টপিকঃ আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলি যা আমরা জানিনা !

কয়েকটি চলমান ঘটনার কথা বলতে পারব, যেগুলো আমাদের কাছে সরাসরি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয় না।

১। প্রতি সেকেন্ডে ১০,০০০ কোটি নিউট্রিনো আমাদের শরীরের প্রতি বর্গসেন্টিমিটারের মধ্যে দিয়ে চলে যাচ্ছে। এই সম্পর্কে আমাদের কোন বোধ নেই।

২। প্রতি ৩৬৫.২৫ দিনে আমাদের পৃথিবী ৩৬৬.২৫ টি ডিগবাজী দিচ্ছে। আমরা সূর্যের দিকে তাকিয়ে সেটা বুঝতে পারি না। কিন্তু দুরের আকাশের তারাগুলোকে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন, আমরা প্রতি ৩৬৫ দিনে ৩৬৬ বার তাদের দিকে মুখ ফেরাই।

৩। আমরা আমাদের মাথার উপর প্রতি বর্গইঞ্চিতে প্রায় ৬ কেজি ওজনের বাতাস নিয়ে চলাচল করি। এক হাতের তালু প্রসারিত করে ধরলে, সেখান প্রায় ১০০ কেজি ওজন চাপান রয়েছে।

৪। মাছেরা যেমন পানিতে ভেসে বেড়ায়, তেমনি পাখিরা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এক্ষেত্রে বায়ুমণ্ডল হল অনেকটা হালকা ঘনত্বের সমুদ্র। সমূদ্রের তলদেশে যেমন অনেক বিচিত্র প্রাণীর বাস, আমরাও সেরকম ১৫ কিলোমিটার গভীর বায়ু-সমূদ্রের তলদেশে বাস করি।

৫। প্রতি ১২/১৩ টি চন্দ্রমাসে আমাদের চাঁদ আমাদের চারপাশে মাত্র ১৩/১৪ টি চক্র সম্পন্ন করে। অথচ আমরা মনে করি প্রতি ২৯/৩০ দিনে সে ২৮/২৯ টি চক্র সম্পন্ন করছে।

৬। আমরা ২০ হার্টজের থেকে ভোতা বা ২০ কিলো-হার্টজের থেক তীক্ষ্ন কোন শব্দ শুনতে পারি না। কিন্তু সেরকম শব্দ অহরহই হচ্ছে। এমনকি আমরা সেগুলো বিভিন্ন কাজেও লাগাই।

৭। ৩৮০ ন্যানোমিটারের কম এবং ৭০০ ন্যানোমিটারের বেশী তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কোন আলো আমরা দেখতে পাই না। অথচ এই ব্যপ্তির উভয় পাশে রয়েছে বিশাল বৈচিত্রময় আলোক শক্তি। এমনকি আমরা সেগুলো কাজেও লাগাই।

৮। ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটাটি আসলে এতটাই ধীরে চলে যে, টানা কয়েক মিনিট ওর দিকে তাকিয়ে থাকলেও আমরা তেমন কোন পার্থক্য বুঝতে পারি না। এর থেকেও ধীর গতির আরো বহু ঘটনা ঘটে চলেছে, যেগুলো আদতে আমাদের কাছে স্থির মনে হয়। যেমন- শিশু থেকে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত আমাদের চেহারা বদলে যায়, কিন্তু আমরা প্রতি রাতে যে চেহারা নিয়ে ঘুমাতে যায়, সকালে সেই একই চেহারা নিয়ে জেগে উঠি।

আসলে এরকম ভূরি ভূরি ঘটনার কথা বলা যাবে, যেগুলো আসলে ঘটছে, কিন্তু আমরা তার খবর রাখি না। এখন এই বিজ্ঞানের যুগে বসে “খবর রাখি না” বললে হয়ত ভুল হবে, আসলে প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া অনুভব করতে পারি না।

মানুষের ইন্দ্রিয়গুলো কয়েক ধরনের ভৌত ও জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাহ্যিক পরিবেশ-পরিস্থিতিকে অনুভব করে। তবে প্রতিটি বিষয়ই খুব সামান্য রেন্জের মধ্যে কার্যকর এবং মাত্রাগত ত্রুটিতে ভরপুর। প্রবৃত্তি এবং অভিজ্ঞতার বশে আমরা যেটাকে আমরা সরাসরি সত্য বলে মেনে নিই, সেগুলো সবক্ষেত্রে সত্যি নাও হতে পারে।

#সংগৃহীত

"We want Justice for Adnan Tasin"