টপিকঃ মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/6BaX7vuh.jpg

বিশেষ ঘোষণা : হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ মহাভারতের কথা আমরা সকলেই জানি। আমি এটিকে পড়ছি একটি কল্পকাহিনীর সাহিত্য হিসেবে, ধর্মগ্রন্থ হিসেবে নয়। এই গ্রন্থে প্রচুর উদ্ভট কল্পকাহিনী রয়েছে। সেগুলিই আমি এই সিরিজে পেশ করবো। যারা মহাভারত পড়েননি তারা এখান থেকে ধারাবাহিক ভাবে সেগুলি জেনে যাবেন। 
লেখার সূত্র : কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত মহাভারত : অনুবাদক - রাজশেখর বসু।
ছবির সূত্র : এই সিরিজে ব্যবহৃত সকল ছবি বিভিন্ন সাইট থেকে সংগৃহীত।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

আদিপর্ব

শৌনকের আশ্রমে সৌতি

মহর্ষি শৌনক নৈমিষাবণ্যে দ্বাদশ বার্ষিক যজ্ঞ করছিলেন। একদিন লােমহর্ষণেব পুত্র পরাণকথক সৌতি সেখানে উপস্থিত হলেন।

আশ্রমের ঋষিরা তাঁকে প্রশ্ন করলেন, সৌতি, তুমি এখন কোথা থেকে আসছ, এতকাল কোথায় ছিলে?
সৌতি উত্তর দিলেন, আমি রাজর্ষি জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে ছিলাম, সেখানে কৃষ্ণদ্বৈপায়নরচিত বিচিত্র মহাভাবতকথা বৈশম্পায়নের মুখে শুনেছি

ঋষিরা বললেন, রাজা জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে বৈশম্পায়ন যে মহাভারতকথা বলেছিলেন আমরা তাই শুনতে ইচ্ছা করি।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

পৌষ্যপর্বাধ্যায়
জনমেজয়ের শাপ

সৌতি বললেন-
পরীক্ষিৎপুত্র জনমেজয় তার তিন ভাইদের সঙ্গে কুরুক্ষেত্রে এক যজ্ঞ করছিলেন এমন সময় সেখানে একটি কুকুর এল। জনমেজয়ের ভাইয়েরা কুকুরটিকে মেরে তারিয়ে দিলো। কুকুরটি কাঁদতে কাঁদতে তার মাতার কাছে গেল। কুকুরের মা কুদ্ধ হয়ে যজ্ঞস্থলে এসে বললে, আমার পুত্রকে বিনা দোষে মারলে কেন? ও কোনও অপরাধ না করেই মার খেয়েছে, তােমার উপরেও অতর্কিত বিপদ এসে পড়বে।

https://i.imgur.com/4bztlf0.jpg

দেবকুক্কুরী সরমার এই অভিশাপ শুনে জনমেজয় ভয় পেয়ে গেলেন। যজ্ঞ শেষ হলে তিনি হস্তিনাপুরে ফিরে এসে শাপমােচনের জন্য উপযুক্ত পুরােহিতের সন্ধান করতে লাগলেন। একদিন তিনি শ্রুতশ্রবা ঋষির আশ্রমে উপস্থিত হয়ে ঋষির পুত্র সােমশ্রবাকে নিজের পুরােহিত হিসেবে চাইলেন।

শ্রুতশ্রবা বললেন, আমার এই পুত্র সাপের গর্ভে জন্ম নিয়েছে। ও মহাতপস্বী ও বেদজ্ঞ, মহাদেবের শাপ ছাড়া অন্য সমস্ত শাপ মোচন করতে পারে। তবে এর একটি ব্রত আছে, কোনও ব্রাহ্মণ কিছু চাইলে ও তা অবশ্যই পূরণ করবে। যদি তুমি তাতে সম্মত হও তবে একে নিয়ে যাও।

https://i.imgur.com/8B8rbYJ.jpg

জনমেজয় ঋষিপুত্রকে নিয়ে গিয়ে ভাইদের বললেন, আমি একে উপাধ্যায়রুপে বরণ করেছি, ইনি যা বলবেন তােমরা তা নির্বিচারে পালন করবে। এই আদেশ দিয়ে জনমেজয় তক্ষশিলা দেশ জয় করতে গেলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

উপমন্যু, আরুণি ও বেদ
এই সময়ে আয়ােদ ধৌম্য নামে এক ঋষি ছিলেন, তার তিন শিষ্য উপমন্যু, আরুণি ও বেদ
তিনি তাঁর প্রথম শিষ্য আরুণিকে বললেন, যাও, তুমি আমার ক্ষেতের আল বাঁধ।
আরুণি গুরুর আদেশ পালন করতে গেলেন, কিন্তু আল বাঁধতে না পেরে অবশেষে শুয়ে পড়ে জল আটকালেন।
আরুণি সন্ধ্যায় ফিরে এলো না দেখে ধৌম্য তার অপর দুই শিষ্যের সঙ্গে ক্ষেতে গিয়ে ডাকলেন- "বৎস আরুণি, কোথায় আছ, এস।"
আরুণি উঠে এসে বললেন, আমি জল আটকাতে না পেরে সেখানে শুয়ে ছিলাম, এখন আপনি ডাকতে উঠে এসেছি, বলুন এখন  কি কর‌তে হ‌বে ।
https://i.imgur.com/3ZV1yi3.jpg

ধৌম্য বল‌লেন- "তু‌মি কেদারখন্ড (‌ক্ষে‌তের আল) থেকে উ‌ঠে‌ছো সেজন্য তোমার নাম হ‌বে উদ্দালক। আমার আজ্ঞা পালন ক‌রেছ সেজন্য তু‌মি শ্রে‌য়োলাভ কর‌বে এবং সমস্ত বেদ ও ধর্মশাস্ত্র তোমার অন্ত‌রে প্রকা‌শিত থাক‌বে।"

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

আ‌য়োদ ধৌম্য তার আরেক শিষ্য উপমন্যুকে আ‌দেশ দি‌লেন তার গরু চরানোর।
উপমন্যু প্রতিদিন গরু চ‌রি‌য়ে সন্ধ্যায় গুরু‌কে প্রণাম কর‌তে লাগ‌লেন।
এক‌দিন গুরু জিজ্ঞাসা কর‌লেন, বৎস, তু‌মি কি খাও? তোমাকে বেশ স্থূল দেখ‌ছি।
উপমন্যু বল‌লো, আ‌মি ভিক্ষা ক‌রে জী‌বিকা নিবার্হ ক‌রি।
গুরু বল‌লেন, আমা‌কে নি‌বেদন না করে ভিক্ষান্ন ভোজন করা উ‌চিৎ নয়।
তারপর থে‌কে উপমন্যু ভিক্ষাদ্রব্য এ‌নে গুরু‌কে দি‌তেন। কিছুদিন পরে উপমন্যুকে পুষ্ট দে‌খে গুরু বল‌লেন, তু‌মি যা ভিক্ষা পাও সবই তো আ‌মি নিই , তুমি এখন কি খাও?
উপমন্যু বল‌লেন, প্রথমবার ভিক্ষা করে আপনা‌কে দিই, তারপর আবার ভিক্ষা ক‌রি , তাতেই আমার জী‌বিকা‌ র্নিবাহ হয়।
গুরু বল‌লেন, এ তোমর অন্যায় হয়, এ‌তে অন্য ভিক্ষাজী‌বি‌দের ক্ষতি হয়, তু‌মি লোভী হ‌য়ে প‌ড়েছ।
তারপর উপমন্যু একবার মাত্র ভিক্ষা ক‌রে গুরু‌কে দি‌তে লাগ‌লেন। গুরু আবার তা‌কে প্রশ্ন কর‌লেন, বৎস, তোমা‌কে তো অ‌তিশয় স্থূল দেখ‌ছি, এখন কি খাও?
উপমন্যু বল‌লেন, আ‌মি এই সব গরুর দুধ খাই।
গুরু বল‌লেন, আমার অনুম‌তি বিনা গরুর দুধ খাওয়া অন্যায়।
উপমন্যু তারপরেও স্থূলকায় র‌য়ে‌ছেন দে‌খে, গুরু বল‌লেন, এখন কি খাও?
উপমন্যু বল‌লেন, স্তন্যপানের পর বাছুররা যে ফেনা উদগার ক‌রে তাই খাই।
গুরু বল‌লেন, এই বাছুররা দয়া ক‌রে তোমার জন্য প্রচুর ফেনা উদ্গার ক‌রে, তা‌তে এ‌দের পুষ্টির ব্যাঘাত হয়; ফেনা খাওয়া ও তোমার উচিৎ নয়।
গুরুর সকল উপ‌দেশ মে‌নে নি‌য়ে উপমন্যু গরু চরা‌তে লাগ‌লেন।
এক‌দিন তি‌নি ক্ষুধার্ত হ‌য়ে অর্কপত্র (আকন্দ পাতা) খে‌লেন। সেই ক্ষার তিক্ত, রুক্ষ ,তীক্ষ্ম বস্তু খে‌য়ে তি‌নি অন্ধ হ‌লেন এবং‌ চল‌তে চল‌তে কূপের ম‌ধ্যে প‌ড়ে গে‌লেন।

সূর্যা‌স্তের পর উপমন্যু ফি‌রে এ‌লেন না দে‌খে শিষ্যদের স‌ঙ্গে নিয়ে ব‌নে গি‌য়ে ডাক‌লেন- "বৎস , উপমন্যু কোথায় আছ, এস।"
উপমন্যু কূ‌পের ভেতর থে‌কে উত্তর দি‌লেন, আ‌মি অর্কপত্র (আকন্দ পাতা) খাওয়ার ফ‌লে অন্ধ হ‌য়ে এখা‌নে প‌ড়ে গে‌ছি।
ধৌম বল‌লেন, তু‌মি দেব‌বৈদ্য অ‌শ্বিনীকুমারদ্ব‌য়ের গুণকীর্তন কর, তাঁরা তোমা‌কে চক্ষু ফিরিয়ে দিবেন।

https://i.imgur.com/CMqgJTf.jpg

উপমন্যু গুণকীর্তন কর‌লেন, অশ্বিদ্বয় তাঁর নিকট আ‌বির্ভূত হ‌য়ে বল‌লেন, আমরা তোমার গুরুভ‌ক্তি‌তে প্রীত হ‌য়ে‌ছি, তু‌মি এই পিঠা খাও। তোমার উপাধ্যায়ের দন্ত কৃষ্ণ লৌহময় হ‌বে, তোমার দন্ত হিরন্ময় হ‌বে, তু‌মি চক্ষু ফিরে পাবে এবং শ্রেয়লাভ কর‌বে ।
উপমন্যু চুক্ষ লাভ করে গুরুর কা‌ছে এ‌লেন, গুরু প্রীত হ‌য়ে বল‌লেন, অ‌শ্বিকুমারদ্ব‌য়ের ব‌রে তোমার মঙ্গল হ‌বে, সকল বেদ এবং ধর্মশাস্ত্রও তু‌মি আয়ত্ত কর‌বে।

https://i.imgur.com/VHigtkE.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

আ‌য়োদ ধৌম্য তাঁর তৃতীয় শিষ্য বেদ‌কে আ‌দেশ দি‌লেন, তার বাড়িতে থেকে তাঁর সেবা করতে। বেদ দীর্ঘকাল গুরুগৃহে থে‌কে গুরুর আদেশে বল‌দের ন্যায় ভারবহন এবং শীত, গ্রীষ্ম, ক্ষুধা, তৃষ্ণা‌র কষ্ট সহ্য কর‌তে লাগ‌লেন। অব‌শে‌ষে তি‌নি গুরু‌কে প‌রিতুষ্ট করে শ্রেয় ও সর্বজ্ঞাতা লাভ কর‌লেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

উতঙ্ক, পৌষ্য ও তক্ষক

উতঙ্ক
গুরুর অনুমতি পেয়ে বেদ নিহ গৃহে ফিরে এলেন। সেখানে তাঁরও তিনটি শিষ্য হল।
কিছুকাল পরে জনমেজয় এবং পৌষ্য নামে আর এক রাজা বেদকে উপাধ্যায়ের পদে নিয়োগ করলেন। একসময় বেদ পুরোহিতের জন্য বিদেশে যাবার সময় তাঁর শিষ্য উতঙ্ককে বলে গেলেন তাঁর বাড়ির সমস্ত কিছু দেখেশুনে রাখতে।
উতঙ্ক গুরুগৃহে থেকে সকল কর্তব্য পালন করতে লাগলেন।
একদিন আশ্রমের নারীরা উতঙ্ককে বললো- "তােমার উপাধ্যায়ানী ঋতুমতী হয়েছেন কিন্তু উপাধ্যায় এখানে নেই; তুমি উপাধ্যায়ানী সাথে মিলিতো হও, যাতে ঋতু নিস্ফল না হয়।"
উতঙ্ক উত্তর দিলেন- "আমি স্ত্রীলােকের কথায় এমন কুকাজ করবো না। গুরু আমাকে কুকাজ করবার আদেশ দেন নি।"

