সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (০৯-১০-২০১৬ ১৬:২৬)

টপিকঃ বাংলাদেশে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা

বাংলাদেশে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। বেড়েছে যৌন হয়রানি, ধর্ষণসহ, অপহরণের ঘটনা। এগুলোর মধ্যে কিছু ঘটনা প্রকাশিত হলেও বেশির ভাগ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায় লোকলজ্জার কারণে। এসব ঘটনায় নির্যাতিতদের আইনি সুবিধার্থে ২০০০ সালে সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন তৈরি করে। সে আইনকে ২০১৩ সালে সংশোধন করে আরো কঠোর করা হয়।

কঠিন আইন থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেক সময়ে ভুক্ত ভোগীরা মামলা করতে ভয় পায়, মিডিয়ায় প্রকাশিত কোন ঘটনা ঝড় তুললে তখন হয়ত মামলা হয়, কিন্ত আসামী ধরা পড়ে না, যেমন তনুর হত্যাকারীরা ধরা ছোয়ার বাহিরে, ধরা পড়লেও সাজা হয়না, সাজা হলেও সেজে রাজনৈতিক বিচারে সাধারন ক্ষমার আওতায় বেরিয়ে আসে, আবার শুরু করে অপকর্ম..............

বিচার হীনতার কারনেই অপরাধ বেড়েই চলছে, ২০১৫, ২০১৬ সালের প্রতিদিনের পত্রিকায় দেখা যায় প্রতিদিন কতজন নারী আর শিশু নির্যাতন শিকার হচ্ছে, কতজন ভুক্ত ভোগী বিচার পেয়েছে? কতজন অপরাধীর সাজা হয়েছে?

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিগত দু’বছরের নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হল:
   

সর্বসাকুল্যে ২০১৫ সালে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে (৩৫%) বেড়েছে। এছাড়া যৌতুকের কারণে নির্যাতন (২৮%), যৌন হয়রানি (including stalking) (২৪%) বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে কমেছে গৃহকর্মী নির্যাতন ৫৬%, ফতোয়া ৪৩% এবং এসিড সন্ত্রাস ২২%।
    ২০১৫ সালে ১৮৪৭ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং সহিংসতার শিকার হয়ে ৩০১ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
    সংবাদপত্রে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন বা তার বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
    ২০১৫ সালে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সহিংসতার শুধুমাত্র
এক-তৃতীয়াংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।


নারী নির্যাতন বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

রেকর্ড ভেঙেছে নারী নির্যাতনের হার
    |   
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১০:৪৪:২১
নারী নির্যাতনের হার ও বীভৎসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। একটি হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশে ১৬৯ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তবে বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। আরও কয়েকটি সংস্থার নিজস্ব পরিসংখ্যানও নারী নির্যাতন পরিস্থিতির অবনতির চিত্র দিচ্ছে। পুলিশের মামলার হিসাবও বলছে, নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। নারী আন্দোলনকর্মী, মানবাধিকারকর্মীরা প্রতিনিয়তই এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

নারী নির্যাতন বেড়েছে ৭৪ শতাংশ

শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের এক জরিপে জানা যায়, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। ব্রাকের নিজস্ব কর্মীদের মাধ্যমে ৫৫টি জেলায় সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। ব্র্যাকের তথ্য মতে, নারীর প্রতি সহিংস ঘটনার ৬৮ শতাংশই নথিভুক্ত হয় না। নথিভুক্ত হলে সংখ্যাটি আরও বাড়ত। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির পরিচালক আন্না মিন্স বলেন, সাধারণ যে পরিবারের মেয়েরা নির্যাতনে শিকার হন তারা আইনি সেবা নিতে উৎসাহ দেখান না। বেশিরভাগ ঘটনার ক্ষেত্রেই মাত্র এক-চতুর্থাংশ মামলা হয়। আইনি দীর্ঘসূত্রতাসহ অর্থ সংকটের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতিতের পরিবার আসামিপক্ষের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে বা সামাজিক উপায়ে আপস করে ফেলেন। বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ২০১০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল ১৭ হাজার ৭৫২। ২০১৫ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ২২০। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েবসাইটেও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তালিকায় ‘নারী নিপীড়ন’ শিরোনামে ১০০ মামলার কথা উল্লেখ আছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন-সংস্থা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নারী নির্যাতনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ ১১ বছর দুই মাসে বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হত্যা ও আত্মহত্যা করেছেন ৫৬ হাজার ৬৫৬ নারী। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ি, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০৫ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিনজনকে।

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: বাংলাদেশে বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা

নারী উন্নয়নে দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল