২১

Re: মহাভারতের গপ্পো

আস্তিকের জন্ম

শেষনাগ (অনন্ত-বাসুকি) কদ্রুর বড় ছেলে।  মায়ের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি নানা পবিত্র তীর্থে গিয়ে কঠোর তপস্যা করতে লাগলেন। একদিন ব্রহ্মা তাঁর কাছে আসলেন। শেষনাগ তখন জানালেন তার ভাইয়েরা অসৎপ্রকৃতির তাই তিনি ভাইদের সাথে কোনো সম্পর্ক না রেখে তপস্যায় জীবন পার করবেন।

https://i.imgur.com/nceKR2Z.jpg

ব্রহ্মা খুশী হয়ে শেষনাগকে ঝড়-ঝঞ্জা-ভূমিকম্পে নড়বড়ে পৃথিবীকে স্থীর করে ধরে রাখতে বললেন। শেষনাগ পাতালে গিয়ে তাঁর মাথা দিয়ে পৃথিবীকে স্থীর করে ধরে রাখলো। ব্রহ্মার ইচ্ছায় গড়ুর তাঁর সহায় হলেন। পাতালবাসী নাগগণ তাঁকে নাগরাজ বাসুকি রুপে অভিষিক্ত করলো।

https://i.imgur.com/ywyEA4C.jpg

মায়ের অভিশাপ খন্ডন করবার জন্য বাসুকি তাঁর ধার্মিক ভাইদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। তখন এলাপত্র নামে এক নাগ জানালো; ব্রহ্মা বলেছেন তপস্বী পরিব্রাজক জরৎকারুর ঔরসে বাসুকির বোন মনসার গর্ভে আস্তীক নামে এক পুত্র জন্মগ্রহণ করবে, তিনিই ধার্মীক সপদের রক্ষা করবে।

https://i.imgur.com/MX4Vwvs.jpg

বাসুকি বহু খোঁজাখুঁজির পর মহর্ষি জরৎকারুকে পেয়ে তাঁর সাথে মসনার বিয়ে দেন। বাসুকির দেয়া বাড়িতে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করে। জরৎকারু তার স্ত্রীকে প্রথমেই জানিয়ে দেয় স্ত্রীর কোনো কাজে জরৎকারু অসন্তুষ্ট হলে এই বাড়ি ও স্ত্রী ত্যাগকরে চলে যাবে। মনসা তাতেই সম্মত হলেন। নিষ্ঠার সাথে স্বামীর সেবা করে গেলেন এবং যথাসময়ে গর্ভবতী হলেন।

https://i.imgur.com/pT2pQDg.jpg

একদিন জরৎকারু মনসার কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলো। সূর্যাস্তের সময় হয়ে গেলে মনসা মৃদুস্বরে স্বামীকে জাগালেন। জরৎকারুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলায় তিনি রেগে গেলেন। মনসা অনেক অনুনয় করে বললো সূর্য অস্ত যাচ্ছিলো বলেই শুধু তার ঘুম ভাঙ্গিয়েছে। জরৎকারু বললো তিনি যতক্ষণ ঘুমান ততোক্ষণ সূর্যের অস্ত যাবার ক্ষমতা নেই। তার ঘুম ভাঙ্গানোর অপারাধে জরৎকারু গর্ভবতী মনসাকে একা ফেলে চলে গেলেন। যথাসময়ে মনসার এক পুত্র জন্ম নিলো তার নাম আস্তীক মুনি।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০৫-০৮-২০২১ ০১:১৩)

Re: মহাভারতের গপ্পো

পরীক্ষিতের মৃত্যু বিবরণ
https://i.imgur.com/8yG53Y4.jpg
একদিন রাজা পরীক্ষিৎ হরিণ শিকার করতে গিয়ে একটি তীরবিদ্ধ হরিণের পিছু ধাওয়া করতে করতে পরিশ্রান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে গহিন বনে শমীক মুনিকে দেখতে পেলেন। রাজা মুনিকে প্রশ্ন করলেন হরিণটি কোনো দিকে গেছে। মুনি কোনো উত্তর দিলেন না। পরীক্ষিৎ ক্রুদ্ধ হয়ে একটা মৃত সাপ ধনুক দিয়ে তুলে মুনির কাধে ঝুলিয়ে দিয়ে নিজের প্রাসাদে ফিরে গেলেন। মুনি কিছুই বললেন না বা মনে করলেন না, কারণ তিনি মৌনব্রত পালন করছিলেন বলেই উত্তর দিতে পারেননি।


অন্যদিকে শমীক মুনির ছেলে শৃঙ্গী তাঁর গুরুর বাড়ি থেকে ফেরবার সময় তাঁর বন্ধু কৃশ রাজা পরীক্ষিৎ ও শমীক মুনির ঘটনাটি তাঁকে জানিয়ে দেয়। শৃঙ্গী রেগে গিয়ে রাজা পরীক্ষিৎকে সাত রাতের মধ্যে মহাবিষধর তক্ষক নাগ দগ্ধ করবে এই অভিশাপ দিলো। এই অভিশাপের কথা শুনে শমীক মুনির মায়া হলো, রাজা প্রশ্নের জবাব না পেয়ে রেগে গিয়েছিলেন। কারণ রাজা জানতেন না মণি মৌনব্রতে ছিলেন।

শমীক মুনি তার শিষ্য গৌরমুখকে রাজা পরীক্ষিতের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। গৌরমুখ রাজাকে অভিশাপারে কথা জানালো। শমীক বলে দিয়েছেন রাজা যেন আত্মরক্ষার সকল ব্যবস্থা করেন। পরীক্ষিৎ তখন মন্ত্রীদের সাথে আলোচনা করে একটি মাত্র খুঁটির উপর সুরক্ষিত ঘর নির্মাণ করালেন। ফলে কেউ তাঁর কাছে আসতে পারত না। বিষের চিকিৎসক ও মন্ত্রসিদ্ধ ব্রাহ্মদেরকে কাছাকাছি রাখলেন। দেখতে দেখতে ছয় দিন কেটে গেলো।

https://i.imgur.com/pAnnrfQ.jpg

সপ্তম দিনে কশ্যপ নামে এক ব্রাহ্মণ বিষচিকিৎসার জন্য রাজার কাছে যাচ্ছিলেন। তখন তক্ষক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ ধরে তিনি কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলো। কশ্যপ জানালেন আজ তক্ষক নাগ রাজা পরীক্ষিৎকে দংশন করবেন। তিনি সেই বিষ নষ্ট করে রাজাকে বাঁচানোর জন্তেয যাচ্ছেন। তখন তক্ষক নিজের পরিচয় দিয়ে একটি বটগাছে দংশন করল। তক্ষকের দংশনে বটবৃক্ষ জ্বলে গেল। কশ্যপের মন্ত্রশক্তিতে বটগাছের পুরে যাওয়া ছাই থেকে প্রথমে অংকুর, তারপর দুটি পাতা, তারপর বহু পাতা ও ডালে ডালে ভরে গেলো।


এসব দেখে তক্ষক কশ্যপকে জানালো ব্রাহ্মণের অভিশাপে রাজা পরীক্ষিতের আয়ূক্ষয় হয়েছে। কশ্যপের চিকিৎসায় রাজার বাঁচার উপায় নেই। রাজা কশ্যপকে যত ধন দিবে তার চেয়ে বেশী ধন তক্ষক কশ্যপকে দিতে চাইলো। কশ্যপ ধ্যান করে দেখলেন আসলেই ব্রাহ্মণের অভিশাপে রাজা পরীক্ষিতের আয়ূ শেষ হয়ে গেছে। তাই কশ্যপ তক্ষকের কাছ থেকে ধন নিয়েই ফিরে চলে গেলেন।

https://i.imgur.com/MieMqdu.jpg

এবার তক্ষক কয়েকজন নাগকে তপস্বী সেজে ফল-মুল আর জল নিয়ে পরীক্ষিতের কাছে পাঠালেন। রাজা সেই সকল উপহার নিয়ে তপস্বীদের বিদায় দিলেন। তিনি তার মন্ত্রীদের নিয়ে সেই ফল খাওয়ার সময় দেখলেন তাঁর ফলে ক্ষুদ্র একটি পোঁকা দেখা যাচ্ছে। রাজা মন্ত্রীদের বললেন দেথো আজকের শেষ দিনের সূর্য অস্ত যাচ্ছেন, আমার কিছুই হয়নি। শৃঙ্গীর অভিশাপের জোড় থাকলে এই পোঁকাটি তক্ষক হয়ে আমাকে দংশন করুক। এই বলে তিনি হাসতে লাগলেন। ঠিক তখন পোঁকারূপী তক্ষক নিজ আকার ধারণ করে রাজাকে দংশন করলেন। মন্ত্রীরা ভয়ে পালিয়ে গেলেন। বিষের আগুনে রাজার গৃহ আলোকিত হয়ে গেলো।

পরীক্ষিতের মৃত্যুর পর রাজপুরোহিত ও মন্ত্রীরা পরলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁর শিশুপুত্র জনমেজয়কে রাজা করলেন। জনমেজয়ে পরে কাশীরাজ সুবর্ণ-বর্মার কন্যা বপুষ্টমাকে বিয়ে করলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০৭-০৮-২০২১ ০১:৩৫)

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/nkNHCh5.jpg

জনমেজয়ের সর্পসত্র যজ্ঞ
মন্ত্রীদের কাছে পিতার মৃত্যুবিবরণ শুনে জনমেজয় প্রচন্ড দুঃখ পেলেন। তিনি জলস্পর্শ করে প্রতিজ্ঞা করলেন পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিবেন। তিনি পুরােহিতদের সাথে আলোচনা করে সর্পসত্র নামে এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করতে লাগলেন। এই যজ্ঞে  তক্ষককে সাপেদের বংশসহ আগুণে পুড়িয়ে মারা যাবে।

https://i.imgur.com/JZ73ukN.jpg

যজ্ঞের প্রস্তুতি নেয়ার সময় একজন পুরহিত রাজাকে জানালো কোনো এক ব্রাহ্মণ এই যজ্ঞে ব্যাঘাত ঘটাবে। রাজা জনমেজয় দ্বাররক্ষিদের হুকুম দিলেন বাইরে থেকে কেউ যেন যজ্ঞস্থলে আসতে না পারে। এরপর শুরু হলো সর্পসত্র যজ্ঞ। কালো আলখেল্লা পরে পুরহিতেরা সাপদের আহবান করে মন্ত্র পড়তে লাগলেন। আগুনের তাপ আর ধুয়ায় তাঁদের চোখ লাল হয়ে গেলো। নানান জাতের নানা বর্ণের অসংখ্য সাপ সেই মন্ত্রে আবিষ্ট হয়ে এসে আগুনে আত্মহুতি দিতে লাগলো। তক্ষক নাগ ভয় পেয়ে আশ্রয়ের জন্য ইন্দ্রের কাছে গেল। ইন্দ্র তাঁকে অভয় দিয়ে নিজের কাছে আশ্রয় দিলেন।

https://i.imgur.com/xx18FUn.jpg

অন্য দিকে স্বজনদের এই করুন মত্যুতে বাসুকি খুব কারত হয়ে পরলেন। তিনি তার বোন মনসাকে গিয়ে ধরলেন। বোনকে বললেন তার ছেলে আস্তীককে রাজার কাছে পাঠিয়ে সাপেদের এই যজ্ঞাগ্নি থেকে রক্ষা করতে।

https://i.imgur.com/YhGDH5y.jpg

তখন মনসা তার পুত্র আস্তীককে পর্বের সকল ইতিহাস জানিয়ে বললেন তুমি আমার ভাই ও আত্মীয়দের যজ্ঞাগ্নি থেকে রক্ষা কর। মায়ের কাছে সব শুনে আস্তীক যজ্ঞস্থানে গেলেন, কিন্তু দ্বাররক্ষিরা তাঁকে প্রবেশ করতে দিলো না। তখন তিনি রাজার নামে স্তুতি (স্তব, মহিমা-কীর্তন, তোশামোদ) করতে লাগলেন –

পরীক্ষিৎপুত্র জনমেজয়, তুমি ভরতবংশের প্রধান, তােমার এই যজ্ঞ প্রয়াগে অনুষ্ঠিত চন্দ্র, বরণ ও প্রজাপতির যজ্ঞের তুল্য;
আমাদের প্রিয়জনের যেন মঙ্গল হয়।
ইন্দ্রের শত যজ্ঞ, যম রন্তিদেব কুবের ও দাশরথি রামের যজ্ঞ, এবং যুধিষ্ঠির কৃষ্ণদ্বৈপায়ন প্রভৃতির যজ্ঞ যেরূপ, তােমার এই যজ্ঞও সেইরপ;
আমাদের প্রিয়জনের যেন মঙ্গল হয়।
তােমার তুল্য প্রজাপালক রাজা জীবলােকে নেই, তুমি বরুণ ও ধর্মরাজের তুল্য। তুমি যমের ন্যায় ধর্মজ্ঞ, কৃষ্ণের ন্যায় সর্বগুণসম্পন্ন।

আস্তীকের স্তুতি শুনে রাজা জনমেজয় খুশী হয়ে তাকে বর দিতে চাইলেন। তখন প্রধান পুরহিত রাজাকে মনে করিয়ে দিলো তক্ষক এখনো এখানে আসেনি। তক্ষক এখানে আসার পরে ব্রাহ্মণকে বর দেয়া যাবে।
পুরহিতেরা বুঝতে পারে তক্ষক হয়তো ভয় পেয়ে ইন্দ্রের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। তাই তারা এবার ইন্দ্রকে আহবান করলেন। ইন্দ্র  যজ্ঞস্থানে উপস্থিত হলেন। তক্ষক তখন ইন্দ্রের উত্তরীয়ে (উড়ানি; চাদর) লুকিয়ে ছিলো। জনমেজয় তখন রেগে গিয়ে ইন্দ্রেরে সঙ্গেই তক্ষককে আগুণে নিক্ষেপ করতে বললেন। এবার ইন্দ্র ভয় পেলেন এবং তক্ষককে ফেলে পালিয়ে গেলেন

https://i.imgur.com/fs2zzYA.jpg

তক্ষক মন্ত্রের প্রভাবে মােহগ্রস্ত হয়ে যজ্ঞাগ্নির দিকে গর্জন করে আসতে শুরু করলো। তখন পুরহিতে রাজাকে বললো আপনার কার্যসিদ্ধি হয়েছে, এখন ঐ ব্রাহ্মণকে বর দিতে পারেন। রাজা আস্তীককে বর চাইতে বললেন। আস্তীক তক্ষকের উদ্দেশে বললেন, তিষ্ঠ তিষ্ঠ তিষ্ঠ; তক্ষক তখন আকাশে স্থির হয়ে রইল। এবার আস্তীক বললেন এই যজ্ঞ এখনই বন্ধ হক, আগুনে আর যেন সাপ না পরে। রাজা জনমেজয় বললেন, ব্রাহ্মণ আপনি যা চান তাই দেবো, কিন্তু আমার যজ্ঞ যেন বন্ধ না হয়। রাজা বার বার অনুরােধ করতে থাকলে আস্তীক বললেন, আমি আর কিছুই চাই না, আপনার যজ্ঞ বন্ধ হক, আমার মাতৃকুলের মঙ্গল হক। তখন পুরহিতরা সকলে মিলে রাজাকে বুঝালেন ব্রাহ্মণকে তার চাওয়া বর দিতেই হবে। এবার রাজা বাধ্য হয়ে রাজী হলেন। যজ্ঞ সমাপ্ত হল, সাপেরা প্রাণে বেঁচে গেলো। সবশেষে রাজা আস্তীককে বললেন, তুমি আমার অশ্বমেধ যজ্ঞে পুরহিত হয়ে আবার এসাে। আস্তীক সম্মত হয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেন।

আস্তীক সাপেদের প্রাণ রক্ষা করেছে বলে সাপেরা আনন্দিত হয়ে আস্তীককে বর দিতে চাইলে আস্তীক বললেন, কোনো ব্যাক্তি যদি সর্পভয়বারক মন্ত্র পাঠ করে তাহলে তোমরা তার কোনো ক্ষতি করবে না। সাপেরা বললো, ঠিক আছে ভাগিনা তাই হবে, আমরা তােমার কামনা পূর্ণ করব।

সর্পভয়বারক মন্ত্র
আস্তীকঃ সর্পসত্রে বঃ পন্নগান, যােহভ্যরক্ষত।
তং স্মরন্তং মহাভাগাঃ ন মাং হিংসিতুমহর্থ॥
সর্পাপসর্প ভদ্রং তে গচ্ছ সর্প মহাবিষ।
জনমেজয়স্য যজ্ঞান্তে আস্তীকবচনং স্মর।
আস্তীকস্য বচঃ শ্রত্বা যঃ সর্পো ন নিবর্ততে।
শতধা ভিদ্যতে মূর্ধা শিংশবৃক্ষফলং যথা॥

অর্থ- হে মহাভাগ সর্পগণ, যিনি সপসত্রে তােমাদের রক্ষা করেছিলেন সেই আস্তীককে স্মরণ করছি, আমায় হিংসা করাে না। সর্প, সরে যাও, তােমার ভাল হক; মহাবিষ সর্প, চলে যাও, জনমেজয়ের যজ্ঞের পর আস্তীকের বাক্য স্মরণ কর। আস্তীকের কথায় যে সর্প নিবৃত্ত হয় না তার মস্তক শিশু গাছের ফলের ন্যায় শতধা বিদীর্ণ হয়।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৪

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/T769Cdx.jpg


॥আদিবংশাবতরণপর্বাধ্যায়॥


উপরিচর বসু - পরাশর - সত্যবতী - কৃষ্ণদ্বৈপায়ন
চেদি দেশে উপরিচর বসু নামে পুরুবংশজাত এক রাজা ছিলেন। ইন্দ্র তাঁকে বন্ধু হিসেবে বেশ কিছু উপহার দিয়েছিলেন। রাজার ছিলো পাঁচ ছেলে। তাঁরা বিভিন্ন দেশে রাজবংশ স্থাপন করেন।

উপরিচরের রাজধানীর কাছে শুক্তিমতী নদী ছিল। কোলাহল নামক পর্বত এই নদীরে গর্ভে এক পুত্র এবং এক কন্যা উৎপাদন করে। রাজা সেই পুত্রকে সেনাপতি এবং কন্যা গিরিকাকে মহিষী (প্রধান স্ত্রী) করলেন।


