টপিকঃ কিভাবে উইন্ডোজ ১০ কম্পিউটারে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস এডজাস্ট করবেন

আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব কম্পিউটার স্ক্রিনের ব্রাইটনেস নিয়ে। ব্রাইটনেস ঠিক না থাকলে আপনার চোখের ওপর অযাচিত প্রেশার পড়বে। আর দীর্ঘমেয়াদে এভাবে চলতে থাকলে আপনার চোখে স্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনাকে কম্পিউটার স্ক্রিনের ব্রাইটনেস এডজাস্ট করার ব্যাপারে বিশেষ মনযোগ দিতে হবে। আসুন জেনে নিই কিভাবে উইন্ডোজ ১০ কম্পিউটারে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস এডজাস্ট করবেন।

এই ফ্লোচার্টটি অনুসরণ করে আপনি অতি সহজেই  উইন্ডোজ ১০ কম্পিউটারে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বাড়াতে কমাতে পারেনঃ

স্টার্ট ---- সিস্টেম ----- ডিসপ্লে ---- ব্রাইটনেস এন্ড কালার --- চেঞ্জ ব্রাইটনেস

ব্রাইটনেস এডজাস্ট করার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে উইন্ডোজ সেটিংস অপশনে। মনিটরের বাম পাশে যে উইন্ডোজ (একে স্টার্ট বাটন বলে) লোগোটি আচে তাতে ক্লিক করলে আপনি সেটিংস অপশন দেখতে পাবেন। সেটিংস অপশনে ক্লিক করে আপনি সামনে আগান। এরপর আপনি পাবেন সিস্টেম অপশন। এতে ক্লিক করলে আপনি দেখতে পাবেন ডিসপ্লে অপশন। ডিসপ্লে অপশনে ক্লিক করুন। ডিসপ্লে অপশনে আপনি পেয়ে যবেন ব্রাইটনেস এডজাস্ট করার স্লাইডার।




এখান থেকে খুব সহজেই ডানে বামে স্লাইড করে ব্রাইটনেস এডজাস্ট করতে পারবেন।

এবার ব্রাইটনেস ঠিক না থাকলে কি কি সমস্যা হতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু কথা বলি। ক্রমাগত  টিভি , কম্পিউটার মোবাইল স্ক্রিনের দিকে চেয়ে থাকার কারণে চোখের ক্লান্তি ক্রমশ একটি সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আপনি যদি আপনার চোখ, ঘাড় বা কাঁধে ক্লান্তি অনুভব করেন তবে এটিকে
অবহেলা করবেন না, এখনই সাবধান হন। যদি আপনার স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা খুব কম হয় তবে আপনি জোর করে আপনার চোখকে স্ক্রিনে ফোকাস করতে চেস্টা করবেন। এতে আপনার চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পরবে । এটি দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি না ঘটালেও  মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।

আপনি যদি আপনার স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ৫০ শতাংশেরও বেশি রাখেন তবে এক্ষেত্রেও স্থায়ী ক্ষতি না হলেও অনেক স্বল্পমেয়াদী সমস্যা যেমন চোখের চাপ, চোখের জ্বালা এবং চোখের শুস্কতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আপনার স্ক্রিনের আদর্শ  উজ্জ্বলতা আপনার চারপাশের আলোর
উপর নির্ভর করে। সাধারণ নিয়ম হিসাবে মনে রাখবেন যে আপনার স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আপনার চারপাশের আলোর সমতুল্য হওয়া উচিত। আপনার আশেপাশের উজ্জ্বলতা বেশি হলে আপনি স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বাড়াতে পারেন। আবার আশেপাশে আলো কম হলে বিপরীত কাজটি করা উচিত।

আপনাকে ব্রাইটনেসের সাথে কন্ট্রাস্টের কম্বিনেশনটাও বুঝতে হবে। যেমন ধরুন আপনার চোখের ওপর চাপ কমানোর জন্য যদি ব্রাইটনেস কম রাখতে চান, সেক্ষেত্রে আপনি কন্ট্রাস্ট বাড়িয়ে দিতে পারেন। এতে আপনি ভাল ফল পাবেন।

সবশেষে আপনাদেরকে বলবো একটি মজার নিয়মের কথা। একে বলে ২০-২০-২০ রুল। এই রুল অনুযায়ী ২০ মিনিট মনিটরে কাজ করার পর আপনি ২০ সেকেন্ডের জন্য মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে নেবেন এবং ২০ ফিট দুরের কোন কিচুর দিকে তাকিয়ে থাকবেন। এতে আপনার চোখের ওপর চাপ কমবে।
ভালো মানের মনিটর পছন্দ করা একজন ব্যাবহারকারির  জন্য খুবই জরুরী। বিশেষ করে যারা ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ করেন তাদের জন্য ভালো মনিটর বাছাই করা খুব দরকারি। যদি প্রতিযোগিতামূলক গেমিং করার উদ্দেশ্যে হয়, তাহলেও অবশ্যই  মনিটর বাছাইয়ে মনযোগী হতে হবে। আপনি কোন মনিটর কেনার পূর্বে কয়েকটি মডেল বাছাই করুন। অনলাইনে মনিটরের দাম  যাচাই করতে  monitor price in BD  লিখে সার্চ করুন গুগলে।  তারপর ইন্টারনেট খুজে এদের সব ফিচার দেখে বেছে নিন আপনার পছন্দেরটি। যে কোন কোম্পানির মনিটর  নিতে পারেন  নিশ্চিন্তে, কারন সামান্য কিছু দিক ছাড়া বাকি সব হুবুহু এক। তবে আমাদের বাজারে যেটা সহজলভ্য, সেটা কিনলেই ভাল হবে। তাতে করে যদি কখনো Warranty এর সমস্যাতে পড়েন, তাহলে তা দ্রুত সমাধান করতে পারবেন। আর এখনকার বাজারে LED মনিটরগুলোর চল বেশি। এটি অনেকদিন টিকে, খুবই কম বিদ্যুৎ খরচ করে। তাই LED মনিটর কেনাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

পরিশেষে আজকের লেখাটি পরে আপনাদের কেমন লাগল তা জনাতে ভুলবেন না। আপনাদের মতামত আমাদের ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য অত্যন্ত দরকারি।