সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ?????? (০৭-০৬-২০০৮ ১৪:১৯)

টপিকঃ ইলেক্ট্রনিক্স

এ নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে। ভাবলাম এখানেও দেই। অনেকেই দুই ফোরামের সদস্য হলেও সবাই তো আর না।

এই টপিকটি শুরু করলাম নিম্নোক্ত কয়েকটি কারণে:
১. ইলেক্ট্রনিক্স সংক্রান্ত আমার ধারণাগুলো লিপিবদ্ধ থাকল, পরবর্তীতে কাজে লাগবে।
২. আমার ধারণায় কোন ভুল থাকলে সেটা এখানে আলোচনার মাধ্যমে শুধরে নিতে পারব।
৩. ইলেক্ট্রনিক্স সম্পর্কে যারা জানতে আগ্রহী তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারবে।


একেবারে প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করছি। অনেকেই এ বিষয়গুলো জানেন। আস্তে আস্তে আরও বিষয় নিয়ে লেখার ইচ্ছা আছে। পরবর্তীতে কিছু ডায়াগ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করব।

আধান বা চার্জ (Charge):
পদার্থের স্থিতিশীল ক্ষুদ্রতম গাঠণিক উপাদান পরমাণু স্বাভাবিক অবস্থায় আধান (চার্জ) নিরপেক্ষ। আধান পরমাণুর উপাদান ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। নিউট্রন আধানহীন, ইলেক্ট্রন ঋণাত্মক, প্রোটন ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট। পরমাণুতে স্বাভাবিক অবস্থায় সম পরিমাণ ইলেক্ট্রন ও প্রোটন থাকে, ফলে মোট আধান শূন্য।

পরমাণুর প্রোটন কণা নিউক্লিয়াসে (পরমাণুর কেন্দ্র) দৃঢ় ভাবে আবদ্ধ থাকে। অপর কণা ইলেক্ট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তিত হয়। বাহ্যিক শক্তি দ্বারা বা বিশেষ অবস্থায় ইলেক্ট্রন নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ শক্তিকে উপেক্ষা করে পরমাণু থেকে মুক্ত হতে পারে। এরফলে পরমাণুর আধান ভারসাম্য নষ্ট হয়।

যে পরমাণু ইলেক্ট্রন হারায় সেটি হয় ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট। আর যে পরমানু অতিরিক্ত ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে সেটি হয় ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট (আধান নিরপেক্ষ অবস্থাতেও পরমাণুর অতিরিক্ত ইলেক্ট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা রয়েছে)। এভাবে সম্পূর্ণ একটি পদার্থ বা বস্তু চার্জিত হতে পারে।

সমধর্মী আধানবিশিষ্ট বস্তু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। আর বিপরীতধর্মী আধানবিশিষ্ট বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।

তড়িৎ প্রবাহ বা কারেন্ট (Current):যখন দু’টি চার্জিত পরমাণু বা বস্তু কোন মাধ্যম দ্বারা সংযুক্ত হয় তখন উভয়ের চার্জ সমান না হওয়া পর্যন্ত আধান (প্রকৃতপক্ষে ইলেক্ট্রন) প্রবাহিত হয়। আধান (চার্জ) বা ইলেক্ট্রনের এই প্রবাহকে তড়িৎ প্রবাহ বা ইলেক্ট্রিক কারেন্ট বা শুধু কারেন্ট বলে।

তড়িৎ বিভব বা ভোল্টেজ (Voltage):
[ বিভবের মূল সংজ্ঞা সাধারণভাবে বোঝার জন্য বেশ জটিল। আমি সহজ ভাবে বিভবের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।]

চার্জিত বস্তুর যে বৈশিষ্ট্যের কারণে আধান (বা ইলেক্ট্রন) মাধ্যমে চলাচলের শক্তি লাভ করে তাকে বিভব বলে। বিভবের পরিমাণ চার্জের পরিমাণের উপর নির্ভরশীল । চার্জিত বস্তুর বিভবের পরিমাণ, সবসময় কোন রেফারেন্স বিন্দুর (সাধারণত পৃথিবী বা ভূমি (ground) কে রেফারেন্স ধরা হয়) বিভবের সাথে ঐ বস্তুর বিভবের পার্থক্য হিসেবে প্রকাশ করা হয় । পৃথিবীর বিভব শূন্য ।

