সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (১৯-০৮-২০১৭ ২০:১০)

টপিকঃ বিশ্বজিৎ!!

বিশ্বজিৎ তোমার মৃত্যু আমাদরকে অপরাধী করে। শুধু ছবিই নয় শত শত ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করে বিশ্বজিৎ কে কিভাবে খুন করা হয়, বিশ্বজিতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে একটি আঘাতের কথা উল্লেখ আছে। যে বা যারা এই রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করেছে তাদের বিচার হওয়া জরুরী


প্রাপক
স্বর্গীয় বিশ্বজিৎ দাস

বিশ্বজিৎ, তুমি বলেছিলে তুমি রাজনীতি করো না। তুমি হিন্দু । তুমি ছাত্রদল করো না।
তুমি রাজনীতি করো না বলে পার পাবে ভেবেছিলে। কিন্তু তোমাকে ওপারে পাঠিয়ে দেয়া হল।

এফ রহমান হলের আবু বকরও রাজনীতি করত না। সেও ভেবেছিল এই পঁচা-গলা রাজনীতিতে না জড়িয়ে পড়ালেখাটাই ঠিক মত করবে। ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। পরিবারের হাল ধরবে। আর তুমি ত একজন ছাপোষা দর্জি মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে পা-ই রাখতে পারোনি। তোমার স্বপ্নের পরিধি আরও অনেক ছোট, অনেক বিবর্ণ। কিন্তু তুমি রেহাই পেলে না। কাগজওয়ালাদের কেউ কেউ বলছে তুমি স্রেফ গণপিটুনির শিকার। পুলিশ বলছে খুনিদের সনাক্ত করা যায়নি। বিএনপি বলছে তুমি তাদের কর্মী ছিলে।
কাল পরশু আমরা কেউ হয়ত তোমার মৃত্যুর প্রতিবাদের শাহবাগে ব্যানার নিয়ে দাড়িয়ে যাবো। কিন্তু তাতে তোমার পিতা অনন্ত দাসের কোন লাভ লোকসান নেই। বিশ্বজিৎ, আমরা তোমার মৃত্যু দিয়ে আশুলিয়ার গণহত্যাকে ভুলব। কিছুদিন পর অন্য কারও মৃত্যু দিয়ে তোমার মৃত্যু ভুলব।

বিশ্বজিৎ, তুমি কিভাবে বেঁচে ছিলে আর কিভাবে মরলে তা ঠিক করে রাজনীতি। তোমার মৃত্যুকে কাজগওয়ালারা কিভাবে ব্যাখ্যা করবে তা ঠিক করে রাজনীতি। তোমাকে বিএনপির কর্মী দাবি করাটা রাজনীতি। আশুলিয়ার হত্যাকাণ্ডের কোন বিচার হবে কি হবে না তা ঠিক করে রাজনীতি। ভবিষ্যতে তোমার মত ছাপোষা দর্জি নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারবে কি না তা ঠিক করে রাজনীতি।

বিশ্বজিৎ, তোমাকে যারা হত্যা করেছে তাদের হাতে আমারও যেকোনো মুহূর্তে খুন-জখম হবার সম্ভাবনা আছে। আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তার আগে কয়েকজন আমাকে অনুরধ করেছে আমি যাতে অন্তত এই বিষয়ে চুপ থাকি। কিন্তু তা কি করে হয়। আমি যে রাজনীতি করি। আমি বুঝি কে আমার শত্রু কে মিত্র। আমি বরাবরই এই গুণ্ডা-সন্ত্রাসীগুলোর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়াই করে এসেছি। তোমাকে যেভাবে চারদিক থেকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে রুদ্র মোস্তফাকে এভাবে অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়নি বটে, কিন্তু খালি হাতে আর জুতা পায়ে যা সম্ভব তার সর্বোচ্চটাই করা হয়েছিল। রুদ্রকে মারার আধ ঘণ্টা পরই আমরা এই গুণ্ডাগুলোর বিরুদ্ধে স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করেছিলাম। কিন্তু কাগজওয়ালাদের অনেকই সেই খবর চেপে গিয়েছিল। এভাবে খবর চেপে যাওয়াও রাজনীতি।

প্রয়াত বিশ্বজিৎ, তুমি আর ফিরবে না। হয়তবা পুরনো ঢাকার কোন এক সরু গলিতে পথ চলতে গিয়ে তোমার সাথে মৃদু ধাক্কা লেগেছিল আমার। যদি জানতাম তুমি একদিন এভাবে চলে যাবে, তাহলে তোমাকে বলতাম -এভাবে মরো না। কারণ তোমার মৃত্যুকে ভুলতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় দিবে না কাগজওয়ালারা। সবচেয়ে বড় কথা হল, এই মৃত্যু নিরর্থক। এই মৃত্যু অপমৃত্যু। এই মৃত্যু নিউটনের তৃতীয় সূত্র মানে না।

বিশ্বজিৎ, তুমি মরলে রাজনীতির জাঁতাকলে, তুমি মরার পর তোমার লাশ নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। তুমি আর কয় ঘণ্টা আমাদের বেঁচে থাকবে তাও ঠিক করে রাজনীতি। কিন্তু সুধু তুমিই রাজনীতি করলে না। কোনদিন হয়ত বুঝারও চেষ্টা করোনি রাজনীতি কি বস্তু। কিন্তু তোমার এই মৃত্যু যদি রোধ করা যেত তবে তা রাজনীতি দিয়েই করতে হত। রাজনীতি দিয়েই বিশ্বজিৎকে বাঁচানো যেত। রাজনীতি দিয়েই এই মানুষ মারার খেলা বন্ধ করতে হবে। রাজনীতির বিকল্প নেই। আবুবকর, বিশ্বজিৎ কিংবা আশুলিয়ার মৃতরা তা প্রমাণ করে গেছে।

বিশ্বজিৎ, পৃথিবীর বুকে আরেকবার পাদচারণার সুযোগ পেলে তখন কি রাজনীতি করবে ??

প্রেরক
একজন রাজনীতিক কর্মী
১০ ডিসেম্বর, ২০১২
লেখক Zahidul Islam Sazib

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে