সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মরুভূমির জলদস্যু (০১-০৭-২০১৭ ০৯:৩৭)

টপিকঃ অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০৮

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ
মূল লেখক : অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
অনুবাদক : সাদেকুল আহসান কল্লোল।
http://i.imgur.com/uY2bhBD.jpg
৪৪০ পাতার বিশাল এই বইটির কাহিনী সংক্ষেপ আমি ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পর্বে লিখে যাব।

পাঠকদের মনে রাখতে হবে আমার লেখা অন্যসব কাহিনী সংক্ষেপের মতো এই কাহিনী সংক্ষেপটিও স্পয়লার দোষে দুষ্ট। এই কাহিনী সংক্ষেপে সম্পূর্ণ উপন্যাসের মূল কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ননা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এখানে উল্লেখ আছে।

অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) : পর্ব - ০১, পর্ব - ০২পর্ব - ০৩পর্ব - ০৪পর্ব - ০৫পর্ব - ০৬পর্ব - ০৭পর্ব - ০৮পর্ব - ০৯পর্ব - ১০
==================================================================================


অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোঘল : রাইডারস ফ্রম দ্য নর্থ (কাহিনী সংক্ষেপ) - ০৮

বাবরের বিশাল সৈন্য দলের সাথে আছে আরো অনেকে। আছে ব্যবসায়ী, বাদক দল, বেশ্যার দল, সার্কাসের দল। সৈনিক ছাড়া আরো আছে দৈনন্দিন কাজ করার জন্য সাধারণ লোক ও তাদের পরিবার। বিশাল এক চলমান শহর নিয়ে বাবর এগিয়ে দলে দিল্লীর দিকে। সরু একটি বাক পেয়ে সিন্ধু নদী পার হয় তারা। নদী পার হয়ে তীরের কাছেই তাঁবু ফেলে বাবর। হুমায়ূন কিছু সৈন্য নিয়ে এগিয়ে যায় গুপ্ত সংবাদ সংগ্রহের জন্য আর বাবর দিল্লীর অধীনস্থ রাজ্যের এক রাজা ফিরোজ শাহকে প্রস্তাব পাঠায় বাবরকে সম্রাট হিসেবে মনে নিতে। ফিরোজ শাহের রাজ্যের উপর দিয়েই যেতে হবে বাবরকে। কিন্তু ফিরোজ শাহ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এরমধ্যে হঠাত করে নদীর জল বেড়ে গিয়ে বাবরের তাঁবু ডুবিয়ে দেয়। লোকেরা অবশ্য তার আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। পানি নেমে গেলে বেচে যাওয়া দ্রব্য সংগ্রহ করে আবার চলতে শুরু করে সকলে।


বাবর পানিপথ নাম স্থানে তাঁবু ফেলে অবস্থান নেয়। অন্য দিকে দিল্লীর সুলতান ইব্রাহিম লোদি তার ৭০ হাজার অশ্বারোহী ৩০ হাজার পদাতিক ও ১ হাজার হস্তির বিশাল বাহিনী নিয়ে ধীর গতিতে পানিপথের দিকে এগিয়ে আসে। বাবর তার পূর্বপুরুষ তৈমুরের মত তার শিবিরের সামনের দিকে মাটিতে গর্ত খুরে রাখে আর সেই মাটি দিয়ে শিবিরের সামনের দিকে দেয়াল তৈরি করে। বিশাল হাতির দল সেই গর্তের কারণে ঠিক মত যুদ্ধে ভূমিকা রাখতে পারবে না। দুই পাশ থেকে বাবুরী ও হুমায়ূন সৈন্য নিয়ে আক্রমণ করবে আর সামনে দেয়াল আর গাড়ির আড়াল থেকে গোলন্দাজ বাহিনীর তুর্কী সর্দার আলী কুলির নেতৃত্বে কামান আর বন্দুক থেকে গোলা বর্ষণ করা হবে। তীরন্দাজদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে হাতির মাহুতকে হত্যা করে হাতিকে নিঃক্রিয় করে দেয়া। তখন বাবর সামনে থেকে তার দল নিয়ে আক্রমণ করবে।


সব প্রস্তুতি শেষ করে বাবর বসে থাকে কিন্তু ইব্রাহিম লোদি বাবরের শিবিরের ৩ মাইল সামনে বসে থাকে, আক্রমণ করে না। বাবর ঠিক করেন তিনি লোদিকে আক্রমণ করার ব্যাপারে প্রলুব্ধ করবেন। তাই বাবর আর বাবুরী ২ হাজার অশ্বারোহীরা যোদ্ধা নিয়ে অতর্কিতে আক্রমণ করে কিছুক্ষণের মধ্যে পিছু হটে ফিরে আসে। ফেরার সময় একজনকে বন্দি করে নিয়ে আসে। তার মাধ্যমে খবর পাঠায় লোদি কাপুরুষ বলে আক্রমণ করছে না। এদিকে ইব্রাহিম লোদি বাবরকে আক্রমণ করে পালিয়ে যেতে দেখে ভাবে বাবর ভয় পেয়েছে। বাবরযে ইচ্ছাকৃত ভাবে তাকে আক্রমণে উৎসাহিত করার জন্য পালিয়েছে তা বুঝতে পারে না। ইব্রাহিম লোদি পরদিন ভোরে আক্রমণের জন্য এগিয়ে আসে।


শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। প্লান মত সব কিছু চলতে থাকে। গোলন্দাজ বাহিনীর কামান চালতেই অনেক হাতি নিহত ও আহত হয়। আহত ও ভীত হাতিরা উলটো দিকে ঘুরে গিয়ে নিজেদের পদাতিক বাহিনীকে পায়ে মারিয়ে পালাতে শুরু করে। তখন তীরন্দাজরা হাতির মাহুত আর পদাতিকদের উপর আক্রমণ করে। সামনের সৈন্যরা যখন জান নিয়ে পালাতে শুরু করে তখন বাবর তার অশ্বারোহী সৈন্যদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে। দেখতে দেখতে দুপুরের আগেই বাবর যুদ্ধ জয় করে ফেলে। যুদ্ধের শুরুতেই ইব্রাহিম লোদি কামানের গোলায় আহত হয়ে মারা যায়। বাবর তাবুতে ফিরে এসে বাবুরী ও হুমায়ূন পলায়ন রত সৈন্যদের হত্যা বা বন্দি করে নিয়ে আসার সংবাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। ৫ ঘণ্টা পরে হুমায়ূনের দল ফিরে আসে।


হুমায়ূন পলায়ন রত সৈন্যদের পিছু ধাওয়া করে নিঃচিহ্ন করে দেয়। এমনি ভাবে ধাওয়া করতে করতে দূরের একটি তাবুতে হাজির হলে দেখে সেখানে দিল্লীর সুলতানের অধীনের এক রাজপরিবার অবস্থান করছে। গোয়ালিয়রের রাজা যুদ্ধে নিহত হয়েছে। তার লোকেরা সব হুমায়ুনের ভয়ে পালিয়ে গেছে। তারা শুনেছে হুমায়ূন সবাইকে হত্যা করছে। রাজার মা ও তরুণী স্ত্রী ও শিশু সন্তান শুধু রয়েছে। তারা রাজার অন্তস্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায়। হুমায়ূন তাদের অভয় দিলে রাজার মা খুশী হয়ে একটি হীরক খণ্ড হুমায়ূন কে উপহার দেয়। হুমায়ূন তাবুতে ফিরে সেই হীরক খণ্ড কহিনূর বাবা বাবরকে যুদ্ধ জয়ের স্বারক উপহার হিসেবে দেয়। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যে কয়েকজন বাবুরীর লাশ নিয়ে ফিরে আসে বাবরের সামনে। বাবর তার প্রিয় বন্ধু ও বিশ্বস্ত সেনাপতিকে হারায়।


বাবর হুমায়ূনের নেতৃত্বে সৈন্য পাঠায় ইব্রাহিম লোদির রাজধানী আগ্রা দুর্গে গিয়ে শাহি খাজানা হেফাজত করতে ও নিজেদের দখল কায়েম করতে। বাকি সৈন্যদের নিয়ে বাবর এগিয়ে যায় দিল্লী। দিল্লী পৌঁছে জুমা মসজিদে নিজের নামে খুতবা পাঠের পরে বাবর নিজের লোককে দায়িত্ব দিয়ে এগিয়ে যায় আগ্রার দিকে। কিন্তু ভারতের অসহ্য গরম ও মাছির যন্ত্রণায় সকলে অস্থির হয়ে ওঠে। সেনাপতিরা ঠিক করে তারা কাবুলে ফিরে যাবে। কিন্তু বাবর তাদের বুঝায় যে এখনো তাদের অনেক কিছু অর্জনের বাকি আছে। ইব্রাহিম লোদি যুদ্ধে হেরেছে ঠিকই,  কিন্তু তার অধীনস্থ অসংখ্য রাজ্যের রাজারা নিজ নিজ দুর্গে বসে আছে। তাদেরকে পরাজিত করে নিজেরা একটি নতুন সাম্রাজ্য তৈরি করবে। বাবরের ভাষণে আবার সবাই আকৃষ্ট হয়ে বাবরের সাথেই থেকে যায়।


-------------------------------------------------------------- চলবে --------------------------------------------------------------


আমার লেখা অন্যান্য কাহিনী সংক্ষেপ সমূহ:
ভয়ংকর সুন্দর – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সবুজ দ্বীপের রাজা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ভূপাল রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
খালি জাহাজের রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মিশর রহস্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

তিতাস একটি নদীর নাম – অদ্বৈত মল্লবর্মণ

ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউড - টমাস হার্ডি

কালো বিড়াল - খসরু চৌধুরীর

মর্নিং স্টার - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড
ক্লিওপেট্রা - হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

১৯৭১ – হুমায়ূন আহমেদ
অচিনপুর – হুমায়ূন আহমেদ
অয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
অদ্ভুত সব গল্প – হুমায়ূন আহমেদ
অনীশ – হুমায়ূন আহমেদ
আজ আমি কোথাও যাব না – হুমায়ূন আহমেদ
আজ চিত্রার বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ – হুমায়ূন আহমেদ
গৌরীপুর জংশন – হুমায়ূন আহমেদ
হরতন ইশকাপন – হুমায়ূন আহমেদ

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।