টপিকঃ দেশের উন্নয়ন অভাবনীয়

২০৪১ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। আমাদের অনুসৃত উন্মুক্ত অর্থনীতি উপ-আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উইন-উইন অবস্থান তৈরি করে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে এবং জনপ্রতি মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ডলারে উন্নীত হবে। দেশে শিল্প বিকাশ ও বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়াতে বর্তমান সরকার বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পে বিভিন্ন পরিসেবা, ভূমির নিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতামূলক প্রণোদনা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানসহ বিনিয়োগ বান্ধব আইন ও নীতিমালা করা হয়েছে। বেসরকারী খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ধরে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বেসরকারী খাতের উন্নয়নে আর্থিক নীতি নির্ধারণ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গঠনে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ আনতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে  একশত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার হচ্ছে। যেখানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ হবে। শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ২০২১ সালে আইটি সেক্টরে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান এবং এ সেক্টর থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করার টার্গেট নিয়ে কালিয়াকৈরে ৩৫৫ একর জমির ওপর পিপিপি’র ভিত্তিতে হাই-টেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৬২টি দেশে ১ কোটিরও বেশী বাংলাদেশী কর্মী কর্মরত আছেন। বিদেশে যেসব প্রবাসী অবৈধ অবস্থায় আছে তাদের সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বৈধকরণ, আইনী সহায়তা প্রদান এবং দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ কর্মীদের বৈধতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাসসহ নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারসের (পিডব্লিইসি) ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৯তম এবং ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। যার বর্তমান অবস্থান ৩১তম। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের সোনার বাংলা।