রাণীদের টেলিপোর্টেশন করা আসলেই সম্ভব হবে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীরা এখনও জানে না।
টেলিপোর্টেশনের মাধ্যম হিসেবে এখও বেতার তরঙ্গ ছাড়া অন্য কোন মাধ্যম এর কথা ভাবাও সম্ভব হয়নি কারন এখন পর্যন্ত যোগাযোগের সর্বশেষ মাধ্যম হচ্ছে বেতার তরঙ্গ বা রেডিও ওয়েভ। কিন্তু বেতার তরঙ্গের রয়েছে নানা সিমাবদ্ধতা। রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে একসাথে খুব বেশি পরিমান ডাটা বা ত্তথ্য প্রেরন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে প্রেরিত ত্তথ্য শতভাগ অবিকৃত নাও থাকেত পারে। তাছাড়া রেডিও ওয়েভের গতি আলোর গতির সমান (এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল / সেকেন্ড) তাই রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে কখনই এর চাইতে বেশি গতিতে ত্তথ্য আদান প্রদান সম্ভব নয়। যদিও রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে  টেলিপোর্টেশন করা সম্ভব হয়। তাহলেও আমাদের সবচাইতে কাছের নক্ষত্রটিতে পৌছতে সময় লাগবে এক লক্ষ বছরেরও বেশি সময়। আর বিশাল মহাবিশ্ব এ দূরত্ব এবং সময় নিতান্তই সমান্য। তাই বিজ্ঞানীরা টেলিপোর্টেশনের জন্য নতুন কোন মাধ্যমের কথা ভাবছেন। যে মাধ্যমের সহায্য আলোর চেয়েও বেশি গতিতে একটি বস্তুর পরিপূর্ন ত্তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো সম্ভব হবে। যদিও বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতে এ মহাবিশ্বে আলোর গতিই সবচেয়ে বেশি এবং কোন ভাবেই এ গতি অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
এতক্ষন তো টেলিপোর্টেশনের নানা দিক জানলেন। এবার তাহলে চলুন দেখি সকল বাধা অতিক্রম করে যদি টেলিপোর্টেশন সম্ভব হয় তাহলে মানব জীবনে এর প্রভাব কেমন হবে? টেলিপোর্টেশনের মাধ্যমে মানুষ দূরত্বকে করবে জয়। অর্থাত্ কোটি কোটি মাইল দূরত্ব মানুষ কয়েক সেকেন্ড বা তারও কম সময়ে অতিক্রম করবে। আর এর প্রভাব হবে সুদূর প্রসারী। মানুষ তখন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত জয় করে ছুটবে মহাবিশ্বে নতুন বাসস্থানের সন্ধানে। মঙ্গল গ্রহ বা শনির উপগ্রহ “টাইটান” তো তখন ন্যানো সেকেন্ডের দূরত্ব। মানুষ তখন আবিষ্কার করবে মহাবিশ্বের নতুন আবাসস্থান। সে সময় আমদের সবার প্রিয় পৃথিবীর রূপটা কি রকম হতেপারে চলুন দেখি। পৃথিবীতে তখন যানবাহন চলাচলের কোন রাস্তা চোখে পরবে না। কারন মানুষ যাতায়েতের জন্য ব্যাবহার করবে টেলিপোর্টেশন টেকনলজী। দূষন মুক্ত থাকবে আমাদে গ্রহ কারন কলকারখানা গুলো থাকবে অন্য কোন দূরের গ্রহে এবং পৃথিবী হয়তো হবে সম্পুর্ন আবাসিক এলাকা । অন্য গ্রহে তৈরি করা দ্রব্য আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে টেলিপোর্টেশনের মাধ্যমে। যোগাযোগের জন্য তখন চিঠি, ফেক্স, ই-মেইল এমন কি মোবাইল ফোনেরও আর প্রয়োজন হবে না। মানুষ নিজেই সেকেন্ডের মধ্যে চলে যেতে পারবে যেখানে প্রয়োজন। তখন মোবাইল সেটের পরিবর্তে সবার হাতে থাকবে পোর্টেবল টেলিপোর্টেশন ডিভাইস। মানুষ যেকোন সময় যেকোন স্থানে যেতে পরবে ইচ্ছে মত। আসলে টেলিপোর্টেশন টেকনলজী মানব সভ্যতায় আনবে ব্যাপক পরিবর্তন। যা এখন কল্পনা করাও কঠিন। তবে সায়েন্স ফিকশন ছবির টেলিপোর্টেশন টেকনলজী বাস্তবে করতে হলে আরও অনেক সময় এর প্রয়োজন। কারন সফল টেলিপোর্টেশন সম্পন্ন করতে হলে বর্তমান বিজ্ঞানের অনেক তত্ত্বই পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু একটি তত্ত্ব পরিবর্তন করা মোটেও সহজ কাজ নয়। তাই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন কি ভাবে এসব বাধা দূর করে টেলিপোর্টেশন করা যায়। তবে আশার কথা হচ্ছে বর্তমানে বিজ্ঞানীদের যে প্রযুক্তি রয়েছে তা দিয়ে আলোর কনার মত অতি ক্ষুদ্র কোন বস্তুকে টেলিপোর্ট করা সম্ভব হতেপারে।
তবে এটা ঠিক যত বাধাই থাকুক মানুষ এক দিন ঠিকই যে কোন বস্তু সফল টেলিপোর্টেশন করতে পারবে। তবে সে দিনে জন্য মানুষকে হয়তো আরও অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

