টপিকঃ অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০১

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল :  ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার
মূল লেখক : অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
অনুবাদক : সাদেকুল আহসান কল্লোল।
https://i.imgur.com/SMv3ucw.jpg
৪৯৯ পাতার বিশাল এই বইটির কাহিনী সংক্ষেপ আমি ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পর্বে লিখে যাব।

পাঠকদের মনে রাখতে হবে আমার লেখা অন্যসব কাহিনী সংক্ষেপের মতো এই কাহিনী সংক্ষেপটিও স্পয়লার দোষে দুষ্ট। এই কাহিনী সংক্ষেপে সম্পূর্ণ উপন্যাসের মূল কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ননা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এখানে উল্লেখ আছে।


==================================================================================

কাহিনী সূত্র : 'অ্যাম্পায়ার অব দ্য মোঘল : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ'। ১৪৯৪ সালে বাবরের বয়স যখন ১২, তাঁর বাবা মধ্য-এশিয়ার (বর্তমান উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের মধ্যে) ফারগানার সুলতান এক দুর্ঘটনায় মারা যান। তার পর থেকেই তৈমুরের বংশধর হিসেবে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার বাসনায় বাবরের পথচলা শুরু। প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, বংশগত শত্রু উজবেক নেতা সাইবানি খানের আক্রমণ, পারস্যের শাহ ইসমাইলের কূটকৌশল_সব পেরিয়ে বাবরের নিয়তি তাঁকে নিয়ে আসে হিন্দুস্তানে। পানিপথের যুদ্ধে ইবরাহিম লোদিকে হারিয়ে বাবর প্রথম মোগল নৃপতি হিসেবে রাজদণ্ড হাতে নেন। তাঁর মৃত্যুর পর 'ক্ষমতার প্রতীক' তৈমুরের আংটি উঠে আসে বড় ছেলে হুমায়ুনের আঙুলে।
আমারবই থেকে



অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০১ পর্ব
প্রথম মোঘল সম্রাট বাবর মারা যাবার মাস দুয়েক পরে একদিন বাবা ইয়াসভালো এসে হুমায়ূনকে জানায় হুমায়ূনের সৎ ভাইয়েরা হুমায়ূনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। বাবা ইয়াসভালো বাবরের আমলের পুরনো বিশ্বস্ত সৈনিক। সে জানায় তার ছোট ছেলেও এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। সেই ছেলেই তাকে জানিয়েছে। হুমায়ূন ঠিক করে ষড়যন্ত্রকারী ভাইদের গ্রেফতার করে হত্যা করবে। সেই মানসেই দিন সাতেক পরে হুমায়ূনের তিন সৎ ভাইকে গ্রেফতার করে শিকল দিয়ে বেধে দরবারে হাজির করা হয়। দরবারের সকল সদস্যদের সামনে ওদের ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ করা হয়। সবাই বুঝতে পারে এবার ওদের প্রাণদণ্ড দেয়া হবে, ঠিক তখন হুমায়ূন সিংহাসন থেকে নেমে এসে ভাইদের জড়িয়ে ধরে। তিনজনকেই মাফ করে দেয় এবং তিনজনকে তিনটি প্রদেশ দান করে যেখানে তারা স্বাধীন ভাবে নিজেদের শাসন চালাতে পারবে। সম্রাটের এই মহানুভবতা দেখে দরবারের সকলে অভিভূত হয়ে যায়।

গুজরাটের বাহাদুর শাহ পরাজিত ইব্রাহিম লোদির ছেলে ও অন্যান্য রাজপুত ও মিত্রদের নিয়ে মোঘলদের বিতাড়িত করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে হুমায়ূন খবর পায়। হুমায়ূন তার মন্ত্রণাসভার সদস্যদের সাথে আলোচনা করে ঠিক করে যেহেতু এখন বাহাদুর শাহের কাছেও কামান ও গাদাবন্দুক রয়েছে সেহেতু আগের মতো সহজেই জয় আসবে না। হুমায়ূনের অশ্বারোহী এক দল যোদ্ধা প্রথম একপাশ থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করবে। বাহাদুর শাহের সৈন্যরা তা প্রতিহত করে প্রতি আক্রমণ করার আগেই হুমায়ূনের সৈন্যরা পিছু হটে লুকিয়ে পরবে। পরে অন্যদিক থেকে আরেক দল একই ভাবে আক্রমণ করবে। বাহাদুর শাহ যখন দ্বিধায় পরে যাবে আক্রমণ কোন দিক থেকে হবে তা ভেবে তখন হুমায়ূন মূল দল নিয়ে সামনে থেকে আক্রমণ করবে। এছাড়া হুমায়ূন ঠিক করে তারা নানান দিকে ছড়িয়ে পরে দিকে দিকে গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় হামলা করবে আর মূল বাহিনী গুজরাটের দুর্গ অবরোধ করে আক্রমণ করবে।

