টপিকঃ একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

সদ্য নিবন্ধনকৃত ফোরামিস্ট ইমরান ভাই নিজেকে -দুই কন্যার বাবা, একটা মাত্র বউ --- এরকম ভাবে পরিচয় দিয়েছেন। এইটা দেখে হঠাৎ করে একটা গল্প মনে পড়ে গেল ...
(কারো কমন পড়ে গেলে নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন)
-------------------------------------------------------------------------


পর্ব-১ (পূর্ব কথা)

এক কাঠুরিয়া বনে নিয়মিত কাঠ কাটতে যেত। ওনার উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত কুড়ালটি একবার ছিটকে পাশের হ্রদের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। অত্যন্ত মন খারাপ করে পানির ধারে কান্নাকাটি করাতে ওখান থেকে এক দেবী উঠে এসে তাঁর দূঃখের কথা জিজ্ঞেস করল। কাঠুরিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে তাঁর কুঠার হারানোর গল্প বললেন। 

দেবী আশ্বাস দিলেন, যে তুমি দূঃখ করো না, আমি এই পানির ভেতরেই থাকি। দেখি তোমার কুড়াল খুঁজে দিতে পারি কি না। এই কথা বলে তিনি ভুস করে পানির তলে ডুব দিলেন। একটু পরে হাতে করে একটা সোনার কুঠার নিয়ে এসে বললেন,
ঃ দেখোতো বাছা, এটা তোমার কি না ...

কাঠুরিয়া মাথা নাড়েন। না হে মহান দেবী .... এই সোনার কুঠার আমার নয়। --- এ কথা শুনে দেবী আবার ডুব দিলেন, আর একটু পরে আরেকটা রূপার কুঠার নিয়ে এসে আগের মত জিজ্ঞেস করলেন
ঃ দেখোতো বাছা, এটা তোমার কি না ...

কাঠুরিয়া আবার মাথা নাড়েন। না হে মহান দেবী .... এই রূপার কুঠার আমার নয়। --- দেবী এবার ডুব দিয়ে কাঠুরিয়ার লোহার কুঠার তুলে এনে কাঠুরিয়াকে জিজ্ঞেস করাতে, কাঠুরিয়া খুব খুশি হয়ে দেবীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন তার কুঠার খুঁজে দেয়ার জন্য।

দেবী কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সবগুলো কুঠার উপহার দিলেন।

পর্ব-২ (আসল কাহিনী)

অবাক এবং কৃতজ্ঞ কাঠুরিয়া বাসায় ফিরে বউকে পুরা ঘটনা খুলে বললেন। বউ তো সোনা রূপার কুঠার দেখে আহ্লাদে আটখানা। বউয়ের পরামর্শে সেগুলো বিক্রি করে কাঠুরিয়ার ভালো লাভ হলো। ঘর-বাড়ি ঠিক করালেন। কিছু জমি কিনে চাষাবাদের কাজে লাগালেন। তাঁর দিন ফিরে গেলো ... ... অন্ততপক্ষে আগের মত এক বেলা না খেয়ে থাকতে হয় না।

বউ কাঠুরিয়াকে খালি গুতায়..... অ্যাই, তুমি আবার বনে যাও, ঐ পানিতে একটা বড় কিছু ..... ধর এই কাঠের আলমারীটা ফেলে কান্নাকাটি কর। তোমার ইনায় বিনায় কান্না দেখলে আবার দেবী আসবে, আবার তুমি সোনা রূপার আলমারি পাবে। চিন্তা কর, ওগুলো বিক্রি করলে কত টাকা হবে, আর আমার নিজেরও কিছু গয়না বানাবো ... ...

এহেন প্রতারণার পরামর্শে কাঠুরিয়া বউয়ের উপর বড়ই নাখোশ হল। বলল, এসব কাজ আমি করতে পারব না। এক কথা দুই কথায় ভীষন ঝগড়া লেগে গেল, কিন্তু কাঠুরিয়া কিছুতেই বনের হ্রদে যেতে রাজি হল না।

এদিকে বউও খুব সেন্টিমেন্টাল হয়ে গেল। আমার জন্য তোমার কোন মায়া নাই..... ইত্যাদি ইত্যাদি। ঠিক আছে, তুমি না যাও আমিই ওখানে যাব। বলে হন হন করে ভারী একটা বাক্স নিয়ে সে বের হয়ে বনের দিকে গেল।

এদিকে কিছুক্ষণ পরে কাঠুরিয়ার গোস্বা কমে এলে সে বউয়ের খোঁজে বের হল এবং বনের ঐ হ্রদের কাছে গিয়ে দেখল যে বাক্স পানিতে ভাসছে, বউয়ের কোন খোঁজ নাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও বউকে না পেয়ে আর বিভিন্ন আলামত দেকে সে নিশ্চিত হল যে বউ পানি পড়ে ডুবে গেছে। বউয়ের জন্য তাঁর খুব খারাপ লাগতে লাগল। বিষন্ন ভাবে সে আবার হ্রদের পাশে বসে কাঁদতে থাকল।

এবারও যথারীতি দেবী উঠে এসে কাঠুরিয়াকে মধুর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, আবার কি হল বাছা?

কাঠুরিয়া বিষন্ন ভাবে বলল যে তাঁর বউ পানিতে পড়ে গেছে ...  হাউ মাউ কান্না....

দেবী এবারও বললেন যে, দূঃখ কোরোনা বাছা, দেখি তোমার বউকে খুঁজে পাই কি না ... বলে ডুব দিলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসম্ভব সুন্দরী ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে উঠে এলেন... বললেন
ঃ দেখোতো বাছা, এটা কি তোমার বউ?

কাঠুরিয়া সাথে সাথে বলে উঠলেন -
ঃ হ্যা মা, এটাই আমার বউ .......

কাঠুরিয়ার এহেন চরিত্রস্খলন দেখে দেবী খুব রেগে গেলেন, তাঁর চোখ জ্বলতে থাকল .... ... বললেন, কী বললি?

তখন কাঠুরিয়া কাঁচুমাচু করে বললেন,
ঃ অপরাধ নেবেন না মা, আমি জানি আপনি অত্যন্ত দয়াবতী। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে যা জানি, আমি এই সুন্দরী কন্যাকে দেখে না বলব, আর আপনি তারপর তুলে আনবেন মাধুরীকে। আমি না বললে তারপর আনবেন আমার বউকে। যখন আমি হ্যা বলব, তখন আপনি আমার সততায় মুগ্ধ হয়ে আগের মত ৩ জনকেই আমাকে দিয়ে দেবেন।

মা, একটা বউকেই সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি প্রতিনিয়ত। তাই, এবার হ্যা বলেছি, যেন এরকম ৩টা গছিয়ে দেয়ার কোন ক্ষেত্র সৃষ্টি না হয়। দয়া করো মা, আমাকে শুধু আমার যেমন তেমন একমাত্র বউটাকে এনে দিন ... তাহলেই আমি বেঁচে যাই।

............................. (শেষ)

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

এক কাঠুরিয়া বনে নিয়মিত কাঠ কাটিতে যাইত। ওনার উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত কুড়ালটি একবার পাশের হ্রদের পানিতে পড়িয়া গিয়াছিল। কাঠুরিয়াকে অত্যন্ত মন খারাপ করিয়া পানির ধারে কান্নাকাটি করিতে দেখিয়া এক দেবী আসিয়া তাহার দুঃখের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে তাহার কুড়াল হারানোর গল্প বলিলেন।

দেবী আশ্বাস দিলেন, "তুমি দুঃখ করিও না, আমি এই পানির ভেতরেই থাকি। দেখি তোমার কুড়াল খুঁজিয়া দিতে পারি কি না।" এই কথা বলিয়া তিনি ভুস করিয়া পানির তলে ডুব দিলেন। একটু পরে হাতে করিয়া একটা সোনার কুড়াল নিয়া আসিয়া বলিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "হা ভগবান! আমাকে দেখিয়া কি এতই মূর্খ মনে হয় যে আমি সোনার তৈরী কুড়াল দিয়া কাটাকাটির কাজ করিবো? ইহা ছাড়াও আমি অতি দরিদ্র একজন লোক, আমি তো কোনো রাজা কিংবা সওদাগর নই যে আমার কাছে সোনার কুড়াল থাকিবে। হে মহান দেবী, এই সাধারণ জিনিসগুলি আপনি কি একবারও চিন্তা করিয়া দেখেন নাই?"

