টপিকঃ দুঃস্বপ্ন অথবা একটি ভূতুরে রাত

আমােদর জীবনটা অদ্ভুত।কখন যে জীবন নতুন মোড় নেয়,বলা মুশকিল।এই পৃথিবীর বহু জিনিস আমােদর অজানা।আমরা সেসব জানিও না,আগ্রহও করি না।অনেকে ব্যতিক্রমী। তারা হয়ত এসব নিয়ে ভাবে,চিন্তা করে।তবে,আমার মতো সাধারণ মানুষ,এসব এড়িয়েই চলে পারতপক্ষে। হুট করে কিছু ঘটে গেলে,আমার মত সাধারণ লোকে বলবে,"অদ্ভুত তো"। এমনি এক অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটেছে আমার সাথে।অনেকটা গল্প শোনালেও,এটা গল্প না,আমার জীবনে ঘটে যাওয়া প্রথম ভূতুরে ঘটনা।আমি এমন ভয় কখনও পাইনি।সময়টা তখন না শীত না গরম।ফ্যান ছেড়ে কাথাঁ গায়ে দিয়ে ঘুমোই।রাজশাহী শহরের এক বিশাল বাসায় থাকি তখন আমি ও আমার পরিবার।বাসাটায় ৪ টা বেড রুম ও ২ টা বিশাল বারান্দা। বেশ সুন্দর।আর পাশেই বিশাল এক পুকুর।আমার রুম থেকে পুকুর দেখা যায়।অনেকে বলে বাসা টা ভালো না,তবে আমরা কেউ তেমন কিছু দেখিনি তাই পাত্তাও দেয়নি।তো,এক রাতে আমি ১১ টায় শুয়ে পড়ি।সামনে এস এস সির টেস্ট।ভোরে উঠে পড়াশুনা করি,  তাই তাড়াতাড়ি ঘুমতে যাই।আমি সাধারণত সোজা  হয়ে,লম্বাভাবে শুই।ওই দিন কেন জানি কাত করে শুই এবং ঘুমিয়ে যাই।আমি প্রতিদিন দোয়া পড়ে ঘুমাই,ওই দিন কোন কারণে পড়া হয়নি।যাই হোক,কিছুক্ষণ পর আমি যখন আধোঘুমে তখন কাত হয়ে শোয়া থেকে সোজা হয়ে শুই এবং আমার চোখ পড়ে আমার সামনে,দেয়াল বরাবর। আমি দেখি আমার সামনে,ঠিক পায়ের কাছে একটা মেয়ে বসা,বয়স আনুমানিক ২০-২২ বছর।সে প্রচন্ড রকমের কালো এবং তার চুল বিশাল লম্বা।সে আসিম হয়ে বসে ছিলো, তার চুল বসা অবস্থায় মাজা ছেড়ে বিছানায় ছিলো।তার চোখ ছিলো লাল এবং কপালে মস্ত এক লাল টিপ।এসব কিছু আমি স্পস্ট দেখতো পাছিলাম কারণ,ডাইনিং এ র আলো ঘরে আসছিলো, কোন পর্দা ছিলো না যে ঘর টা আলো আধারি হবে।আমি প্রচন্ড ভয় পাই,আর তখন শুনতে পাই যে মেয়েটা হাসছে। আর বলছে,"আমার সাথে আসো।আসো না।"আমি বলছি -"না,না।" আর সে আমার কথা শুনে হাসছে।আমি তখনিই ডান কাত হই এবং আয়তুল কুরসি পড়তে লাগি,কিন্তু পড়তে পারছিলাম না।হঠাৎ মনে হলো আমার পা ধরে টানা হচ্ছে।আমি চিৎকার করতে চাচ্ছি,পারছি না।ডাইনিং এ বসে বাবা কম্পিউটার এ টাইপ করছে,মাথার ওপর ফ্যান চলছে।আমি সব শুনে পাচ্ছি,কিন্তু বলতে পারছি না।আমার মনে হলো আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না।আমি চিৎকার করছি,আর মেয়েটা হাসছে।আমি বালিশ আকড়ে ধরে আছি আর দোয়া পড়ছি,কিন্তু মাঝে এসে আটকে যাচ্ছে।কতক্ষন এমন হলো জানি না,তবে আমি আয়তুল কুরসি সম্পূর্ণ পরার পর আমার মনে হলো সব যেন চুপ।ধীরে ধীরে আবার সব স্বাভাবিক হলো।আমি নিশ্বাস নিতে পারছি স্বাভাবিকভাবে। আমি বাবা বাবা বললাম।তাও খুব ধীের।দেখলাম আমি কথা বলতে পারছি।কিন্তু আমার হঠাৎ এমন ঘুম পেলো যে আমি আর বাবাকে ডাকতে পারলাম না।ঘুমিয়ে পড়লাম।ঘুম ভাঙ্গল ফজরের আজানে।আমি উঠে দেখি সব ঠিক।যেন কিছুই যেন হয়নি।

সকালে উঠে আমি মাকে পুরো ঘটনাটা বলি।মা বলল,আমি দুঃস্বপ্ন দেখেছি।সেটা কি আসলে কোন দুঃস্বপ্ন ছিলো, না সত্যিই কেউ এসেছিলো,আমি এখনও জানি না।হয়ত এটা আমার দুঃস্বপ্ন নতুবা কোন ভয়ানক অভিজ্ঞতা,যেটা আধোঘুমে শেষ হয়ে গেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।

Re: দুঃস্বপ্ন অথবা একটি ভূতুরে রাত

ভাল লাগলো আপনার অভিজ্ঞতা পড়ে। রাজশাহীতে কোথায় থাকেন?

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: দুঃস্বপ্ন অথবা একটি ভূতুরে রাত

আরণ্যক লিখেছেন:

ভাল লাগলো আপনার অভিজ্ঞতা পড়ে। রাজশাহীতে কোথায় থাকেন?

জ্বী ধন্যবাদ।আগে থাকতাম।জন্ম,শৈশব ওখানে। বছর তিন হলো  ঢাকায় থাকি।আর রাজশাহীতে থাকতাম বহররমপুর এ।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।