টপিকঃ বিশ্বনবীর (সা)-এর কতিপয় বিখ্যাত জীবনী লেখক

বিশ্বনবীর (সা)-এর কতিপয় বিখ্যাত জীবনী লেখক

১। আবান ইবন ওসমান (রা) ইবন আফফানঃ
তিনি হিজরি ২০ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তার লিখিত গ্রন্থ ‘মগাজি উর রসুল’ । তিনি তাঁর পিতৃহন্তাগণের বিরুদ্ধে হযরত যুবাইর ও তালহা (রা)-এর পক্ষে যুদ্ধে যোগদান করেন। হিজরি ১০০ সনে (মতান্তরে ১০৪ বা ১০৫) তাঁর মৃত্যু হয় । হযরত আয়েশা (রা)-এর নিকট শুনে তিনি “মগাজি লিখেন ।
২। উরওয়া ইবনুল যোবাইর (রা) ইবনুল আওয়ামঃ
তিনি ২৩ হিজরিতে জন্ম গ্ৰহণ করেন। তার মাতা আসমার (রা) পিতা। হযরত আবু বকর (রা) । উরওয়া ও আবদুলাহ (রা) সহাদোর ভ্রাতা উভয়ে তাদের খালা হযরত আয়েশা (রা)-এর নিকট লালিত পালিত হন। নিতান্ত শিশু অবস্থায় আবদুল্লাহকে গ্ৰহণ করে হযরত আয়েশা (রা) ইতিহাসে ‘উম্মে আবদুল্লাহ' নামে পরিচিত হন। আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর হেজাজ ও মিসরের খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন । উরওয়া লিখিত ‘মগায়ী” খানিই সুপ্ৰসিদ্ধ। এর লেখককে ইতিহাসের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় । উমাইয়া বংশীয় খলিফা আবদুল মালেক, হযরত রসুলুল্লাহের জীবন চরিত্র বিষয়ক তথ্য জানতে চাইলে উড়য় তার খালার সাহায্যে গ্ৰন্থখানি প্রণয়ন করেন । ৯৪ হিজরিতে (৭১২-১৩ খৃ.) তাঁর মৃত্যু হয়)।
৩। সুরাহবিল ইবন সাদ: 
তিনি একজন মুক্তদাস ছিলেন, দক্ষিণ আরবের অধিবাসী; বন্দর ও ওহুদের জিহাদে লিপ্ত উভয় দলের নামের তালিকা তিনি প্রণয়ন করেন। তিনি আলী (রা)-এর বিশেষ অনুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। শতবর্ষকাল জীবিত থেকে হিজরি ১২৩ সনে ইন্তেকাল করেন ।
৪ । ওয়াহাব ইবন মুনাববিহঃ
হিজরি ৩৪ সনে তার জন্ম হয়, ইরানী হলেও তিনি ইয়েমেনে বাস করতেন। তাঁর পিতা সম্ভবত: ইহুদী ছিলেন। ওয়াহাব হিব্রু, খৃষ্টান ও ইসলামী মতবাদের একজন সুপণ্ডিত ছিলেন । তার লেখা কিতাবুল মুবতাদা” নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বলে গণ্য হয় । আল্লামা আবুল ফজল, “আইন-ই আকবরিতে’ লিখেছেন ওহাব বিন মুন্নাববোহ ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন । তাদেরকে 'আবনা' বলা হত । কারণ উহারা পারসিক সৈনিকগণের বংশধর । তিনি বর্ণনা ও জনশ্রুতি চালনাকারী বলে কুখ্যাতি অর্জন করে গেছেন। তার নিকট শুনে অনেকে পারস্য, গ্রীক ইমেন এবং মিসরের পুরাকালের ইতিবৃত্ত লিখে ঐতিহাসিক বলে প্রসিদ্ধ হয়েছেন। তিনি দাম্ভিক ও মিথ্যাবাদী বলে পরিচিত। মুসলিম সমালোচকরা পরবর্তীকালে তাকে মিথু্যক ও নির্লজ্জ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর অবশ্য এইরূপ উক্তি সম্ভবপর হয়েছে। ইবন খাল্লিকানের বর্ণনায় তা লিপিবদ্ধ হয়েছে দেখা যায় । তিনি ইয়েমেনের রাজধানী সানায় মুহররম মাসে ১১০ হিজরিতে (৭২৮ খৃ. এপ্রিল বা মে) মাসে মারা যান অন্যেরা বলেন যে, ১১৪/১৬ হিজরিতে মৃত্যুমুখে পতিত হন।
৫ । আসিমা ইবন আমার (মতান্তরে উমর) ইবন মুকতাদা আল আনসারীঃ
