শেয়ার

টপিকঃ সৌরবিদ্যুৎ নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

বর্তমান বিশ্বে বিদ্যুৎ এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিত্য দিনের চলার পথের পাথেয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের উন্নয়নই দেশকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পৃথিবীর অনেক দেশে বাতাস, নদীর পানিপ্রবাহ, সমুদ্রের স্রোত ও ঢেউ, ভূগর্ভের তাপ ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এত উৎস কার্যকরভাবে নেই। এখানে সৌরশক্তিই প্রধান নবায়নযোগ্য উৎস। তাই বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও জোর দিয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ হাজার নতুন সোলার হোম সিস্টেম বসানো হচ্ছে। এর সুবিধা পাচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। আজকাল কয়েকজন গ্রাহকের জন্য ‘মিনি গ্রিড’ সোলার সিস্টেমও চোখে পড়ছে, ‘সৌর সেচ’ ব্যবস্থাও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার ডিজেল সেচ পাম্পকে পর্যায়ক্রমে ‘সৌর পাম্পে’ রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা বাস্তবায়িত হলে সেচ মৌসুমে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিকল্প উৎস মিলবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে যে মোট ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার ১০ শতাংশ উৎপাদন করা হবে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে-এমন লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাধাহীন সূর্যালোক পায় এমন ভবনগুলোর ছাদ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে, গ্রাহককে তাঁর বাসার ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে হবে। সরকারি হিসাবে দেশে ইতিমধ্যে গ্রাহকদের বাসাবাড়ির ছাদে যেসব সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, তা থেকে মোট ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। দেশের বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলোর ছাদে (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটা বাণিজ্যিক মডেল দাঁড় করানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জামালপুর জেলার কিছু সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে একটা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকার এই মডেলকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখছে। শিল্পকারখানার ছাদ ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে। বাণিজ্যিক উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সরকার তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে কিনে নিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার পথও প্রশস্ত করেছে। এর উদ্দেশ্য হলো, বিভিন্ন ইমারতের ছাদে বিচ্ছিন্নভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাই সরকারের উন্নয়নে বাঁধা না হয়ে সরকারকে সহযোগিতা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।