সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন gmakas (০৬-১০-২০১৬ ১৬:৪৮)

টপিকঃ ১২৯৩ ও ৩০ লক্ষ

১২৯৩  ও  ৩০ লক্ষ


লক্ষ মানুষের আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে নয়  মাসের মুক্তিযুদ্ধে একশ্রেণীর “মুক্তিযোদ্ধা’র বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের যে বীরগাথা গাওয়া হয়, তার মাঝে যেমন রয়েছে অন্ধ আবেগ, তেমনি রয়েছে বিশেষ বিশেষ মহলের আতশ্লাঘা মিশ্ৰিত অতিরঞ্জনের বহিঃপ্রকাশ।
তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানা খুব প্রয়োজন।  সেই সব  প্রকৃত ইতিহাস আজ অনেক দেরিতে হলেও জনসমক্ষে আসছে। অন্তত নতুন প্রজন্মের কাছে সত্যনিষ্ঠ  ইতিহাস উপস্থাপনার স্বার্থে সত্য গুলি উঠে আসুক।  পড়ছিলাম অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ বাঙালী ও বাংলাদেশ----- রইস উদ্দিন আরিফ । সেখান হতেই লিখাটা শেয়ার করলাম।
>>মুক্তিবাহিনী-মুজিববাহিনীর পোশাকে “পঞ্চমবাহিনী”(বীরত্বের অতিকাহিনী)


পাকিস্তানী স্বৈরাচারবিরোধী, বিদেশী সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সুদীর্ঘকালের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় পূর্ববাঙলার মুক্তিকামী জনগণের সংগ্রাম অতর্কিতে স্বাধীনতা যুদ্ধে রূপলাভ করে একাত্তরে। জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের এই সূচনার মধ্য দিয়ে শতাব্দীর দুঃখ-দুৰ্দশা ও দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে এ ভূখণ্ডের জনগণের মুক্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু জাতির এ সম্ভাবনাময় মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নখাতে পরিচালিত করার জন্য দেশীবিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি অতীতের মতোই সক্রিয় হয়ে ওঠে।
অতঃপর বিদেশী শক্তির বিশেষ আনুকূল্যে ও যোগসাজশে সাম্রাজ্যবাদসম্প্রসারণবাদের দালাল মুষ্ঠিমেয় সামন্ত-বুর্জোয়া-পেটিবুর্জেীয়া শ্রেণীর নেতৃত্বাধীন নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে বহু বিয়োগান্তক অধ্যায় সৃষ্টি করেছিল, সে ইতিহাস আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে আমাদেরকে আবারও ফিরে যেতে হবে একাত্তরের যুদ্ধের ময়দানে।
শক্ৰবাহিনীর তাড়া খেয়ে “বাঘের থাবা থেকে বাচার জন্য কুমিরের ঘরে আশ্রয় নিয়ে সেই “কুমিরবাহিনীর একচ্ছত্র কমান্ডের অধীনে থেকে যুদ্ধ করার নাম যদি হয় জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ তাহলে বলতেই হবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত সংজ্ঞা জানার জন্য আমাদেরকে নতুন করে ‘সাতখণ্ড রামায়ণ” ঘাটতে হবে।
যুদ্ধের ময়দান যেখানে পুরোপুরিভাবেই রণনীতি ও রণকৌশলের বিষয়—সেখানে যুদ্ধ, তাও আবার “জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ' নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদেরকে অবশ্যই আবেগপ্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। তা না হলে আবেগের তাড়নায় ইতিহাসের জঞ্জালই কেবল বাড়বে না, ইতিহাস বিকৃত হওয়ারও সমূহ বিপদ থেকে যাবে।

