টপিকঃ দারুল ইসলাম এবং হারব নিয়ে প্রাচীন তিন ফতোয়া

****দারুল ইসলাম এবং হারব নিয়ে প্রাচীন তিন ফতোয়া




মক্কা শরীফের মুফতীগণের ফতোয়া
(তিনটি মুসলমান মযহাবের প্রধানগণ) সওয়াল:
(আপনাদের মহিমা অনন্ত হোক) এই সওয়ালের আপনাদের জওয়াব কি: হিন্দুস্তান দেশটার শাসকরা খ্ৰীষ্টান, তারা ইসলামের সব বিধানের উপর, যেমন প্রাত্যহিক নিয়ম মুতাবেক নামায, দুই ঈদের নামায প্রভৃতিতে হস্তক্ষেপ করে না; আবার কোনো কোনো বিধান লঙঘনের অনুমতিও দেয়, যেমন, কেউ পূর্বপুরুষের ধর্মত্যাগ করে খ্ৰীষ্টান হলেও তার পূর্বপুরুষ মুসলমানের ওয়ারীশ হয়; এরকম দেশ দারুল-ইসলাম কি না? সওয়ালের জওয়াব দিন। আল্লাহ আপনাদের পুরস্কৃত করবেন।
০০এক নম্বর জওয়াব:
সব প্রশংসাই সর্বশক্তিমানের, তিনি সকল সৃষ্টির প্রভু। হে সৰ্বশক্তিমান! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো। − যতদিন সেখানে ইসলামের কোনও বিশিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে, ততদিন সেটা দারুল-ইসলাম । আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, মহাপবিত্র ও মহামহিমময়।
এই ফতোয়া দিচ্ছে একজন, যে আল্লার গুপ্ত অনুগ্রহের ভিখারী, আল্লার প্ৰশংসাবাদী এবং তাঁর রসুলের উপর অনন্ত শান্তি ও আশীষ প্রার্থনাকারী।
(স্বাক্ষর)
জামাল ইবনে আবদুল্লাহ শেখ ওমারুল হানাফী';
মক্কাশরীফের বর্তমান মুফতী ।
আল্লাহ্ তাঁর উপর ও তাঁর পিতার উপর কৃপা করুন।
০০০দুই নম্বর জওয়াব:
সব প্রশংসাই আল্লার, তিনি অদ্বিতীয়। আল্লার আশীষরাজি আমাদের রাসুলের উপর, তাঁর বংশধরদের ও সাহাবাদের উপর এবং সব মুসলমানের উপর বর্ষিত হোক । হে আল্লাহ! সৎপথে তোমার দিশা প্রার্থনা করি! হাঁ! যতদিন সেখানে ইসলামের কোনও আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে, ততদিন সেটা দারুল-ইসলাম ।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ, মহাপবিত্র ও মহামহিমময়। এর লেখক করুণাময় আল্লার নিকট মুক্তির ভিখারী। আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে, শিক্ষকগণকে, ভাই-বেরােদরকে, বন্ধুবান্ধবকে ও সকল মুসলমানকে মাফ করতেন ।
(স্বাক্ষর)
আহমদ ইবনে যায়নী দহলান;
মক্কাশরীফের শাফেয়ী মযহাবের মুফতী ।
০০০তিন নম্বর জওয়াব:
সব প্রশংসাই আল্লার জন্য, তিনি অদ্বিতীয়! হে সর্বশক্তিমান! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো। দাসোকীয় তফসীরে লেখা আছে যে, দারুল-ইসলাম কফিরের হাতে চলে যাওয়ার সংগে সংগেই দারুল-হরাব হয়ে যায় না; তা হয় যখন সব কিংবা অধিকাংশ ইসলামের বিধিবিধান সেখানে রদ হয়ে যায়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ। আল্লার আশীষ রাশি আমাদের নায়ক হযরত মুহম্মদ, তাঁর বংশধরদের ও সাহাবাদের উপর বর্ষিত হোক ।
(স্বাক্ষর)
হোসাইন ইবনে ইবরাহিম;
মক্কাশরীফের মালোকী মযহাবের মুফতী ।
০০০দ্বিতীয় পরিশিষ্ট
উত্তর ভারতের আলেম সমাজের ফতোয়া
সৈয়দ আমীর হোসেন, ভাগলপুর বিভাগের কমিশনার সাহেবের খাস মুনশী কর্তৃক ‘ইসতিফতা” বা সওয়ালের তরজমা:
ওলামায়ে দ্বান! ইসলামের আইনের ব্যাখ্যাকর্তাগণ! নিচের সওয়ালের আপনাদের কি ফতোয়: হিন্দুস্তানে জিহাদ কি আইনসংগত? এ দেশটা আগে মুসলমানদের শাসনে ছিল, কিন্তু এখন খ্ৰীষ্টান সরকারের ক্ষমতাধীনে এসেছে। কিন্তু খ্ৰীস্টান শাসন মুসলমান প্রজাদের ধর্মীয়বিধি-বিধানে কোনোরকম হস্তক্ষেপ করে না; যেমন, নামায, রোযা, হজ, যাকাত, জুমার নামায ও জামাতে বাধা দেয় না; বরং তাদেরকে এসব পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ও আশ্রয় দেয়, ঠিক যেমন একজন মুসলমান শাসকও দিয়ে থাকে; সেখানে মুসলমানদের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার কোনও শক্তি নেই; অন্যপক্ষে যদিও তারা এরকম যুদ্ধ করে, তাহলে তাদেরই পরাজিত হওয়ার এবং তার ফলে ইসলামেরও অযথা অপমানিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা উপযুক্ত নয়ীর দিয়ে জওয়াব দান করে সরফরাজ  করুন। ফতোয়ার তারিখ ১৭ই রবিউস-সানী,১২৮৭ হিজরী, মুতাবেক ১৭ই জুলাই, ১৮৭০ খ্ৰীস্টাব্দে।





০০উত্তরঃ
মুসলমানরা এখানে খ্ৰীষ্টানদের নিকট আশ্রয় পেয়ে আসছে; আর যে দেশে আমান থাকে, সে দেশে জিহাদ থাকে না; কারণ জিহাদের সবচেয়ে দরকারী শর্ত হলো, মুসলমান ও কাফেরদের মধ্যে আমান অর্থাৎ আযাদী থাকবে না। এ শর্ত এখানে নেই। তাছাড়া আরও শর্ত এই যে, মুসলমানদের জয়ে ইসলামের মহিমা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকা উচিত। যদি সেরূপ কোনো সম্ভাবনা না থাকে তাহলে জিহাদ হয় বে আইনী ।
অতঃপর মওলবী সাহেবান ফতোয়ার পোশকতায় মানহায-উল-গাফফার ও ফতোয়া-ই-আলমগীরী থেকে মূল বচন উদ্ধৃত করেছেন।
>>মোহর চিহ্নিত করা
মওলবী আলী মোহাম্মদ লখনবী
মওলবী আবদুল হাই লখনবী
মওলবী ফযলুল্লাহ লখনবী
মওলবী মোহাম্মদ নয়ীম লখনবী
মওলবী রাহমাতউল্লাহ লখনবী
মওলবী কুতব-উদ-দীন দেহলবী
মওলবী লুতফুল্লাহ রামপুরী
এবং আরও অনেকে ।

তৃতীয় পরিশিষ্ট
০০কলকাতা মোহামেডান সোসাইটির ফতোয়া
উত্তর-ভারতের আলেম-সমাজের ফতোয়ার বিরুদ্ধে মওলবী কেরামত আলী ঘোষণা করেন, ভারত দারুল-ইসলাম। অতঃপর তিনি বলেন: “দ্বিতীয় সওয়াল হলো এ দেশে জিহাদ করা জায়েয বা আইন সংগত কিনা । এর জওয়াব প্রথম সওয়ালেই দেওয়া হয়ে গেছে। কারণ, দারুল ইসলামের জিহাদ করা কখনও আইনসংগত হতে পারে না। এই উক্তি এতোই পরিচ্ছন্ন যে, এর পোষকতায় কোনাে যুক্তি বা নষীরের দরকার করে না। এখন যদিও কোনাে বিপথগামী দুৰ্বত্ত ভাগ্যের ফেরে এদেশের শাসক-গোষ্ঠির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাহলে সে যুদ্ধকে বিদ্রোহ বলে ঘোষণা করা আইনসংগত হবে, আর বিদ্রোহ শরীয়তে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। অতএব এরকম যুদ্ধ হবে বে-আইনী। আর কেউ যদি এরকম বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তাহলে মুসলমান প্রজাদের কর্তব্য হবে শাসকদেরকে সাহায্য করা এবং শাসকদের সহযোগিতায় বিদোর্থীদের সঙ্গে যুদ্ধ করা। ফতোয়া-ই-আলমগীরীতে ঠিক এভাবে সু স্পষ্ট বলা হয়েছে।
......এই বিষয়ে আরো পড়তে-----
দারুল ইসলাম ও দারুল হরব কাকে বলে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হুকুম কি?

http://www.somewhereinblog.net/blog/fay … w/29900982


#প্রশ্ন - দারুল হরব কাকে বলে? বাংলাদেশ কি দারুল হারব?
https://web.facebook.com/PleaseGivePeac … 1&_rdr
হিন্দুস্থান কি ‘দারুল ইসলাম’, না ‘দারুল হারব’?

https://mishukifti.wordpress.com/2014/1 … দারুল-ইসল/
দারুল ইসলাম এবং দারুল হারব
https://alihasanosama.com/islamic-political-science-1/

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