কিছুদিন পরে বেদ ফিরে এলেন এবং সকল কথা শুনে বললেন- "বৎস উতঙ্ক তুমি ধর্মানুসারে আমার সেবা করেছ, তােমার সকল কামনা পূর্ণ হবে। এখন তুমি স্বগহে যেতে পার।"

উতঙ্ক বললেন- "আমি আপনার গুরু দক্ষিণা দিতে ইচ্ছা করি।"
বেদ বললেন- "তুমি বহুবার আমাকে দক্ষিণার কথা বলেছ; গৃহমধ্যে গিয়ে উপাধ্যায়ানীকে জিজ্ঞাসা কর কি দিতে হবে।"
তখন উতঙ্ক গুরুপত্নীর কাছে গিয়ে জানতে চাইলেন কি দক্ষিণা দিতে হবে।
গুরুপত্নী বললেন- "তুমি রাজা পৌষের কাছে যাও, তার পত্নী যে দুই কুণ্ডল (কানের অলংকার) পরেন তা চেয়ে আনো। চার দিন পরে পুণ্যক ব্রত হবে, তাতে আমি ঐ কুণ্ডল পরে ব্রাহ্মণদের খাবার খাওয়াবো। তুমি আমার এই ইচ্ছা পূর্ণ করো, তাতে তােমার মঙ্গল হবে, কিন্তু যদি না করও তবে অনিষ্ট হবে।

উতঙ্ক কুণ্ডল আনার জন্য যাত্রা করলেন। পথে যেতে যেতে তিনি প্রকাণ্ড এক ষাঁড়ের উপর বসা বিশাল আকৃতির এক পুরুষকে দেখতে পেলেন। সেই পুরুষ বললেন- "উতঙ্ক, তুমি এই ষঁড়ের বিষ্ঠা (গোবর) ভক্ষণ করো। তােমার গুরুও এটা খেয়েছেন। তখন উতঙ্ক  ষঁড়ের মলমূত্র খেয়ে দ্রুত রাজা পৌষ্যের নিকট হাজির হলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

পৌষ্য
উতঙ্ক রাজা পৌষ্যের কাছে রাণীর কুণ্ডল প্রার্থনা করলে রাজা বললেন- "আপনি অন্তঃপুরে গিয়ে মহিষীর কাছে চেয়ে নিন।"
অন্তঃপুরে গিয়ে রাণীর কাছে সব জানিয়ে তার কুণ্ডল প্রার্থনা করলে রাণী উতঙ্ককে কুণ্ডল দুটি দিয়ে দেন। এবং জানান যে এই কুণ্ডলের উপরে নাগরাজ তক্ষকের নজর আছে।

https://i.imgur.com/5gWUYvz.jpg

উতঙ্ক কুণ্ডল নিয়ে রাজা পৌষের কাছে এলেন।
পৌষ্য বললেন- "সৎপাত্র সহজে পাওয়া যায় না, আপনি গুণবান অতিথি, আপনাকে আপ্যায়ন করতে ইচ্ছা করি।"
উতঙ্ক বললেন- "গহে যে অন্ন আছে তাই শীঘ্ন নিয়ে আসুন।"
অন্ন আনা হলে উতঙ্ক দেখলেন তা ঠাণ্ডা এবং তাতে চুল রয়েছে।
উতঙ্ক বললেন- "আমাকে অশুচি অন্ন দিয়েছেন অতএব আপনি অন্ধ হবেন।"
পৌষ্য বললেন- "আপনি নির্দোষ অন্নের দোষ দিচ্ছেন এজন্য আপনি নিঃসন্তান হবেন।"
উতঙ্ক বললেন- "অশুচি অন্ন দিয়ে আবার অভিশাপ দেওয়া আপনার অনুচিত"।
রাজা দেখলেন খাবার আসলেই ঠান্ডা এবং খাবারের মধ্যে একটি চুলও রয়েছে, তাই রাজা ক্ষমা চাইলেন।
উতঙ্ক বললেন- "আমার বাক্য মিথ্যা হয় না, আপনি অন্ধ হবেন, কিন্তু শীঘ্রই আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আমাকে যে শাপ দিয়েছেন তাও যেন না ফলে। এই বলে তিনি কুণ্ডল নিয়ে চলে গেলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: মহাভারতের গপ্পো

তক্ষক
উতঙ্ক যেতে যেতে পথে এক নগ্ন সন্ন্যাসীকে দেখতে পেলেন, সে মাঝে মাঝে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিলো।
উতঙ্ক কুণ্ডল দুটি পারে রেখে স্নানের জন্য পুকুরে নামলেন। সেই সুযোগে সন্ন্যাসী কুণ্ডল নিয়ে পালাতে লাগলো।

https://i.imgur.com/QYvRXmg.jpg

স্নান শেষ করে উতঙ্ক দৌড়ে গিয়ে সন্ন্যাসীকে ধরতে গেলেন। সন্ন্যাসী তখনই নাগরাজ তক্ষকের রুপ ধারণ করে গর্তে প্রবেশ করে নাগলােকে চলে গেল।

উতঙ্ক সেই গর্ত খুঁড়ে বড় করবার চেষ্টা করে ক্লান্ত হয়ে পরলেন। তা দেখে ইন্দ্র গর্তটিকে বড় করে দিলেন। উতঙ্ক সেই গর্ত দিয়ে নাগলােকে পৌছে গেলেন। সেখানে দেখলেন, দুই জন স্ত্রীলোক কিছু সাদা ও কিছু কালো সুতো দিয়ে তাঁতে কাপড় বুনছেন। ছয়জন কুমার বারোটি পাখিযুক্ত একটি চক্র ঘুরাচ্ছেন। সেখানে একজন সুদর্শন পুরুষ একটি চমৎকার ঘোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। উতঙ্ক তাদের সকলের প্রশংসা করে গান গাইলেন।
উতঙ্কের প্রশংসায় সেই পুরুষ খুশী হয়ে বললেন- "তুমি কি চাও?"
উতঙ্ক বললেন- "নাগগণ আমার বশীভূত হক।"
পুরুষ বললেন- "তুমি এই ঘোড়ার পিছনে (পায়ুপথে) ফু দাও।"
উতঙ্ক ফু দিলে ঘোড়ার সমস্ত ইন্দ্রিয়দ্বার থেকে অগ্নিশিখা নির্গত হয়ে সমস্ত নাগলােকে ছড়িয়ে পরলো। তখন নাগরাজ তক্ষক ভয় পেয়ে তাঁর বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে উতঙ্ককে কুণ্ডল দুটি ফিরিয়ে দিলো। কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেড়ি হয়ে গেছে। আজই উতঙ্ককের গুরুপত্নীর পণ্যক ব্রত। এতো দূর থেকে কিছুতেই যথা সময়ে গুরুগৃহে পৌছানো সম্ভব নয়। তখন সেই পুরষটি উতঙ্ককে বললেন ঘোড়ায় চড়তে। ঘোড়ায় চড়ার সাথে সাথেই সেটি উতঙ্ককে গুরুগৃহে পৌছে দিলো। উতঙ্ক গুরুপত্নীকে প্রণাম করে কণ্ডল দিলেন।

https://i.imgur.com/shMCNbi.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১০

Re: মহাভারতের গপ্পো

তারপর উতঙ্ক গুরুর কাছে গিয়ে সকল ঘটনা জানালেন।
গুরু বললেন- "তুমি যে দুই স্ত্রীকে দেখেছ তাঁরা ধাতা ও বিধাতা। সাদা ও কালো সুতা হচ্ছে দিন ও রাত্রি। ছয় কুমার হচ্ছে ছয় ঋতু। চক্রটি হচ্ছে সংবৎসর (পূর্ণ এক বৎসর)। বারোটি পাখি হচ্ছে বারো মাস। যিনি পরুষ তিনি স্বয়ং ইন্দ্র। ঘোড়াটি হচ্ছে অগ্নি। যাবার সময় পথে যে ষাঁড় ছিলো সে ঐরাবত (ইন্দ্রের বাহন)। তার আরােহী ইন্দ্র স্বয়ং। তুমি যে গোবর খেয়েছো তা অমৃত। নাগলােকে তোমার বিপদ হয় নি, কারণ ইন্দ্র আমার বন্ধু, তাঁর, অনগ্রহে তুমি কুণ্ডল আনতে পেরেছ। তোমাকে অনুমতি দিচ্ছি স্বগৃহে যাও, তোমার মঙ্গল হবে।"

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১১

Re: মহাভারতের গপ্পো

উতঙ্ক তক্ষকের উপর প্রতিশােধ নেবার সংকল্প করে হস্তিনাপুরের রাজা জনমেজয়ের কাছে গেলেন। জনমেজয় তখন তক্ষশিলা জয় করে ফিরে এসেছেন।
উতঙ্ক রাজাকে আশীর্বাদ করে বললেন- "মহারাজ আপনার পিতা মহাত্মা পরীক্ষিতের চিকিৎসার জন্য কাশ্যপ আসছিলেন কিন্তু তক্ষক তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তাই আপনার পিতার মৃত্যু হয়। আপনি শীঘ্র সর্পসত্র যজ্ঞ করে তক্ষক নাগকে আগুনে পুরিয়ে মেরে আপনার পিতার মৃত্যুর প্রতিশােধ নিনি।

উতঙ্কের কথা শুনে জনমেজয় তক্ষকের উপর অতিশয় ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি মন্ত্রিদের কাছে তার পিতার মত্যু সম্পর্কে সব কিছু জানতে চাইলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১২

Re: মহাভারতের গপ্পো

পৌলােমপর্বাধ্যায়

ভৃগু-পুলােমা–চ্যবন-অগ্নির শাপমােচন

ব্রহ্মা যখন বরুণের যজ্ঞ করছিলেন তখন সেই যজ্ঞাগ্নি থেকে মহর্ষি ভৃগুর জন্ম হয়েছিলভৃগুর স্ত্রীর নাম পুলােমা। তিনি যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন একদিন ভৃগু গেলেন স্নান করতে, ঠিক তখন এক রাক্ষস আশ্রমে এসে ভৃগুপত্নীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। এই রাক্ষসের নামও ছিলো পুলােমা। অনেক আগে এই রাক্ষস ভৃগুপত্নী পুলােমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।

ভৃগুর আশ্রমে এসে অগ্নিকে রাক্ষস বললে-  "অগ্নি, সত্য বলো এই পুলােমা কার স্ত্রী? এই সুন্দরীকে পূর্বে আমি স্ত্রী হিসেবে বরণ করেছিলাম, কিন্তু ভৃগু অন্যায়ভাবে একে বিয়ে করে নেয়। এখন আমি একে আশ্রম থেকে হরণ করবো।"

অগ্নি ভীত হয়ে ধীরে ধীরে বললেন-  "তুমি পূর্বে এই পুলােমাকে বরণ করেছিলে সত্যি, কিন্তু যথাবিধি মন্ত্রপাঠ করে বিয়ে কর নি।  ভৃগু আমাকে স্বাক্ষী রেখে একে বিয়ে করেছেন।"

তখন রাক্ষস শূকরের রূপ ধরে পুলােমাকে হরণ করে প্রচন্ড বেগে ছুটে চললো। তাতে পুলােমার গর্ভের শিশুটি গর্ভচুত্য হলো। শিশুটির নাম হয় চ্যবন। সেই শিশুর দৃষ্টির উজ্জ্বলতায় রাক্ষস পুড়ে ছাঁই হয়ে গেলো। পুলােমা তার ছেলে চ্যবনকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে আশ্রমে ফিরে এলেন। পুলোমার চোখের জলেই সৃষ্টি হল এক নদীর। ব্রহ্মা সেই নদীর নাম বধুসরা রাখলেন।

ভৃগু স্নান শেষে আশ্রমে ফিরে স্ত্রীর কাছে সব কথা শুনলেন। অগ্নি তার পত্নীর পরিচয় রাক্ষসকে বলে দিয়ে ছিলো বলে ভৃগু রেগে গিয়ে অগ্নিকে শাপ দিলেন-  "অগ্নি তুমি সর্বভুক হবে।"