বাংলাদেশের আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে এটা হয়তো খুবই অবিশ্বাস্য ব্যাপার বলে মনে হবে যে—যুদ্ধক্ষেত্রের সাদা-মাটা যোগ-বিয়োগের হিসেব অনুযায়ী একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা ’৭১-এর ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শক্রবাহিনীর ওপর হামলা পরিচালনা করে।
>>কথিত ‘ত্ৰিশ লক্ষ’ লোকের রক্তের বিনিময়ে যত সংখ্যক শত্রুসৈন্য নিধন করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন, তা নিয়ে অনেক কল্পকাহিনী রচিত হলেও তার প্রকৃত সংখ্যা মাত্র ১২৯৩।

>>'৩০ লক্ষ’ বনাম ১২৯৩—যুদ্ধের ময়দানে দুই পক্ষের তুলনামূলক ক্ষয়ক্ষতির হিসাবটি ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই মনে হয়।”
২৫ মার্চের "ক্র্যাকডাউনের পরমুহূর্তে পূর্ববাঙলার বিভিন্ন জেলা হেডকোয়ার্টারের ই,পি,আর ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানরত সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় যেসব পাকিস্তানী সেনা গণপিটুনিতে নিহত হয়, তার সংখ্যা বাদ দিলে নয় মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত পাকিস্তানী সৈন্যের সংখ্যা এক বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী অবিশ্বাস্যরকমভাবে কম।

ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রদত্ত রিপোটেও ঐ একই রকম তথ্য পরিবেশিত হয়েছে।

অতি সংক্ষিপ্তাকারে এই হচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রু নিধনের বাস্তব ইতিহাস। প্রসঙ্গত বলা দরকার এসব তথ্য আপাত অবিশ্বাস্য ও অনির্ভরযোগ্য মনে হলেও এ নিয়ে আজ নতুন করে। ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণার দাবী রাখে বৈকি।



>>>মুজিববাহিনীর ফ্যাসিবাদঃ
মুদ্রার অপর পিঠে লেখা হয়ে আছে এমন এক কলংকময় ইতিহাস, যা পাঠ করলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংজ্ঞা কোনো মহাভারতেই খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।


অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও  মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ভারতীয় বাহিনীর সরাসরি পরিচালনাধীন ‘মুক্তিবাহিনী' এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর নিয়ন্ত্রণাধীন “মুজিববাহিনীর বীরপুঙ্গবরা তাদের “মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব অর্জন করেছে যতটা না শক্ৰবাহিনী নিধনের কাজে, তার চেয়ে বড় কৃতিত্ব তারা অর্জন করেছে এ দেশের হাজার হাজার দেশপ্রেমিক বিপ্লবী নেতা-কর্মীদের বুলেটবিদ্ধ করে এবং বেয়নেটে খুঁচিয়ে হত্যা করে। তারা হত্যা করেছে। এ দেশের এমন শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে, যারা ভালোবেসেছিল দেশের মাটি ও মানুষকে, যারা স্বপ্ন দেখেছিল। পাকিস্তানী ও ভারতীয় বাহিনীর দখলমুক্ত একটি স্বাধীন-সার্বভৌম পূর্ববাঙলার।

একাত্তরে এই শ্রেণীর “মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দেশের কয়েক হাজার বামপন্থী বিপ্লবী নেতা-কর্মীদের নিহত হওয়ার ইতিহাস আমাদের বুদ্ধিজীবীদের লেখা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলে খুঁজে পাওয়া যায় না। সে ইতিহাস জানার জন্য আমাদের দ্বারস্থ হতে হয় বিদেশী পর্যবেক্ষক ও লেখকদের কাছে।

তথাকথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার’ ইতিহাস জানার জন্য নির্ভর করতে হয়। স্বাধীনতা-দলিলের বাইরের সূত্রের ওপর।

