টপিকঃ শিক্ষকতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস - হাবিজাবি

কেউ শিক্ষক হয়েছেন 'বাই চয়েস', কেউ 'বাই চান্স'। আমি ২য় দলে।

আমার দাদা-নানা দুজনেই নিজের সময়ে স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। দাদা-নানার সংসারের বিষয়গুলো বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুনে শুনে যতটুকু বুঝেছিলাম, আদর্শ শিক্ষক ধনসম্পদ করতে পারেন না। কাজেই শেখাতে ভাল লাগলেও, বড় হয়ে শিক্ষকতা করবো এমন কোন পরিকল্পনা আমার ছিল না। যা হোক, জীবনযুদ্ধের পথে ছুটতে ছুটতে উচ্চতর ডিগ্রীর ভারে প্রায় নিরূপায় হয়ে একসময় শিক্ষকতায় ঢুকে পড়তে হল। তবে যে কাজেই থাকি না কেন, কাজকে সিরিয়াসলি নেয়ার অভ্যাস সব-সময়ই ছিল।

শিক্ষকতা করতে করতে বুঝলাম, এটা সম্পুর্ন অন্যরকম একটি কাজ, এবং এটা করতে কিছু বিশেষ দক্ষতার দরকার হয় যা আমার নিজের বিষয়ের লেখাপড়ায় শেখানো হয়নি, শেখানোর কথা-ও না। কাজেই সেই বিষয়গুলো এখন শেখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি -- বর্তমান যুগে ইন্টারনেটে জ্ঞান-চর্চার মত উপকরণের অভাব নাই - তাই রক্ষা।

ইদানিং একটা বিষয় বুঝতে পারছি - সেটা হল প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে মেধা পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। শুধু গণিতে দক্ষ হলেই মেধাবী - আগে এমন ভাবতাম। কিংবা পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেলে সে মেধাবী ... ... নাহ্ এখন আর তেমন ভাবি না। আসল কাজের সময়ে যে কাজটা সুন্দরভাবে গুছিয়ে সম্পুর্ন করতে পারে না, তার ভাল রেজাল্ট দিয়ে কী হবে?! কর্মক্ষেত্রে ইদানিং ভাল জিপিএ'র কাগজের চেয়ে আসল কাজে কেমন করছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করেছি, একেকজনের মেধার বিকাশ একেক বয়সে হয়। ছোটবেলায় যে লেখাপড়ায় খুবই কাঁচা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পর্যায়ে দেখা যায় সে তুখোড় হয়ে উঠছে। স্কুলের ক্লাসের ব্যাকবেঞ্চার একজন তুখোড় পেশাজীবী কিংবা ব্যবসায়ী হয়েছে - যায় অধীনে প্রচুর তথাকথিত ভাল ছাত্র কাজ করছে। আবার দেখেছি, স্কুলে সবসময় ভাল ফলাফল করা কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে; কর্মক্ষেত্রেও তেমন ভাল করছে না।

আমার মনে হয়, উৎসাহ এবং ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত প্রশ্রয় হয়তো একজনের ভবিষ্যতে তুখোড় হয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে। একজনকে কটু কথা বলে তার আত্মবিশ্বাস তলানীতে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাঁর ফাইট দিয়ে ফেরত আসা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই শিষ্যের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটা খুব জরুরী। যে শিক্ষক এটা করতে পারেন সেই একজন সফল শিক্ষক -- কারণ তাঁর ছাত্রগণ সফল হবেই।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: শিক্ষকতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস - হাবিজাবি

"স্কুলের ক্লাসের ব্যাকবেঞ্চার একজন তুখোড় পেশাজীবী কিংবা ব্যবসায়ী হয়েছে - যায় অধীনে প্রচুর তথাকথিত ভাল ছাত্র কাজ করছে।" roll roll roll

একটা কথা মনে প্রল, দলাস ৭ এ থাকতে আমাদের কালসের একটা মেয়ে ছিল। যার পরীক্ষায় সব সময় একটা লাইন থাকত, আর সেই লাইন সারা খাতায় রিপিট হইত! আমার তার খাতা হাতে নিয়া দাঁড়ায় থাকতাম,  সবাই হাসাহাসি করত আর আমি ভাবতাম, সমস্যা কই এই মেয়ের।

এই মেয়ে প্রায় আমার পাশে বসত। কাহতায় পড়া গুলা তুলে দিতাম যাতে বাসায় গিয়া দেখাতে পারে।

ম্যাম প্রায়ই বকত অকে , জীবনে কিছু করতে পাবে না!  roll roll

কিভাবে কিভাবে জানি এই মেয়ে এস এস সি আর এইছ এস সি পাশ করছে। জানি না ।


কিন্তু বেশ অনেক বছর আমাকে খুজে বের করল। এর পর যা শুনলাম আমি বেক্কল হয়ে গেছি। ওস এস সি সময় বিয়ে দিয়ে দেয়।  এইছ, এস সি দিয়ে ফিনল্যান্ডের যায়, সেখানে গিয়ে সে  মাস্টারস কমপ্লিট করে , একটা এনজিও তে জব করছে। তারপর নিজের বিজনেস দাড় করাইছে! তার আন্ডারে ৩০০ জন কাজও করতেছে!  roll roll roll roll

আমি তখন ভাবতেছি ,আমরা কি ঘোড়ার ডিম টা করলাম এত্ত দিন!



সো কার টার্ন যে কখন ক্লিক করে বলা মুশকিল!  hmm

Re: শিক্ষকতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস - হাবিজাবি

Jol Kona লিখেছেন:

....
সো কার টার্ন যে কখন ক্লিক করে বলা মুশকিল!  hmm

আমির খানের 'তারে জামিন পর' - সিনেমাতে কিন্তু এমনই একটা কাহিনী দেখিয়েছে।

হয়তো সেই মেয়ের সেই সময়ে শেখা সংক্রান্ত যেই জটিলতাগুলো ছিল সেগুলো পরে কেটে গিয়েছিলো।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত