টপিকঃ জ্ঞ্যান বৃক্ষ

জ্ঞ্যান বৃক্ষ
গিনি
বিজন পথে গাধার পীঠে চড়ে গুরু চলেছেন দূরে কোথাও, যেখানে জ্ঞ্যান বৃক্ষ ভরা পত্রে শাখা মেলা। তার ডালে ডালে বিচিত্র ফুল আর ফলে ঝাঁপা। সে পথের দিশা নাই। বয়সের ভারে নজ্জু বৃদ্ধ তর্জনী উঁচা করে যে দিক দেখায়ে দিয়াছে গুরু সেই দিকেই গাধা হাঁটায়।
কত গভীর জঙ্গলা, উচু নিচু টিলা , কাদা মাটির এলাকা পার হল হিসাব নাই। এ চলায় প্রতি পদে সংঘাত। প্রতি নিয়ত ঘোর বিপদ থেকে নিজেকে বাচিয়ে নিয়ে চলা। এই নিজকে বাচানোর সদা চেস্তা এক বিশাল জ্ঞ্যান আর চিন্তার ফল।
গুরু এসে দারান এক সচ্ছ ডোবার পারে। জলে তার আর গাধার ছবি ভেসে উঠে। গুরু চমকে উঠেন। এ জ্ঞ্যান তপস্যায় তবে তার সমস্ত জীবন চোখের পলকের মত গত হয়েছে। সাদা চুল, সাদা দাঁড়ি। চোখের কোনায়, গলায় চামড়ায় ভাজ।গাধা টা কেমন যেন শীর্ণ। চলার সময় পা বাকায়ে যায়।
কৈ সে জ্ঞ্যান বৃক্ষ!
তবে এই যে জীবন ভর এতো দিন রাত্রির, ঝর তুফানের আনা গোনা। হাঁটে ঘাতে এতো জনের সাথে আলাপ, সরাই খানার বৃদ্ধদের সাথে গল্প শোনা, মন্দিরের পূজারীর ঈশ্বরের খোজে মন্দিরায় ঠন ঠন, এ সবি কি সেই জ্ঞ্যান বৃক্ষের শাখা প্রশাখা, ফল, ফুল রস?