একদিন হরিণ শিকারে গিয়ে রাজা রূপবতী মহিষী গিরিকাকে কল্পনা করে বীর্যস্খলন করলে, সেই বীর্য শ্যেনপক্ষীকে দিয়ে গিরিকার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। শ্যেন পাখিটি গিরিকার কাছে যাবার সময় পথে অন্য এক শ্যেন পাখি তাকে আক্রমণ করে। তখন রাজার বীর্য যমুনার জলে পড়ে যায়।

অন্যদিকে অদ্রিকা নামের এক অপ্সরা ব্রহ্মাশাপে মাছ হয়ে যমুনাতে ছিলো। সে রাজার বীর্য গ্রহণ করে গর্ভবতী হলো এবং দশ মাস পরে জেলের জালে ধরা পরলো। জেলে সেই মাছের পেটে একটি পুরুষ এবং একটি স্ত্রী সন্তান পেয়ে রাজার কাছে নিয়ে এলো। অপ্সরা তখন শাপমুক্ত হয়ে আকাশপথে চলে গেল। রাজা উপরিচর কন্যা সন্তানটিকে জেলেকে দিয়ে দিলেন। ছেলে সন্তানটি পরে মৎস্য নামে এক ধার্মিক রাজা হয়েছিলো।

https://i.imgur.com/VM8HsuP.jpg

জেলের কাছে থাকা সেই রূপবতী গুণবতী মেয়েটির নাম সত্যবতী, কিন্তু সে মৎস্যজীবীদের কাছে থাকতো বলে তার আরেক নাম  মৎস্যগন্ধা। একদিন সে যমুনায় নৌকা চালাচ্ছিল এমন সময় পরাশর মুনি সেখানে এলেন। অতীব রূপবতী মৎস্যগন্ধকে দেখে পরাশর কামাতুর হয়ে তার সাথে মিলিতো হয়ে বংশধর জন্ম দিতে চাইলেন। পরপারের ঋষিরা তাদের এই অপকর্ম দেখতে পাবেন বলে সত্যবতী তাতে রাজি হলো না। পরাশর মুনি তখন কুয়াশার ঘনো আবরণ সৃষ্টি করলেন। ঘন কুয়াশার কারণে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেলো। তখন সত্যবতী বললেন সে কুমারী এবং বাবার বাড়িতে থাকে, তার কুমারীত্ব নষ্ট হলে বাড়িতে যায়গা হবে না। তখন পরাশর বললেন তাঁর চাহিদা পূরণের জন্য সহবাস করার পরেও সত্যবতী কুমারীই থাকবে

https://i.imgur.com/RNaosw4.jpg

পরাশরের সাথে মিলনের ফলে মৎস্যগন্ধার দেহ সুগন্ধময় হলো এবং সে গন্ধবতী নামে খ্যাত হলো। এক যােজন দূর থেকে তার শরীরের গন্ধ পাওয়া যেত বলে লােকে তাকে যােজনগদ্ধাও বলত।

পরাশর মুনির সাথে সহবাসের ফলে সত্যবতী গর্ভবতী হলো এবং কৃষ্ণদ্বৈপায়ন নামে একটি কালো পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন। ইনি পৌরাণিক মহাকাব্য মহাভারত, অষ্টাদশ মহাপুরাণ ও উপপুরাণ, বেদান্তদর্শন, ভাগবত প্রভৃতির রচয়িতা এবং বেদের বিভাগকর্তা ঋষি।

https://i.imgur.com/299mOmr.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৫

Re: মহাভারতের গপ্পো

https://i.imgur.com/9wBhuHn.jpg

কচ ও দেবযানী
ব্রহ্মার পুত্র দক্ষ প্রজাপ‌তি তাঁর পঞ্চাশ‌টি কন্যা‌কে পুত্র হিসেবেই দেখতেন।
বড় মেয়ে অ‌দি‌তি থে‌কে বংশানুক্র‌মে বিবস্বান (সূর্য), মনু, ইলা, পুরুরবা, আয়ু, নহুষ ও যযা‌তির জন্ম হয়। যযা‌তি দেবযানী ও শ‌র্মিষ্ঠা‌কে বিয়ে ক‌রে।

‌ত্রি‌লো‌কের ঐশ্ব‌র্যের জন্য যখন দেবতা ও অসুরদের যুদ্ধ হয় তখন দেবতারা বৃহস্প‌তিকে এবং অসুরেরা শুক্রাচার্য‌কে পুরহিত হিসেবে বরণ ক‌রে নেয়।

দেবতারা যুদ্ধে যে সব অসুরদের হত্যা করতে শুক্র বিদ্যাব‌লে তা‌দের পুনর্জী‌বিত করে দিতো। বৃহস্প‌তির এই বিদ্যা জানা ছিলো না বলে দেবতাদের মৃত সৈন্য বাঁচাতে পার‌তো না। তাই দেবতারা বৃহস্প‌তির পুত্র কচ‌কে বল‌লো শু‌ক্রের প্রিয়কন্যা দেবযানীকে সন্তুষ্ট করে মৃতসঞ্জীবনী বিদ্যা অর্জন করতে।

কচ শু‌ক্রের কা‌ছে গি‌য়ে নিজের পরিচয় দিয়ে একহাজার বছরের জন্য শু‌ক্রের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলো। গুরু ও গুরুকন্যার সেবা করে কচ ব্রহ্মচার্য পালন কর‌তে লাগ‌লো। সুযোগ পেলেই কচ গান বাজনা করে, নেচে, নানার ধরনের ফুল উপহার দি‌য়ে প্রাপ্ত‌যৌবনা দেবযানী‌কে তুষ্ট কর‌তে লাগলো। সুগায়ক রূপবান কচকে দেবযানীও পছন্দ করতো, তাই নির্জন স্থা‌নে ক‌চের কা‌ছে গান গাই‌তেন এবং তাঁর প‌রিচর্যা কর‌তো।

https://i.imgur.com/p674Qht.jpg

পাঁচশো বছর পার হয়ে যাওয়ার পরে দানবরা ক‌চের আসল উদ্দেশ্য বুঝ‌তে পার‌লো। তাই এক‌দিন কচ যখন ব‌নে গরু চরা‌চ্ছি‌লো তখন অসুরেরা কচকে হত্যা করে তাঁর দেহ টুকর টুকর করে কুকুর‌কে খায়িয়ে দি‌লো। সন্ধ্যায় কচ ফি‌রে এলো না দে‌খে দেবযানীর সন্দেহ হলো অসুরেরা নিশ্চই কচকে হত্যা করেছে। দেবযানী তার বাবা শুক্রের কাছে গিয়ে জানালো কচকে সে ভালোবাসে, কাচকে ছাড়া সে বাঁচবে না।

https://i.imgur.com/KPhHmyi.jpg

শুক্র তখন সঞ্জীবনী বিদ্যা প্র‌য়োগ ক‌রে কচ‌কে আহ্বান কর‌লেন। কচ তখনই কুকুর‌দের শরীর ভেদ করে বেরিয়ে এলো। তারপর আবার এক‌দিন দানবরা কচ‌কে হত্যা কর‌লো। এবারও শুক্র সঞ্জীবনী বিদ্যা প্র‌য়োগ ক‌রে কচ‌কে বাঁ‌চি‌য়ে দি‌লো।


https://i.imgur.com/VpAhhOv.jpg


তৃতীয় বা‌রে দানবরা কচ‌কে হত্যা করে আগুনে পুরিয়ে তাঁর দেহাবশেষ সুরার (মদ) স‌ঙ্গে মি‌শি‌য়ে শুক্র‌কে খায়িয়ে দিলো। কচ‌কে না দে‌খে দেবযানী আবার বাবার কাছে গিয়ে কান্না করতে শুরু করলো। তখন শুক্র মেয়ের ভালোবাসার খাতিরে করচে জীবিত করার জন্য সঞ্জীবনী বিদ্যা প্র‌য়োগ ক‌রে কচ‌কে ডাকলো।
গুরুর পেটের ভিতর থে‌কে কচা জানালো অসুররা তাকে আগুনে পুরিয়ে তাঁর দেহাবশেষ সুরার (মদ) সাথে মি‌শি‌য়ে শুক্রকে খাই‌য়ে‌ছে।

তখন শুক্র দেবযানী‌কে বল‌লো আমার পেট ছিন্নভিন্ন না করে কচ বের হতে পারবে না। আমি না মরলে কচ বাঁচবে না। এবার বলো তুমি কাকে বেশী ভালোবাসো? কাকে তুমি চাও?

দেবযানী বল‌লো- আপনার মৃত্যু হলে আ‌মি বাঁচব না।
তখন শুক্র বল‌লো- বৃহস্প‌তির পুত্র কচ, দেবযানী তোমা‌কে ভালোবাসে। য‌দি তু‌মি আমার সঞ্জীবনী বিদ্যা লাভ করো। তু‌মি পুত্ররূ‌পে আমার উদর থে‌কে বের হয়ে সঞ্জীবনী বিদ্যা বলে আমা‌কে বাঁ‌চি‌য়ে দিও।


https://i.imgur.com/KYR0nWW.jpg

এবার শু‌ক্রের পেট ফুরে কচ বে‌রি‌য়ে এ‌লো এবং সঞ্জীবনী বিদ্যার দ্বারা শুক্রকে পুনর্জী‌বিত করলো।

দেখতে দেখতে হাজার বছর পার হেলে কচ ফি‌রে যাবার জন্য প্রস্তুত হ‌লো।
দেবযানী কচকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে কচকে বিয়ে করতে চাইলো।


https://i.imgur.com/InXl4jt.jpg

কচ দেবযানীকে গুরুর মেয়ে বলে পূজনীয় মনে করে। তাই দেবযানীকে বিয়ে করার প্রস্তাব সে ফিরিয়ে দিলো। কচ আরো বললো যেহেতু দেবযানীর পিতা শুক্রের পেটে কচ নিজেও ছিলেন সেই হিসেবে দেবযানী কচের বোন হয়।

‌এবার দেবযানী রেগে গিয়ে  কচ কে অভিশাপ দিলো দেবযানীকে বিয়ে না করলে কচের সঞ্জীবনী বিদ্যা ফলবতী হ‌বে না।
কচ দেবযানীকে বললো-  "তু‌মি আমার গুরুর মেয়ে, গুরুও বিয়ের সম্ম‌তি দেন নি, সেজন্য আমি তোমার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কর‌ছি। তু‌মি কা‌মের ব‌শবতী হয়ে আমা‌কে অ‌ভিশাপ দি‌লে। তু‌মি ব‌লেছ, আমার বিদ্যা নিস্ফল হ‌বে; তাই হক। আ‌মি যা‌কে শেখাব তার বিদ্যা ফলবতী হ‌বে। "
এই কথা বলে কচ ইন্দ্র‌লো‌কে চলে গেলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৬

Re: মহাভারতের গপ্পো

দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার বিবাদ

https://i.imgur.com/Dj5WWxM.jpg

ইন্দ্র একটি বনের ধারে বেরাতে বেরিয়ে দেখলো সেখানে কয়েকজন রূপসী নারী পুকুরে নেমে স্নন করছে। তাই দেখে ইন্দ্রের মনে দুষ্টমি বুদ্ধি এলো, ইন্দ্র বায়ু হয়ে সবার জামা-কাপর একসাথে মিশিয়ে দিলো। মেয়ে গুলির মধ্যে ছিলো শুক্রাচার্যের কন্যা দেবযানী এবং অসুররাজ বৃষপর্বার কন্যা শর্মিষ্ঠা। শর্মিষ্ঠা ভুল করে দেবযানীর কাপড় পরে ফেলে। তাই দেখে দেবযানী গেলো রেগে। শর্মিষ্ঠাকে অসুরী, সদাচারহীনা বলে গালি দিয়ে বললো, তুই আমার কাপড় পরলি কেনো?
গালি শুনে শর্মিষ্ঠাও রেগে গেলো। দেবযানীকে বললো তোর পিতা আমার পিতার কর্মচারী, আমার পিতার তোষামোদ করে, আমার পিতার দানে চলে।  তুই যাচকের কন্যা, আমি দাতার কন্যা।

আদুম্বস্ব বিদুম্বস্ব দ্রুহ্য কুপ্যস্ব যাচকি।
অনায়ুধা সায়ুধায়া রিক্তা ক্ষুভ্যসি ভিক্ষুকি ।
লপ্স্যসে প্রতিযোদ্ধারং ন হি ত্বাং গণয়াম্যহম।।

অর্থ - যাচকী, যতই বিলাপ কর, গড়াগড়ি দে, বিবাদ কর বা রাগ দেখা, তোর অস্ত্র নেই আমার অস্ত্র আছে। ভিক্ষুকী, তুই নিঃস্ব হয়ে ক্ষোভ করছিস। আমি তোকে গ্রাহ্য করি না, ঝগড়া করবার জন্য তুই নিজের সমান লোক পাবি।

https://i.imgur.com/sWSbLaV.jpg

দেবযানী নিজের কাপড় নেয়ার জন্য কাপড় ধরে টানতে লাগলো, তখন শর্মিষ্ঠা তাঁকে এক কূপের মধ্যে ঠেলে ফেলে দিয়ে নিজের বাড়ি চলে গেলো।

সেই সময় হরিণ শিকার করতে বেরিয়ে ক্লান্ত ও পিপাসিত হয়ে রাজা যযাতি সেই কূপের কাছে উপস্থিত হলো। রাজা যযাতি দেখলো কূপের মধ্যে রূপসী এক কন্যা পরে আছে। দেবযানী নিজের পরিচয় দিয়ে বললো তাকে হাত ধরে টেনে তুলতে।  যযাতি দেবযানীকে উদ্ধার করে সেখানে রেখে নিজের রাজধানীতে চলে গেলো।

https://i.imgur.com/C5YF4Uc.jpg

দেবযানীর দাসীর মুখে ঝগড়ার খবর শুনে শুক্র তখনই সেখানে এলো। দেবযানী তার বাবাকে শর্মিষ্ঠার বলা সকল কথা জানালো।   সব শুনে শুক্র বলল -  "যিনি সজ্জন তাঁর পক্ষে নিজের গুণবর্ণনা কষ্টকর।" ওঠ আমরা শর্মিষ্ঠাকে ক্ষমা করে দেই, কারণ "সাধুজনের ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ গুণ। ক্ষমার দ্বারা ক্রোধকে যে নিরস্ত করতে পারে সে সর্ব জগৎ জয় করে"।

দেবযানী বললো - কিন্তু পন্ডিতরা বলেন নীচ লোকের কাছে অপমানিত হওয়ার চেয়ে মরণ ভাল। অস্ত্রাঘাতে যে ক্ষত হয় তা সারে কিন্তু বাকক্ষত সারে না

মেয়ের কথা শুনে শুক্র এবার দানবরাজ বৃষপর্বার কাছে গিয়ে বললো-  "পাপের ফল সদ্য দেখা যায় না, কিন্তু যে বার বার পাপ করে সে সমূলে বিনষ্ট হয়"। আমার নিষ্পাপ শিষ্য কচকে তুমি বার বার হত্যা করিয়েছিলে। তোমার মেয়ে শর্মিষ্ঠা আমার কন্যাকে নানান কটু কথা বলে শুনিয়েছে। শেষে তাকে কূপে ফেলে দিয়েছে। আমরা আর তোমার রাজ্যে বাস করব না।
দানবরাজ বৃষপর্বা  শুক্রচার্যকে নানান ভাবে অনুনয় করে ফিরাতে চেষ্টা করতে লাগলো। তখন শুক্র বললো দেবযানী থাকতে রাজি হয় তাহলে আমিও থাকতে রাজি আছি।

দানবরাজ বৃষপর্বা দেবযানীর কাছে গিয়ে তাঁর পায়ে পড়ে বললো, দেবযানী তুমি যা চাইবে তাই দেব। শুধু এই রাজ্য ছেড়ে চলে যেও না।
দেবযানী বললো- সহস্র কন্যার সহিত শর্মিষ্ঠাকে আমার দাসী হতে হবে, আমার বিয়ে হলে তারা আমার সঙ্গে যাবে।
শুক্রাচার্যের রোষ থেকে বাঁচতে শর্মিষ্ঠা দেবযানীর দাসীত্ব স্বীকার করে নিলো।

https://i.imgur.com/4hEamen.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৭

Re: মহাভারতের গপ্পো

দেবযানী, শর্মিষ্ঠা ও রাজা যযাতির ত্রিমুখী প্রেম

একদিন দেবযানী শর্মিষ্ঠা ও সহস্র দাসীর সঙ্গে বনে বেরাতে গেলে সেখানে শিকার করতে আসা রাজা যযাতি উপস্থিত হয়। যযাতি  দেখলেন, রত্নখচিত স্বর্গীয় এক আসনে অপরূপ রূপসী স্বর্ণালংকারে সজ্জিত দেবযানী বসে আছে। স্বর্ণালংকারে সজ্জিত রূপে অতুলনীয়া অন্য একটি মেয়ে নিচু একটি আসনে বসে দেবযানীর পদসেবা করছে।

https://i.imgur.com/bh4Lfez.jpg

রাজা যযাতি দেবযানীর সাথে আলাপ করতে লাগলেন। দেবযানী নিজেদের পরিচয় দিলেন। দেবযানির চেয়েও অধিক সর্বাঙ্গসুন্দরী অসুররাজকন্যা শর্মিষ্ঠাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো। অসুররাজকন্যা শর্মিষ্ঠা দেবযানির দাসী সেটা জানতে পেরে রাজা অবাক হলো।

এদিকে রাজা যযাতিকে দেখে দেবযানীর খুব পছন্দ হয়ে যায়। তাই সে রাজাকে বলে তাকে বিয়ে করলে শর্মিষ্ঠা আর সমস্ত দাসী রাজার অধিন হবে। যযাতি ক্ষত্রিয় রাজা বলে ব্রাহ্মণ কন্যা দেবযানীর প্রস্তাবে রাজি হয় না।   , সুন্দরী , আমি আপনার যোগ্য নই , আপনার পিতা ক্ষত্রিয় রাজাকে কন্যাদান করবেন না। দেবযানী জানালো ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয় পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। দেবযানী তখন তাঁর পিতাকে ডেকে এনে বললো এই রাজা যযাতি তার পাণি গ্রহন করে কূপ থেকে উদ্ধার করেছিলেন। আপনি আমাকে এর সাথে বিয়ে দিন। আমি একে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো না।

