সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০৩-০৮-২০১৭ ২১:৫৩)

টপিকঃ অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০৩

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল :  ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার
মূল লেখক : অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
অনুবাদক : সাদেকুল আহসান কল্লোল।
https://i.imgur.com/SMv3ucw.jpg
৪৯৯ পাতার বিশাল এই বইটির কাহিনী সংক্ষেপ আমি ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পর্বে লিখে যাব।

পাঠকদের মনে রাখতে হবে আমার লেখা অন্যসব কাহিনী সংক্ষেপের মতো এই কাহিনী সংক্ষেপটিও স্পয়লার দোষে দুষ্ট। এই কাহিনী সংক্ষেপে সম্পূর্ণ উপন্যাসের মূল কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ননা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এখানে উল্লেখ আছে।


==================================================================================

অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১পর্ব - ০২


অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০৩ পর্ব

বৃষ্টির মধ্যেই খানজাদা একজন লোককে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে, পিছন থেকে অন্য একজন তাকে আক্রমণ করলে হুমায়ূন এসে তাকে হত্যা করে। ততোক্ষণে রক্ষীরা একজন সৈন্যকে ধরে ফেলে। সে হুমায়ূনকে জানায় তারা এসেছে খানজাদাকে ধরে নিয়ে যেতে। তারিক খান শের শাহকে জানিয়েছে খানজাদা এখানে আছে। খানজাদা একবার সাইবানি খানের কাছে কিভাবে ছিল সেটা সবাই জানে। খানজাদাকে ধরে নিতে পারলে শের শাহ হুমায়ূনকে যা বলতো তাই শুনতে বাধ্য করতে পারতো। হুমায়ূন তখনই খানজাদা, গুলবদন, সালিমা ও বাকি তিনজন উপপত্নীকে নৌকাতে করে নিরাপদ স্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আর তাদের রক্ষার জন্য ৫ হাজার অশ্বারোহী দল নদীর তীর বরাবর চলতে আদেশ দেয়।


অন্যদিকে তখন শের শাহের সৈন্যরা হুমায়ূনের সেনা ছাউনিতে আক্রমণ করে ভিতরের দিকে ঢুকে পরেছে। ঘুমের মধ্যে অতর্কিতে এই হামলায় হুমায়ূনের সৈন্যরা বেঘোরে মারা পরেছে। তবে দেরিতে হলেও তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। হুমায়ূন নিজে তৈরি হয়ে যুদ্ধে নেমেছে। একদিক দিয়ে কিছুটা এগোলে অন্যদিক দিয়ে আবার পিছাতে হচ্ছে। এই বৃষ্টি কাদায় হুমায়ূনের সৈন্যরা অভ্যস্ত নয়। কিছুক্ষণ পরে হুমায়ূন সংবাদ পায় নদীর তীর দিয়ে শের শাহের বিশাল অশ্বারোহীর দল আক্রমণ করেছে। একটি টিলার উপরে দাড়িয়ে হুমায়ূন দেখে দলের মাঝ খানে অনেক গুলি পতাকা। হুমায়ূন বুঝে যে সেটা অবশ্যই শের শাহের অবস্থান নির্দেশ করছে। হুমায়ূন সেদিকে আক্রমণ করতে যায়। কিছুক্ষণ পরে হুমায়ূন দেখে তিনি একা হয়ে পরেছেন তার সৈন্য ও রক্ষীদের থেকে। এর মধ্যে হঠাত হুমায়ূন ডান হাতের বগলে তরবারির কোপে গুরুতর আঘাত পান। দরদর করে রক্ত ঝরতে থাকে। কোনরকমে তিনি ঘোড়াটিকে নদীর দিকে ঘুরিয়ে নেন। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই তিনি অচেতন হয়ে পরেন।


জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন একটি কিশোর পানি বাহক ছেলে তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটি জানায় হুমায়ূনের বেশ কিছু সৈন্য নদীর অন্য পারে অবস্থান করছে। এখনই নদী পার হতে না পারলে শের শাহের সৈন্যরা সম্রাটকে ধরে ফেলবে। ছেলেটি তার পানি নেয়ার ছাগলের থলিতে বাতাস ভরে সেটা ধরে সাঁতার কেটে হুমায়ূনকে নদী পর করায়। হুমায়ূন ছেলেটিকে বলে আগ্রায় তার রাজধানীতে গিয়ে তার সাথে দেখা করতে। তিনি তাকে একদিনের জন্য সম্রাট বানাবেন বলে কথা দেন। একদিনের সেই সম্রাটের নাম নিজাম।