রসুলুল্লাহ (সা)-এর যুদ্ধকালীন বিবরণীসমূহ লিখিত ও মৌখিকভাবে বর্ণনা করতেন। তিনি এ বিষয়ে বক্তৃতা দিবার জন্য দামেস্কে গিয়েছিলেন। যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈনিকগণের আচরণ সম্বন্ধে পরিষ্কার ও যথাযথভাবে উল্লেখ করতেন। বাসস্থান মদিনায় ফিরে এসে বক্তৃতা দিলে ইবন ইসহাকসহ বহু গুণী ব্যক্তি তথায় উপস্থিত হতেন । তার বক্তৃতার বিশেষত্ব এই যে, তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত কদাচিৎ এবং হাদিসের অতি অল্প উল্লেখ করতেন। ভাষণে তিনি নিজ অভিমত দান করতেন । ১২০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
৬। মুহাম্মদ ইবন মুসলিম ইবন শিহাব আজ-জুহরীঃ
মক্কার বিখ্যাত কোরেশ বংশের অন্যতম শাখা জুহরী কুলোদ্ভব। আজ জুহরী একজন সর্বজন-মান্য ব্যক্তি এবং সুপ্ৰসিদ্ধ হাদীসবেত্তা। তিনি হিজরি ৫১ সনে জন্ম গ্ৰহণ করেন। উমাইয়া খলিফা আবদুল মালেক, হিসাম ও দ্বিতীয় ইয়াজিদের দরবারে যাতায়াত করতেন, তাকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হতো । তিনি নিজ বংশের একখানি ইতিহাস রচনা করেন। এবং একখানি মাগায়ী গ্রন্থ লিখে রেখে গেছেন। তিনি যখন বক্তৃতা দিতেন, উপস্থিত জনমন্ডলীর অনেকেই হাদিসগুলো লিখে নিতেন । তিনি মদিনায় অনেকদিন বাস করেছিলেন। তখন ইবন ইসহাকের সাথে তার সাক্ষাৎকার ঘটে । ইবন ইসহাক তার গ্রন্থে আজ-জুহরীর নাম উল্লেখ করেছেন। আজ-জুহরীর বর্ণনা ও হাদিসের ব্যাখ্যা সকলের গ্রহণীয়, তিনি একজন প্রভাবশালী রাবী ছিলেন। তিনি ১২৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন । ৭। আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাজমঃ
তিনি মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের প্রায় প্রধান অবলম্বন । খলিফা উমর ইবন আবদুল আজিজ আবদুল্লাহর পিতা আবু বকরকে রসূলুল্লাহ (সা)-এর হাদীসগুলো লিখতে বলেছিলেন, বিশেষ করে আমরা বিন্তে আবদুর রহমানের নিকট যেগুলো তিনি শুনেছেন । কারণ আয়েশার (রা) ভ্রাতুষ্পপুত্রী, আমরা বিন্তে আবদুর রহমান এবং আবু বকর ছিলেন বিবি আমরার ভ্রাতুষ্পত্র। আবু বকরের লিখিত পুস্তক আব্দুল্লাহর সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। তদীয় ভ্রাতুষ্পপুত্র আবদুল মালেক রচিত ‘মগায়ী’তে এর উল্লেখ আছে। তাবারী বলেছেন যে, আবদুল্লাহ তাঁর স্ত্রী ফাতেমাকে বলেছিলেন যে, ইবন ইসহাককে বলে যে, আমি আমরার প্রদত্ত প্রামান্য বিষয় জানি, তিনি হিজরী ১৩৫ সনে (মতান্তরে ১৩০ বা ১৩৫ সনে) ইন্তিকাল করেন।
৮। আবুল আসওয়াদ মুহাম্মদ ইবস আবদুর রহমান ইবন নওফলঃ
তিনি তার লিখিত ‘মগাষী খানি উরওয়া ইবনুন্য যোবাইরের (রা:) হাদীসগুলোর উপর নির্ভর করেই লিখেছেন । উপরোল্লিখিত লেখকগণের লিখিত পুস্তকগুলি বর্তমান নাই । তবে পরবর্তীকালের ঐতিহাসিকগণ তাদের পুস্তকের যথার্থতা প্রমাণের নিমিত্ত ওদের উক্তি পুনঃ পুনঃ উল্লেখ করে অর্থাৎ বরাৎ দিয়ে নিজেদের গ্রন্থসমূহ লিখেছেন, তারা হচ্ছেন যথাক্ৰমেঃ
(ক) মুসা ইবন উকবাঃ ইনি যে, মগাষী খানি প্রণয়ন করেন, তার কিছু অংশ পাওয়া গেছে, এবং অনুবাদ হয়েছে বলে প্রকাশ। ইনি হিজরী ৫৫ সনে জন্মগ্রহণ করেন। আজ-জুহরী ও ইবন আব্বাসের উক্তি অবলম্বনে গ্ৰন্থখানি লিখিত, ফলে তা অধিকতর নির্ভরযোগ্য এবং ইমাম মালিক বিন আনাস, আহমদ বিন হামবল এবং আশা-সাফী এই মগায়ীখানির সমর্থক ছিলেন ।
এ৩ি২|সিক আল-ওয়াকিদী, আল-বালাজুরী, ইবন সাদা ও ইবনে সাইয়াদুন শমের গ্রন্থগুলো, মুসা বিন উকবার উল্লেখ করেই লিখিত হয়েছে। এই মগাষী খানিকে ভিত্তি করেই অধিকাংশ ইতিহাস রচিত। আত তাবারীকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করতে হলেও তিনি ইবন ইসহাক ও ইবন উকবার অনুসারী, স্বীকার করতে ৩য় । ১৪১ হিজরী (৭৫৮/৫৯ খৃ) তাঁর মৃত্যু হয়
(খ) মুয়ামামার ইবন রশীদঃ তার লিখিত কোন পুস্তকের নামের উল্লেখ না থাকলেও তিনি অন্যান্য গ্রন্থের লেখকদের নিকট ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত দেখা যায় । তিনি হিজরী ১৫০ সনে মারা যান।
(গ) মুহাম্মদ ইবন ইয়াসারঃ তিনি হিজরী ৮৫ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। ইসলামের ইতিহাসের পূর্ববতী লেখকগণের গ্রন্থগুলো যথাযথভাবে না পাওয়া গেলেও কেবল পরবর্তী লেখকগণের মাধ্যমে আমরা সেগুলোর সন্ধান পেয়ে থাকি। কিন্তু মুহাম্মদ বিন ইসহাকের লিখিত গ্ৰন্থখানির সম্পূর্ণ অংশই বিদ্যমান, দেখা যায় তিনি তার “সীরাতে’র যে যে স্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন, তালিকায় ১৫ জনের নাম পাওয়া গেছে এবং সেই স্থানের উল্লেখও দেওয়া হয়েছে। তার লিখিত গ্ৰন্থখানিতে হযরত রসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবনী যেরূপ বিশদভাবে লেখা হয়েছে অন্য কোন ইতিহাস সেরূপ পূর্ণাঙ্গ তথ্য পরিবেশন করতে সক্ষম হয়নি। গ্ৰন্থখানির প্রথমভাগে মানব জাতির সৃষ্টি কাল হতে হযরত ঈসার আবির্ভাব পর্যন্ত, দ্বিতীয়ভাগে ওহাব বিন মুনবাবিহের ‘কিসাসুল আম্বিয়া’ বা কিতাব আলমূবতাদা বা মাবদা এবং ‘আর ইসরাইলীয়াত' হতে ইহুদী ও খৃষ্টানদের বিবরণী, প্রাচীন আরবদের ইতিবৃত্ত ও ধর্ম সংক্রান্ত তথ্য, মরুভূমির আরবদের উপাখ্যানিক জ্ঞান, ইসলাম-পূর্ব যুগের ধর্ম বিষয়ক বিবরণ, রসূলুল্লাহ (সা)-এর পূর্ব পুরুষদের পরিচয় এবং মক্কার প্রাচীন ধর্ম ইত্যাদি, তৃতীয় অংশে তাঁর হিজরতকাল হতে সমুদয় অভিযান, আনসার ও মুহাজিরীনদিগের সম্পর্কের পরিপূর্ণ আভাস প্রভৃতি, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও আব্দুল্লাহ ইবন আবু বকরের উক্তিসমূহের প্রদত্ত বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। এছাড়া বহু বর্ণনাকারীর নিকট হতে জেনে গ্ৰন্থখানি সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে গেছেন । আইন-ই-আকবরীতে আবুল ফজল লিখেছেন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক, “আল-মাগায়ী আস-সিয়ারে” নামক গ্রন্থে সুবিখ্যাত লেখক, তিনি মদীনার অধিবাসী ছিলেন এবং উচ্চশ্রেণীর ইতিহাসবেত্তা, ইমাম বুখারী ও আশ-শাফী তাকে প্রধানতঃ মুসলিম বিজয় লাভ সম্পর্কে প্রথম বিধি সঙ্গত সাক্ষী বলেছেন; তিনি বাগদাদ হিজরী ১৫.১ (খৃ. ৭৬৮) অব্দে মৃত্যুমুখে পতিত হন। তাঁর লিখিত গ্রন্থ হতে ইবন হিশাম, রসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবনীর উপকরণ সংগ্ৰহ করেন।

(ঘ) যিয়াদ ইবন আবদুল্লাহ আল-বাককাইঃ ইনি মুহাম্মদ বিন ইসহাকের
ছাত্র ছিলেন। ইবন ইসহাকের গ্রন্থের দুইখানি নকল করেন এবং তাকেই অবলম্বন করে বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি কুফায় ১৮৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(ঙ) আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবন হিশাম আল হিময়ারীঃ তিনি যিয়াদ আল-বাককাইকে অনুসরণ করে দুইখানি গ্ৰন্থ রচনা করেন। ইবন ইসহাকের একখানি গ্রন্থের নকল আল-বাককাই মারফত পেয়েছিলেন, তা হতেই তিনি “সীরাতে রসূলুল্লাহ’ গ্ৰন্থখানি সংকলন করেন এবং ব্যক্তিগত কারণে “কিতাবে আত-তিজান লি-মারিফতী মুলুকিল জামান” বা “ফি আখবারে কাহতান” লিখেছেন। তিনি হিজরী ২১৮ সনে মৃত্যুমুখে পতিত হন। তিনি বসরায় জন্ম গ্রহণ করেন এবং মিসর ফুস্তাত্ নামক স্থানে মৃত্যু হয়। তাঁর গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইবন ইসহাকের পুস্তকখানি সম্পূর্ণরূপে তার ও আল-বাক কাইর হস্তগত হয় নাই। তিনি হযরত আদম (আ) হতে হযরত ইবরাহীম (আ.) পর্যন্ত বিবরণী সমূহ লিপিবদ্ধ করেন নাই, তবে ক্রটি স্বীকার ও যোগ করে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন । এতে হযরত ইসমাঈল (আ) হতে আরম্ভ করে হযরত রসূলুল্লাহ (সা)-এর পূর্বপুরুষগণের ইতিহাসের বর্ণনা আছে। “সীরাতে রসূলুল্লাহ" গ্ৰন্থখানি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য জীবন চরিত। ইহা মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের মূল গ্রন্থের অভাব দূর করেছে বলে উল্লেখিত । ৮২৮/২৯ খৃ. তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
(চ) মুহাম্মদ ইবন উর আল-ওয়াকিদীঃ তিনি তার “আল-মগাজী” গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন। তাঁর রচিত জীবন চরিত পুস্তক হতে হযরত রসূলুল্লাহ (সা)-এর বিবিধ বিবরণীর সন্ধান পাওয়া যায়। গ্ৰন্থখানির বিষয়ে আইন-ই-আকবরী হতে জানা যায় যে, তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন উমর ওয়াকিদ আল-ওয়াকিদী; তার জন্মস্থান মক্কা নগরীতে । তিনি বিখ্যাত পুস্তক “বিজয় লাভ” লিখে সুপ্ৰসিদ্ধ হয়েছেন। হিজরী ১৩০ সনে সেপ্টেম্বর ৭৪৭ খৃ জন্মগ্রহণ করেন। হিজরী ২০৬ সন ১১ যিলহজ্জ সোমবার তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। (২৭ এপ্রিল, ৮২১ খৃ) মতান্তরে হিজরী ২০৭ সনে ।
(ছ) আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আজরাকঃ তিনি “আখবারে মক্কা” নামীয় একখানি গ্রন্থ লিখেছিলেন, গ্ৰন্থখানি বিশেষ মূল্যবান। তিনি মুহাম্মদ ইবন ইসহাকের বর্ণনাকারী ওসমান বিন সাজ বা তার পিতামহের নিকট শ্রবণ করে পুস্তকখানি সম্পাদন করেন । হিজরী ২২০ সনে তাঁর মৃত্যু হয়
(জ) মুহাম্মদ ইবন সা'দঃ তিনি আল-ওয়াকিদীর ছাত্র ছিলেন। হযরত রসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবন বৃত্তান্ত বিষয়ে একখানি বিরাট গ্রন্থ লেখেন, তা-ই “কিতাবুত তাবাকাত আল কবীর” নামে সুপ্ৰসিদ্ধ। তার অপর একটি গ্রন্থ “আখবারুন নবী”। পরবর্তীকালে উভয় গ্রন্থ একত্রিভূত হয়ে যায়। তিনি যে সংকলন করেন, তার অধিকাংশ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) প্রদত্ত বর্ণনা।
তিনি  ইবন আব্বাসের বর্ণনা হতে অনেক ঘটনার বিবরণী লিপিবদ্ধ করেছেন যা  সাধারণের নিকট অজানা ছিলো বলে মনে হয় । তিনি হিজরী ২৩০ সালে (৮৪৪/৪৫ খৃস্টাব্দে) পরলোক গমন করেন।
(ঝ)আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মুসলিম ইবন কুতায়বাঃ
তাঁর গ্ৰন্থখানি “কিতাবুল মাআরিফ” নামে পরিচিত । তিনি ২৭০ বা ২৭৬ হিজরীতে
ইন্তেকাল করেন। আইন-ই আকবরীতে দেখা যায় যে, তিনি হিজরী ২১৩ সনে জন্মগ্রহণ  করেন এবং ২৭০ হিজরীতে মারা যান। তার জন্মস্থান দীনাওয়ার নামাক স্থানে। কিন্তু অন্যত্র উল্লেখ আছে যে, তিনি মার্ভের অধিবাসী ছিলেন এবং দুইটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন, “কিতাব আল মাআরিফ ও আদাবুল কাতিব৷” (সচিবগণের নির্দেশিকা) এটাই প্রথম সাধারণ জ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ। পুস্তক খানিতে মুসলিমগণের প্রাথমিক যুগের সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত প্ৰদান করা হয়েছে, । পরবর্তীকালে উভয় গ্রন্থ একত্রীভূত হয়ে যায়।
৯ । আবু সাঈদ আবদুল মালিক ইবন কুরাইব আল-আসমাইঃ
তিনি একজন ঐতিহাসিক এবং বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন । আরবী ভাষায় শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন । তার জন্মস্থান বসরা, কিন্তু খলীফা হারুন রশীদের রাজত্বকালে তিনি বসরা ত্যাগ করে বাগদাদে গিয়ে বসবাস করেন। তিনি ১৬০০০ শ্লোক কণ্ঠস্থ করেছিলেন বলে উল্লেখ আছে। হিজরী ১২২ সনে (খৃ. ৭৪০ অব্দে) জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরী ২১৩ সনে (খৃ. ৮২৮ অব্দে) মৃত্যু বরণ করেন।
১০ । ইবনুল কালীবীঃ
তিনি হিজরী ২০৪ বা ২০৬ সনে প্ৰাণ ত্যাগ করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ “কিতাবুল আসনাম” । ইবনে ইসহাকের শাগরিদ ইউনুস বিন বুকাইরের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন, এবং তাকে অনুসরণ করেই অধিকাংশ বিষয়ের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায় |
১১ । মুহাম্মদ মুকান্নাঃ
প্রকৃত নাম মুহাম্মদ ইবন ওহমাইজাহ । তিনি তার দেহের ও মুখের লাবণ্য রক্ষা করার নিমিত্ত অবগুণ্ঠন বা ঘোমটা দিয়ে ঢাকা থাকতেন, তজন্য তাকে “মুকান্না” বলা হতো। তার প্রভূত ধন সম্পদ দান খয়রাত ও অপব্যয়ে ব্যয়িত হয়ে যায় । বহু আত্মীয় স্বজন তার নিকট ঋণী ছিলো, তথাপি তাকে দারিদ্রের মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়। তিনি উমাইয়া বংশীয়গনের রাজত্বকালের সময় বর্তমান ছিলেন।
১২। আবু আমার (পরে) আবু মুহাম্মদ ইবনুল মুকাফফাঃ