শুক্র বললেন- "প্রণয় ধর্মের অপেক্ষা রাখে না।" আমি আমার মেয়ে দেবযানীকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। আর বৃষপর্বার কন্যা কুমারী শর্মিষ্ঠাকে স্বসম্মানে রাখবে। কিন্তু একে কখনো শয্যাসঙ্গী করোনা।

দেবযানী শর্মিষ্ঠা আর দাসীদের নিয়ে যযাতি তাঁর রাজধানীতে ফিরে গেলেন। দেবযানীকে নিজের মহর্ষী করে প্রাসাদে স্থান দিলেন।

https://i.imgur.com/Um5OOdt.jpg

দেবযানীর অনুমতি নিয়ে তিনি অশোক বনের কাছে শর্মিষ্ঠার জন্য আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে দিলেন। সহস্র দাসীও শর্মিষ্ঠার কাছে রইল।

অনেক দিন পরে দেবযানীর একটি ছেলে জন্ম নিলো। তাই দেখে শর্মিষ্ঠা ভাবলো তারও একজন স্বামী চাই, পুত্র চাই,  নইলে তার এই ভরা যৌবন বৃথা হয়ে যাবে। 

একদিন রাজা যযাতি বেড়াতে বেড়াতে অশোক বনে এসে পড়লেন। তখন শর্মিষ্ঠা রাজাকে তাঁর সাথে মিলনের জন্য আহবান করলো। রাজা যযাতি শুক্রাচার্যের নিষেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন  শর্মিষ্ঠাকে।
তখন শর্মিষ্ঠা বললো-

ন নর্মযুক্তং বচনং হিনস্তি ন স্ত্রীষু রাজন্ ন বিবাহকালে।
প্রাণাত্যয়ে সর্বধনাপহারে পঞ্চানৃতান্যাহুরপাতকানি।

অর্থ- পরিহাসে, স্ত্রীলোকের মনোরঞ্জনে, বিবাহকালে, প্রাণসংশয়ে এবং সর্বস্ব নাশের সম্ভাবনায়, এই পাঁচ অবস্থায় মিথ্যা বললে পাপ হয় না।

রাজা যযাতি বললেন-  "আমি রাজা হয়ে যদি মিথ্যা কথা বলিতাহলে প্রজারাও মিথ্যা বলা শুরু করবে।
শর্মিষ্ঠা আরো বললো- "যিনি সখীর পতি তিনি নিজের পতির তুল্য, দেবযানীকে বিবাহ করে আপনিও আমার পতি হয়েছেন। পুত্রহীনার পাপ থেকে আমাকে রক্ষা করুন, আপনার প্রসাদে পুত্রবতী হয়ে আমি ধর্মাচরণ করতে চাই।"
তখন যযাতি শর্মিষ্ঠার সাথে মিলিতো হয়ে তাঁর প্রার্থনা পূরণ করলেন।

https://i.imgur.com/zL0yud2.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৮

Re: মহাভারতের গপ্পো

মহাভারতের গপ্পো - ০১৩ : যযাতির জরা

রাজা যযাতির সাথে মিলনের পরে শর্মিষ্ঠার ফুটফুটে একটি ছেলে হলো। শর্মিষ্ঠা ছেলেকে দেখে দেবযানী পাপী, কামুকি, নষ্টা ইত্যাদি  বলে গালমন্দ করলো। তখন শর্মিষ্ঠা জানালো সে অন্যায় কিছু করেনে, একজন ধর্মাত্মা বেদজ্ঞ ঋষি তার কাছে এসে তাঁকে বর দিয়েছে বলেই তাঁর এই ছেলে জন্মেছে। এই মিথ্যে কথা দেবযানী বিশ্বাস করে নিয়ে চুপ করে গেলো।

কালক্রমে যদু ও তুর্বসু নামে দেবযানী দুই ছেলের জন্ম দিলো। আর শর্মিষ্ঠার গর্ভে জন্ম নিলো দ্রুহ্যু, অনু ও পুরু নামে তিন ছেলে। তাদের সকলের পিতা ঐ রাজা যযাতি। একদিন দেবযানী স্বামী যযাতির সঙ্গে বাগানে বেড়াতে এসে দেখলো ফুট ফুটে ৩টি বাচ্চা ছেলে খেলা করছে। দেবযানী বাচ্চাগুলির কাছে তাদের বাবা-মার নাম জানতে চাইলো, তখন বাচ্চাগুলি যযাতি আর শর্মিষ্ঠাকে দেখিয়ে জানালো এরাই তাদের বাবা-মা।

https://i.imgur.com/06Ov27H.jpg

তখন দেবযানী শর্মিষ্ঠাকে পাপী, কামুকি, নষ্টা ইত্যাদি  বলে গালমন্দ করলো। তখন শর্মিষ্ঠা জানালো দেবযানী যখন রাজা যযাতিকে বিয়ে করে তখন শর্মিষ্ঠাও তাকে মনে মনে পতিরূপে বরণ করে নিয়েছিলো। আরো বললো- যিনি আমার সখীর পতি, ধর্মানুসারে তিনি আমারও পতি

স্বামী যযাতির এমন পরনারী আশক্তি দেখে দেবযানী রাজার সাথে রাগ করে বাবার বাড়ি চলে গেলো। দেবযানী পিছন পিছন রাজা যযাতিও শুক্রাচার্যের কাছে পৌছলো। দেবযানী তার বাবাকে রাজার অপকর্মের কথা জানালো। সব শুনে শুক্রাচার্য ক্রুদ্ধ হয়ে
যযাতিকে দুরারোগ্য বার্ধক্যে আক্রান্ত হওয়ার অভিশাপ দিলেন।

https://i.imgur.com/RxfLhfY.jpg

রাজা তখন বার্ধক্যে আক্রান্ত হয়ে অভিশাপ প্রত্যাহারের জন্য বহু অনুনয় করলে শুক্রাচার্য জানালো সে চাইলে তার দুরারোগ্য বার্ধক্য তার কোনো ছেলেকে দিতে পারবে। যযাতি বললেন-  "আমার যে ছেলে আমাকে তার যৌবন দেবে সেই ছেলে রাজ্য পাবে এবং পুণ্যবান কীর্তিমান হবে।"

https://i.imgur.com/SKsoDwJ.jpg

যযাতি রাজধানীতে এসে তার বড় ছেলে যদুকে বললেন-  "আমি শুক্রের অভিশাপে জরাগ্রস্ত হয়েছি কিন্তু যৌবনভোগে এখনও তৃপ্ত হইনি। আমার জরা নিয়ে তোমার যৌবন আমাকে দাও, হাজার বছর পরে আবার তোমাকে যৌবন ফিরিয়ে দিয়ে নিজের জরা ফিরিয়ে নেব।"
যদু বাবার প্রস্তাবে রাজি হলো না, বললো অন্য ছেলেদের কাছে যৌবন চাইতে।
রাজা অসন্তুষ্ট হয়ে যদুর সন্তানদের রাজ্যের উত্তরাধিকারী থেকে বঞ্চতি করলেন।
তারপর যযাতি একে একে তার অন্যান্য ছেলে তুর্বসু ,দ্রুহ্যু এবং অনুকে একই প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু কেউই জরা নিয়ে যৌবন দিতে রাজি হলো না। যযাতি তুর্বসুকে আভিশাপ দিলেন সে অন্ত্যজ ও ম্লেচ্ছ জাতির রাজা হবে এবং তাঁর বংশলোপ হবে। দ্রুহ্যুকে অভিশাপ দিলেন অতি দুর্গম দেশে গিয়ে ভোজ উপাধি নিয়ে বাস করবে এবং কখনও অভীষ্ট লাভ করবে না। অনুকে অভিশাপ দিলেন শীঘ্রই জরান্বিত হবে ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াহীন হবে এবং তার সন্তানেরা যৌবনলাভ করেই মারা যাবে।

অন্যদিকে যযাতির সবচেয়ে ছোট ছেলে পুরু তার বাবার অনুরোধ শুনে তখনই বাবাকে তার যৌবন দিয়ে দিতে রাজি হয়ে গেলো।
রাজা যযাতি খুশী হয়ে আশীর্বাদ করলেন পুরুর রাজ্যে সকল প্রজা সর্ব বিষয়ে সমৃদ্ধি লাভ করবে

পুরুর যৌবন পেয়ে রাজা যযাতি প্রাণভরে ভোগ করলেন, প্রচুর ধর্মকর্মের অনুষ্ঠান করলেন। এইভাবে হাজার বছর পার হয়ে গেলে তিনি পুরুকে বললেন-

ন জাতু কামঃ কামানামুপভোগেন শাম্যতি।
হবিষা কৃষ্ণবর্ত্মেব ভূয় এবাভিবর্ধতে ।।
যৎ পৃথিব্যাং ব্রীহিযবং হিরণ্যাং পশবঃ স্ত্রিয়ঃ ।
একস্যাপি ন পর্যাপ্তং তস্মাৎ তৃষ্ণাং পরিত্যজেৎ ।।

অর্থ- "কাম্য বস্তুর উপভোগে কখনও কামনার শান্তি হয় না, ঘৃতসংযোগে অগ্নির ন্যায় আরও বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীতে যত ধান্য, যব, হিরণ্য, পশু ও স্ত্রী আছে তা একজনের পক্ষেও পর্যাপ্ত নয়, অতএব বিষয়তৃষ্ণা ত্যাগ করা উচিত"

