টপিকঃ কিউকার্ড কি? কিভাবে একটি কিউকার্ড অ্যাকাদিয়েউন্ট ওপেন করবেন? কিউকার্ড

কিউকার্ড কি?

কিউকার্ড একটি ভার্চুয়াল মাস্টারকার্ড। আপনি মাস্টারকার্ড, পেপাল, পেওনিয়ার, স্ক্রিল এর মাধ্যমে যা যা করতে পারেন এই একই কাজ আপনি এখন থেকে কিউ কার্ডের মাধ্যমে করতে পারবেন। কিন্ত এই কিউ কার্ডটি হচ্ছে ভার্চুয়াল অর্থাৎ অনলাইন কার্ড। আপনি হয়ত কোন বুথ থেকে টাকা তুলতে পারছেন না তাছাড়া বাকি সব কাজই এই কিউ কার্ডের মাধ্যমে করতে পারছেন। সাধারণত মাস্টারকার্ড, পেপাল যতটা সুরক্ষিত ঠিক ততটাই কিউকার্ড সুরক্ষিত। তাই আপনি এখন থেকে মাস্টারকার্ড, পেপাল এর বিকল্প হিসাবে কিউকার্ড আপনার প্রথম পছন্দ হতে পারে।

কিভাবে একটি কিউকার্ড অ্যাকাউন্ট ওপেন করবেন?

www.qcardasia.com প্রথমে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজার রেজিস্ট্রেশনে ক্লিক করুন। তারপর আপনি আপনার লগ ইন অপশন পেয়ে যাবেন। এই পেজে আপনাকে কিউকার্ডের জন্য অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। প্রথমে আপনি ই-মেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্রিয়েট এন অ্যাকাউন্ট এ ক্লিক করুন।
তারপর সাইন আপের একটা পেজ পেয়ে যাবেন। এই পেজে আপনার ফাস্ট নেম, লাস্ট নেম, ই-মেইল, কনট্রাক নাম্বার, ডেট অফ বার্থ, জেন্ডার, স্ট্রিট নাম্বার, অ্যাড্রেস, সিটি/টাউন, পোস্ট কোড তারপর কান্ট্রি সিলেক্ট করে একটু নিচে এসে পাসওয়ার্ড দিয়ে তারপর পুনরায়  পাসওয়ার্ড দিয়ে কনফ্রম হতে হবে। এবার আপনাকে ২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ১। আপনি কি জন্য কিউকার্ড টি ব্যবহার করতে চাচ্ছেন? ২। আপনি কোথা থেকে কিউ কার্ডের কথা সুনতে পেয়েছেন? এই সব ডকুমেন্ট কমপ্লিট করে আপনি যদি অ্যাকাউন্ট খুলতে রাজি থাকেন তাহলে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনে (আই এগ্রি) এই ফর্মে ক্লিক করুন। তারপর কিউকার্ডের সাপোর্ট মেম্বাররা আপনার অ্যাকাউন্ট কিছু সময়ের মধ্যে অ্যাপরুভ বা অনুমতি দিয়ে দিবে। আপনি পুনরায় লগ ইন পেজে আসুন তারপর ই-মেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করুন। লগ ইন করার পর এবার আপনাকে ফাইল আপলোড  করতে হবে। সাধারনত আপনাকে ন্যাশনাল আইডি দিতে হবে যদি ন্যাশনাল আইডি না থাকে তাহলে পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিন এবং আপনার বাসার অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশনের জন্য বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল অথবা ইন্টারনেট বিল এই ডকুমেন্ট এর যেকোনো একটি দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। কিছু সময়ের মধ্যে কিউকার্ডের সাপোর্ট মেম্বাররা আপনার অ্যাকাউন্ট গ্রহণ করে নিবে।     

কিউকার্ডের প্রাইসিং সম্পর্কে জেনে নিন।

কিউকার্ড বাংলাদেশীদের জন্য নিয়ে এলো সব থেকে কম মূলের কার্ড। কিউকার্ড এশিয়াদের জন্য ভার্চুয়াল কার্ডটি সব সময় পাওয়া যাচ্ছে। এই কিউ কার্ডটির মূল্য ৪০ ডলার যা বাংলাদেশি দের জন্য ৩০০০ টাকা মাত্র। সমগ্র এশিয়া কান্ট্রি এর জন্য ভার্চুয়াল কিউকার্ড পাওয়া যাচ্ছে। এই কার্ডটিতে আপনার জন্য সব থেকে বড় সুবিধা হল আপনাকে মাসিক/বাৎসরিক কোন চার্জ দিতে হচ্ছে না। কিউকার্ডের টাকা জমা বা ওঠানো(উইথদরউ) এর কোন প্রকার চার্জ নেই। কিউকার্ডের এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্ট এ টাকা পাঠাতে কোন চার্জ নেই। কিউকার্ড থেকে আপনি খুব সহজে ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে পারছেন কোন প্রকার চার্জ ছাড়া।

কিউকার্ডের মাধ্যমে কিভাবে আপনি ই-কমার্স সাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনবেন?

আলীবাবা, অ্যামাজন, ইবে সাধারণত এই সব ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে আমরা প্রচুর পরিমানে প্রোডাক্ট কিনে থাকি। কিন্ত এই প্রোডাক্ট কিনতে আমাদের হয় মাস্টারকার্ড, পেপাল, পেওনিয়ার, স্ক্রিল এর মাধ্যমে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক কার্ড কিনতে আমাদের অনেক খরজ করতে হয় এবং সেটি পাওয়া খুবই কষ্টকর। শুধু তাই নয়, এই সব কার্ডের মাসিক-বাৎসরিক চার্জ দাওয়া লাগে। এমনকি টাকা ওঠাতে গেলে আপনার একটা নির্দিষ্ট পরিমান চার্জ কাটে। এই সকল সমস্যার সমাধান একটাই কিউকার্ড। আসুন এবার দেখে নাওয়া যাক কিভাবে একটি কিউকার্ড দিয়ে কোন প্রকার চার্জ ছাড়ায় ই-কমার্স সাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনবেন।

ধরুন আপনি ই-বে থেকে প্রোডাক্ট কিনতে চাচ্ছেন। তাহলে দেখুন কিভাবে কিউ কার্ডের মাধ্যমে আপনি ই-বে থেকে প্রোডাক্ট কিনবেন।

প্রথমে আপনি ই-বের সাইটে যান। প্রোডাক্ট গুলি দেখার পর আপনার কোন প্রোডাক্টটা ভাল লেগেছে বা পছন্দ হয়েছে ওইটাতে ক্লিক করুন। তারপর প্রোডাক্ট এর পেজটা যখন ওপেন হবে তখন বায় নাউ তে ক্লিক করুন। এই আগে আপনাকে অবশ্যই প্রোডাক্ট এর কালার, সাইজ, কোয়ালিটি সিলেক্ট করে নিতে হবে। তারপর ই-বের লগ ইন পেজ আসবে। যেহেতু আপনার ই-বেতে কোন অ্যাকাউন্ট নাই তাই আপনাকে কন্তিনিউ অ্যাজ এ গেস্ট এই অপশনে ক্লিক করতে হবে। তারপর আপনার সব ইনফর্মেশন এখানে দিতে হবে। ডকুমেন্ট সাবমিট করে কন্তিনিউ অ্যাজ গেস্ট এ ক্লিক করুন। এবার আপনি কিসের মাধ্যমে পে করতে চাচ্ছেন এই অপশনটা আসবে। এখন আপনার কিউকার্ডের - কার্ড নাম্বার, এক্সপেরিমেশন ডেট, কার্ডের পিছনের অংশের ৩/৪ ডিজিটের কোড এই তথ্য বা আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে নিচে এসে পে বাটনে ক্লিক করলে আপনার কিউকার্ড অ্যাকাউন্ট থেকে যে ডলার দিয়ে শপিং বা প্রোডাক্ট কিনেছেন তা কেটে নিবে। ঠিক একই ভাবে আপনি আলিবাবা, অ্যামাজন সহ পৃথিবীর লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট কিনতে পারেন এই একটি মাত্র কিউকার্ড দিয়ে।

কিউকার্ড দিয়ে কিভাবে আপনার ফেসবুক পেজ বুষ্ট করবেন?

আমাদের অনেকেরই বিজনেস পেজ আছে। কিন্ত এই বিজনেস পেজে বুস্ট করার জন্য মাস্টারকার্ড বা পেপাল আমাদের কাছে নাই। তাই কিউকার্ড আপনার জন্য নিয়ে এলো বুস্ট এর জন্য সব থেকে ইজি ওয়ে। এখন আর মাস্টারকার্ড বা পেপাল লাগছে না। কিউ কার্ড দিয়েই আপনি মনের খুশিতে বুস্ট করুন যত খুশি তত। তাহলে আসুন এবার জেনে নাওয়া যাক কিভাবে ফেসবুক পেজে কিউকার্ড দিয়ে খুব সহজে বুস্ট করবেন।

প্রথমে আপনার অফিশিয়াল পেজ বা বিজনেস পেজে যান। আপনি কোন পোস্টটি বুস্ট করতে চাচ্ছেন ওই পোস্টটি সিলেক্ট করুন বা পোস্টটির ডান দিকে নিচে দেখুন বুস্ট অপশন আছে। এখানে ক্লিক করুন। এবার বুস্ট পেজের ভিতরে প্রবেশ করুন। এখানে কিছু অপশন পাবেন যেমন, আপনি কোন লোকেশনে দিতে চাচ্ছেন, কোন বয়সি মানুষের কাছে আপনার বুস্টটি পৌছাতে চাচ্ছেন, আপনার বাজেট কত? অর্থাৎ আপনি কত ডলারের বুস্ট দিতে চাচ্ছেন?, আপনার বুস্ট এর সময় কাল কত? অর্থাৎ কত দিনের জন্য আপনি এই বুস্টটি দিতে চাচ্ছেন। এই সব কিছু সিলেক্ট করে আপনি এবার বুস্ট অপশনে ক্লিক করুন। এখন আপনি কোন মাধ্যমে ডলার পে করতে চান? এখন আপনার কিউকার্ডের কার্ড নাম্বার, এক্সপেরিমেসন, সিকুরিটি কোড দিয়ে কন্তিনিউ এ ক্লিক করলে আপনার বুস্ট হয়ে যাবে।