লেখক: নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ (মিন্টু)
কম্পিউটার টুমোর

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

তাহলে তো মানুষ ctrl+c দিয়ে copy , ctrl+v দিয়ে paste করা যাবে । আমি চাইনা, টেলিপোর্ট হবো আর , আমার আর একটা copy মারা যাবে shame nailbiting

"I know not with what weapons World War III will be fought, but World War IV
will be fought with sticks and stones."
    -Albert Einstein

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

এটা সম্ভব করতে যেই টেকনোলজির কথা বলা হচ্ছে তা যদি সত্য হয় তাহলে,

- মানুষকে স্ক্যান করে সেই ডেটা পাঠানো হচ্ছে, অনু-পরমানুর আপেক্ষিক অবস্থানের ডেটার সাহায্যে আবার মানুষ হবে। ... আইডিয়াটা অনেকটা ফ্যাক্সের মত। সুতরাং সেই ডেটা থেকে অনেকগুলো কপি বানানো সম্ভব।

স্টারট্রেকে যা দেখায় সেটা কিন্তু আলাদা টেকনোলজি। সেখানে মানুষকে আইনস্টাইনের সূত্রের মত পদার্থ থেকে শক্তিতে পরিনত করে তারপর পাঠানো হয়। এই ধারণাতেও কিছু কিন্তু আছে .... শক্তি আকারে পাঠানো আর ডেটা আকারে পাঠানো আমার জানামতে একই কথা। কাজেই এখানেও কপি করা সম্ভব। এছাড়া অনেকগুলো জড় পদার্থ থেকে বেছে বেছে একজন মানুষের কোডিং-এর মত শক্তির অংশ আলাদা করা অসম্ভব নয় - কাজেই সেক্ষেত্রেও ক্লোনিং সম্ভব।

তাই এই দুইটা আইডিয়াই অসম্ভব মনে হয়।

তবে, যেটা সম্ভব মনে হয় সেটা হল অনেকটা ইন্টারনেট চ্যাটের মত। বর্তমানেই ভিডিও-কনফারেন্স সম্ভব। রিমোট কন্ট্রোল রোবোটও সম্ভব। সুতরাং যেটা হতে পারে, একজন ব্যক্তি নিউয়র্কের একটা রোবোটে লগ-ইন করবে। তারপর সেটাকে সেই রেন্টাল সেন্টার থেকে হাটিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যাবে। এভাবে কাজকর্ম করে যতক্ষণ না জায়গামত ফিরে আসছে ততক্ষণ লগ-আউট হতে পারবে না ফলে এখানে যেই রোবোটিক স্যূট পড়ে সে নিয়ন্ত্রণ করছে সেটাও খুলে বের হয়ে আসতে পারবে না। রোবোটিক স্যূট থেকে অন্য জায়গার সমস্ত বিষয় অনুভব করবে.. ... যেমন দৃশ্য দেখবে 3D মনিটরে (3D মুভির মত), শব্দ শুনবে হেডফোনে, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি সমস্ত অনুভুতিই পাবে --- এই বিষয়গুলো বর্তমানেই সম্ভব হয়েছে 3D মুভিগুলোতে।

ইউনিভার্সাল স্টুডিও বা ডিজনিল্যান্ডের 3D মুভিগুলোতে দৃশ্য ও শব্দের সাথে সাথে বসে থাকা চেয়ারগুলোও ফোর্স ফীডব্যাকের মত নড়াচড়া করে, ঝাকি খায়। এছাড়া কোন একটা ছোট্ট পাইপ থেকে মুখে পানির ছিটা পড়ে, গরম/ঠান্ডা বায়ুপ্রবাহ অনুভব করা যায় .... ইত্যাদি।

এছাড়া ইন্টারনেটে কিছু 3D চ্যাটরূম রয়েছে, যেখানে আপনি পছন্দমত একটা ক্যারেক্টার নিতে পারবেন। তারপর গেমগুলোর মত বিভিন্ন রূমে গিয়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথাবার্তা বলতে পারবেন (ভয়েস)।

সুতরাং রোবোটগুলো হবে, সেই 3D চ্যাটরূমের ক্যারেক্টারে মত -- পার্থক্য হল, চ্যাটরূমে প্রোগ্রাম করা নির্দিষ্ট জায়গায় হাটাচলা করা যায়, আর রোবোটগুলো বাস্তব জায়গায় হাটাচলা করবে। আর 3D মুভিগুলোর মত বিভিন্ন অনুভুতি ফীডব্যাকদেবে রোবোট-স্যূটগুলো। -- এটা বর্তমানেই সম্ভব।

সুতরাং গল্পটা হবে:
সকালে রোবোট সেন্টারে গিয়ে, নিউয়র্কের রোবোট ভাড়া নিলাম। তারপর রোবোট নিয়ে বসের সাথে মিটিং করে আবার রোবোট সেন্টারে ফিরে এলাম। লগ-আউট। দুপুরে অফিসে এসে খাওয়া দাওয়া শেষে, কিছু কাজ গুছিয়ে আবার গেলাম রোবোট সেন্টারে, এইবার সাংহাই-এ রোবোটে লগ-ইন করলাম, তারপর সেখানকার এক অফিসে গিয়ে ক্লায়ান্টের সামনে প্রোডাক্টের ব্যাপারে প্রেজেন্টেশন দিলাম। সন্ধ্যায় ফিরে এসে লগ-আউট। ব্যাস কাজ শেষ.... বাসায় যাই।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

শামীম ভাই জটিল হইছে। একদম আমার মতের সাথে আপনার মত মিলে গেছে। আমাদের অন্য গোলার্ধে ইন্দ্রিয়ের সকল অনুভুতির সঠিক ব্যবহার করতে পারলে ঐ যায়গায় ফিজিক্যালি যাওয়ার দরকার পরে না। এটা ঠিক matrix ছবির অন্যরুপ। ছবিতে নায়করা লগ-ইন করে ভার্চুয়াল জগতে আর এখানে লগ-ইন করবে বাস্তব জগতে।

এক জীবনই সম্পূর্ন নয়।..

My e-mail address

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

মাহ্‌দী লিখেছেন:

তাহলে তো মানুষ ctrl+c দিয়ে copy , ctrl+v দিয়ে paste করা যাবে । আমি চাইনা, টেলিপোর্ট হবো আর , আমার আর একটা copy মারা যাবে shame nailbiting

হ্যাঁ এটা করা খুবই সহজ হবে

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

শাহরিয়ার লিখেছেন:

এটা ঠিক matrix ছবির অন্যরুপ। ছবিতে নায়করা লগ-ইন করে ভার্চুয়াল জগতে আর এখানে লগ-ইন করবে বাস্তব জগতে।

ম্যাট্রিক্স ছবিটার মত একদিন নিশ্চয়ই ভার্চুয়াল জগতে আমরা ঘুরে বেড়াতে পারব।

যা আপনার দুর্বলতা, সেটাই আপনার সবচে শক্তিশালী দিক হতে পারে...