তারপর রাজা যযাতি পুরুকে তাঁর যৌবন ফিরিয়ে দিলেন। পুরুকে নিজের রাজ্য বুঝিয়ে দিয়ে যযাতি কিছু দিন বনে বাস করলেন। বন বাসের পরে তিনি স্বর্গলোকে গেলেন। কিন্তু স্বর্গে গিয়ে তিনি ইন্দ্রের কাছে গর্ভ করে বলেলেন যে দেবতা-মানুষ-গর্ন্ধব আর ঋষিদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশী তপস্যায় করেছে। এই আত্মপ্রশংসার ফলে ইন্দ্র যযাতিকে স্বর্গচ্যুত করলেন। তখন যযাতি ভূতলে না পড়ে কিছুকাল অন্তরীক্ষে অষ্টক, প্রতর্দন, বসুমান ও শিবি এই চারজন রাজর্ষির সঙ্গে ধর্মালোচনায় কাটালেন। এরা ছিলো যযাতিরই নাতি। অতঃপর যযাতি পূনরায় স্বর্গলোকে গেলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

২৯

Re: মহাভারতের গপ্পো

রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার কাহিনী
https://i.imgur.com/kzEWXTQ.jpg

একদিন রাজা দুষ্মন্ত বনে গেলেন হরিণ শিকার করতে। শিকার করতে করতে এক সময় তিনি দালছাড়া হয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্ষুধার্ত ও পিপাসিত হয়ে পথ হারিয়ে এক মনোরম বনে পৌছে গেলেন। তখন রাজা দুষ্মন্ত মালিনী নদীর তীরে কন্ব মুনির আশ্রম দেখতে পেলেন। দেখলেন আশ্রমে হিংস্র জন্তুরাও শান্তভাবে ঘুরে বেরাচ্ছে। দুষ্মন্ত আশ্রমের ভিরতে প্রবেশ করে মহর্ষি কন্বের দেখা না পেয়ে তাঁর কুটীরে গিয়ে তাঁকে ডাকলেন। তখন কুটিরের ভিতর থেকে  সুনিতম্বিনী রূপবতী যুবতী একটি মেয়ে বারিয়ে এসে জানালো কম্ব মুনি তার পিতা। তিনি ফল সংগ্রহ করতে বনে গেছেন, শীঘ্রই ফিরে আসবেন। মেয়েটি রাজাকে আদর করে বসিয়ে তাঁর জন্য খাবার সাজিয়ে দিল।

https://i.imgur.com/k9BKfZj.jpg


এই সুনিতম্বিনী রূপযৌবনবতী মেয়েটিকে দেখে রাজা দুষ্মন্তের খুবই পছন্দ হয়ে গেলো। রাজা দুষ্মন্ত জানতেন কম্ব মুনি ঊর্ধ্বরেতা (শুক্র ক্ষয় করে নাই এমন ব্যক্তি) তপস্বী তার কোনো কন্যা থাকতে পারে না। তাই রাজা মেয়েটির কাছে তার জন্ম রহস্য জানতে চাইলে মেয়েটি (শকুন্তলা) রাজাকে জানালো -

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩০

Re: মহাভারতের গপ্পো

শকুন্তলার জন্মবৃত্তান্ত
https://i.imgur.com/4Lzb0p8.jpg

অতীতে একসময় বিশ্বামিত্র কঠোর তপস্যা করছিলেন। তাই দেখে  দেবরাজ ইন্দ্র চিন্তায় পরে যান। তিনি বিশ্বামিত্রের কঠোর তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য অপ্সরা মেনকাকে পাঠান। মেনকা বিশ্বামিত্রের কাছে এসে নানান যৌনাবেদনময়ী নৃত্য করতে লাগলো। সেই সময় মেনাকার পরনে ছিলো শ্বেতশুভ্র পাতলা বসন। নৃত্যরত অবস্থায় হঠাত বাতাস তার গায়ের সেই বসন খুলে নিয়ে গেলো।

https://i.imgur.com/mE0XaOa.jpg

সুনিতম্বিনী রূপযৌবনবতী সর্বাঙ্গসুন্দরী বিবস্ত্রা মেনকাকে দেখে বিশ্বামিত্র মুগ্ধ হয়ে গেলেন। বিশ্বামিত্র তার কঠোর তপস্যা ত্যাগ করে অপ্সরা মেনকার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলেন। ইন্দ্র আর মেনকার উদ্দেশ্য সফল হলো। বিশ্বামিত্রের কঠোর তপস্যা ভঙ্গ হয়েছে। সেইসাথে বিশ্বামিত্রের সঙ্গে  সঙ্গমের ফলে অপ্সরা মেনকা গর্ভবতী হয়ে পরলো। যথা সময়ে মেনকা একটি কন্যা সন্তান প্রসব করলো। সেই সদ্যজাতা কন্যা শিশুটিকে মেনকা মালিনী নদীর তীরে ফেলে দেবরাজ ইন্দ্রের সভায় ফিরে গেলো।

https://i.imgur.com/fUf7HNa.jpg

বাঘ-সিংহে ভরা জনমানবহীন বনের ধারে সেই শিশু কন্যাটিকে (শকুন্ত) পাখিরা রক্ষা করতে লাগল। মহর্ষি কন্ব স্নান করতে গিয়ে শিশু কন্যাটিকে দেখতে পেয়ে আশ্রমে নিয়ে এসে নিজের মেয়ের মতো করে লালন-পালন করতে থাকেন। শিশু কন্যাটিকে শকুন্ত রক্ষা করছিলো বলে কম্ব মনি মেয়েটির নাম রাখেন শকুন্তলা।

https://i.imgur.com/JvhCWjC.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩১

Re: মহাভারতের গপ্পো

দুষ্মন্ত ও শকুন্তলা মিলন
https://i.imgur.com/Udd3PQd.jpg

রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলার সমস্ত কথা শুনে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে মিলিতো হতে চাইলেন। তিনি শকুন্তলাকে সুবর্ণমালা, বিবিধ বস্ত্র, নিজের কানের দুল, বুকের অলংকার, বিভিন্ন দেশের মণিরত্ন, হরিণের চামরা এমনকি নিজের রাজ্য পর্যন্ত দিয়ে দিতে চাইলেন।

শকুন্তলা রাজি হলেও তার পিতার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললো রাজাকে। কিন্তু দুষ্মন্তের একটুও অপেক্ষা করতে চাইছিলেন না। তাই তিনি শকুন্তলাকে বার বার তখনই গান্ধর্বরীতিতে (এতে মালা বদলে বিয়ে হয়) বিবাহ করার জন্য বলতে লাগলেন।  দুষ্মন্তের বার বার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত শকুন্তলা গান্ধর্বরীতিতে বিবাহ করতে রাজি হয়ে গেলো। কিন্তু বিয়ের আগে শকুন্তলা রাজা দুষ্মন্তকে শর্ত দিলো তাদের যে পুত্র জন্ম নিবে সে যুবরাজ হবে এবং দুষ্মন্তের পরে সেই পুত্রই রাজ্যের রাজা হবে।

কামের তারনায় উত্তেজিত রাজা দুষ্মন্ত বিনা বাক্য ব্যয়ে শকুন্তলার শর্তে রাজি হয়ে গেলেন। এবার শকুন্তলাও সানন্দে দুষ্মন্তের সঙ্গে রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হলো। সম্ভোগ সমপ্ত হলে রাজা দুষ্মন্ত আর একমূহুর্তও আশ্রমে থাকতে চাইলেন না। শকুন্তলাকে আশ্রমে রেখে একাই রাজধানীর পথে  রওনা হয়ে গেলেন। যাওয়ার সময় শকুন্তলাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন রাজধানীতে পৌছেই তিনি (হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতি) চতুরঙ্গিণী সেনা পাঠাবেন শকুন্তলাকে নিয়ে যেতে।


এদিকে কিছুক্ষণ পরে কম্ব মুনি আশ্রমে ফিরে এলেন। কিন্তু রাজার সাথে মিলিতো হওয়ার কারণে পিতার সামনে যেতে শকুন্তলা লজ্জা পেলো। তখন কম্ব মুনি দিব্যদৃষ্টিতে রাজা ও শকুন্তলার মিলনের বিষয়টি জেনে নিয়ে শকুন্তলাকে জানালেন - পিতার অনুমতি না নিয়ে শকুন্তলার পুরুষ সম্ভোগে ধর্মের হানি হয় নি। নির্জনে বিনা মন্ত্রপাঠে কামুক পুরুষ ও কামুকী নারীর যে মিলন তাকে গান্ধর্ব বিবাহ বলে। ক্ষত্রিয়ের পক্ষে তাই শ্রেষ্ট।

https://i.imgur.com/hisoOVq.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩২

