টপিকঃ ছিটমহল বিনিময় ও তার সাফল্য

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহলবাসী দীর্ঘদিন যাবত নাগরিক সুজোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকারের নিরলস চেষ্টায় ছিটমহলবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আজ সফল। ছিটমহল বিনিময়ের ফলে ছিটমহলবাসীরা পেয়েছে নাগরিক সুজোগ-সুবিধা। বাংলাদেশ সরকারের এই ঐকান্তিক চেষ্টা ও সফলতা আজ বিশ্ব বাসীর কাছে    
ঈর্শণীয় ঘটনা। রাষ্ট্রের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সফল হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নিঃসন্দেহে দারুণ এক সুযোগ। টানা সরকার পরিচালনার আট বছরে বর্তমান সরকারের সাফল্য চোখে পড়ার মত। এ সময়ে সাফল্যের হিসাবখাতায় তালিকার সামনেই রাখতে হবে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের পুরনো ছিটমহল সমস্যার সমাধান। ছিটমহল বিনিময় তথা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভূমি বিনিময়, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দুই দেশের জন্য ছিটমহল বিনিময়ের ঘটনা শুধু কূটনীতিক বা রাজনৈতিক সাফল্যই নয়, মানবিকতার মানদণ্ডেও এক বিরাট অর্জন। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয় ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলের ৫৫ হাজার মানুষ। বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের ভূমি হিসেবে এবং ভারতের ভেতরকার বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো ভারতের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছিল ভারতের ১১১টি ছিটমহল। এসব ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর ভূখণ্ড বাংলাদেশের মালিকানাভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় ছিল এসব ভূখণ্ডের অবস্থান। ২০১৫ সালের ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ছিটমহলে দুই দেশের মোট বাসিন্দা ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ৯৭৯ জন তাদের ভারতের নাগরিকত্ব বহাল রেখে ভারত ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি ভারতীয় ছিটমহলবাসীদের আস্থা এবং ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে তখন অনেক মানুষ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেদের অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছিল। সেই ১৯৭৪ সালে ভূমি বিনিময় নিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যা ইতিহাসে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত। বাংলাদেশ চুক্তিটি অনুসমর্থন করলেও ভারত তখন তা করেনি। ২০১১ সালে সীমান্ত চুক্তির সঙ্গে সই হয় প্রটোকল। অনিবার্য হয়ে পড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রটোকলসহ সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করতে ভারতের সংবিধান সংশোধন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশটির পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে সংবিধান সংশোধনে সমর্থ হয়। এরপরই প্রটোকলসহ সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পথ খোলে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারভিত্তিক বর্তমান সভ্য বিশ্বে ছিটমহলের অস্তিত্ব ছিল বিশ্বমানবতার জন্য এক লজ্জাজনক অধ্যায়। ছিটমহল বিনিময় প্রক্রিয়ায় সফল হয়ে রর্তমান সরকার হাজার হাজার মানুষের জীবনে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনি নতুন প্রজন্মকে দিয়েছে অসীম সম্ভাবনার এক উর্বর ক্ষেত্র। ভারত ও বাংলাদেশ বন্ধুরাষ্ট্র। ছিটমহল বিনিময় দুই দেশের জন্যই  দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বয়ে আনবে।