টপিকঃ রোবোটায়ন

প্রথম কোপটা পড়েছিল আমার ডান
হাতে।এ কারনেই বোধ হয় চোখ খুলতেই
ডান হাতটা ভয়াবহ যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠল।
এতে অবশ্য কিছুটা খুশি হলাম এই ভেবে
যে অন্তত ডান হাতটা স্নায়ুতন্ত্রেরর
সাথে এখনও সম্পর্ক বজায় রেখেছে।বাম
হাতটা তো মনে হয় ইতিমধ্যেই
ইহকালের মায়া ত্যাগ করে ফেলেছে।
একজন রোবোট বিজ্ঞানী হিসেবে
কি আমি খুব বেশি বাড়াবাড়ি করে
ফেলেছিলাম!যিনি সৃষ্টি করেন তার
সৃষ্টির জন্য তিনিই তো ঈশ্বর।তাহলে
'রোবোটেশ্বর' শব্দের প্রবর্তনা আমার
এমন কাল এর কারণ কেন হলো।নাকি
অনুভূতি সম্পন্ন রোাবট তৈরি ক্ষেত্রে
আমার চূড়ান্ত সাফল্যের দাড় প্রান্তে
থাকার ঘোষণাটি আজ আমার এ
হালের জন্য দায়ী!আর ভবিষ্যতে জীবন
সঙ্গী হিসেবে রোবোটকে বেছে
নেয়ার কথাতো বলেছিলাম নিতান্তই
বাসি রসিকতার অংশ হিসেবে।তবে
এই রসিকতাই বোধ হয় আমাকে নাস্তিক
উপাধি দিতে মানব ঈশ্বর প্রেমান্ধদের
উৎসাহিত করেছিল। কত বড় সাহস!
মানুষকে ঈশ্বরের সাথে তুলনা!
আমার পাশের বেডে শুয়ে আছে নারী
দেহে পুরুষালি চেহারার একজন মানুষ।
ভাগ্যিস রামদার আঘাত আমার চোখ ও
মস্তিষ্ককে স্পর্শ করে নি।তাই তাকে
চিনতে আমার বেগ পেতে হচ্ছে না।
ঝকঝকে দুপুরে মাত্র দু'জন কম বয়সী
ছেলের আঘাত আমাকে সাধারণ
পথযাত্রী থেকে মৃত্যু পথযাত্রীতে
রূপান্তরিত করছিল।ঈশ্বর প্রেমে তারা
তখন মগ্ন। সদ্য জুম্মা পড়ে আসা আমার
মাথার টুপি আর কাধের জায়নামাজও
তাদের ঈশ্বর প্রেমে ছেদ ঘটাতে
পারে নি,গগনবিদারী আর্তনাদ করেও
আমি খুলতে পারি নি চারপাশের
অজস্র ঈশ্বরসৃষ্ট রোবোটদের বিবেকের
দরজাও।কি অদ্ভূত ধৈর্য সহকারে
একেকটা রোবট দেখছিল আমার মৃত্যুদণ্ড।
তারপরও তিনজন রোবোট হঠাৎ তাদের
রোবটত্ব হারিয়ে আমাকে বাঁচাতে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।ঝাপসা দৃষ্টিতে
দেখছিলাম তৃতীয় লিঙ্গের মনুষত্ববাহী
রোবোট গুলোর লড়াই।হ্যাঁ,এদের আমি
চিনি।এরাই আমার কাছে সাহায্যের
জন্য টাকা চাইত।বেশি না,দু/দশ টাকা।
কিন্তু রোবোটত্ব সৃষ্টকারী প্রধান
চার্জার 'টাকা'র প্রভাবে সাধারণ
সমাজের অধিবাসী হিসেবে হয়ত
আমিও ওদের কখনও ভাবি নি।ঐ
চার্জারের অভাবেই হয়ত ওরা সমাজচ্যুত
অভদ্র গোষ্ঠী।সমাজের দশজন যা করবে
তা ওরা অস্বীকার করবে সেটাই তো
স্বাভাবিক।
অামি ঠিক করেছি রোবট সংক্রান্ত
গবেষণা আর করব না।না; শত্রু ভয়ে নয়।
পৃথিবীতে রোবোট তৈরির আর
প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।
এই অদ্ভুত জায়গায় রোবোটত্ব চার্জার
গুলো খুব সফলভাবেই রোবোটায়ন
ঘটাচ্ছে।মস্তিষ্ক গুলো হয়ে উঠছে
একেকটি নির্লিপ্ত কপোট্রন।এর সাথে
পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।

লিমু

Re: রোবোটায়ন

এতেই শেষ neutral! আর নেই??
ভালোই লাগল অবশ্য smile

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।

Re: রোবোটায়ন

ভবিষ্যতে অারও ভালো কিছু লেখার প্রচেষ্টা থাকবে;মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

লিমু

Re: রোবোটায়ন

Leemon লিখেছেন:

ভবিষ্যতে অারও ভালো কিছু লেখার প্রচেষ্টা থাকবে;মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

অবশ্যই।আমরাও চাই ভালো লিখুন smile

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।