প্লান মাফিক সব চলেতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত হুমায়ূন গুজরাটের দুর্গের কাছে তার বাহিনীর সাথে যোগ দেয়। কিন্তু কোন রকম ভাবেই দুর্গের তীরন্দাজ, ও গোলন্দাজের তীর, গুলি ও কামানের গোলা এড়িয়ে দুর্গে যেতে পারে না। দুর্গটি একটি পাহারের উপরে অবস্থিত বলে হুমায়ূনের সৈন্যরা এগোলেই অকাতরে মারা পরছে। শেষে  হুমায়ূন দুর্গের একটি নির্জন দিকের দেয়ালে একটি বৃষ্টির জল বের হবার কারণে সৃষ্ট ফাটল দেখতে পায়। সেই ফাটল বেয়ে হুমায়ূন ৪০০ সৈন্যের একটি দল নিয়ে ভিতরে ঢুকে পিছন দেখে শত্রুসৈন্যদের কচু কাটা করতে থাকে। যারা আত্মসমর্পণ করে তাদের হত্যা না করে বন্দী করা হয়। কৌশলে রাজ কোষাগারের অবস্থান জেনে নিয়ে ইঁদারার নিচে সেই গুপ্ত কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার, রূপা ও অসংখ্য মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়। হুমায়ূন তার সকল সৈন্যদের সেই সব সম্পদের ভাগ দেয়। এতো কিছুর পরেও সুলতান বাহাদুর শাহকে হুমায়ূন নাগাল পায় না। সে তার রাজ্যের দুর্গম অঞ্চলে লুকিয়ে পরে।

একবছর আগে হিন্দাল ও গুলবদনের মা দিলদার মারা গেছেন। এরপর থেকই কিশোরী গুলবদন তার ফুপু খানজাদার কাছে থাকে। খানজাদা তার ভাতিজির মধ্যে নিজের ছায়া দেখতে পান। গুজরাত থেকে ফিরে হুমায়ূন দেখা করতে যায় ফুপু খানজাদার সাথে। খানজাদা প্রথম মোঘল সম্রাট বাবরকে পরামর্শ দিয়েছেন যেভাবে ঠিক তেমনি ভাবে দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট হুমায়ূনকেও তিনি নানান পরামর্শ দেন। তার বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক চিন্তা খুবই প্রখর। খানজাদা হুমায়ূনকে পরামর্শ দেন দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট হিসেবে তার তৃতীয় বছর উজ্জাপনের জন্য হিন্দুস্থানি রীতিতে অনুষ্ঠান করতে। তাতে হিন্দুস্থানিরা তাকে নিজেদের লোক হিসেবে ভাবতে শুরু করবে। খানজাদার পরামর্শে হুমায়ূন হিন্দুস্থানি রীতিতে তার নিজের ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ, সমপরিমাণ রূপ্য, সমপরিমাণ দামী পাথর, সমপরিমাণ রেশমি কাপর ইত্যাদি নানান শ্রেণী পেশার লোকদের মাঝে বিতরণ করেন। এবং প্রজাদের জন্য বিশাল ভোজের আয়োজন করেন।

উৎসব শেষে সৎ ভাই কামরান ও আকসারীর মা গুলরুখ তার সাথে দেখা করার জন্য হুমায়ূনের কাছে অনুরোধ পাঠায়। হুমায়ূন সাথে সাথে দেখা করতে যায় জেনানা মহলে। সৎ মা গুলরুখের সাথে কথা বলার সময় হুমায়ূন আশংকা করে যে তিনি কামরান ও আসকারীকে আগ্রায় ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করবেন। হুমায়ূনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অপরাধে তাদের দুজনকে হুমায়ূন দূরের দুটি রাজ্যের শাসক হিসেবে নিয়োগ করেছে। যদিও হুমায়ূন প্রথমে ভেবেছিলো তাদের হত্যা করার আদেশ দিবে কিন্তু মৃত্যুর আগে তার বাবা বারবর হুমায়ূনের কাছ থেকে কথা নেন ভাইদের কখনোই চরম শাস্তি দিবে না, তা ভাইরা যত বড় অপরাধই করুক না কেন। যাইহোক, গুলরুখ হুমায়ূনকে এটি ভোজের দাওয়াত দেন গুজরাট বিজয় উপলক্ষে। হুমায়ূন তা গ্রহণ করেন।


-------------------------------------------------------------- চলবে --------------------------------------------------------------

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল - ০১ : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১, পর্ব - ০২পর্ব - ০৩পর্ব - ০৪পর্ব - ০৫পর্ব - ০৬পর্ব - ০৭পর্ব - ০৮পর্ব - ০৯পর্ব - ১০


আমার লেখা অন্যান্য কাহিনী সংক্ষেপ সমূহ:
ভয়ংকর সুন্দর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবুজ দ্বীপের রাজা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূপাল রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খালি জাহাজের রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মিশর রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

তিতাস একটি নদীর নাম – অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড - টমাস হার্ডি

কালো বিড়াল - খসরু চৌধুরীর

মর্নিং স্টার - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড
ক্লিওপেট্রা - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

১৯৭১ – হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ
অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
অদ্ভুত সব গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
অনীশ – হুমায়ূন আহমেদ
আজ আমি কোথাও যাব না – হুমায়ূন আহমেদ
আজ চিত্রার বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ – হুমায়ূন আহমেদ
গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন – হুমায়ূন আহমেদ

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০১

ভাল্লাগছে ভাইয়া clapএত জোশ রিভিউ কেন লেখেন mail

ডিজিটাল বাংলাদেশে ত আর সাক্ষরের নিয়ম চালু নাই।সবটায় দেখি বায়োমেট্রিক।তাই আর সাক্ষর দিতে পারলাম না।দুঃখিত।

Re: অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০১

অপেক্ষা লিখেছেন:

ভাল্লাগছে ভাইয়া clapএত জোশ রিভিউ কেন লেখেন mail

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি অ্যাম্পেরার অব দ্য মোগল-২ : ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার (কাহিনী সংক্ষেপ) - পর্ব ০২ ও ভালো লাগবে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।