নদী পার হয়ে নিজের সেনাপতিদের কাছে হুমায়ূন পৌঁছে জানতে পারে তাদের প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য ও ঘোড়া নিহত ও গুরুতর আহত হয়েছে। অনেকে পলিয়ে গেছে। ছোট আকারের কয়েকটি কামান ছাড়া আর কিছুই তারা আনতে পারেনি নদী পার করে। বড় কামান, মহিষ, হাতি, ষাঁড় আর যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সিন্দুক ভর্তি সম্পদ, সবই শের শাহের হাতে চলে গেছে। তবে শের শাহেরও প্রচুর সৈন্য নিহত হয়েছে। এতো কিছুর মধ্যে সুসংবাদ হচ্ছে নদী পথে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও মেয়েদের নিয়ে চলা নৌকা নির্বিঘ্নে আগ্রার দিকে এগিয়ে চলেছে। হুমায়ূন আদেশ দেয় দল গুটিয়ে আগ্রার দিকে ফিরে চলতে, আবার শক্তি সঞ্চয় করে তারা ফিরে আসবে।


আগ্রায় ফিরে হুমায়ূন দেখে বাংলায় শের শাহের পিছনে তিনি ব্যস্ত থাকার সুযোগে গুজরাতের বাহাদুর শাহ ও তার মিত্র ইব্রাহিম লোদির লোকজনরা পাহাড়ের গোপন আশ্রয় থেকে বেরিয়ে হুমায়ূনের নিযুক্ত শাসকদের বিতাড়িত করে দুর্গ দখল করে নিয়েছে। হুমায়ূন বুঝতে পারে তার পক্ষে এখন একসাথে দুই যায়গায় যুদ্ধ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই হুমায়ূন তার বাবার আমলের বিশ্বস্ত উজির কাশিমকে দিয়ে গুজরাতে একটি শান্তিচুক্তি পাঠান। তিনি বলেন গুজরাত নামে মাত্র তাকে অধীরাজ হিসেবে স্বীকার করে নিলে তিনি গুজরাতকে স্বায়েস্তশাসন দিতে রাজি আছেন। দিন সাতেক পরে কাশিম ফিরে এসে জানান গুজরাত প্রস্তাব মেনে নিয়েছে।


একদিন হঠাত করে হুমায়ূনের জীবন বাঁচানো সেই পানি ওয়ালা ভিস্তি ছেলে নিজাম হুমায়ূনের দরবারে এসে হাজির হয়। হুমায়ূন তাকে কথামত একদিনের জন্য বাদশাহ বানিয়ে দেন। ভিস্তি নিজাম সম্রাট হয়ে নিজের জন্য সামান্য জমি ও এক বছরের জন্য সকল ভিস্তিদের কর মৌকুফ করার আদেশ দেয়। হুমায়ূন তাকে প্রচুর উপহার দিয়ে বিদায় করেন।



-------------------------------------------------------------- চলবে --------------------------------------------------------------

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল - ০১ : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১, পর্ব - ০২পর্ব - ০৩পর্ব - ০৪পর্ব - ০৫পর্ব - ০৬পর্ব - ০৭পর্ব - ০৮পর্ব - ০৯পর্ব - ১০


আমার লেখা অন্যান্য কাহিনী সংক্ষেপ সমূহ:
ভয়ংকর সুন্দর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবুজ দ্বীপের রাজা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূপাল রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খালি জাহাজের রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মিশর রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

তিতাস একটি নদীর নাম – অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড - টমাস হার্ডি

কালো বিড়াল - খসরু চৌধুরীর

মর্নিং স্টার - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড
ক্লিওপেট্রা - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

১৯৭১ – হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ
অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
অদ্ভুত সব গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
অনীশ – হুমায়ূন আহমেদ
আজ আমি কোথাও যাব না – হুমায়ূন আহমেদ
আজ চিত্রার বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ – হুমায়ূন আহমেদ
গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন – হুমায়ূন আহমেদ

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।