ভৃগুর দেয়া শাপে দুঃখ পেয়ে অগ্নি অদৃশ্য হয়ে সকলের দৃষ্টির অগোচরে চলে গেলেন। অগ্নির অভাবে সকলেই বড্ড অসুবিধায় পরলো। ঋষিদের পূজা আর্চনা সব বন্ধ হতে চললো। তাই ঋষিরা উদবিগ্ন হয়ে দেবতাদের সাথে নিয়ে ব্রহ্মার কাছে গিয়ে সব জানালেন। ব্রহ্মা অগ্নিকে ডেকে মিষ্টি কথায় বুঝালেন।
ব্রহ্মা বললেন -  "অগ্নি তুমি সর্বদা পবিত্র, সর্বশরীর দিয়ে তুমি সর্বভুক হবে না, তােমার গুহ্যদেশে যে শিখা আছে এবং তােমার যে মাংসভক্ষক শরীর আছে তাই সর্বভুক হবে। তােমার মুখে যে আহতি দেওয়া হবে তাই দেবতাদের এবং তোমার নিজের ভাগরূপে গ্রহণ কর।"
অগ্নি তখন ব্রহ্মার কথা মেনে নিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে গেলো। সকলে সন্তুষ্ট হয়ে নিজ নিজ স্থানে চলে গেলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৩

Re: মহাভারতের গপ্পো

রুরু-প্রমদ্বারা
ভৃগুর পুত্র চ্যবনের স্ত্রীর নাম সুকন্যা, তাদের পুত্র প্রমতি। প্রমতির ঔরসে ঘৃতাচীর গর্ভে তাদের পুত্র [sb]রুরু[/sb] জন্ম নেয়।

https://i.imgur.com/ymLTuglh.jpg

গন্ধর্বরাজ বিশ্বাবসুর সাথে সহবাসের ফলে স্বর্গের গায়িকা ও নর্তকী মেনকা গর্ভবতী হয়। মেনকা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে তাকে স্থুলকেশ মুনির আশ্রমের পাশে নদীর তীরে ফেলে যায়। মহর্ষি স্থুলকেশ সেই শিশু কন্যাটিকে দেখতে পেয়ে তাকে নিজের আশ্রমে এনে লালন-পালন করেন। মহর্ষি তার নাম রাখলেন প্রমদ্বারা

https://i.imgur.com/LeFbZImh.jpg

রুরু সেই প্রমদ্বারাকে দেখে বিয়ে করতে চাইলেন। কিছুদিন পরে বিয়ের কয়েকদিন আগে প্রমদ্বারা তার সখীদের সঙ্গে খেলা করার সময় না দেখে একটি সাপের গায়ে পা দিয়ে ফেলেন। সাপটি তাকে দংশন করলে প্রমদ্বারা বিষের কারণে মারা গেলো।

রুরু তখন মনের দুঃখে বনে গিয়ে বিলাপ করতে লাগলো। রুরুর বিলাপ শুনে দেবতারা একজন দূত পাঠালেন। দেবদূত রুরুকে জানালো প্রমদ্বারার আয়ু শেষ হয়েগেছে। তবে রুরু যদি প্রমদ্বারাকে নিজের আয়ুর অর্ধেক দান করে তাহলেই কেবল প্রমদ্বারা জীবন ফিরে পেতে পারে। রুরু তার অর্ধেক আয়ু প্রমদ্বারাকে দিয়ে দিতে রাজি হলেন।

প্রমদ্বারার পিতা গন্ধর্বরাজ বিশ্বাবসু দেবদূতের সঙ্গে যমের কাছে গিয়ে রুরুর অর্ধেক আয়ু প্রমদ্বারাকে দেয়ার কথা জানালেন। যম বিষয়টি মেনে নিয়ে তখনই প্রমদ্বারাকে জীবন ফিরিয়ে দিলো। মহানন্দে বর কন্যার বিবাহ হয়ে গেলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (৩১-০৭-২০২১ ১৪:১৫)

Re: মহাভারতের গপ্পো

ডুন্ডুভ
এই ঘটনায় রুরু অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে সাপের বংশ নিশ্চিহ্ন করার প্রতিজ্ঞা করলেন এবং সকল প্রকার সাপই মারতে শুরু করলেন। একদিন তিনি বনে গিয়ে দেখলেন এক বৃদ্ধ ডুন্ডুভ (ঢ়োরাসাপ) শুয়ে আছে। রুরু তখনই তাঁকে মারতে গেলেন। তখন-
ডুন্ডুভ বললেন-  "আমি কোনও অপরাধ করিনি, তবে কেন আমায় মারতে চান?"
রুরু বললেন-  "আমার স্ত্রীকে সাপে কামড়ে ছিল, সেজন্য প্রতিজ্ঞা করেছি সাপ দেখলেই মারব।"
ডুন্ডুভ বললেন-  "যারা মানুষকে দংশন করে তাঁরা অন্যজাতী সাপ, আপনি ধর্মজ্ঞ হয়ে বিষহীন ঢ়োরাসাপ হত্যা করতে পারেন না।
রুরু বললেন-  "তুমি আসলে কে?"
ডুন্ডভ বললেন-  "আমি সহস্রপাৎ নামে ঋষি ছিলাম। আমার এক ব্রাহ্মণ বন্ধুর নাম ছিলো খগম। একদিন তিনি অগ্নিহোত্র যজ্ঞ করছিলেন। সেই সময়ে আমি দুষ্টমি করে একটি বিষহীন নকল সাপ নিয়ে তাকে ভয় দেখিয়েছিলাম। সেটি দেখে তিনি ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফিরে পেয়ে তিনি প্রচন্ড রেগে গিয়ে বললেন, "নির্বিষ সাপ দিয়ে আমাকে যেমন ভয় দেখিয়েছো, আমার শাপে তুমিও নির্বিষ সাপ হবে। তবে প্রমতির পুত্র রুরুর দর্শন পেলে তুমি শাপমুক্ত হবে
তুমি সেই রুরু, আজ আমি শাপ মুক্ত হয়ে পূর্বের রূপ ফিরে পাবো।

ঋষি সহস্রপাৎ নিজের আসল রূপ ফিরে পেয়ে বললেন-

অহিংসা পরমোধর্মঃ সর্বপ্রাণভৃতাং স্মৃতঃ।।
তস্মাৎ প্রাণভুতঃ সর্বান্ন ন হিংস্যাদ ব্রাহ্মণঃ ক্বচিৎ।

অর্থ- সর্ব প্রাণীর অহিংসাই পরম ধর্ম; অতএব, ব্রাহ্মণ, কখনও কোনও প্রাণীর হিংসা করবেন না।