বাংলাদেশের রাজনীতি ও আর্থ-সামাজিক গতিধারা এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ইয়েনেকা আরেন্স ও ইওস ফান বুরদেন নামে ওলন্দাজ দম্পতির লেখা এক সূক্ষ্ম সত্যাশ্রয়ী গ্রন্থ ঝগড়াপুর পাঠ করে এ বিষয়ে আমরা যে ঐতিহাসিক তথ্যটি জানা যায়   তা নিম্নরূপ :
>>১৯৭১ সালের শরৎকাল থেকে ভারতীয় শিবিরে প্রশিক্ষণ লাভের পর শেখ মুজিবুর রহমানের অনুগত সৈন্যদেরকে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। এদের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল দেশের ভেতরের বামপন্থী শক্তিগুলোর সাথে যুদ্ধ করা। ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে ভারতীয় সৈন্যরাও এদের সাথে বাংলাদেশে আসে এবং এদের কাজে (বামপন্থী নিধনের কাজে— লেঃ) সাহায্য করে ॥
কোনো দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সে দেশের হাজার হাজার দেশপ্রেমিক বিপ্লবী নেতা-কর্মীর এমন নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার ইতিহাস পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
অথচ আমরা এমন এক দুর্ভাগা দেশে বসবাস করি, যে দেশের দেশপ্রেমিকদের রক্তে হাত রঞ্জিত কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধারাই হচ্ছে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার’ একচেটিয়া ধারক-বাহক ।


একাত্তরে মুজিববাহিনী কর্তৃক দেশপ্রেমিক বিপ্লবী কর্মীদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে “ঝগড়াপুর’-এর লেখক-লেখিকা আরও যে তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা পাঠ করলে কথিত ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত চরিত্র আবিষ্কারে আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করে। সেই সাথে একাত্তরে কারা ছিল প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, আর কারা ছিল ‘পঞ্চমবাহিনী’ সে ইতিহাসও আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
>>উক্ত লেখক দম্পতি লিখেছেন :
স্বাধীনতা সংগ্রামে কৃষকদের ভূমিকা সম্পর্কে আজ পর্যন্ত যথাযথ বিশ্লেষণ হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে এবং এ ব্যাপারে পড়াশোনা করে যা জানা যায়। তাতে মনে হয় যে, এই যুদ্ধ সত্যি সত্যি বিপ্লবী যুদ্ধে রূপ পরিগ্রহ করতে যাচ্ছিলো।
কোনো  কোনো এলাকায় ধনী ভূস্বামীদেরকে কিছু জমি ছেড়ে দিতে অথবা ভাগচাষীদের অনুকূলে চুক্তি সম্পাদন করতে বাধ্য করা হয়। কোথাও আবার কৃষক পরিষদ গঠন করা হয়। কোথাও বা গরীব ও মধ্যবিত্ত কৃষকদের নেতৃত্বে নতুন গ্রাম সরকার গঠিত হয়। দেশের বৃহৎ এক অংশ গেরিলাযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। পশ্চিমা একটি সংবাদপত্র অনুযায়ী ১৯৭১ সালের নভেম্বর নাগাদ এই মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সর্বত্র ঘুরে বেড়ানোর শক্তি অর্জন করে। এই বিপ্লবের শক্তি প্ৰচণ্ড ছিল বলেই ভারতের বুর্জেয়া সরকার পাকিস্তানীদের উৎখাতের নামে বিপ্লবকে সমূলে বিনাশ করার উদ্দেশ্য নিয়ে হস্তক্ষেপ করে। একই সঙ্গে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তবতী ভারতীয় এলাকায় ভয় করেছিলেন যে, পূর্ববাঙলার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ভারতের অন্যান্য বিক্ষুব্ধ প্রদেশে লাল বিপ্লবের আগুন উস্কে দিতে পারে।”