কেবলমাত্র দু’টি চার্জিত বস্তুর বিভবে পার্থক্য থাকলে এবং তারা কোন মাধ্যম দ্বারা সংযুক্ত থাকলে আধান (বা ইলেক্ট্রন) তথা তড়িৎ প্রবাহিত হয়।

প্রচলিত ধারণা মতে তড়িৎ প্রবাহ উচ্চ বিভব হতে নিম্ন বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে ইলেক্ট্রন নিম্ন বিভব হতে উচ্চ বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। সাধারণত ইলেক্ট্রনিক্সের সকল কার্যপ্রণালীতে তড়িৎ প্রবাহের প্রচলিত দিক (উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভব) বিবেচনা করা হয়।

ঋণাত্মক চার্জ হতে সৃষ্ট বিভব ধনাত্মক চার্জ হতে সৃষ্ট বিভব থেকে কম হয়। বিভবের পার্থক্য তড়িৎ চলাচলে শক্তি যোগায় যতক্ষণ পর্যন্ত বিভব পার্থক্য অর্থাৎ দুটি বস্তুর চার্জের পার্থক্য থাকে।

তড়িৎ মাধ্যম:
তড়িৎ মাধ্যম তিন প্রকার।
১. সুপরিবাহী: এ মাধ্যমে আধান সহজে চলাচল করতে পারে। সকল প্রকার ধাতব পদার্থ, পানি, মানবদেহ প্রভৃতি তড়িৎ সুপরিবাহী মাধ্যম।
২. অন্তরক বা অপরিবাহী: এ মাধ্যমে তড়িৎ একেবারেই প্রবাহিত হতে পারে না। যেমন: প্লাস্টিক, রাবার।
৩. অর্ধপরিবাহী: এসকল মাধ্যমে আধান আংশিক চলাচল করতে পারে। যেমন: সিলিকন, জারমেনিয়াম ইত্যাদি।

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

মহাকাল ভাই, চালিয়ে যান, আমি আছি আপনার সাথে। thumbs_up প্রায় ৬ বছর হল এই লাইন ছেড়ে দিয়েছে, শখের বশে কত কিছুই না করেছি।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

আমিও আগ্রহী।

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

nailbitingnailbiting:-S:-S:-S:-S~X(~X(~X(~X(~X(
আর না--(--(--(--(
লাস্ট উইক এ ই এই গুলার উপর এক্সাম দিসি~X(~X( আর না--(--(--(--(
আর কত কাল পড়মু এই গুলা??? সেই ক্লাস নাইন থেকে শুরু হইসে:-@:-@:-@

শেষ গানেরই রেশ নিয়ে যাও চলে, শেষ কথা যাও ব'লে!
সময় পাবে না আর, নামিছে অন্ধকার!
গোধূলিতে আলো-আঁধারে-পথিক যে পথ ভোলে!!

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ?????? (০৭-০৬-২০০৮ ১৪:১৮)

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

কাতার ভাই, আপনি তো তাহলে অভিজ্ঞ লোক। আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারব আশা করছি।

(রূপসী-রাক্ষসী) তারানা আপু: পরীক্ষা জন্য পড়তে হবে এটা মনে করলে কোন বিষয়ই আসলে ভাল লাগে না। জানার জন্য পড়লে অনেক মজা পাওয়া যায়।


আসলে ইলেক্ট্রনিক্সের আলোচনার পরিধি অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত (  confusedখুব সামান্যই জানি) , যা লিখে শেষ করা যাবে না। আমি চেষ্টা করছি একেবারে বেসিক বিষয় গুলো নিয়ে লিখতে।

রোধ (Resistance) ও রোধক (Resistor):

রোধ:
সকল পদার্থ তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎকে বাধা দিতে চায়। পদার্থের এই প্রবণতাকে রোধ বলা হয়। তড়িৎ সুপরিবাহী পদার্থের এই প্রবণতা খুবই সামান্য, আর অন্তরকের রোধ খুবই বেশী (ফলে তড়িৎ একেবারেই প্রবাহিত হতে পারে না)। বিশেষ অবস্থায় (অতি নিম্ন তাপমাত্রায়) কিছু কিছু পদার্থের রোধ একেবারে শূন্য হয়, তখন এ সকল পদার্থকে বলা হয় অতিপরিবাহী (Superconductor)।

বস্তুর রোধের পরিমাণ নির্ভর করে এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, তাপমাত্রা ও উপাদানের উপর।

নির্দিষ্ট উপাদানের বস্তুর ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রায় রোধের মান বস্তুর দৈর্ঘ্য/(প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল) এর সমানুপাতিক। অর্থাৎ বস্তুর দৈর্ঘ্য বাড়লে রোধ বাড়বে আর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল বাড়লে রোধ কমবে।

নির্দিষ্ট উপাদানের নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থচ্ছেদের বস্তুর রোধ এর তাপমাত্রার সমানুপাতিক। অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়লে রোধ বাড়বে, তাপমাত্রা হ্রাস পেলে রোধ কমবে।

রোধ পরিমাপের একক হল ওহম (Ohm, Ω)।

রোধক:
পদার্থের এই রোধ ধর্মকে ব্যবহার করে সার্কিটে (তড়িৎ বর্তনী) তড়িৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের জন্য দ্বৈত প্রান্ত (Two-Terminal) বিশিষ্ট যে ইলেক্ট্রনিক কম্পোনেন্ট ব্যবহার করা হয় তাকে রোধক বা রেজিস্টর (Resistor) বলে।

রোধক সাধারণত
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/e/e3/3_Resistors.jpg/200px-3_Resistors.jpg
axial through hole

http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/05/Zero_ohm_resistors_cropped.jpg/180px-Zero_ohm_resistors_cropped.jpg
surface mount
আকারে পাওয়া যায়।

রোধক দুই ধরনের স্থির রোধক (এর মান নির্দিষ্ট) ও পরিবর্তনশীল রোধক।

গঠন পদ্ধতি অনুসারে স্থির রোধক নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়:

১. কার্বন যৌগ রোধক (Carbon Composition Resistor): কার্বন যৌগের সাথে সিরামিক ও রেজিন মিশ্রিত করে এই রোধক প্রস্তুত করা হয়। মিশ্রণে কার্বনের পরিমাণের উপর রোধের মান নির্ভর করে। এর মান কাঙ্খিত রোধের ±১০% কম-বেশী হতে পারে।

২. কার্বন ফিল্ম রোধক (Carbon Film Resistor): সিরামিক রডের উপর কার্বনের আস্তরণ সৃষ্টির মাধ্যমে এই রোধক প্রস্তুত করা হয়। এর মান কাঙ্খিত রোধের ±২% কম-বেশী হতে পারে এবং বেশ স্থায়ী হয়।

এছাড়া আরও নানান পদ্ধতিতে স্থির রোধক তৈরী করা হয়।
তড়িৎ বর্তনীর চিত্রে স্থির রোধক প্রকাশ করা হয় http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/e/ee/Resistor_symbol_America.svg/50px-Resistor_symbol_America.svg.png বা http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/a/a0/Resistor_symbol_Europe.svg/50px-Resistor_symbol_Europe.svg.png এই চিহ্ন দ্বারা।

পরিবর্তনশীল রোধক (Variable Resistor): এই ধরণের রোধকের মান পরিবর্তন করা যায়। সার্কিটে http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/19/Potentiometer_symbol.svg/50px-Potentiometer_symbol.svg.png
বা http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/9/90/Variable_resistor_symbol.svg/50px-Variable_resistor_symbol.svg.pngবা http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/1c/Potentiometer_symbol_Europe.svg/50px-Potentiometer_symbol_Europe.svg.pngবা http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/7/76/Variable_resistor_symbol_Europe.svg/50px-Variable_resistor_symbol_Europe.svg.png এই চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

এখানে বলে রাখি, ইলেক্ট্রনিক সার্কিটে Noise (অনাকাঙ্খিত ইলেক্ট্রনিক সিগন্যাল) এর প্রধান উৎস হল রেজিস্টর বা রোধক।

আজকে এই পর্যন্তই। পরবর্তীতে রোধকের মান নির্ণয়ের কালার কোড (Color Code) পদ্ধতি ও সার্কিটে রোধক সংযোগের পদ্ধতি (সিরিজ ও সমান্তরাল) নিয়ে লিখব।

ছবি সূত্র: উইকিপিডিয়া।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন microqatar (০৮-০৬-২০০৮ ১১:৩৯)

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

কাতার ভাই, আপনি তো তাহলে অভিজ্ঞ লোক। আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারব আশা করছি।

