টপিকঃ ডুমুরের ফুল

ডুমুরের ফুল
গিনি
রমেশ কবে যে ঘর ছাড়িয়াছে তাহার নিজেরই অজানা। তখন সে খুব ছোটো। তাহার সে পুরানো দিনের সকল কিছু হারাইলেও তার মা এর দেওয়া মাটির আধ খান গোলটা গলায় ঝোলানো থাকে।
সুধারানী প্রায় ৫০ উরদ্ধ নারী, দেখে দাওয়ার সামনে এক জটাধারী, শশ্রু মণ্ডিত, শুধু এক পেচা চাদর গায়ে ভিখারি।
ভিখারি বলে," নারী, একটু পানের জল দাও।"
সুধারানী মাটির ঘড়ায় জল আনিয়া সামনে রাখে।
ভিখারি বলে," পরের সম্পদে আমাদের ছোঁয়া মানা। তুমি ঢাল। আমি হাতের তালুতে পান করবো"।
জল পানের সময় সুধারানী সেই মাটির গোলটা দেখিতে পায়। বাকি অর্ধেক ত তাহার নিজের গলায়। তবে এই কি তাহার ঘর ছাড়া ভ্রাতা!
সুধারানী বলে, " তোমার নাম কি?"
ভিখারি," আমাদের নাম হয় না। শুধুই মানুষ। গুরু বলেছেন নাম দিয়েই ভেদা ভেদি শুরু। আমারা তা মানিনা"।
শুধারানী ,"তোমার জন্ম কোন দেশে? কোন গ্রামে?"
ভিখারি," জন্ম ত মানবতায়, ক্ষুদায়। সেখানে দেশ নেই, গ্রাম নেই। ইহ লোক, ইহ কাল এই ঠিকানা। জলে ভর করে এসাছি, মাটির উত্তাপে বাস্প হয়ে ভেসে যাব। তাই জল মাতা, আর বাস্প বাহক।"
সুধারানী এমন আশ্চর্য মানুষকে বসানোর জন্য অন্দরে হইতে দৌড়াইয়া মাদুর আনিয়া দেখে কেহ নাই। এক খানা দমকা হাওয়া তাহার কর্ণের পার্শ্ব দিয়া হু হু করিয়া উড়িয়া যায়।