তিনি একজন বিখ্যাত কাতিব(সচিব) নামে পরিচিত। অনেকগুলো পত্রসম্পর্কীয় পুস্তক লিপিবদ্ধ করে প্ৰশংসি৩ হয়েছিলেন । ‘কালীলা ও দিমনা’ নামক গ্ৰন্থখানি আরবী ভাষায় অনুবাদ করেন। 
১৩ । আবুল ফারাজ আল ইসফাহানীঃ
তিনি হিজরী ৩২৭/২৮ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বিখ্যাত গ্ৰন্থ “কিতাবুল আগানী” । তিনি হিজরী ৩৮৭ সনে ইন্তিকাল করেন। (খৃ. ৮৯৭-৯৬৭ অব্দ)।
১৪। ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া আত-তীদালীঃ
(ইবনুল জাইয়াত নামে পরিচিত)। তিনি হিজরী ৬২৭ সনে মারা যান ।
১৫। আহমদ ইবন ইয়াহইয়া বালাজুরীঃ
তিনি মুসলিম বিন উকবার অনুসরণ করে যে পুস্তকখানি প্রণয়ন করেন, তা-ই সুবিখ্যাত “ফতুহুল বুলদান” । প্রধানতঃ এটাই দেখা যায় যে, যৎকালে আজ-জুহরী ও ইবন ইসহাক এবং মুসা ইবনে উকবা বিদ্যমান ছিলেন, তখনই ইসলামের ইতিহাসের ভিত্তি প্রস্তর দৃঢ় রূপে প্রোথিত হয়। তাদের অনুসরণ করে বহু মনীষী মূল্যবান গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। বালাজুরী তন্মধ্যে একজন এবং অন্যতম বিশ্বস্ত লেখক বলে পরিচিত। তার লেখনীতে বিবিধ তথ্যাবলী সম্যকরূপে পরিবেশিত হয়েছে। তার অপর গ্রন্থ “আস সাবউলআশরাফ” বলে জানা যায়। তিনি হিজরী ২৭৯ সনে ইন্তিকাল করেন।
১৬। আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন জরীর “আত-তাবারীঃ
পবিত্র কুরআনের অন্যতম ভাষ্যকার এবং বিখ্যাত ইতিহাস প্রণেতা ও হাদীস শাস্ত্ৰবিদ। তার সুপ্ৰসিদ্ধ ইতিহাস “তারিখুর-রসূল ওয়া মুলুক” (নবীগণের ও শাসকগণের ইতিহাস)। তিনি তাবারিস্তানের অন্তর্গত আমূল অঞ্চলে হিজরী ২২৪ সনে জন্মগ্রহন করেন। (খৃ. ৮৩৮ অব্দ)। তাঁর লিখিত গ্রন্থগুলি “আমুলের সাহিত্য” বলে সুপরিচিত। এতে খৃ. ৯১৫ অব্দ পর্যন্ত বিবরণী দেওয়া আছে। তিনি হিজরী ৩১৯ সান (খৃষ্টাব্দে ৯৩১ অব্দে) বাগদাদে প্ৰাণত্যাগ করেন।
১৭। আসিম কুকীঃ
তার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ ইবন আলীঃ আসিম কুফী বলে সর্বজন পরিচিত। তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘ফতুহ আসিমা”। হযরত রসূলুল্লাহ (সা)-এর ওফাতের পর হতে কারবালা প্ৰান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা) শহীদ হওয়া পর্যন্ত বিশদ বিবরণ ও তথ্যসমূহ দেওয়া আছে।
১৮। আবু সাঈদ আল-হাসান ইবন আবদুল্লাহ আস-সিরাফীঃ
তিনি একজন বিশিষ্ট গ্রন্থকার বলে গণ্য। তিনি হিজরী ৩৬৮ সনে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। তাঁর বিশিষ্ট গ্ৰন্থখানি “আখবারুন নাযিরাইন আল-বাসরিইন” নামে পরিচিত। ১৯। আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন হাবীব আল-মাওয়ারদীঃ
ইনি হিজরী ৪৫০ সনে প্ৰাণত্যাগ করেন।
২০। আবু ফতেহ মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সাইয়েদুন্নাস আল-ইমারী আল-আন্দালুসীঃ তার প্রসিদ্ধ পুস্তক “উয়ুন আল আশীর ফি ফুনু মিল মাগাজি আশ শামাইল আসসিয়ার” ইতিহাসখানি “কিতাবুত তাহজীব আল-আসমা” বলেও পরিচিত। তিনি হিজরী ৭৩৪ (খৃ. ১৩৩৪ অব্দে) মৃত্যুমুখে পতিত হন।