পাবেন , আশা করা যায়। thumbs_up
রেজিস্টর এর জন্য আমি কিছু যোগ করলাম।
এল ডি আর ( লাইট ডিপেন্ট রেজিস্টর) : http://forum.projanmo.com/uploads/2008/06/859_ldr1a.gifএটি আলোর উপর নির্ভর করে মান পরিবর্তন করে। এই রেজিস্টর এর উপর আলো পড়ল এর মান কমতে থাকে , বিপরীতভাবে এর উপর আলো কমতে থাকলে মান বৃদ্ধি পায়। http://forum.projanmo.com/uploads/2008/06/859_ldr1.gif

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

কিছু জিনিস এতো ভাল ভাবে জানতাম না, এখন জানলাম। আশাকরি আরও জানাবেন। এরকম একটি সুন্দর টপিক উপস্থাপন করার জন্য ধন্যবাদ thumbs_up

...ঈশ্বরের মত
ভবঘুরে স্বপ্নগুলো.....                                                                        রক্তের গ্রুপঃ A+

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ?????? (০৮-০৬-২০০৮ ০৯:২৫)

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

রোধকের মান ও কালার কোড:

এখানে বলে রাখি, 4.7Kohm রোধক 4K7 আকারেও লেখা হয়। এরূপ 2.7ohm লেখা হয় 2R7 ইত্যাদি (R মানে Resistance অর্থাৎ ohm)।
ও আচ্ছা, K(কিলো) = ১০০০, M (মেগা) = ১০০০০০০, m(মিলি) = ১০^(-৩) , u(মাইক্রো) = ১০^(-৬) ইত্যাদি। সবাই মনে হয় জানেন তাও দিলাম।

Surface Mount রোধকের মান সরাসরি এর গায়ে তিন অংকের সংখ্যা দিয়ে লেখা থাকে। প্রথম দুইটি অংক একটি সংখ্যা হিসেবে ধরা হয় এবং তৃতীয় অংকটি ১০এর ঘাত হিসেবে ধরা হয়। প্রাপ্ত সংখ্যা দুটি গুন করে রোধকের মান নির্ণয় করা হয়। উদাহরণ স্বরূপ যদি লেখা থাকে 334, তবে এর মানে হল 33 x 10^4 = 330KΩ। 100 ওহমের নিচে হলে লেখা হয় 220, মানে হল 22 x 10^0 = 22Ω। সাধারণত এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়।

তবে Axial through hole রোধকের মান কালার কোডের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। রোধকের গায়ে বিভিন্ন রঙের ব্যান্ড অংকিত থাকে যা এর মান নির্দেশ করে। ভিন্ন ভিন্ন রঙ ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা নির্দেশ করে। সাধারণত চারটি রঙের ব্যান্ড থাকে। প্রথম তিনটি রোধকের মান ও শেষেরটি টলারেন্স (কাঙ্খিত মানের চেয়ে কত খানি কম-বেশী হতে পারে সেটা) নির্দেশ করে।

প্রথম তিনটি ব্যান্ডের জন্য কালার কোড নিম্নরূপ:

কালো (Black) = ০
বাদামী (Brown) = ১
লাল (Red) = ২
কমলা (Orange) = ৩
হলুদ (Yellow) = ৪
সবুজ (Green) = ৫
নীল (Blue) = ৬
বেগুনী (Violet) = ৭
ধূসর (ছাই রঙ) (Gray) = ৮
সাদা (White) = ৯

এটা মনে রাখার জন্য এই বাক্যটি জানলেই চলবে: B.B. R O Y Good Boy Very Good Worker । এরকম আরও অনেক বাক্য রয়েছে মনে রাখার জন্য।

চতুর্থ ব্যান্ড (টলারেন্স) এর কালার কোড:

বাদামী (Brown) = ±১%
লাল (Red) = ±২%
সবুজ (Green) = ±০.৫%
নীল (Blue) = ±০.২৫%
বেগুনী (Violet) = ±০.১%
ধূসর (ছাই রঙ)  (Gray) = ±০.০৫%
সোনালী (Gold) = ±৫%
রূপালী (Silver) = ±১০%
আর কোন চতুর্থ ব্যান্ড না থাকলে ধরা হয় ±২০%