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

এ প্রযুক্তির কি কি ভালো ব্যবহার হতেপরে আমাকে একটৃ আইডিয়া দিন সবাই। নতৃন একটা লেখা লিখতে চাই।

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

এই প্রযুক্তি হলে তো জটিল হবে। ভ্রমণ হবে নিমিষেই। dancingdancing)+D

আলহামদুলিল্লাহ!

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

শামীম লিখেছেন:

তাই এই দুইটা আইডিয়াই অসম্ভব মনে হয়।

শামীম ভাই। এ বিশ্বজতের সবকিছুই কিন্তু জড় বস্তু দিয়ে গঠিত।  মানুষ আসলো জড় বস্তুর জটিল এক কম্বিনেশন এ তৈরি। আর সেই কম্বিনেশনটা যদি নির্ভূল ভাবে জনা যায় তাহলে এসব ব্যপার কত সোজা হয়ে যাবে। তাই ব্যপারটাকে আমি অসম্ভব মনে করি না।

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

১০

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

'স্টারগেট এসজি১' এ দৃশ্যায়িত গেট-ভিত্তিক ভ্রমন বড়ই চিত্তাকর্ষক!

১১

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

আকাশছোঁয়া লিখেছেন:

শামীম ভাই। এ বিশ্বজতের সবকিছুই কিন্তু জড় বস্তু দিয়ে গঠিত।  মানুষ আসলো জড় বস্তুর জটিল এক কম্বিনেশন এ তৈরি। আর সেই কম্বিনেশনটা যদি নির্ভূল ভাবে জনা যায় তাহলে এসব ব্যপার কত সোজা হয়ে যাবে। তাই ব্যপারটাকে আমি অসম্ভব মনে করি না।

এই খানে কিছু কিন্তু আছে। জড়বস্তু পাঠান ঠিকাছে, কিন্তু প্রাণী পাঠালে তার মধ্যে প্রাণের সঞ্চার কি করে করা হবে?
ধরা যাক একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষকে পাঠালে অপর পাশে তার আরেকটা রক্ত মাংসের প্রতিলিপি তৈরি হল কিন্তু সেটা জড়।
তার মাঝে তো প্রাণ থাকার কথা না।
সেজন্য তাহলে মৃত মানুষকে জীবিত করার টেকনোলজী আগে আবিস্কার করতে হবে। notlisteningnotlistening%-(

Gentlemen, you can't fight in here, this is the war room!

১২

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

mcctuhin লিখেছেন:
আকাশছোঁয়া লিখেছেন:

শামীম ভাই। এ বিশ্বজতের সবকিছুই কিন্তু জড় বস্তু দিয়ে গঠিত।  মানুষ আসলো জড় বস্তুর জটিল এক কম্বিনেশন এ তৈরি। আর সেই কম্বিনেশনটা যদি নির্ভূল ভাবে জনা যায় তাহলে এসব ব্যপার কত সোজা হয়ে যাবে। তাই ব্যপারটাকে আমি অসম্ভব মনে করি না।

এই খানে কিছু কিন্তু আছে। জড়বস্তু পাঠান ঠিকাছে, কিন্তু প্রাণী পাঠালে তার মধ্যে প্রাণের সঞ্চার কি করে করা হবে?
ধরা যাক একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষকে পাঠালে অপর পাশে তার আরেকটা রক্ত মাংসের প্রতিলিপি তৈরি হল কিন্তু সেটা জড়।
তার মাঝে তো প্রাণ থাকার কথা না।
সেজন্য তাহলে মৃত মানুষকে জীবিত করার টেকনোলজী আগে আবিস্কার করতে হবে। notlisteningnotlistening%-(

প্রণীর টেলিপোর্টেশন করলে কি সমস্যা হতে পারে তাকিন্তু আমার লেখাতেই বলেছি। প্রাণ জিনিসটি আসলেই চরম জটিল। আগেতো জড় বস্তুর টেলিপোর্টেশন করতে হবে তারপর প্রণ নিয়ে ভাবা যবে। মাংসের প্রতিলিপি তৈরি কারা গেল কিন্তু কাজ প্রয় শেষ করান মাংসে কিন্তু জীবিত কোষ থাকবে।