২১। আবুল হাসান আলী ইবনুল আহীর আল-জাযারীঃ
ইনি দুইখানি পুস্তক প্ৰণয়ন করেন, উক্ত পুস্তকদ্বয়-“আলকামিল ফিত তারিখ” এবং “উসদুল গাব৷” নামে পরিচিত। তিনি হিজরী ৬৩০ (খৃষ্টীয় ১২৩৩ অব্দে) মৃত্যুবরণ করেন)।
২২। ইসমাঈল ইবন উমর ইবন কাসিরাঃ
তিনি “রিওয়াইয়া” নামক সুবিখ্যাত গ্রন্থের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি হিজরী ৭৭৪ সনে (খৃষ্টীয় ১৩৭২ অব্দে)
২৩। আহমদ ইবন আলী মুহাম্মদ আল-কাস্তলানীঃ
তিনি যে গ্ৰন্থখানি রচনা করেন, তা “আল মাওয়াহিবুল-লাদুননীয়াহ।” এছাড়া হাদিস সংক্রান্ত গ্ৰন্থখানি তিনি ইমাম বুখারীর টীকাকার রূপে লেখেন “ইরশান্দুসসারী ফণী শারীহি সহী আল-বুখারী” নামে প্রসিদ্ধ। তিনি হিজরী ৯৬৫ সনে (১৫৫৭ কৃ.) প্রাণত্যাগ করেন ।
২৪। আবুল ফজল আহমদ ইবন আলী-ইবন হাজার আসকালানীঃ
হিজরী ৭৭৩ সনে আসকালান নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিও ইমাম বুখারীর টীকাকার ছিলেন।” তৎলিখিত পুস্তকখানি “ফাতহুল বারী ফিশারীহি সহীহ আল বুখারী” নামে পরিচিত। অপর গ্রন্থ “তাহজীব (সভ্যতা)” । তিনি হিজরী ৮৫২ সনে ১৪৪৯ খৃ. মৃত্যুবরণ করেন।
২৫। আল-মোতাহার আত তাহিরঃ
তিনি আল-আজম্যাবীর অনুসারী ছিলেন এবং আজযাবীর “আখবারে মক্কা” পুস্তক হতে একখানি জীবনী লিখে গেছেন।
২৬। আল জুমাহীহঃ
ইনি যে পুস্তকখানি রচনা করেছেন-- তা মুহাম্মদ ইবন সাদ লিখিত “কিতাবুত-তাবাকাত আল-কুবরা” কে মূল রূপে গ্ৰহণ করে “তাবাকাতুস সুরারা” নামক গ্ৰন্থখানি প্রণয়ন করেন। তিনি ২৩১ হিজরীতে মারা যান।
২৭। আল হাকিম নিশাবুরীঃ
ইনি “মুস্তাদরাক’ নামক একখানি হাদীস গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করেন ।
২৮। আস সুহাইলীঃ
তার বিখ্যাত পুস্তকখানি “আর-রাউন্দুল উনুফি’ নামে পরিচিত ।
২৯। ইবনুন নাদীমঃ
একজন সুপ্ৰসিদ্ধ গ্রন্থকার “আল-ফিহরীস্ত” গ্রন্থখানি বিশ্বের আদরণীয় পুস্তক বলে গণ্য, তা কায়রো হতে প্রকাশিত হয়েছিল।
৩০। হাফিজ ইমাদুদ্দীন ইসমাঈল বিন আবদুল্লাহ আদি দিমাশকীঃ
তিনি হিজরী ৭৭৪ সনে (১৩৭২ খৃ. মৃত্যুমুখে পতিত হন। তার লিখিত ইতিহাসখানি “আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া” তার জীবনকাল পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করেছেন।
৩১। শাহাবুদ্দীন আবু মাহমুদ আস-সাফায়ী মুকাদদিসীঃ
তার গ্ৰন্থখানি “মাসিরুল গারাম ইল জিয়ারাতিল কুদস। ওয়াশ-শামস” । তিনি হিজরী ৭৬৫ সনে (১৩৬৩ খৃ.) পরলোক গমন করেন।
৩২। আবুল হাসান আলী ইবন হুসাইন ইবন আলী আল-মসউদ্দীঃ
তিনি খৃষ্টীয় নবম শতাব্দীর শেষ ভাগে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরিব্রাজকরুপে ভ্ৰমণে বের হয়ে বহু দেশ পর্যটন করেন । ৯১৫ খৃষ্টাব্দে ইসিতাখার অঞ্চল পরিদর্শনকালে পুরত্ব বিষয়ে সবিশেষ আগ্রহী হয়ে পর বৎসর মুলতান, মনসুরা, ক্যাম্বে সিয়ামুর