মান নির্ণয়ের নিয়ম আগের মতই, প্রথম তিনটি ব্যান্ডের প্রথম দুটি থেকে সংখ্যা পাওয়া যায় আর তৃতীয় ব্যান্ডের মান ১০ এর ঘাত হিসেবে ধরা হয়। এদুইটি গুন করে রোধকের মান পাওয়া যায়। আর চর্তুথ ব্যান্ড টলারেন্স নির্দেশ করে। একটি উদাহরণ দেই:
http://a454.ac-images.myspacecdn.com/images01/114/l_49144d955d9b08df3390beb2cee97b35.jpg

এখানে ক (বাদামী) = 1 , খ (কালো) = 0 , গ (লাল) = 2 এবং ঘ (রূপালী) = ±10%
মান হবে: কখ x 10^গ  ঘ অর্থাৎ 10 x 10^2 = 1000 = 1KΩ ±10%

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাস্তবে সকল মানের রোধক প্রস্তুত করা হয় না। রোধকের মানের কতগুলো সিরিজ রয়েছে সে অনুযায়ী মান সম্পন্ন রোধক পাওয়া যায়। সবচেয়ে কমন সিরিজ হল E12 । এর অর্থ হল এই সিরিজে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে ১২ টি ভিন্ন মানের রোধক রয়েছে। এগুলো হল: 1 , 1.2 , 1.5, 1.8, 2.2, 2.7, 3.3, 3.9, 4.7, 5.6, 6.8, 8.2 এবং এদের ১০ এর গুণিতক যে কোন মাণ। অর্থাৎ এই সিরিজে রোধক হবে 1R2, 47Ω, 390Ω, 1K2Ω ইত্যাদি এ ধারায়। 9K1Ω বা 300Ω এরকম রোধক এই সিরিজে পাওয়া যাবে না। E12 সিরিজের রোধকের টলারেন্স সাধারণত হয় ±10%। এছাড়া E24, E48, E96 ইত্যাদি সিরিজ রয়েছে যাতে আরও বেশী সূক্ষ্ম মান সম্পন্ন রোধক পাওয়া যায়।

এখন আর লিখতে ইচ্ছা করছে না। রোধক নিয়ে বাকি কথা পরে লিখব।
আপনারা মতামত দিয়েন, তাহলে উৎসাহ পাই  smile

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

এই টপিক খুলার জন্য একটা + দেওয়া হল।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

আমার কাছে সবই নতুন ছিলো যাক বইকি অনেক লাভ হল

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মহাকাল (০৮-০৬-২০০৮ ১৬:০৯)

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

সবাইকে ধন্যবাদ।:)

কাতার ভাই, ফটোরেজিস্টরের (এল ডি আর)  চমৎকার এনিমেশনের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ছবি অনেক বেশী কথা বলে, ভাল মতো বোঝা যায়। আমি কি এ অংশটুকু আমাদের প্রযুক্তিতে দিতে পারি?

সার্কিটে ফটোরেজিস্টর প্রকাশ করা হয় http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/48/Light-dependent_resistor_schematic_symbol.svg/128px-Light-dependent_resistor_schematic_symbol.svg.png এই চিহ্নের মাধ্যমে।

১২

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

এ্যানিমেশন গুলা ধার করে নেওয়া এই সা্ইট হতে।সরি লিংক দিতে ভুলে গেছিলাম।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

কাতারভাই ও মহাকালভাইকে ধন্যবাদ।

১৪

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

মহাকাল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ এরকম একটা থ্রেড খোলার জন্য।
আমি ইলেক্টনিক্স প্রোজেক্ট ভিত্তিক একটা থ্রেড খোলার কথা ভাবছিলাম।
আপনার টিউটরিয়ালটা কি মজার ছোট ছোট প্রোজেক্ট ভিত্তিক হতে পারে? roll

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মহাকাল (০৯-০৬-২০০৮ ০৭:৫৫)

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

ভাই, আপনি মজার ইলেক্ট্রনিক্স প্রোজেক্ট ভিত্তিক থ্রেড খুলুন আর এখানে থিউরি আলোচনা চললো, সেটাই তো ভাল হয়। তাহলে কি কেন ব্যবহার করা হয় আর কিভাবে কাজ করে সেটা এখানে জেনে আপনার মজার প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করতে পারবে। আর আপনি এখানে আরও তথ্য যোগ করলে খুশি হব।


কাতার ভাই: আমি তাহলে এ্যানিমেশন গুলো আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে দিলাম, লিংক সহ।

