টপিকঃ আর কোন স্বপ্ন নয় – বাস্তবতা

বাংলাদেশের বিষ্ময়কর অগ্রযাত্রার নিরবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতায় সাফল্যের তালিকায় প্রতিনিয়ত সংযোজিত হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়। এতে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যেমন সুসংহত হচ্ছে, ঠিক তেমনি দেশবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের সবচেয়ে অগ্রসরমানতার সূচক তথ্য-প্রযুক্তিখাতের পরিসেবায় কোন দেশ কতদূর ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে তার মানদন্ডেই ‌নিরুপিত হয়। দুনির্বার গতিতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় এক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যও প্রণিধানযোগ্য।   এরই ধারাবাহিকতায় দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে চালু হতে যাচ্ছে ফোরজি সেবা। এ ছাড়াও মোবাইল নম্বর না বদলে নেটওয়ার্ক বদলে গ্রাহকের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি) সেবা, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উন্নত ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক চালু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণসহ অনেক প্রত্যাশার পূরণ হবে অচিরেই। সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় নতুন বছরে তাদের প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে টেলিযোগাযোগ খাতে মানসম্পন্ন গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা। মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহকরা মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছেন কি-না তা নিখুঁতভাবে যাচাইয়ের জন্য নতুন যন্ত্রপাতি কিনেছে বিটিআরসি। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেবার মান যাচাইয়ে এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে নানা সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যার সুফল পাওয়া যাবে নতুন বছরের শুরু থেকেই। বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সহজে বহনযোগ্য এসব যন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াবেন এবং সেবার মান কতটা রক্ষা করা হচ্ছে, তা যাচাই করবেন। এর ভিত্তিতে কোন অপারেটর কতটা মানসম্পন্ন সেবা দিচ্ছে, এর মূল্যায়নও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করবে বিটিআরসি। সেবার মান নিশ্চিত না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করবে। সময়োপযোগী করে নতুন জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্তের পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়ে ফোরজি সেবা চালু করা হতে যাচ্ছে নতুন বছরে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের বড় মাইলফলক। অন্যদিকে ২০১৭ সালেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ শেষে তা উৎক্ষেপণ করা হবে, ইতোমধ্যে স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সারাদেশে উন্নত ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার কাজও চলমান চলছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, দেশের সব পর্যায়ের মানুষকে উন্নত ডিজিটাল সেবার আওতায় এনে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ করার মাধ্যমে জাতির জনকের সমৃদ্ধ সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করা। বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা আর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অব্যাহত সাফল্যে জনমনে এখন এই বিশ্বাসের ভিত গড়ে উঠেছে, সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ আর কোন স্বপ্ন নয় – বাস্তবতা।