ও সিংহলে উপস্থিত হন । তথা হতে মাদাগাস্কার, তোমান পরিভ্রমণ করে চীনে উপস্থিত হয়ে কিছুদিন তথায় অবস্থান করেন । পুনরায় যাত্রা আরম্ভ করে ক্যাসপিয়ান সাগরস্থিত দেশ দর্শন করার পর তাব্রিজ এবং প্যালেষ্টাইন অঞ্চলের প্রাচীন স্মৃতিগুলোর এবং খৃষ্টানদের গির্জাসমূহের ধ্বংসাবশেষের বিস্তৃত বিবরণী লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তৎপর ৯৭৩ খৃস্টাব্দে অ্যান্টিক নগরের স্মরণ চিহ্নগুলো পরিদর্শন কর দামেস্কে দুই বৎসরকাল অবস্থান করেন। জীবনের শেষ দশ বছর সিরিয়া ও মিশরে অতিবাহিত করেন । তার জীবনের লক্ষ্য ছিলো, স্বচক্ষে দেশে তথাকার সমস্ত বিষয়ের বিবরণী সংগ্ৰহ করা, ফলে তিনি কেবল ইতিবৃত্তই নয়, বরং তাদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয়গুলোও পরিহার না করে সমুদয় তথ্যের বর্ণনা দিয়ে বিরাট গ্রন্থ রচনা করেন।
আবশ্যকবোধে পারসিক, ইহুদী, হিন্দু ও খৃস্টানদের কাহিনীসমূহ বিবৃত করেছেন। তাঁর সুপ্ৰসিদ্ধ গ্রন্থ “কিতাব আখবারউয যামান” বা “যুগের ইতিহাস” ৩০ খন্ডে লিখিত। পরিশিষ্ট পুস্তকখানি “কিতাবুল আওসাত” নামে পরিচিত। আর একখানি বিশিষ্ট গ্রন্থ “মুরু জুয যাহাব” বা “সোনার খণি” পুস্তকখানি ইতিহাস বৃত্তান্তমূলক । তিনি প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলি ৯৪৭ খৃষ্টাব্দে হতে ৯৫৬ খৃ. পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লিখেছিলেন । তৎকালে বাগদাদে খলীফা মুতী’ বিল্লাহ সিংহাসনে আরোহণ ছিলেন। মসউদ্দী তাঁর গ্রন্থে পৃথিবীর সৃষ্টিকাল হতে আরম্ভ করে সম-সাময়িক খলীফাগণের ইতিহাস রচনা করেন। হিজরী ৩৪৬ সনে (৯৫৭ খৃ.) এই সুবিখ্যাত ঐতিহাসিকের জীবনের অবসান ঘটে, তৎকালে তিনি কায়রো নগরীতে অবস্থান করতেন ।
৩৩। ইবন খল্লিকানঃ
একজন প্ৰসিদ্ধ জীবনচরিত লেখক । তার লিখিত গ্ৰন্থখানি “ওফায়াতুল আয়ান” । তিনি পুস্তকটিতে মহান ও বিখ্যাত মনীষীদের জীবন বৃত্তান্ত বর্ণনা করে সুন্দর রূপে সুসজ্জিত করেছেন। তিনি হিজরী ৬০৮ সনে (১২১১ খৃ.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুস্তকখানি মিশরের মামলুক বংশীয় নৃপতি সুলতান বায়বাসের কর্তৃত্বাধীনে লিখিত হয়েছিল। গ্ৰন্থখানির শেষাংশের তিনি তাঁর মৃত্যুকাল হিজরী ৬৭২ সন (১২৭৩-৭৪ খৃ.) পর্যন্ত ঘটনার উল্লেখ করেছেন।
৩৪। আবদুল্লাহ ইবন আসাদ আল জাফায়ী আল ইমেনীঃ
তার লিখিত গ্ৰন্থখানি “মীরাতে আল জানান, ওয়া ই-বরাতুল ইয়াকজানি।” তিনি হযরত রসূলে করীম (সা)-এর মদীনায় হিজরত কাল হতে আরম্ভ করে তাঁর জীবন কাল পর্যন্ত যাবতীয় বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন । গ্রন্থকারের অপর পুস্তক “রওদাতুর রিয়াহীন ।” তা মুসলিম সুফী সাধকদের জীবন কাহিনীতে সুশোভিত ও সজ্জিত । তিনি হিজরী ৭৬৮ সনে (১৩৬৬ খৃঃ) মৃত্যুমুখে পতিত হন।
৩৫। আহমাদ ইবন সাইয়ার ইবন আইউবঃ ইনি একখানি হাদীস গ্রন্থ, আবুল হাসান আল-মারও জীকে অনুসরণ করে সম্পাদন করেন। এভাবে তিনি হাদীস
বর্ননাকারি হিসেবে সুবিখ্যাত হন । তার বর্ণিত হাদীসমূহ বিশুদ্ধ বলে খ্যাত এবং মূল্যবান। তিনি হিজরী ২৬৮ সনে (৮৮১) অব্দে ইন্তিকাল করেন।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: বিশ্বনবীর (সা)-এর কতিপয় বিখ্যাত জীবনী লেখক

আপনি আরো পড়তে পারেনঃ মনীষীদের জীবনী