অ.ট.: এইটা আমার শততম পোস্ট dancing। এখন আমি নিয়মিত:">।

১৬

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

শততম পোস্টের জন্য অভিনন্দন।

১৭

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

নিয়মিত হওয়ার জন্য যে ১০০ টা পোষ্ট লাগে জানতাম না, এখন জানলাম।
প্রযুক্তি ফোরামে আপনার টপিকটা আমার পড়া আছে।

<জট্টিল কুরআনিক সাইট>
বৃত্তিতে আই টি প্রফেশনাল হওয়ার তালিম নেয়া শুরু করলাম।
ইসলাম সম্পর্কে পুর্ণাঙ্গ জ্ঞান পেতে দেখুন ইসলাম & লাইফ .অরগ

১৮

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

সার্কিটে রোধক সংযোগ:

দুইটি পদ্ধতিতে ইলেক্ট্রনিক সার্কিটে রোধক সংযোগ করা হয়।
      (ক) শ্রেণী সমবায় (Series Combination) এবং (খ) সমান্তরাল সমবায় (Parallel Combination)
কেবল রোধক নয়, মূলত সার্কিটে সকল ইলেক্ট্রনিক কম্পোনেন্ট এ দুই পদ্ধতি অনুসারে সংযুক্ত করা হয়। একই সার্কিটে দুইধরণের সংযোগ পদ্ধতি একসাথেও ব্যবহৃত হতে পারে।

(ক) শ্রেণী সমবায়: সার্কিটে যদি প্রথম রোধকের শেষ প্রান্ত দ্বিতীয় রোধকের প্রথম প্রান্তের সাথে সংযুক্ত করা হয় তবে একে শ্রেণী সমবায় বলে। এভাবে:
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/11/Resistors_in_series.svg/390px-Resistors_in_series.svg.png

এখন যদি এরকম ভাবে সংযুক্ত রোধকগুলোর পরিবর্তে সমমানের একটিমাত্র রোধক (যাকে ঐ রোধকগুলোর তুল্য রোধক বলা হয়) ব্যবহার করতে হয় তবে তার মান হবে এই সূত্র অনুসারে:

http://upload.wikimedia.org/math/0/1/5/01541fd01585b4f8ba5ac819e4abc042.png

এখানে Req হল তুল্য রোধ বা Equivalent Resistance।

(খ) সমান্তরাল সমবায়: এ পদ্ধতিতে দুই বা ততোধিক রোধকের এক প্রান্তগুলো একই বিন্দুতে সংযুক্ত থাকে এবং অপর প্রান্তগুলো আরেক বিন্দুতে সংযুক্ত থাকে। এভাবে:
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/09/Resistors_in_parallel.svg/301px-Resistors_in_parallel.svg.png
সমান্তরাল রোধক সমবায়ের ক্ষেত্রে তুল্য রোধ নির্ণয়ের সূত্র হল এরূপ:

http://upload.wikimedia.org/math/e/1/d/e1d6c77805c0245d311b04e4e2c8e9b3.png

বা 1/Req = 1/R1 + 1/R2

এ দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে রোধক সংযোগ করা যেতে পারে এভাবে:
http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/6/67/Resistors_in_series_and_parallel.svg/195px-Resistors_in_series_and_parallel.svg.png
এক্ষেত্রে তুল্য রোধ নির্ণয়ের জন্য পৃথক ভাবে শ্রেণী ও সমান্তরাল রোধক অংশের তুল্য রোধ নির্ণয় করে, যোগ করে দিলেই মূল তুল্য রোধ পাওয়া যাবে। এভাবে:

http://upload.wikimedia.org/math/e/9/e/e9ecfdef4d4c13dfdc377b716833b87c.png

R1 এবং R2 সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত আর তাদের তুল্য রোধ R3 এর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত।

ডায়াগ্রাম: উইকিপিডিয়া

১৯

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

মহাকাল ভাইয়া, চালিয়ে যান clapclap:clap:

আমার অহংকার আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা, আমার অহংকার আমি বাংলাদেশের সন্তান।
আমার অহংকার আমি বাংলায় লিখি, বাংলায় কথা বলি, বাংলায় গান গাই।

২০

Re: ইলেক্ট্রনিক্স

রসি লিখেছেন:

মহাকাল ভাইয়া, চালিয়ে যান clapclap:clap:

+আমরা আছি আপনার সাথে।