অতঃপর পূর্ববাঙলার ক্রমবর্ধমান জনযুদ্ধকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই যে ভারত সরকার পাকিস্তানীদের উৎখাতের নাম করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল এ বিষয়ে বিতর্কের কোনোই অবকাশ নেই।
মূলত: ’৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানী বাহিনীর সর্বাত্মক হামলার মুখে অসহায় জনগণকে শত্রুর কামানের মুখে ফেলে রেখে রাতারাতি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করার পর আওয়ামী লীগ ও অপরাপর দলের নেতা-কর্মীদেরকে ট্রেনিং ও অস্ত্ৰ-গোলাবারুদ দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর অধীনে বিশেষতঃ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর অধীনে ‘মুজিববাহিনী’ গঠিত হয়।
ভারত সরকার তাদেরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠায় মূলত: জনগণের মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নির্মূল করার জন্য। অবশেষে পাকিস্তানীদের উৎখাত করার নাম করে ভারত সরকার তার নিজস্ব সেনাবাহিনীর ছত্ৰছায়ায় ‘মুজিববাহিনী’ নামধারী। ‘পঞ্চমবাহিনী'র সহযোগিতায় পূর্ববাঙলার জনগণের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধকে বিপথে পরিচালিত করতে পুরোপুরিভাবেই সফল হয়।

বলাবাহুল্য, ভারত-নিয়ন্ত্ৰিত সেই মুক্তিবাহিনী-মুজিববাহিনী নামে সেই পঞ্চমবাহিনীর বিরল সাফল্যই দেশবাসীকে উপহার দিয়েছে ‘স্বাধীনতার শৃঙ্খল পরিহিত এবং বিদেশী পরাশক্তির লুণ্ঠন-আধিপত্যের মৃঘয়াক্ষেত্র এক পরাধীন দেশযা চার দশক ধরে নানাভাবে গোটা জাতিকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

১৬ ডিসেম্বরে ভারতীয় বাহিনীর কাছে জে. নিয়াজীর নেতৃত্বে পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমৰ্পণ এবং ভারত সরকার কর্তৃক ৯৩ হাজার বন্দী শত্রুসৈন্যসহ ১৯৫জন যুদ্ধাপরাধীকে বিনাবিচারে, নিরাপদে এবং সসম্মানে পাকিস্তানে ফেরৎ পাঠানোর মধ্য  দিয়ে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়, পাকিস্তানীদের নির্মূল করা নয়, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা নয়—পূর্ববাঙলার জনগণের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধকে মাঝপথে স্তব্ধ করে দেওয়াই ছিল মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। আর এতে তারা সফলকামও হয়েছিল ।
একাত্তর-পরবর্তীকালে বাংলাদেশের ভারতীয় সম্প্রসারণবাদীদের লুণ্ঠনআধিপত্যের অবাধ ক্ষেত্রে পরিণত হওয়া, বাংলাদেশের বাজার রাতারাতি ভারতীয় পণ্যের অবাধ বাজারে পরিণত হওয়া এবং সাম্রাজ্যবাদের শোষণ-লুণ্ঠনের মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঘটনা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অবধারিত পরিণতি ছাড়া আর কী?
একাত্তরের ভারত-নিয়ন্ত্রিত। কথিত ‘মুক্তিযুদ্ধের সমুদয় ঘটনাবলীকে সত্যনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ নিয়ে মূল্যায়ন করলে যে সত্য বেরিয়ে আসে, তা বিশেষ মহলের কাছে অপ্রিয়, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ‘দেশদ্রোহিতা'র নামান্তর হলেও নতুন প্রজন্মের কাছে সেই সব সত্য তুলে ধরা আজ অতি জরুরী। এই সত্য তুলে ধরা জরুরী। আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের স্বার্থে, এবং নতুন প্রজন্মের নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরীর স্বাৰ্থে ।

  তথ্য নির্দেশ ১. শৰ্মিলা বসু তাঁর বই ডেড রেকনিং, বাঙলা সংস্করণ-এর ১৬ পৃষ্ঠায় ’৭১-এর
২.শহীদের সংখ্যা এক লক্ষের কম বলে উল্লেখ করেছেন। ২ ইয়েনেকো আরেন্স ও ইওস ফ্যান বুরদের ; ঝগড়াপুর : বাংলা রূপান্তর :
3.নিলুফার মতিন : গণ প্রকাশনী, ঢাকা পৃষ্ঠা-২৩২ ৩. প্রাগুক্ত ; পৃষ্ঠা – ২৩১-২৩২

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