সহস্রপাৎ বললেন-  "অতীতে জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে সমস্ত সাপেরা মারা পরছিলো। কিন্তু তপোবলসম্পন্ন আস্তীক মুনি সাপদের রক্ষা করেছিলেন। এই বলে তিনি চলে গেলেন। তারপর রুরু আশ্রমে এসে তার পিতার কাছে সর্পযজ্ঞের কাহিনী শুনলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৫

Re: মহাভারতের গপ্পো

জরৎকারু মুনি
আস্তীকের পিতার নাম জরৎকারু, তিনি ছিলেন ব্রহ্মচারী পরিব্রাজক ঋষি। ভ্রমণকালে একদিন তিনি দেখলেন কতগুলি মানুষ উশীর(বেনা / নল ঘাস) ঘাস ধরে উপরের দিকে পা ও নিচের নিকে মাথা দিয়ে একটি গর্তের উপরে ঝুলে আছে। জরৎকারু জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা এইভাবে ঝুলে আছো কেন?

https://i.imgur.com/g6wENr3.jpg

তাঁরা বললেন-  "আমরা যাযাবর নামক ঋষি ছিলাম। জরৎকারু নামে আমাদের একটি পুত্র আছে, সেই বোকা শুধু তপস্যা করে, বিয়ে করে সন্তান উৎপাদনের চেষ্টা তাঁর নেই। ওর করণে আমাদের বংশলোপের আশঙ্কায় পাপী মতো গর্তে এইভাবে ঝুলে আছি।

জরৎকারু বুঝলেন তারই কারণে তার পূর্বপুরুষরা এই শাস্তি পাচ্ছেন। তাই তিনি বললেন-   "আমিই আপনাদের সেই পুত্র জরৎকারু। আমি নিজের জন্য বিয়ে করতাম না। শুধু আপনাদের মুক্তির জন্য বিয়ে করবো। যে কন্যাকে তাঁর আত্মীয়রা স্বেচ্ছায় দান করবে; তাকেই আমি ভিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করবো।

জরৎকারু বনে গিয়ে ধীর ও উচ্চ কন্ঠে তিনবার কন্যা ভিক্ষা করলেন। তখন বাসুকি তাঁর বোন মনসাকে নিয়ে এসে জরৎকারুর সঙ্গে বিয়ে দিলেন। আস্তীক নামে তাঁদের এক পুত্র হল। তিনিই জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞ থেকে সপদের বাঁচিয়ে ছিলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৬

Re: মহাভারতের গপ্পো

কদ্রু ও বিনতা
https://i.imgur.com/rfVP3AK.jpg
ব্রহ্মার পুত্র প্রজাপতি দক্ষকদ্রুবিনতা নামে দুইজন রূপবতী কন্যা ছিল, তাঁরা কাশ্যপ ঋষির স্ত্রী। একদিন কশ্যপ তাঁদের বর দিতে চাইলে কদ্রু সমানশক্তিশালী এক হাজার নাগ পুত্র চাইলেন। বিনতা কদ্রুর ছেলেদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী দুইটি পুত্র চাইলেন।

যথাসময়ে কদ্রু এক হাজার এবং বিনতা দুইটি ডিম প্রসব করলেন
পাঁচশ বছর পরে কদ্রুের ডিম গুলি থেকে এক হাজার নাগ পুত্র জন্ম নিলো।
অন্যদিকে বিনতা দেখলেন তার ডিম দুটি থেকে কিছুই বের হলো না। তাই তিনি একটি ডিম ভাঙ্গলেন। ডিমটি ভেঙ্গে দেখলেন ডিমের মধ্যে সন্তানের দেহের উপরের ভাগ তৈরি হলেও নিম্নভাগ অপরিণত অবস্থায় আছে। সেই অপুষ্ট ছেলে ক্রুদ্ধ হয়ে মা বিতনাকে শাপ দিয়ে বললেন -  "তোমার লোভের ফলে আমার দেহ অসম্পূর্ণ হয়েছে; তুমি পাঁচশ বছর কদ্রুর দাসী হয়ে থাকবে। অন্য ডিমটিকে অসময়ে ভেঙ্গো না, যথাসময়ে তা থেকে ছেলে জন্ম নিয়ে তোমায় দাসীত্ব থেকে মুক্ত করবে। এই কথা বলে তিনি আকাশে উড়লেন এবং অরুণ রুপে সূর্যের সারথি হলেন।"

দ্বিতীয় ডিম থেকে যথাসময়ে একটি সন্তান জন্ম নেয় যার নাম গরুড়। গরুড় জন্ম নিয়েই জননী বিনতাকে ত্যাগ করে ক্ষুধার্ত হয়ে আকাশে উড়ে গেলেন।

https://i.imgur.com/bRy0WsK.jpg
একদিন কদ্রু ও বিনতা দেখলেন, তাঁদের সামনে দিয়ে সমুদ্র মন্থনের ফলে উৎপন্ন উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব চলে যাচ্ছে। 

https://i.imgur.com/IHSznwY.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৭

Re: মহাভারতের গপ্পো

সমুদ্রমন্থন
একদা দেবতারা সুমেরু পর্বতের চূড়ায় বসে অমৃত পাওয়ার জন্য আলোচনা করছিলেন। তখন নারায়ণ ব্রহ্মাকে বললেন, দেবতা ও অসুরেরা একত্র হয়ে সমুদ্র মন্থন করলে অমৃত পাওয়া যাবে। ব্রহ্মা ও নারায়ণের আদেশে নাগরাজ অনন্ত মন্দর পর্বত উঠিয়ে নিয়ে এলেন। তখন দেবতারা সমুদ্র তীরে গিয়ে সমুদ্রকে বললেন অমৃতের জন্য সমুদ্রকে মন্থন করতে চায়। অমৃতের ভাগ পাওয়ার আশায় সমুদ্র রাজি হলেন।

https://i.imgur.com/dHuURZxh.jpg

দেবাতা ও অসুরদের অনুরোধে সাগরের কচ্ছপদের রাজা কূর্মরাজ সাগরের নিচে মন্দর পর্বতকে তার পিঠে ধারণ করলেন। ইন্দ্র বজ্র দিয়ে পর্বতের নিচের অংশ সমান করে দিলেন। তারপর মন্দর পর্বতকে মন্থনদন্ড ও নাগরাজ বাসুকী (অনন্ত)কে দড়ি করে, অসুরেরা নাগরাজের মুখের দিক এবং দেবতারা বাসুকীর লেজের দিক ধরে সমুদ্রমন্থন শুরু করলেন।

বাসুকীর মুখ থেকে ধুয়া ও অগ্নিশিখা বেরিয়ে মেঘে পরিণত হয়ে পরিশ্রান্ত দেবাসুরের উপর বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরলো। পাহাড়ে আগুন লেগে হাতী-সিংহ সহ বহু পশু পুড়ে মরলো। অনেক গাছ ও পশুপাখী সাগরে গিয়ে পরলো। মন্দরের ঘর্ষণে সেগুলি সহ বহু জলজপ্রাণী নিষ্পেষিত হল।  নানা প্রকার বৃক্ষের নির্যাস ও ঔষধি রস এবং কাঞ্চনদ্রব্য সমুদ্রের জলে মিশ্রিত হয়ে দুধ ও ঘী উৎপন্ন হল।

তারপর সাগর থেকে চন্দ্র উঠলেন এবং ঘী থেকে লক্ষ্মী, সুরাদেবী, শ্বেতবর্ণের উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব ও নারায়ণের বুকের ভূষণ কৌস্তুর মনির উদ্ভব হল। ইচ্ছা পূরণকারী বৃক্ষ পারিজাত (শিউলি ফুল গাছ) ও  সুরভি ধেনু / কাম ধেনু (সুগন্ধযুক্ত দুগ্ধবতী গাভী হিন্দু ধর্মমতে গো-মাতা ) উঠে এলো।

https://i.imgur.com/XO5HXlI.jpg

লক্ষ্মী, সুরাদেবী, চন্দ্র ও উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব দেবতারা পেলেন।
তারপর ধন্বন্তরি (আয়ুর্বেদের দেবতা ও দেবতাদের চিকিৎসক) দেব অমৃতপূর্ণ কমন্ডুল নিয়ে উঠলেন। অসুরেরা তা নিয়ে নিলো।

https://i.imgur.com/qoOuNpz.jpg

তারপর শ্বেতবর্ণের ঐরাবত (চার দাঁতের সাদা হাতি) উঠে এলে ইন্দ্র তাঁকে ধরলেন।

https://i.imgur.com/rUVsCxh.jpg

আরো মন্থনের ফলে কালকুট নামের বিষ উঠে এলো। সেই বিষ সমস্ত দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরলো। ব্রহ্মার অনুরোধে ভগবান মহেশ্বর সেই কালকুট বিষ পান করে নিজের কন্ঠে ধারণ করলেন, সেই থেকে তার আরেক নাম নীলকণ্ঠ।

নারায়ণ বিষ্ণু মোহিনী মায়ায় স্ত্রীরূপ ধারণ করে অসুরদের কাছে গিয়ে নিজের রূপে অসুরদের ভুলিয়ে অমৃতের কমন্ডলু নিয়ে নিলেন। তিনি অসুরদের বসিয়ে রেখে কমন্ডলু থেকে শুধু দেবতাদেরকেই অমৃত পান করাচ্ছিলেন।

https://i.imgur.com/m1bEq9z.jpg

দেবতারা বিষ্ণুর কাছ থেকে অমৃত নিয়ে পান করছিলেন সেই সময় রাহু নামের এক অসুর দেবতার রূপ ধারণ করে অমৃত পান করার চেষ্টা করলো। তখন চন্দ্র ও সূর্য বিষ্ণুকে বিষয়টি জানিয়ে দিলো। বিষ্ণু তখনই তাঁর চক্র দিয়ে রাহুর মাথা কেটে ফেললেন।

https://i.imgur.com/AD3BM7B.jpg

রাহুর মাথা আকাশে উড়ে গর্জন করতে লাগল। তখন থেকে চন্দ্র ও সূর্যের সাথে রাহুর চিরস্থায়ী শত্রুতা হল। অসুরেরা অমৃত ও লক্ষ্মীর জন্য দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধে করতে লাগল।  বিষ্ণু স্ত্রীরূপ ত্যাগ করে দেবতাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে যুদ্ধে অংশ নিলেন। অসুরেরা সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালিয়ে গেল।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৮

Re: মহাভারতের গপ্পো

কদ্রু-বিনতার পণ
উচ্চৈঃশ্রবাকে দেখার পর কদ্রু ও বিনতার মধ্যে তার রং নিয়ে তর্ক শুরু হলো। বিনতা বললেন ওটি সম্পূর্ণ সাদা; কদ্রু বললেন ওটির লেজ কালো। অবশেষে স্থির হল আগামী কাল তাঁরা আবার ঘোড়াটিকে ভালো করে দেখবেন। যার কথা মিথ্যা হবে তিনি অন্য সতীনের দাসী হবেন।

কদ্রু তাঁর সর্পপুত্রদের ডেকে বললেন-  "তোমরা শীঘ্রই গিয়ে ঐ উচ্চৈঃশ্রবার লেজের সাথে মিশে থাকো যাতে ওর লেজ কালো দেখায়। কিছু কিছু সাপেরা এতে রাজি হলো না। কদ্রু তাঁদের শাপ দিলেন যাতে তারা জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে দগ্ধ হয়। কিন্তু অন্য সাপেরা মায়ের আদেশ পালন করলো।

https://i.imgur.com/vjHuuBP.jpg

পরদিন সকালে কদ্রু ও বিনতা দেখলেন আসলেই উচ্চৈঃশ্রবার লেজ কালো দেখা যাচ্ছে। ফলে বিনতাকে কদ্রুর দাসী হতে হলো। এভাবে তার প্রথম পুত্রের অভিশাপ কার্যকর হলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

১৯

Re: মহাভারতের গপ্পো

গড়ুর-গজকচ্ছপ

বিনতার দ্বিতীয় ডিম ফুটে যে মহাবলশালী গড়ুর জন্ম নিয়ে ছিলো সে তার মা বিনতার কাছে উড়ে এলো। 
কদ্রু বিনতাকে বললেন- "সমুদ্রের মধ্যে এক সুরম্য নাগালয় আছে; সেখানে আমাকে নিয়ে চল।

https://i.imgur.com/s5c3t7s.jpg

বিনতা কদ্রুকে আর গড়ুর তাঁর সৎ ভাই সাপদের বহন করে নিয়ে চললো। সপেরা গড়ুরের পিঠে চড়ে এক রমনীয় দ্বীপে এল। কিন্তু এখানে এসেই সাপেরা গড়ুরকে বললো "আমাদের অন্য এক দ্বীপে নিয়ে চল যেখানে নির্মল জল আছে।"
গড়ুর তার মাকে বললো-  "এদের হুকুম আমাকে মানতে হবে কেন?
বিনতা জানালেন কিভাবে কদ্রু চালাকি করে তাঁকে বাজিতে পরাজিত করে দাসী বানিয়েছে। তখন গড়ুর সপদের জিজ্ঞাসা করলো কি করলে তারা দাসত্ব থেকে মুক্তি দিবে। সাপেরা বললো অমৃত এনে দিতে পারলে মুক্তি পাবে।