দেবী তখন লজ্জা পাইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটু পরে আরেকটা রূপার কুড়াল নিয়া আসিয়া আগের মত জিজ্ঞাসা করিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া আবার আগের মত মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "না হে মহান দেবী .... এই রূপার কুড়াল আমার নয়। আমি কোন কালেই, কোনখানেই, কোন মানুষকেই রূপার কুড়াল দিয়া কোন কিছু কাটিতে দেখি নাই। সুতরাং, এই রূপার কুড়ালটি কিছুতেই আমার হইতে পারে না।"

দেবী তখন মহা বিরক্ত হইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটি লোহার কুড়াল তুলিয়া আনিয়া কাঠুরিয়াকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া তাহার কুড়াল দেখিয়া আহলাদে গদগদ হইয়া বলিলেন, "আহা। এইতো আমার আমার আসল কুড়াল। এই কুড়ালটিই তো আমি বনে গাছ কাটার কাজে ব্যবহার করি। আহা! আমার কী সৌভাগ্য যে, আমি আমার কুড়ালটি ফিরিয়া পাইলাম।"

কাঠুরিয়ার মুখে এই কথা শুনিয়া দেবী চমকাইয়া গিয়া বলিলেন, "কী বলিলে? তুমি জংগলে গাছ কাটো? তোমার এত বড় সাহস! তুমি কি জানো না যে জংগলে গাছ কাটা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ।" এই কথা বলিয়া রাগান্বিত ও বিরক্ত দেবী পুলিশকে ফোন করিয়া দিলেন। ইহার পর পুলিশ আসিয়া কাঠুরিয়াকে ধরিয়া লইয়া গেল।

প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

ইশতিয়াক ভাই --- ভালো রম্য। এটা 'একটা মাত্র বউ' শিরোনামের অধীনে মানানসই নয়। কিন্তু রেসপন্স হিসেবে অনন্য।

সোনার কুঠারে গাছ কাটার প্রশ্ন আসবে কেন... ওটা বিক্রি করলে সেই টাকায় শুধু কুঠার বা একদিনের কাঠ বিক্রির টাকা না, আরও অনেক কিছুর ব্যবস্থা হবে। তবে, কাঠুরিয়া এটা না বুঝার মত বেকুব হলে, ও ব্যাটার কাঠ কাটাই উচিৎ।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

@ইশতিয়াক:
দেবী কী মোবাইল ব্যবহার করে;D? তা না হলে ঐ জায়গায় থেকে কিভাবে ফোন করল? কোন কোম্পানীর মোবাইল? tongue_smile

@শামীম ও ইশতিয়াক:
দুটো গল্পই ভাল লাগল:clap::clap::clap:। প্রথমটা বেশি ভাল:cool:

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

পুলিশের সাথে দেবীর কন্টাক্ট থাকতে পারে গাছ পাহারা দেয়ার। তাই হয়ত পুলিশই একটা মোবাইল দিতে পারে ।

“All our dreams can come true if we have the courage to pursue them.” - Walt Disney
http://www.amanpages.com/

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

ইশতিয়াক লিখেছেন:

এক কাঠুরিয়া বনে নিয়মিত কাঠ কাটিতে যাইত। ওনার উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত কুড়ালটি একবার পাশের হ্রদের পানিতে পড়িয়া গিয়াছিল। কাঠুরিয়াকে অত্যন্ত মন খারাপ করিয়া পানির ধারে কান্নাকাটি করিতে দেখিয়া এক দেবী আসিয়া তাহার দুঃখের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে তাহার কুড়াল হারানোর গল্প বলিলেন।

দেবী আশ্বাস দিলেন, "তুমি দুঃখ করিও না, আমি এই পানির ভেতরেই থাকি। দেখি তোমার কুড়াল খুঁজিয়া দিতে পারি কি না।" এই কথা বলিয়া তিনি ভুস করিয়া পানির তলে ডুব দিলেন। একটু পরে হাতে করিয়া একটা সোনার কুড়াল নিয়া আসিয়া বলিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "হা ভগবান! আমাকে দেখিয়া কি এতই মূর্খ মনে হয় যে আমি সোনার তৈরী কুড়াল দিয়া কাটাকাটির কাজ করিবো? ইহা ছাড়াও আমি অতি দরিদ্র একজন লোক, আমি তো কোনো রাজা কিংবা সওদাগর নই যে আমার কাছে সোনার কুড়াল থাকিবে। হে মহান দেবী, এই সাধারণ জিনিসগুলি আপনি কি একবারও চিন্তা করিয়া দেখেন নাই?"