Re: মহাভারতের গপ্পো

তিন বছর পরে শকুন্তলা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলো। শকুন্তলার ছেলেটি কন্ব মুনির আশ্রমেই লালিত-পালিত হতে লাগল। দেখতে দেখতে ছেলেটির বয়স ছয় বছর হয়ে গেল। এরই মাঝে ছেলেটি প্রচন্ড বলশালী হয়ে উঠল, সে অসাধারণ বলবিক্রমে বন থেকে বাঘ, সিংহ, মহিষ, হাতি ইত্যাদি ধরে এনে আশ্রমের গাছের সাথে বেঁধে রাখত। সকল জন্তুকেই সে দমন করতে পারতো বলে আশ্রমবাসীরা তার নাম দিলেন সর্বদমন

https://i.imgur.com/FWiEyeb.jpg

এবার কন্ব মুনি তার শিষ্যদের ডেকে বললেন -  "সর্বদমনের যুবরাজ হবার সময় হয়েছে। তাছাড়া নারীরা দীর্ঘকাল পিতৃগৃহে বাস করলে নিন্দা হয়, তাতে সুনাম চরিত্র ও ধর্মও নষ্ট হতে পারে। তোমরা শীঘ্র শকুন্তলা আর তার পুত্রকে রাজা দুষ্মন্তের কাছে দিয়ে এস।"

https://i.imgur.com/rhGy4SF.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৩

Re: মহাভারতের গপ্পো

কন্ব মুনির কথা মতো শুকুন্তলাকে রাজর প্রাসাদে পৌঁছিয়ে দিয়ে শিষ্যরা ফিরে গেলো। শকুন্তলা দুষ্মন্তের দরবারে গিয়ে তাদের ছেলে ভরতকে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত করার প্রতিজ্ঞার কথা দুষ্মন্তকে মনি করিয়ে দিলো। কিন্তু রাজা দুষ্মন্ত পূর্বের সকল কথা মনে থাকলেও  শুকুন্তলাকে না চেনার ভান করলো। শুকুন্তলাকে দুষ্ট তাপসী, ছলনাময়ী ইত্যাদি বলে অপবাদ দিল। রাজা বললো - "তোমার সঙ্গে আমার ধর্ম, অর্থ বা কামের কোনও সম্পর্ক হয় নি, তুমি যাও বা থাক বা যা ইচ্ছা করতে পার।"

https://i.imgur.com/lpFafqm.jpg

লজ্জায় ও দুঃখে শকুন্তলা স্তব্ধ হয়ে গেলো। কান্নায় তাঁর চক্ষু রক্তবর্ণ হল, ঠোট কাঁপতে লাগল। শকুন্তলা বললো - "রাজি যদি আমাকে মিথ্যে অস্বীকার করো তাহলে তোমার মাথা শতধা বিদীর্ণ হবে। আমাকে যদি পরিত্যাগ কর তবে আমি আশ্রমে ফিরে যাব, কিন্তু এই বালক তোমার পুত্র, একে ত্যাগ করতে পার না।"

দুষ্মন্ত বললেন-  "তোমার গর্ভে আমার কোনো পুত্র হয়েছিল তা আমার মনে নেই। নারীরা মিথ্যা কথাই বলে থাকে। তোমার জননী মেনকা অসতী ও নির্দয়া, তোমার পিতা বিশ্বামিত্র কামুক ও নির্দয়। তুমি নিজেও ভ্রষ্টার মতো কথা বলছ। তুমি দূর হও।"

শকুন্তলা এবার রেগে গিয়ে বললো- "মেনকা দেবতাদের মধ্যে গণ্যা। রাজা তুমি নিজে দুর্জন তাই সজ্জনকে দুর্জন বলছো। তুমি মিথ্যুক, তোমার সঙ্গে আমার মিলন সম্ভব হবে না, আমি চলে যাচ্ছি। তোমার সাহায্য না পেলেও আমার পুত্র এই পৃথিবীতে রাজত্ব করবে।"
কথা শেষ করে শকুন্তলা চলে যেতে নিলো।

তখন অন্তরীক্ষ থেকে দৈববাণী এলো- "শকুন্তলা সত্য বলেছে, তুমিই তাঁর পুত্রের পিতা, তাকে ভরণপোষণ কর, তার নাম ভরত হক।"

এবার রাজা পুরোহিত ও অমাত্যদের বললেন- "আপনারা  দৈববাণী শুনলেন, আমি নিজেও ওই বালককে পুত্র বলে জানি, কিন্তু যদি কেবল শকুন্তলার কথায় তাকে পুত্র হিসেবে মেনে নিতাম তবে লোকে দোষ দিত।"

তারপর দুষ্মন্ত তাঁর পুত্র ভরত ও স্ত্রী শকুন্তলাকে আনন্দিত মনে গ্রহণ করলেন।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (৩০-০৮-২০২১ ০৫:০৪)

Re: মহাভারতের গপ্পো

গঙ্গা দেবীর কাহিনী

https://i.imgur.com/itjJM0W.jpg

দুষ্মন্ত -শকুন্তলার পুত্র ভরত বহু দেশ জয় করে সার্বভৌম রাজা হয়েছিলেন। তাঁর বংশের এক রাজার নাম হস্তী, তিনি হস্তিনাপুর নগর স্থাপন করেন। হস্তীর চার পুরুষ পরে কুরু রাজা হন, তাঁর নাম অনুসারে কুরুজাঙ্গল দেশ খ্যাত হয়। তিনি যেখানে তপস্যা করেছিলেন সেই স্থানই কুরুক্ষেত্র। কুরুর অধস্তন সপ্তম পুরুষের নাম প্রতীপ, তাঁর পুত্র শান্তনু

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৫

Re: মহাভারতের গপ্পো

মহাভিষ ও দেবী গঙ্গার সাক্ষাত
মহাভিষ ইক্ষ্বাকুবংশীয় এক রাজা ছিলেন, তিনি বহু যজ্ঞ করে স্বর্গে গিয়েছিলেন। একদিন মহাভিষ যখন দেবতাদের সঙ্গে ব্রহ্মার সভায় বসে ছিলেন, নদীশ্রেষ্ঠা গঙ্গা দেবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তখন বায়ুর প্রভাবে গঙ্গাদেবীর পাতলা বস্ত্র উড়ে গেল। তাই দেখে দেবতারা মাথা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলেন। শুধু মহাভিষ অপলক দৃষ্টিতে গঙ্গা দেবীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।

https://i.imgur.com/ugvETC4.jpg

ব্রহ্মা সেটা লক্ষ্য করে বুঝলে স্বর্গে থাকার উপযুক্ত নন। তাই ব্রহ্মা মহাভিষকে শাপ দিলেন মর্ত্যলোকে মানুব সন্তান হয়ে জন্মগ্রহণ করবে এবং পরে আবার স্বর্গে আসতে পারবে। মহাভিষ তখন ঠিক করলেন তিনি প্রতীপ রাজার পুত্র হয়ে জন্ম নিবেন।

https://i.imgur.com/8QueN0H.jpg

অন্যদিকে গঙ্গা দেবী মহাভিষকে ভাবতে ভাবতে মর্ত্যে ফিরে আসার সময় দেখলেন অষ্টবসু দেবতা মূর্ছিত হয়ে পড়ে আছেন। গঙ্গা দেবী তাদের এই অবস্থার কারণ জানতে চাইলেন। তখন অষ্টবসুগন জানালেন -

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৬

Re: মহাভারতের গপ্পো

অষ্টবসুদের অভিশাপ
সুমেরু পর্বতের কাছে একটি মনোরম স্থানে বশিষ্ঠ মুনির আশ্রম ছিল। একবার আটজন বসুদেবতা এই আশ্রমে সস্ত্রীক ভ্রমণ করতে যান। বশিষ্ঠ তখন আশ্রমে ছিলেন না। দেবরাজ ইন্দ্রের সুরভী-কামধেনুর কন্যা কামধেনু নন্দিনী সেই আশ্রমেই ছিলো। দ্যু-বসু এই গাভী দেখে বলেন "এর দুধ পান করলে, দশ হাজার বছর যৌবন-প্রাপ্ত হয়ে জীবিত থাকা যায়।"

https://i.imgur.com/6jgW6gW.jpg

এই কথা শুনে দ্যু-বসুর স্ত্রী তার সখী রাজকন্যা জিতবতীকে এই গাভী ‌উপহার দিতে চাইলো। স্ত্রীর অনুরোধে দ্যু-বসু কামধেনু নন্দিনীকে চুরি করে নিয়ে চলে গেলেন। পরে বশিষ্ঠ আশ্রমে ফিরে দেখলেন কামধেনু নন্দিনী সেখানে নেই। তিনি দিব্যদৃষ্টিতে বসুদেবদের কামধেনু নন্দিনীকে চুরি করার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রচন্ড রেগে গিয়ে অষ্টবসুকে মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণের অভিশাপ দেন। এদিকে অভিশাপের কথা জানতে পেরে অষ্টবসু গিয়ে বশিষ্ঠের কাছে ক্ষমা চাইতে থাকেন। তাতে বশিষ্ঠের রাগ কিছুটা কমলে তিনি অষ্টবসুদের বলেন- "মানুষ হয়ে জন্ম নিলেও তোমরা সকলে এক বৎসর পরে শাপমুক্ত হবে, কিন্তু দ্যু-বসু নিজ কর্মের ফলে দীর্ঘকাল মনুষ্যলোকে বাস করবেন। তিনি ধার্মিক, সর্বশাস্ত্রবিশারদ, পিতার প্রিয়কারী এবং স্ত্রীসম্ভোগত্যাগী হবেন।"