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

১৩

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

ম্যাট্রিক্স এর মত হলে দারুন হবে তবে হঠাৎ প্লাগ খুলে দিলে ইন্নালিল্লাহ হয়ে যাবে।
একটা মুভি দেখেছিলাম।নাম "জাম্পার"।সেখানে যে টেলিপোর্ট হতে পারে সে প্রথমে গিয়েছিল
ব্যাংক ডাকাতি করতে.....:lol: lol lol

১৪

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

ক্রাইম করা সুবিদা হবে

১৫

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

জাম্পারের মত টেলিপোর্টার হতে পারলে কাজ হত। আর হ্যা টেলিপোর্টার বানালে এন্টি টেলিপোর্টার ব্যাংক বা কারাগারে ফিট করে রাখতে হবে  thinking

এম. মেরাজ হোসেন
IQ: 113
http://www.iq-test.cc/badges/4774105_3724.png

১৬

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

ovey লিখেছেন:

ক্রাইম করা সুবিদা হবে

   thinking

১৭

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

সাদাত হাসান লিখেছেন:
ovey লিখেছেন:

ক্রাইম করা সুবিদা হবে

   thinking

এর ভাল দিক ও তো রয়েছে

আমাকে মেসেজ পাঠাতে লিখুন skytouch <space> Your message তারপর সেন্ড করুন 7171 নাম্বারে যে কোন অপারেটর থেকে।

www.skytouch2u.com

১৮

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

ধন্যবাদ লেখাটি শেয়ার করার জন্য। টেলিপোর্টিং আমার পছন্দের একটা বিষয়। তবে এটা সম্ভব হওয়া না হওয়া নিয়ে ভালই অনিশ্চয়তা আছে।

একটা ছোট্ট ঘটনা শেয়ার করি। একটু আধ্যাত্মিক ব্যাপার অবশ্য।

বড়পীর আব্দুল কাদের জ্বীলানী (রঃ) একবার অসময়ে ঘুম থেকে উঠে অজু করে তার একটা খড়ম পা থেকে ছুড়ে মারলেন আর সেটি অদৃশ্য হয়ে গেল। ভক্তরা ব্যাপারটা তখনই বুঝতে পারল না। কিছুদিন পর তার আরেক ভক্ত, যে খড়ম ছুড়ে মারার সময় মরুভূমির মাঝে ডাকাত আক্রান্ত হচ্ছিল, ফিরে এসে জানাল পীর সাহেবের খড়ম তার পুরো কাফেলার জীবন রক্ষা করেছে। ছুড়ে মারা খড়ম ডাকাত সর্দারের জীবন সংহার করেছিল।

আমি জানি না, এ ঘটনার সত্যতা কতটুকু। তবে এধরনের অনেক আধাত্মিক কাহিনী সহজলভ্য আমাদের আশে পাশেই। প্রচলিত কথা হলো, আলী (রাঃ) বান্দারবানের একটা পাহাড়ি গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন।

যাই হোক, আমি আশাবাদী।

১৯

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

বর্ষণ লিখেছেন:

সেখানে যে টেলিপোর্ট হতে পারে সে প্রথমে গিয়েছিল
ব্যাংক ডাকাতি করতে.....:lol:

আমি বেচে থাকা অবস্থায় যদি এই প্রযুক্তি সম্ভব হয় তবে সবার প্রথমে এমাজন থেকে একটা ল্যাপটপ আনাবো dream

তবে বাংলাদেশ সরকার "ন্যাশনাল টেলিপোর্টেশন গেটওয়ে"-তে আবার ট্যাক্স না বসালেই হয়  nailbiting nailbiting

if ($কম্পিউটার != "উইন্ডোজ" && $লিনাক্স != "উবুন্টু" && $ইন্টারনেট != "ফেসবুক") {print 'I am a real user !';}

নিউরোন তরঙ্গের লগবই

কলম কবির'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: টেলিপোর্টেশন টেকনলজী

বিজ্ঞানের প্রায় প্রতিটি আবিষ্কারের ই ভাল এবং মন্দ, দুইটা দিকই আছে । তবে একটা জিনিস আমি বিশ্বাস করি, তাহচ্ছে বিজ্ঞান আমাদেরকে দিন-দিন পাপ করার সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে ।

IMDb; Phone: OnePlus 8T; PC: Asus Zenbook 14x OLED with Windows 11 Pro 64-bit