দেবী তখন লজ্জা পাইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটু পরে আরেকটা রূপার কুড়াল নিয়া আসিয়া আগের মত জিজ্ঞাসা করিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া আবার আগের মত মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "না হে মহান দেবী .... এই রূপার কুড়াল আমার নয়। আমি কোন কালেই, কোনখানেই, কোন মানুষকেই রূপার কুড়াল দিয়া কোন কিছু কাটিতে দেখি নাই। সুতরাং, এই রূপার কুড়ালটি কিছুতেই আমার হইতে পারে না।"

দেবী তখন মহা বিরক্ত হইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটি লোহার কুড়াল তুলিয়া আনিয়া কাঠুরিয়াকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া তাহার কুড়াল দেখিয়া আহলাদে গদগদ হইয়া বলিলেন, "আহা। এইতো আমার আমার আসল কুড়াল। এই কুড়ালটিই তো আমি বনে গাছ কাটার কাজে ব্যবহার করি। আহা! আমার কী সৌভাগ্য যে, আমি আমার কুড়ালটি ফিরিয়া পাইলাম।"

কাঠুরিয়ার মুখে এই কথা শুনিয়া দেবী চমকাইয়া গিয়া বলিলেন, "কী বলিলে? তুমি জংগলে গাছ কাটো? তোমার এত বড় সাহস! তুমি কি জানো না যে জংগলে গাছ কাটা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ।" এই কথা বলিয়া রাগান্বিত ও বিরক্ত দেবী পুলিশকে ফোন করিয়া দিলেন। ইহার পর পুলিশ আসিয়া কাঠুরিয়াকে ধরিয়া লইয়া গেল।

lol2

তথ্যপ্রযুক্তির সবকিছু চাই বাংলায়
খেরোখাতায় লিখি মনের কথা।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সুমন (৩০-০৪-২০০৭ ১৫:০৬)

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

ইশতিয়াক লিখেছেন:

এক কাঠুরিয়া বনে নিয়মিত কাঠ কাটিতে যাইত। ওনার উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত কুড়ালটি একবার পাশের হ্রদের পানিতে পড়িয়া গিয়াছিল। কাঠুরিয়াকে অত্যন্ত মন খারাপ করিয়া পানির ধারে কান্নাকাটি করিতে দেখিয়া এক দেবী আসিয়া তাহার দুঃখের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে তাহার কুড়াল হারানোর গল্প বলিলেন।

দেবী আশ্বাস দিলেন, "তুমি দুঃখ করিও না, আমি এই পানির ভেতরেই থাকি। দেখি তোমার কুড়াল খুঁজিয়া দিতে পারি কি না।" এই কথা বলিয়া তিনি ভুস করিয়া পানির তলে ডুব দিলেন। একটু পরে হাতে করিয়া একটা সোনার কুড়াল নিয়া আসিয়া বলিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "হা ভগবান! আমাকে দেখিয়া কি এতই মূর্খ মনে হয় যে আমি সোনার তৈরী কুড়াল দিয়া কাটাকাটির কাজ করিবো? ইহা ছাড়াও আমি অতি দরিদ্র একজন লোক, আমি তো কোনো রাজা কিংবা সওদাগর নই যে আমার কাছে সোনার কুড়াল থাকিবে। হে মহান দেবী, এই সাধারণ জিনিসগুলি আপনি কি একবারও চিন্তা করিয়া দেখেন নাই?"

দেবী তখন লজ্জা পাইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটু পরে আরেকটা রূপার কুড়াল নিয়া আসিয়া আগের মত জিজ্ঞাসা করিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া আবার আগের মত মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "না হে মহান দেবী .... এই রূপার কুড়াল আমার নয়। আমি কোন কালেই, কোনখানেই, কোন মানুষকেই রূপার কুড়াল দিয়া কোন কিছু কাটিতে দেখি নাই। সুতরাং, এই রূপার কুড়ালটি কিছুতেই আমার হইতে পারে না।"

দেবী তখন মহা বিরক্ত হইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটি লোহার কুড়াল তুলিয়া আনিয়া কাঠুরিয়াকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া তাহার কুড়াল দেখিয়া আহলাদে গদগদ হইয়া বলিলেন, "আহা। এইতো আমার আমার আসল কুড়াল। এই কুড়ালটিই তো আমি বনে গাছ কাটার কাজে ব্যবহার করি। আহা! আমার কী সৌভাগ্য যে, আমি আমার কুড়ালটি ফিরিয়া পাইলাম।"