নিজেদের এই অভিশাপের করুন কাহিনী শুনিয়ে এবার অষ্টবুরা দেবী গঙ্গাকে অনুরোধ করলো-  "আমরা মানবীর গর্ভে যেতে চাই না, আপনিই আমাদের পুত্ররূপে প্রসব করুন, প্রতীপের পুত্র শান্তনু আমাদের পিতা হবেন। জন্মের পরেই আপনি আমাদের জলে ফেলে দিবেন, যাতে আমরা শীঘ্র নিষ্কৃতি পাই।"

গঙ্গা অষ্টবসুর অনুরোধে রাজি হলেন, কিন্তু শান্তনুর সঙ্গে তার সংগম যাতে ব্যর্থ না হয় তার জন্য একটি পুত্রকে জীবিতো রাখতে চাইলেন। তাই অষ্টবসুগণ প্রত্যেকে নিজ বীর্যের অষ্টমাংশ দিয়ে একটি পুত্রের জন্ম দিবে এবং সেই পুত্রটি জীবিত থাকবে। এই পুত্র বলবান হবে কিন্তু তার কোনো সন্তান হবে না।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৭

Re: মহাভারতের গপ্পো

রাজা প্রতীপ ও দেবী গঙ্গার আলাপ
একদিন রাজা প্রতীপ গঙ্গার তীরে বসে জপ করেছিলেন এমন সময় গঙ্গাদেবী রূপযৌবনবতী সর্বাঙ্গসুন্দরী নারীরূপ ধারণ করে গঙ্গার জল থেকে উঠে এসে প্রতীপের ডান ঊরুতে বসলেন।
রাজা প্রতীপ বললেন -  "কল্যাণী, তুমি কি চাও?"
গঙ্গা  বললেন -  "আমি দেবকন্যা, অগম্যা নই, আমাকে বিবাহ করুন।"
রাজা প্রতীপ বললেন -  "তুমি আমার বাম ঊরুতে না বসে ডান ঊরুতে বসেছ, যেখানে পুত্র, কন্যা আর পুত্রবধূর স্থান। তুমি আমার পুত্রবধূ হ্ইয়ো।"
গঙ্গা বললেন -  "ঠিক আছে, কিন্তু আমার কোনও কাজে আপনার পুত্র আপত্তি করতে পারবে না।"
রাজা প্রতীপ সম্মত হলেন। তখন গঙ্গা অন্তর্ধান করলেন আর প্রতীপ ও তাঁর পত্নী পুত্রলাভের জন্য তপস্যা করতে লাগলেন। রাজা মহাষিভ তাঁদের পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করল। তাঁর নাম রাখা হল শান্তনু

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৮

Re: মহাভারতের গপ্পো

শান্তনু ও গঙ্গার প্রেম কাহিনী
শান্তনু যখন যুবক হয়ে উঠল তখন তাঁর পিতা প্রতীক তাঁকে জানালেন তাঁর জন্য একটি রূপবতী কন্যা ঠিক করা আছে। সেই রূপবতী কন্যা যখন তার কাছে উপস্থিত হবে তখন তাঁকে গ্রহণ করতে হবে এবং তাঁর সকল কামনা পূরণ করতে হবে। সেই কন্যার কোনো কাজে বাঁধা দেয়া যাবে না এবং তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করা যাবে না। এই কথা জানিয়ে রাজা প্রতীপ তাঁর পুত্র শান্তনুকে রাজ্যের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করে নিজে বনে চলে গেলেন।

একদিন শান্তনু গঙ্গার তীরে এক পরমা সুন্দরী নারীকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না এই পরমা রূপসী নারীটি দেবী-দানবী-অপ্সরা না মানবী! মুগ্ধ শান্তনু তখন সেই নারীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন। তখন গঙ্গা বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হল, তবে শর্ত দিলো যে সে শুভ বা অশুভ যাই করুক না কেনো রাজা কখনোই তার কাজে বাঁধা দিতে পারবে না। যদি কখনো বাঁধা দেয় অথবা  গাল-মন্দ কেরন বা তিরস্কার করেন তাহলে গঙ্গা তাকে তখনই ত্যাগ করবে। রাজা শান্তনু তাতেই রাজি হলেন।

https://i.imgur.com/QcR5CcQ.jpg

স্ত্রী গঙ্গার স্বভাবচরিত্র রূপগুণ ও সেবায় তৃপ্ত শান্তনু সুখেই সংসার করতে লাগলেন। এই সময়ে তাঁর আটটি ফুটফুটে ছেলে হয়েছিলো গঙ্গার গর্ভে। প্রত্যেক ছেলের জন্মের পরেই গঙ্গা সেই ফুটফুটে ছেলেটিকে জলে নিক্ষেপ করে বলতেন, এই তোমার প্রিয়কাজ করলাম। শান্তনু অসন্তুষ্ট হলেও কিছু বলতেন না, কারণি কিছু বললেই গঙ্গা তাঁকে ছেড়ে চলে যাবে।

https://i.imgur.com/HZAN975.jpg

অষ্টম পুত্র প্রসবের পর গঙ্গা হাসছেন দেখে শান্তনু বললেন, একে জলে ফেলে মেরো না। তুমি পুত্রঘাতিনী, তোমার পরিচিয় কি, তুমি কে, কেন এই মহাপাপ করছ?

তখন গঙ্গা বললেন -  "তুমি পুত্র চাও, অতএব এই পুত্রকে হত্যা করব না। কিন্তু তোমার কাছে থাকাও আমার শেষ হলো। এরপর দেবী গঙ্গা নিজের পরিচয় দিলেন এবং অষ্টবসুগণের অভিশাপের বিষয় রাজাকে জানালেন। বললেন অভিশপ্ত বসুগণের অনুরোধে গঙ্গা তাদের প্রসব করে জলে নিক্ষেপ করেছেন। শুধু এই অষ্টম পুত্র দ্যু-বসু দীর্ঘজীবী হয়ে বহুকাল মনুষ্যলোকে বাস করবেন এবং পুনর্বার স্বর্গলোকে যাবেন। এই বলে গঙ্গা নবজাত পুত্রকে নিয়ে চলে গেলেন।

https://i.imgur.com/FFLHJS3.jpg

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৩৯

Re: মহাভারতের গপ্পো

শান্তনু ভগ্নহৃদয়ে দুঃখিত মন নিয়ে তাঁর রাজধানী হস্তিনাপুরে ফিরে এলেন। তিনি সকল আনন্দর উদযাপন বাদ দিয়ে এবং স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করে ধর্মানুসারে রাজ্যশাসন করতে লাগলেন। ছত্রিশ বছর তিনি স্ত্রীসঙ্গ ত্যাগ করে বনে বস করেছিলেন।

একদিন তিনি এটি হরিণের পিছু নিয়ে গঙ্গাতীরে এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে এসে একটি দেবকুমারতুল্য দীর্ঘকায় যুবকের দেখা পেলেন। যুবকের সাথে কথা বলে শান্তনু মুগ্ধ হয়ে গেলেন, এরই মাঝে যুবকটি কোথায় যেনো চলে গেলো। শান্তনু বুঝতে পারলেন এটিই গঙ্গার গর্ভে জন্ম নেয়া তার অষ্টম পুত্র। রাজা শান্তনু তখন গঙ্গকে ডেলে বললেন তাঁর পুত্রকে দেখাতে।

https://i.imgur.com/AdR3FfC.jpg

তখন গঙ্গা সেই পুত্রের হাত ধরে আবির্ভূত হলেন। এবার রাজা শান্তনু তার অষ্টম পুত্র দেবব্রতকে নিয়ে রাজপ্রাসাদে ফিরে গেলেন। দেবব্রতকে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত করলেন। রাজ্যের সকলেই এই গুণবান রাজকুমারকে পছন্দ করলো।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

৪০

Re: মহাভারতের গপ্পো

রাজা শান্তনু ও সত্যবতীর সাক্ষাত

https://i.imgur.com/TgaYT2O.jpg


রাজা শান্তনু একদিন যমুনাতীরবতী বনে বেড়াতে বেড়াতে নাকে তীব্র সুগন্ধ পেলেন। তিনি সেই সুগন্ধের অনুসরণ করে অপরূপযৌবনবতী এক কন্যানে দেখতে পেলেন। মেয়েটির রূপে মুগ্ধ রাজা তাঁর নাম পরিচয় জানতে চাইলেন। তখন মেয়েটি জানালো তার নাম সত্যবতী, সে দাস (ধীবর / জেলে) রাজার কন্যা। পিতার নির্দেশে সে যমুনায় নৌকা চালিয়ে মাছ ধরছে।

https://i.imgur.com/XlgGh4T.jpg

রাজা শান্তনু দাসরাজের কাছে গিয়ে তাঁর কন্যা সত্যবতীকে চাইলেন। কিন্তু দাসরাজ বললেন তাঁর মেয়ে সত্যবতীকে ধর্মপত্নী করতে হবে এবং সত্যবতীর গর্ভজাত পুত্রকেই পরবর্তী রাজা হিসেবে ঘোষণা দিলেই সে কন্যাদান করবে।

https://i.imgur.com/eixGFuo.jpg

শান্তনু এই শর্ত মেনে নিতে পারলেন না, কারণ আগেই তিনি দেবব্রতকে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত করেছেন। তিনি রূপবতী কন্যা সত্যবতীকে ভাবতে ভাবতে রাজধানীতে ফিরে গেলেন। কিন্তু কোনো কাজেই আর তার মন লাগেনা।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।