টপিকঃ সমুদ্রের তীরে বা মরুভূমিতে বালি এলো কিভাবে ?

হ্যালো, বিজ্ঞান উৎসাহীরা, আজ আমি আপনাদের বালি গঠন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি।  আমরা এই পৃথিবীতে সর্বত্র বালি দেখি, আপনি কি ভেবেছেন কিভাবে এটি গঠিত হলো বা কোত্থেকে এলো?

https://www.scienceabc.com/wp-content/uploads/2017/02/Orange-sand-beach.jpg

বালির কথা মাথায় আসলেই আমাদের মনে পরে যায় সমুদ্রের তীরের কথা অথবা  মরুভূমির কথা।
তো আগে আমরা একটু বালি নিয়ে খুটিনাটি জেনে নিই


বালি কি?

বালি হচ্ছে একটি দানাদার উপাদান যা সূক্ষ্মভাবে বিভক্ত শিলা এবং খনিজ কণার সমন্বয়ে গঠিত। বালির বিভিন্ন গঠন আছে তবে এর শস্য আকার দ্বারা একে সংজ্ঞায়িত করা হয়। বালির দানা নুড়ির চেয়ে ছোট তবে পলির চেয়ে মোটা। বালি ,মাটি বা মাটির মত একটি টেক্সচারাল শ্রেণিকেও উল্লেখ করতে পারে।

অর্থাত্ যেসব মাটির ভরের ৮৫% এর বেশি বালি-আকারের কণা তাদের কে বালি হিসেবে বুঝানো হয় ।

উইকিপিডিয়া থেকে ;

মূলত পানি এবং বাতাস এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে পাথর বা শিলা গুলি ক্ষয় হয় এবং ভেংগে যায় ও বাতাস বা পানি দ্বারা স্থানান্তরিত হয় এবং এদের তলানি ডাউনস্ট্রীমে প্রবাহিত হয়। এই তলানিগুলো বালির সূক্ষ্ম দানাতে পরিণত না হওয়া অবধি ছোট ছোট টুকরো হয়ে যেতে থাকে। এই তলানি কোন ধরণের পাথর থেকে উত্পন্ন হয়ে থাকে এবং সেই পরিবেশের অবস্থার উপরে নির্ভর করে বিভিন্ন বালির বিভিন্ন রকমের গঠন তৈরি  হয়ে থাকে। বালি গঠনের সর্বাধিক প্রচলিত শিলা/পাথর হল গ্রানাইট, যেখানে ফেল্ডস্পার খনিজগুলো কোয়ার্টজের চেয়ে দ্রুত দ্রবীভূত হয়, যার ফলে শিলাটি ছোট ছোট টুকরা হয়ে যায়। স্থির পরিবেশের চেয়ে উচ্চ শক্তির পরিবেশে শিলাগুলো আরও দ্রুত বিচ্ছিন্ন এবং ভেঙ্গে যায়।
যেমন,
গ্রানাইট রকস থেকে উদ্ভূত বালিতে বেশি ফেল্ডস্পার খনিজ থাকে ,কারণ এটি দ্রবীভূত হওয়ার সময় পায় না। ওয়েদারিং(জল ,বায়ু,বরফ দ্বারা পাথর ভেংগে যাওয়ার ঘটনা) এর মাধ্যমে যে বালি সৃস্টি হয় ,তাকে বলা হয় এপিক্লাস্টিক।

কোটি কোটি বছর আগে থেকে এই বালি পৃথিবীতে রয়েছে।
কোটি কোটি বছর পূর্বে বড় বড় শিলা পাথর গুলো  বৃষ্টি, জল, বাতাস এবং তুষারপাত এর জন্য এবং প্রাকৃতিক সৃষ্টি বড় বড় পাথর টুকরো টুকরো হয়ে যায় ।
তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করে ছোট হয়ে গেল। হাজার বছর ধরে পাথর গুলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এক সময় ক্ষুদ্র বালিতে পরিনত হয়।

নদী অথবা সমুদ্র থেকে পাওয়া যে বালি গুলো আছে তা নদীর ও সমুদ্রের ঢেউ এর আঘাতে তীরবর্তী এলাকায় থাকা পাথরগুলো ভেঙ্গে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পানির সাথে মিশে তলদেশে চলে যায় এবং ব্যপক স্রোতে তা আরো ভেঙ্গে যায়, এক সময় তা বালির জন্য যথেষ্ট ছোট হয়ে ক্ষুদ্র বালিতে রুপান্তরিত হয়। এছাড়াও প্রাকৃতিক বন্যার কারনে যখন পানি সমতল ভুমি প্লাবিত করে তখন সমতল ভুমিতে থাকে বালি কনা গুলা পানির সাথে নদী অথবা সমুদ্রে চলে যায়। তবে নদীর ও সমুদ্রের  তলদেশে জমে থাকা বালি হাজার হাজার বছরের সঞ্চয়।

কয়েক হাজার বছর ধরে সমুদ্র ঢেউ থেকে আসা অবিচ্ছিন্ন গতির প্রভাবে তীরভূমির কাছে থাকা পাথরগুলো ক্ষয় হয় এবং পলি জমে। ভেঙ্গে যাওয়া পাথর খন্ড ও নদীতে জমা তলানি এক সময় বালির রুপ ধারন করে।  সমুদ্রের তলদেশে আছে বড় বড় পাথর যা সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় এর প্রভাবে পাথর গুলো ভেঙ্গে যায়।  এছাড়াও পাথরের সাথে জমা শেওলা গুলো সামুদ্রিক প্রানীরা খেয়ে থাকে তখন পাথর গুলো ক্ষয় হয়।

সমুদ্র এবং নদীর বালি দিয়ে বড় বড় স্থাপনা তৈরি করা হয়। এই বালি নদী থেকে যান্ত্রিক কৌশলে উঠানো হয়। নদীর তলদেশে থেকা বালি ঢেউ এর সাথে তীরে এসে চরের সৃষ্টি করে। এবং তা পরবর্তীতে নদীর ভারসাম্য রক্ষার জন্য বালু খনন করা হয়।

এবার জানা যাক মরুভূমিতে কিভাবে বালি এলো!
https://mahabubhome.files.wordpress.com/2019/05/60481901_2393863784229201_866222812577136640_o.jpg

মরুভূমি হচ্ছে অত্যন্ত শুস্ক, বৃষ্টিবিরল ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বালি দিয়ে আবৃত অঞ্চল। মরুভূমি বসবাসের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী। মরুভূমির দিন ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি হয়। দিনে তাপমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পায় রাতে সেই তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। একসময় মরুভূমিগুলোতে বড় বড় পাথরের অস্তিত্ব ছিল। দিন ও রাতের মধ্যে তাপমাত্রার এই ব্যাপক তারতম্যের ফলে এসব পাথর প্রতিদিনই সংকোচন ও প্রসারিত হতে থাকে এবং গায়ে ফাটল দেখা দেয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বড় পাথরখন্ডগুলো আস্তে আস্তে ভেঙে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে বালুকণার আকার ধারণ করে। সাহারা মরুভূমি হল পৃথিবীর বৃহত্তম মরু এলাকা।

#সংগৃহীত

"We want Justice for Adnan Tasin"