কাঠুরিয়ার মুখে এই কথা শুনিয়া দেবী চমকাইয়া গিয়া বলিলেন, "কী বলিলে? তুমি জংগলে গাছ কাটো? তোমার এত বড় সাহস! তুমি কি জানো না যে জংগলে গাছ কাটা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ।" এই কথা বলিয়া রাগান্বিত ও বিরক্ত দেবী পুলিশকে ফোন করিয়া দিলেন। ইহার পর পুলিশ আসিয়া কাঠুরিয়াকে ধরিয়া লইয়া গেল।

সেই ছোট বেলায় এই গল্পটি কোনো এক পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম। সম্ভবত শেষের অংশটুকু ইশতিয়াক(?) সম্পাদনা করেছেন।
দেবী, সোনার কুড়াল, পুলিশ, ফোন.......................একটু গোজামিল হয়ে গেল না?

জোবায়ের সুমন
রক্তের গ্রুপ: B(-)

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

হায়রে...... পোস্ট করলাম একটা মাত্র বউ দেখে..... আর এদিকে নেপোয় মারে দৈ!!!

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

ইশতিয়াক লিখেছেন:
এক কাঠুরিয়া বনে নিয়মিত কাঠ কাটিতে যাইত। ওনার উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত কুড়ালটি একবার পাশের হ্রদের পানিতে পড়িয়া গিয়াছিল। কাঠুরিয়াকে অত্যন্ত মন খারাপ করিয়া পানির ধারে কান্নাকাটি করিতে দেখিয়া এক দেবী আসিয়া তাহার দুঃখের কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে তাহার কুড়াল হারানোর গল্প বলিলেন।

দেবী আশ্বাস দিলেন, "তুমি দুঃখ করিও না, আমি এই পানির ভেতরেই থাকি। দেখি তোমার কুড়াল খুঁজিয়া দিতে পারি কি না।" এই কথা বলিয়া তিনি ভুস করিয়া পানির তলে ডুব দিলেন। একটু পরে হাতে করিয়া একটা সোনার কুড়াল নিয়া আসিয়া বলিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "হা ভগবান! আমাকে দেখিয়া কি এতই মূর্খ মনে হয় যে আমি সোনার তৈরী কুড়াল দিয়া কাটাকাটির কাজ করিবো? ইহা ছাড়াও আমি অতি দরিদ্র একজন লোক, আমি তো কোনো রাজা কিংবা সওদাগর নই যে আমার কাছে সোনার কুড়াল থাকিবে। হে মহান দেবী, এই সাধারণ জিনিসগুলি আপনি কি একবারও চিন্তা করিয়া দেখেন নাই?"

দেবী তখন লজ্জা পাইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটু পরে আরেকটা রূপার কুড়াল নিয়া আসিয়া আগের মত জিজ্ঞাসা করিলেন, "দেখোতো বাছা, এই কুড়ালটা তোমার কি না?"

কাঠুরিয়া আবার আগের মত মাথা নাড়িয়া বলিলেন, "না হে মহান দেবী .... এই রূপার কুড়াল আমার নয়। আমি কোন কালেই, কোনখানেই, কোন মানুষকেই রূপার কুড়াল দিয়া কোন কিছু কাটিতে দেখি নাই। সুতরাং, এই রূপার কুড়ালটি কিছুতেই আমার হইতে পারে না।"

দেবী তখন মহা বিরক্ত হইয়া পুনরায় পানিতে ডুব দিলেন ও একটি লোহার কুড়াল তুলিয়া আনিয়া কাঠুরিয়াকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন। কাঠুরিয়া তাহার কুড়াল দেখিয়া আহলাদে গদগদ হইয়া বলিলেন, "আহা। এইতো আমার আমার আসল কুড়াল। এই কুড়ালটিই তো আমি বনে গাছ কাটার কাজে ব্যবহার করি। আহা! আমার কী সৌভাগ্য যে, আমি আমার কুড়ালটি ফিরিয়া পাইলাম।"

কাঠুরিয়ার মুখে এই কথা শুনিয়া দেবী চমকাইয়া গিয়া বলিলেন, "কী বলিলে? তুমি জংগলে গাছ কাটো? তোমার এত বড় সাহস! তুমি কি জানো না যে জংগলে গাছ কাটা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ।" এই কথা বলিয়া রাগান্বিত ও বিরক্ত দেবী পুলিশকে ফোন করিয়া দিলেন। ইহার পর পুলিশ আসিয়া কাঠুরিয়াকে ধরিয়া লইয়া গেল।

Ki leki tomay ..............

১০

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

পানিতে ডুবনা দিয়া দেবী ফোন বা পুলিশ পাইলো কোথায়।

"We want Justice for Adnan Tasin"

১১

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

এই গল্পটা মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা:
একজন লোকের ছিল একটা হাঁস। প্রতিদিন সেই হাঁস আধ কেজি ওজনের একটা করে সোনার ডিম পাড়তো। একটা গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রী দেয়ার জন্যে লোকটার একবার একসাথে অনেক ক্যাশ টাকার প্রয়োজন হল। সে ঠিক করল হাঁসটাকে মেরে তার পেট কেটে এক সাথে সবগুলি সোনার ডিম বের করে ক্যাশ টাকা যোগাড় করবে। তার স্ত্রী শুনে বলল, ব্যাটা ছেলের বুদ্ধিই এইরকম। হাঁস মেরে পেট কেটে যদি দেখা যায় ভিতরে কোন ডিম নেই, তখন?
লোকটি বলল, তা ঠিকই বলেছ। কিন্তু এখন কী করা যায় বল তো?
স্ত্রী বলল, এক্স-রে ক্লিনিকে নিয়ে হাঁসটাকে এক্স-রে করে দেখ পেটে কয়টা ডিম। যদি দেখো অনেকগুলি আছে তাহলে কেটে বের করা যাবে।
লোকটি হাঁসটিকে এক্স-রে ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করে দেখল পেটে কোন সোনার ডিম নেই। কাজেই লোকটা হাঁসের পেট কাটল না, দিনে একটা করে সোনার ডিম নিয়েই সন্তুষ্ট থাকল।
তবে শহরে জানাজানি হয়ে যাওয়ার কিছুদিনের মাঝেই সে বড় ধরনের ইনকাম ট্যাক্সের ঝামেলায় পড়ে গেল।

সুমন লিখেছেন:

সেই ছোট বেলায় এই গল্পটি কোনো এক পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম। সম্ভবত শেষের অংশটুকু মুহম্মদ জাফর ইকবাল (?) সম্পাদনা করেছেন।
হাঁস, সোনার ডিম, এক্স-রে, ইনকাম ট্যাক্স.......................একটু গোজামিল হয়ে গেল না?

hehe hehe hehe

লেখাপড়া করে যে,
গাড়ি চাপা পড়ে সে।

১২

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

নাহরীন লিখেছেন:

এই গল্পটা মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা:
একজন লোকের ছিল একটা হাঁস। প্রতিদিন সেই হাঁস আধ কেজি ওজনের একটা করে সোনার ডিম পাড়তো। একটা গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রী দেয়ার জন্যে লোকটার একবার একসাথে অনেক ক্যাশ টাকার প্রয়োজন হল। সে ঠিক করল হাঁসটাকে মেরে তার পেট কেটে এক সাথে সবগুলি সোনার ডিম বের করে ক্যাশ টাকা যোগাড় করবে। তার স্ত্রী শুনে বলল, ব্যাটা ছেলের বুদ্ধিই এইরকম। হাঁস মেরে পেট কেটে যদি দেখা যায় ভিতরে কোন ডিম নেই, তখন?
লোকটি বলল, তা ঠিকই বলেছ। কিন্তু এখন কী করা যায় বল তো?
স্ত্রী বলল, এক্স-রে ক্লিনিকে নিয়ে হাঁসটাকে এক্স-রে করে দেখ পেটে কয়টা ডিম। যদি দেখো অনেকগুলি আছে তাহলে কেটে বের করা যাবে।
লোকটি হাঁসটিকে এক্স-রে ক্লিনিকে নিয়ে এক্স-রে করে দেখল পেটে কোন সোনার ডিম নেই। কাজেই লোকটা হাঁসের পেট কাটল না, দিনে একটা করে সোনার ডিম নিয়েই সন্তুষ্ট থাকল।
তবে শহরে জানাজানি হয়ে যাওয়ার কিছুদিনের মাঝেই সে বড় ধরনের ইনকাম ট্যাক্সের ঝামেলায় পড়ে গেল।

সুমন লিখেছেন:

সেই ছোট বেলায় এই গল্পটি কোনো এক পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম। সম্ভবত শেষের অংশটুকু মুহম্মদ জাফর ইকবাল (?) সম্পাদনা করেছেন।
হাঁস, সোনার ডিম, এক্স-রে, ইনকাম ট্যাক্স.......................একটু গোজামিল হয়ে গেল না?

hehe hehe hehe

এথন কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা আছে সুতরাং ইনকাম ট্যাক্সের ঝামেলার চিন্তা নেই।

"We want Justice for Adnan Tasin"

১৩

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

শামীম লিখেছেন:

সদ্য নিবন্ধনকৃত ফোরামিস্ট ইমরান ভাই নিজেকে -দুই কন্যার বাবা, একটা মাত্র বউ --- এরকম ভাবে পরিচয় দিয়েছেন। এইটা দেখে হঠাৎ করে একটা গল্প মনে পড়ে গেল ...
(কারো কমন পড়ে গেলে নিজগুনে ক্ষমা করে দেবেন)
-------------------------------------------------------------------------


পর্ব-১ (পূর্ব কথা)

এক কাঠুরিয়া বনে নিয়মিত কাঠ কাটতে যেত। ওনার উপার্জনের জন্য ব্যবহৃত কুড়ালটি একবার ছিটকে পাশের হ্রদের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। অত্যন্ত মন খারাপ করে পানির ধারে কান্নাকাটি করাতে ওখান থেকে এক দেবী উঠে এসে তাঁর দূঃখের কথা জিজ্ঞেস করল। কাঠুরিয়া ইনিয়ে বিনিয়ে তাঁর কুঠার হারানোর গল্প বললেন। 

দেবী আশ্বাস দিলেন, যে তুমি দূঃখ করো না, আমি এই পানির ভেতরেই থাকি। দেখি তোমার কুড়াল খুঁজে দিতে পারি কি না। এই কথা বলে তিনি ভুস করে পানির তলে ডুব দিলেন। একটু পরে হাতে করে একটা সোনার কুঠার নিয়ে এসে বললেন,
ঃ দেখোতো বাছা, এটা তোমার কি না ...

কাঠুরিয়া মাথা নাড়েন। না হে মহান দেবী .... এই সোনার কুঠার আমার নয়। --- এ কথা শুনে দেবী আবার ডুব দিলেন, আর একটু পরে আরেকটা রূপার কুঠার নিয়ে এসে আগের মত জিজ্ঞেস করলেন
ঃ দেখোতো বাছা, এটা তোমার কি না ...

কাঠুরিয়া আবার মাথা নাড়েন। না হে মহান দেবী .... এই রূপার কুঠার আমার নয়। --- দেবী এবার ডুব দিয়ে কাঠুরিয়ার লোহার কুঠার তুলে এনে কাঠুরিয়াকে জিজ্ঞেস করাতে, কাঠুরিয়া খুব খুশি হয়ে দেবীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন তার কুঠার খুঁজে দেয়ার জন্য।

দেবী কাঠুরিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সবগুলো কুঠার উপহার দিলেন।

পর্ব-২ (আসল কাহিনী)

অবাক এবং কৃতজ্ঞ কাঠুরিয়া বাসায় ফিরে বউকে পুরা ঘটনা খুলে বললেন। বউ তো সোনা রূপার কুঠার দেখে আহ্লাদে আটখানা। বউয়ের পরামর্শে সেগুলো বিক্রি করে কাঠুরিয়ার ভালো লাভ হলো। ঘর-বাড়ি ঠিক করালেন। কিছু জমি কিনে চাষাবাদের কাজে লাগালেন। তাঁর দিন ফিরে গেলো ... ... অন্ততপক্ষে আগের মত এক বেলা না খেয়ে থাকতে হয় না।

বউ কাঠুরিয়াকে খালি গুতায়..... অ্যাই, তুমি আবার বনে যাও, ঐ পানিতে একটা বড় কিছু ..... ধর এই কাঠের আলমারীটা ফেলে কান্নাকাটি কর। তোমার ইনায় বিনায় কান্না দেখলে আবার দেবী আসবে, আবার তুমি সোনা রূপার আলমারি পাবে। চিন্তা কর, ওগুলো বিক্রি করলে কত টাকা হবে, আর আমার নিজেরও কিছু গয়না বানাবো ... ...

এহেন প্রতারণার পরামর্শে কাঠুরিয়া বউয়ের উপর বড়ই নাখোশ হল। বলল, এসব কাজ আমি করতে পারব না। এক কথা দুই কথায় ভীষন ঝগড়া লেগে গেল, কিন্তু কাঠুরিয়া কিছুতেই বনের হ্রদে যেতে রাজি হল না।

এদিকে বউও খুব সেন্টিমেন্টাল হয়ে গেল। আমার জন্য তোমার কোন মায়া নাই..... ইত্যাদি ইত্যাদি। ঠিক আছে, তুমি না যাও আমিই ওখানে যাব। বলে হন হন করে ভারী একটা বাক্স নিয়ে সে বের হয়ে বনের দিকে গেল।

এদিকে কিছুক্ষণ পরে কাঠুরিয়ার গোস্বা কমে এলে সে বউয়ের খোঁজে বের হল এবং বনের ঐ হ্রদের কাছে গিয়ে দেখল যে বাক্স পানিতে ভাসছে, বউয়ের কোন খোঁজ নাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও বউকে না পেয়ে আর বিভিন্ন আলামত দেকে সে নিশ্চিত হল যে বউ পানি পড়ে ডুবে গেছে। বউয়ের জন্য তাঁর খুব খারাপ লাগতে লাগল। বিষন্ন ভাবে সে আবার হ্রদের পাশে বসে কাঁদতে থাকল।

এবারও যথারীতি দেবী উঠে এসে কাঠুরিয়াকে মধুর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, আবার কি হল বাছা?

কাঠুরিয়া বিষন্ন ভাবে বলল যে তাঁর বউ পানিতে পড়ে গেছে ...  হাউ মাউ কান্না....

দেবী এবারও বললেন যে, দূঃখ কোরোনা বাছা, দেখি তোমার বউকে খুঁজে পাই কি না ... বলে ডুব দিলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসম্ভব সুন্দরী ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে উঠে এলেন... বললেন
ঃ দেখোতো বাছা, এটা কি তোমার বউ?

কাঠুরিয়া সাথে সাথে বলে উঠলেন -
ঃ হ্যা মা, এটাই আমার বউ .......

কাঠুরিয়ার এহেন চরিত্রস্খলন দেখে দেবী খুব রেগে গেলেন, তাঁর চোখ জ্বলতে থাকল .... ... বললেন, কী বললি?

তখন কাঠুরিয়া কাঁচুমাচু করে বললেন,
ঃ অপরাধ নেবেন না মা, আমি জানি আপনি অত্যন্ত দয়াবতী। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে যা জানি, আমি এই সুন্দরী কন্যাকে দেখে না বলব, আর আপনি তারপর তুলে আনবেন মাধুরীকে। আমি না বললে তারপর আনবেন আমার বউকে। যখন আমি হ্যা বলব, তখন আপনি আমার সততায় মুগ্ধ হয়ে আগের মত ৩ জনকেই আমাকে দিয়ে দেবেন।

মা, একটা বউকেই সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি প্রতিনিয়ত। তাই, এবার হ্যা বলেছি, যেন এরকম ৩টা গছিয়ে দেয়ার কোন ক্ষেত্র সৃষ্টি না হয়। দয়া করো মা, আমাকে শুধু আমার যেমন তেমন একমাত্র বউটাকে এনে দিন ... তাহলেই আমি বেঁচে যাই।

............................. (শেষ)

ভাই যে যাই লেখুক এইটা আমার কাছে ফাটান্তিকা লেগেছে.......   lol2 lol2 lol2

স্রোতের বিপরীতে উদ্যত!

১৪

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

এত পুরান পোস্ট তুললেন কেন?  angry

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

১৫

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

সবগুলোই ২০% আপডেট মনে হল।

রোযা প্রতেক নর নারির উপর ফরয,তাই আসুন আমরা ফরয আদায় করি।

১৬

Re: একটা মাত্র বউ (ইমরান ভাইয়ের পরিচিতিমূলক পোস্ট দেখে মনে পড়ল)

সবগুলোই ২০% আপডেট মনে হল।

আমার কাছেও তাই মনে হল  neutral

দোয়েল কি জানে সে জাতীয় পাখী।