গড়ুর অমৃত আনতে রওনা হলো।
গড়ুর তাঁর পিতা মহর্ষি কশ্যপের কাছে গিয়ে জানালো সে ক্ষুধার্ত থাকে, প্রচুর খাবার তার দরকার কিন্তু তা সে পায় না।
কশ্যপ বললেন- "বিভাবসু নামে এক কৃপন মহর্ষি ছিলেন, তাঁর ছোট ভাই সুপ্রতীক তাদের সম্পত্তি ভাগ করে দেয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করলে বড় ভাই শুধু শুধুই ছোট ভাইকে অভিশাপ দেয় তুমি হস্তী হও বলে। আর ছোটভাই বড় ভাইকে অভিশাপ দিলেন, তুমি কচ্ছপ হও বলে। এই সরোবরে দুই ভাই বিশাল পাহাড়ের মতো হাতি আর মহামেঘের সমান কচ্ছপ হয়ে আছে, তুমি এদের খেয়ে ক্ষুধা মিটাও।

https://i.imgur.com/iOOkgHl.jpg

এক নখে হাতি আর এক নখে কচ্ছপকে তুলে নিয়ে গড়ুর অলম্ব তীর্থে উড়ে গেলো। সেখানকার গাছেরা ডাল ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে কাঁপতে লাগলো। একটি বিশাল বটবৃক্ষ গড়ুরকে তার ডালে বসতে বলো। গড়ুর বসামাত্র ডাল ভেঙে গেল। বালখিল্য মুনিরা সেই ডাল থেকে অধোমুখে ঝুলছেন দেখে গড়ুর ঠোট দিয়ে ডালটি ধরে ফেলে এবং বহু দেশে ঘুরে অবশেষে গন্ধমার্দন পর্বতে উপস্থিত হয়। কশ্যপ সেখানে তপস্যা করছিলেন। তিনি বালখিল্য মুনিদের বললেন গড়ুরকে ক্ষমা করে দিতে। তখন বালখিল্য মুনিগণ ডাল থেকে নেমে হিমালয়ে তপস্যা করতে গেলেন। গড়ুর তখন জনশূন্য এক পর্বতে ডালটি ফেলে হাতি ও কচ্ছপ ভোজন করলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২০

Re: মহাভারতের গপ্পো

গড়ুর-গজকচ্ছপ-অমৃতহরণ
ভোজন শেষ করে গড়ুর মহাবেগে উড়ে চললো অমৃত আনার জন্য।
দেবতা বৃহস্পতি বললেন-  "কশ্যপ-বিনতার পুত্র গড়ুর অমৃত হরণ করতে আসছে। দেবতারা প্রস্তুত হও।"
তখন দেবতারা তাদের নানা ধরনের অস্ত্র নিয়ে অমৃত রক্ষার জন্য প্রস্তুত হলেন। গড়ুরকে দেখে দেবতারা ভয় পেয়ে গেলেও যুদ্ধ শুরু করলো।

https://i.imgur.com/DQDyKSn.jpg

বিশ্বকর্মা ছিলেন অমৃতের রক্ষক। তিনি গড়ুরের সঙ্গে কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ভূপাতিত হলেন।
গড়ুরের পাখার আন্দোলনে ধুলি উড়ে দেবলোক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেল। বায়ু দেবতা সেই ধুলি সরিয়ে দিলো।

গড়ুর দেখলো অমৃতের চতুর্দিকে আগুন জ্বলছে, তার কাছে একটি ক্ষুরধার লোহারচক্র ঘুরছে। গড়ুর তার দেহ সংকুচিত করে চক্রের মাঝের ফুটো দিয়ে প্রবেশ করে দেখলো অমৃত রক্ষার জন্য দুইটি ভয়ঙ্কর সাপ পাহারায় রয়েছে।

https://i.imgur.com/4Oi2ojU.jpg

গড়ুর ভয়ঙ্কর সাপ দুটিকে হত্যা করে অমৃত নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। সেখানে বিষ্ণু গড়ুরের জন্য অপেক্ষা করছিলো। গড়ুর অমৃত নিজে পান করে নি দেখে বিষ্ণু খুশী হয়ে গড়ুরকে বর দেন, গড়ুর অমৃত পান না করেও অমর থাকবে এবং বিষ্ণুর বাহন হবে।

https://i.imgur.com/0nE3RKX.jpg

ঠিক তখন ইন্দ্র গড়ুরকে বজ্রাঘাত করলেন। গড়ুরের তাতে কিছুই হলো না। ইন্দ্রর সম্মানে গড়ুর তাঁর একটি পালক ফেলে দিলো শুধু। গড়ুরের সেই সুন্দর পালক দেখে সকলে আনন্দিত হয়ে তাঁর নাম দিল সুপর্ণ
ইন্দ্র গড়ুরকে বললেন-  "যদি তোমার অমৃতের প্রয়োজন না থাকে তবে আমাকে ফিরিয়ে দাও।"
গড়ুর বললো-   "একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আমি অমৃত নিয়ে যাচ্ছি; যেখানে আমি অমৃত রাখবো সেখান থেকে তুমি তা চুরি করে নিয়ে এসো।"
ইন্দ্র তুষ্ট হয়ে গড়ুরকে বর দিলেন মহাবল সর্পগণ তাঁর খাদ্য হবে।


গড়ুর তার সাপ ভাইদের কাছে এসে বললেন, আমি অমৃত এনেছি, এই কুশের [si](অগ্রভাগ তীক্ষ্ণ বা ধারালো এমন তৃণ বা ঘাস)[/si] উপর রাখছি; তোমরা স্নান করে এসে খেয়ো। সাপেরা তাদের কথা রেখে গড়ুরের মা বিনতাকে দাসীত্ব থেকে মুক্ত করে দিয়ে  স্নান করতে গেলেন

https://i.imgur.com/4v39dRD.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।