টপিকঃ অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০২

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল :  ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার
মূল লেখক : অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
অনুবাদক : সাদেকুল আহসান কল্লোল।
https://i.imgur.com/SMv3ucw.jpg
৪৯৯ পাতার বিশাল এই বইটির কাহিনী সংক্ষেপ আমি ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পর্বে লিখে যাব।

পাঠকদের মনে রাখতে হবে আমার লেখা অন্যসব কাহিনী সংক্ষেপের মতো এই কাহিনী সংক্ষেপটিও স্পয়লার দোষে দুষ্ট। এই কাহিনী সংক্ষেপে সম্পূর্ণ উপন্যাসের মূল কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ননা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এখানে উল্লেখ আছে।


==================================================================================

অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১


অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০২ পর্ব

গুলরুখ দাওয়াত করে হুমায়ূনকে একটি বিশেষ পানিও পান করতে দেন। আফিমের সাথে অন্যান্য মসলা মিশিয়ে বিশেষ সেই পানীয় তৈরির ফরমুলা শুধু গুলরুখের পরিবারই জানেন। প্রথম মোঘল সম্রাট বাবর মাঝে মাঝে এই পানীয় পান করতেন। তাছাড়া বাবর মাঝে মাঝে চরস, গাজা, আফিমও সেবন করতেন। দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট হুমায়ূনেরও আফিম ও সুরা পানের অভ্যাস রয়েছে। এই বিশেষ আফিমের সরবতটি পান করে হুমায়ূন চরম রকম ভাবে আফিমে আসক্ত হয়ে পরে। হুমায়ূন এমনিতেই জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। নতুন আফিম সরবতে আসক্তির পরে সে আরো বেশী করে গ্রহ নক্ষত্র তারকা রাজি ভাগ্যগণনা ও তাদের ভবিষ্যৎ ইংগিতের দিকে ঝুঁকে পরেন। এর ফলে দরবারে হুমায়ূন এক নতুন পদ্ধতিতে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার কথা ঘোষণা করেন।

খানজাদা লক্ষ্য করেন হুমায়ূন তার শাসক হিসেবে নিজের দক্ষতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলছে। দরবারে সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা। তার মেজাজ মরজি ঠিক থাকছে না। তার পুরনো বিশ্বস্ত লোকেরা তাকে ভয় পাচ্ছে, কখন হুমায়ূন হটোকারি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সেই জন্য। তাই খানজাদা একদিন হুমায়ূনের সাথে দেখা করে এই বিষয় গুলি সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করে। কিন্তু হুমায়ূন তাকে তেমন একটা গুরুত্বের সাথে দেখে না। ফলে খানজাদা রাগ করে চলে যান। হুমায়ূন অস্বীকার করলেও সে মাঝে মাঝেই আফিমের কারণে ভুল ভাল দেখতে শুরু করেছে। মাঝে মাঝেই তার মাথায় ভীষণ ব্যথা হয় যা আফিম আর সুরা পান করলেই চলে যায়। কোনো কিছুতেই হুমায়ূন মনোযোগী হতে পারে না। হারেমের প্রিয় রক্ষিতা সালিমাকেও আর তেমন ভাবে কামনা করেনা আফিমের নেশায় বুদ হয়ে থাকা সম্রাট হুমায়ূন।

আফিমের নেশার কারণে হুমায়ূন সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে। খানজাদা লক্ষ্য করেন এভাবে চলতে থাকলে মোঘল সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা যাবে না। এমনি সময় কামরানের কাছে থেকে একটি সংবাদ আশে বাংলা শের শাহ মোঘলদের অনেকটা অংশ নিজের বলে দাবী করছে এবং ঘোষণা দিয়েছে মোঘলদের সে বিতাড়িত করবে। এই সংবাদ পেয়েও আফিমের নেশায় বুদ হয়ে থাকে হুমায়ূন চুপ করে থাকে। তখন খানজাদা এসে হুমায়ূনকে নানা ভাবে বুঝায়। হুমায়ূন বুঝতে পারে আসলেই সে নেশাগ্রস্থ হয়ে পরেছে। হুমায়ূন তার আফিমের পুটলি ও গুলরুখের দেয়া আফিমের সরাব ছুড়ে ফেলে দেয়। শের শাহকে দমন করতে প্রায় সোয়া লাখের এক দল নিয়ে বাংলার দিকে এগিয়ে চলে। আফিমের নেশা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হুমায়ূন নিজের মনকে শান্ত করতে সালিমা ও আরো তিনজন উপপত্নী সাথে করে নিয়ে নেন। আর নিজের মানুষিক জোড় জোগাড়ের জন্য ফুপু খানজাদাকেও সাথে রাখেন। খানজাদার সাথে থাকে হুমায়ূনের মাতৃহারা সৎ বোন গুলবদনও।

অনেকটা পথ যাওয়ার পরেও শের শাহের সৈন্যদের দেখা মেলে না। তখন হুমায়ূনের দূত একজন গোত্রপতিকে ধরে নিয়ে আসে। গোত্রপতি তারিক জানায় যে শের শাহের সৈন্যরা তার এলাকার উপর দিয়ে চলে গেছে জলাভূমি অঞ্চলের দিকে। সেখানে সম্রাটের সৈন্যরা তেমন ভাবে অভ্যস্ত হবে না যুদ্ধ করতে। তবে শের শাহকে যদি তার অধীনস্থ এলাকায় সম্মানের সাথে থাকতে দেয়া হয় তাহলে সে মোঘলদের এলাকায় অনুপ্রবেশ করবে না। হুমায়ূন শান্তি চুক্তি করতে চাইলে শের শাহ রাজি হবে। এটা শুনে হুমায়ূন  সুলেমান মির্জাকে একদল রক্ষীবাহিনী সহ দূত হিসেবে পাঠায়। শান্তি চুক্তির শর্ত হচ্ছে শের শাহকে হুমায়ূনের সমনে এসে নতিস্বীকার করতে হবে ও বিশাল দল নিয়ে এপর্যন্ত আসতে যে খরচ ও সময় নষ্ট হয়েছে তার জন্য জরিমানা দিতে হবে।

শের শাহ নান ভাবে হুমায়ূনের দূতকে দেরি করিয়ে দিতে থাকে কিন্তু নিজের সম্মতি বা অসম্মতি কিছুই পরিষ্কার করে না। ততো দিনে বর্ষা প্রায় এসে যাচ্ছে। হুমায়ূন বুঝতে পারে যে তারিখ হয়তো শের শাহের নিজের লোক, তাকে দিয়ে সে হুমায়ূনের সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছে। রাতের বেলা হুমায়ূন তার ফুপু খানজাদার সাথে পরামর্শ করে, এবং ঠিক করে শের শাহকে একটি সময় সীমা বেধে দিবে। সেই সময়ের মধ্যে সে না আসলে হুমায়ূন শের শাহের শহরগুলি দখল করে নিবে। কিন্তু রাতেই হঠাত করে বৃষ্টি শুরু হয়। গভীর রাতে হট্টগোলে হুমায়ূনের ঘুম ভাঙ্গলে দেখে ছাউনিতে আক্রমণ হয়েছে। সে দেখে তার তাঁবুর পাশের জেনানা তাবুতে শত্রুরা আক্রমণ করেছে।


-------------------------------------------------------------- চলবে --------------------------------------------------------------

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল - ০১ : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১, পর্ব - ০২পর্ব - ০৩পর্ব - ০৪পর্ব - ০৫পর্ব - ০৬পর্ব - ০৭পর্ব - ০৮পর্ব - ০৯পর্ব - ১০


আমার লেখা অন্যান্য কাহিনী সংক্ষেপ সমূহ:
ভয়ংকর সুন্দর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবুজ দ্বীপের রাজা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূপাল রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খালি জাহাজের রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মিশর রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

তিতাস একটি নদীর নাম – অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড - টমাস হার্ডি

কালো বিড়াল - খসরু চৌধুরীর

মর্নিং স্টার - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড
ক্লিওপেট্রা - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

১৯৭১ – হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ
অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
অদ্ভুত সব গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
অনীশ – হুমায়ূন আহমেদ
আজ আমি কোথাও যাব না – হুমায়ূন আহমেদ
আজ চিত্রার বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ – হুমায়ূন আহমেদ
গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন – হুমায়ূন আহমেদ

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।