সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (৩১-০১-২০২২ ১২:১২)

টপিকঃ নীল আলো প্রতিরোধী চশমা পরার জন্য দিনের কোন সময়টা সেরা?

নীল আলো প্রতিরোধী চশমা (blue filter lens) সম্পর্কে আজকাল সবাই আগ্রহী হচ্ছে। তাই এই চশমা কী, কেন দরকার, খায় না মাথায় দেয় এগুলি জানা খুবই জরুরি আজকের দিনে। এই ধরনের চশমা সাধারণ চশমার থেকে আলাদা। এই চশমা দিয়ে শুধু নীল রং চোখে প্রবেশ করতে পারে না বা পারলেও অনেক কম প্রবেশ করে।

https://qph.fs.quoracdn.net/main-qimg-8743cc54f192c335fb543e4e8f30edd6-lq

কিন্তু ঘটনা হচ্ছে এত আলো থাকতে কেনই বা আমরা নীল আলোর পেছনে পড়েছি, অনেকেই এই ব্যাপারে ঠিকমতো জানেন না।

আমরা যে আলো দেখি (দৃশ্যমান আলো) তাতে রামধনুর মত সাতটা রং (VIBGYOR) থাকে। বেগুনী, নীল থেকে শুরু করে সবুজ, হলুদ, লাল পর্যন্ত। এদের মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশী আর বেগুনী আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। যেহেতু তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে শক্তি বা এনার্জির ব্যাস্তানুপাতিক সম্পর্ক, সেই হিসেবে বেগুনী আলোর শক্তি সবচেয়ে বেশী, লাল আলোর সবচেয়ে কম। নীল আলোর শক্তি শুধু বেগুনী রঙের থেকে কম[1]। বেশী শক্তির কারণে এই বেগুনী বা নীল রঙের আলোকে High energy visible light বা HEV লাইট বলা হয়।

বেশী শক্তির জন্য এইসব HEV আলোগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। এদের মধ্যে আমরা শুধু নীল আলো নিয়ে চিন্তিত কেন, তার কিছু কারণ রয়েছে। আমাদের শরীরের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলির যে ২৪ ঘণ্টার একটা শরীরচক্র (circadian rhythm)[2]আছে সেটার ব্যাঘাত ঘটায় এই নীল আলো। শুধু তাই নয়, সাধারণ eye strain থেকে শুরু করে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তির হ্রাস(macular degeneration)[3]পেতে পারে এই নীল আলোর প্রভাবে। আমাদের চোখ আল্ট্রাভা়ওলেট লাইট থেকে কর্নিয়াকে রক্ষা করতে পারলেও নীল রং প্রতিরোধ করতে পারেনা।[4]তাই আমাদের চোখকে নীল আলোর থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। আর এই প্রভাবগুলো তাৎক্ষণিক নয়। অর্থাৎ, আজ নীল আলো দেখলাম আর কাল অন্ধ হয়ে গেলাম - এমন ব্যাপার নয়।

নীল আলো ঘুমানোর হরমোন মেলাটোনিন এর ক্ষরণ কমিয়ে দিয়ে আমাদের সজাগ করে রাখে, আমাদের ঘুমিয়ে পড়তে বাধা দেয়। সূর্য থেকে দিনেরবেলা প্রচুর পরিমাণে নীল আলো এসে আমাদের চোখে ঢোকে। অথচ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে দিনেরবেলা হলো কাজ করার সময় আর রাত হলো বিশ্রাম নেবার বা ঘুমানোর সময়। সেইজন্য দিনেরবেলা নীল আলোর প্রাচুর্য্য থাকলেও তা আমাদের শারীরবৃত্তীয় চক্রের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু রাতেরবেলা যেহেতু ঘুমানোর সময় তাই ওইসময় বেশী নীল আলোর প্রভাব আমাদের ঘুমাতে বাধা দেয় যা দীর্ঘমেয়াদে ইনসোমনিয়া রোগের (যে রোগে ঘুম হয় না) জন্ম দিতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে লোকে স্লিপিং ট্যাবলেট খেতে শুরু করে[5]।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাতেরবেলা নীল আলো কোথা থেকে আসে? একটা কথা মনে রাখতে হবে শুধু সূর্য নীল আলোর একমাত্র উৎস নয়। আজকের দিনে আমরা যেসব ডিসপ্লে ডিভাইস ব্যবহার করি, যেমন মোবাইল, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ইত্যাদি- এগুলি থেকে প্রচুর নীল আলো নির্গত হয়। আর আমরা যেহেতু ঠায় ওইসব স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি, তাই এর প্রভাব সূর্যের নীল আলোর থেকেও বেশী ক্ষতিকারক। শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরো মারাত্মক।

যাইহোক অনেক গল্প হয়েছে, এবার প্রশ্নের উত্তরে আসি। দিনেরবেলা আমাদের বডি সাইকেলের হিসেবে জেগে থাকার সময়। আমরা ওইভাবেই অভিযোজিত হয়ে আছি। তাই দিনেরবেলা নীল রং প্রতিরোধী চশমা না পরলেও চলবে। তবে আপনি যদি সারাদিন কম্পিউটারে বসে কাজ করে থাকেন তাহলে ঐ চশমা পরেই কাজ করুন। আর রাত্রিবেলা যদি কম্পিউটার বা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করেন তা যত কম সময়ই হোক না কেন, নীল আলো প্রতিরোধী চশমা অবশ্যই পরুন।

টিপস: ল্যাপটপ বা মোবাইলে রাত্রিবেলা নাইটমোড অন করে রাখুন। রাত্রে শুতে যাবার দু তিন ঘণ্টা আগে থেকে এসব ডিসপ্লে থেকে দূরে থাকুন, মানে মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্যবহার কমান।

ব্যবহার কমান। @প্রিয়ব্রত।

ফুটনোটগুলি
[1] Why Blue Light Is So Bad: The Science — And Some Solutions
[2] http://Circadian rhythm https://g.co/kgs/qpYR6B
[3] http://Macular degeneration https://g.co/kgs/SnJS99
[4] How blue light is both bad for you AND good for you! (Huh?)
[5] When To Use Blue Light Filters | Ocushield Blue Light Screen Protectors






#সংগৃহীত

"We want Justice for Adnan Tasin"