টপিকঃ সা’দত হাসান মান্টো

সা’দত হাসান মান্টো
-----------------------------

>>সা’দত হাসান মান্টোর সাহিত্য জীবন
এই উপ-মহাদেশের অন্যতম শ্ৰেষ্ঠ কথাশিল্পী ও উর্দু সাহিত্যের অনন্যসাধারণ প্ৰতিভা সা’দত হাসান মান্টো ১৯১২ সালের ১২ই সে অমৃতসর জেলার সোমরালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃব্য বংশগত দিক থেকে কাশ্মীরী ছিলেন। কিন্তু পরে হিজরত করে পূর্ব পাঞ্জাবে চলে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মান্টোর পিতা অমৃতসরে মুন্নেসাফ ছিলেন । তাঁর দুই স্ত্রী । মান্টো দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজান সন্তান । প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর  অমৃতসর থেকে ম্যাটিক পাস করেন এবং সেখানকার ইন্দু-মহাসভা কলেজে ভর্তি হন । তদানীন্তন বিশিষ্ট সমাজবাদী লেখক ও ইতিহাসবেত্তা ‘বালী আলীগ”-এর সাথে তাঁর পরিচয় হয় । তিনি দুর্লভ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর রচনার দৃষ্টিভঙ্গী ছিল অত্যন্ত উদার । মান্টো  ধারী আলীগের পাণ্ডিত্যে ও বিপ্লবী চরিত্রের দ্বারা বিশেষভাবে প্ৰভাবান্বিত হন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও বলিষ্ঠ লেখনীর দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে মানেটা বই পড়া  ও গল্প লেখার প্রতি ঝুকে পড়েন। এই সময় বিদেশী সাহিত্যের সাথে তাঁর ঘনিষ্ট পরিচয় ঘটে এবং বিশ্বের খ্যাতনামা সাহিত্যিকদের সৃষ্টিশীল সাহিত্য-পুস্তক মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করেন।
>>অনুবাদক হিসেবে মানেটার সাহিত্য জীবনে প্রবেশঃ
সর্বপ্রথম তিনি ফ্রাণে সার খ্যাতনামা লেখক ভিক্টোর হুগোর একটি উপন্যাস ‘কিয়েদার ডাইরী’ নামে উর্দু ভাষায় অনুবাদ করেন । এই উপন্যাসে মৃত্যুদণ্ডদানের
বিরুদ্ধে জোরালো প্ৰতিবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। অতঃপর মানেটা ইংল্যাণ্ডের খ্যাতনামা লেখক অস্কার ওয়াইলেন্ডর "বেয়ারা’ নাটক অনুবাদ করেন ।
>>মাণ্টোর জীবনে চরম দুৰ্যোগ
বারী সাহেব অমৃতসর থেকে 'খালক’ নামে একটি উর্দু সাপ্তাহিকী প্ৰকাশ করেছিলেন । এই উন্দু সাপ্তাহিকে মানেটার প্রথম গল্প ‘তামাসা’প্রকাশ  হয়। এই গল্পের মাধ্যমে মানেটার সৃজনশীল প্ৰতিভার প্রকাশ ঘটে । এই সময় তিনি ফরাসী, ইংরেজী ও রুশ সাহিত্যের মোপাসা, সমারসেট মম এবং ম্যাকসিম গোকার রচনা পড়ে বিশেষভাবে প্রভাবান্বিত হন ।
কলেজজীবনে মান্টো লাহোরের প্রসিদ্ধ সাময়িকী ‘হুমায়ুন” ও “আলমগীর”-এর ফরাসী” ও রুশ সাহিত্য সম্পকিত বিশেষ সংখ্যা সম্পাদনা করেন । একই সাথে তাঁর পড়াশুনাও চলছিল। কিন্তু মান্টো ছকে ধরাবাধা পাঠ্য-পুস্তকে বিশেষ মনোযোগ দেবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন । গতানুগতিক ক্লাসের বই পড়ায় তিনি কখনও মনোনিবেশ করতে পারেননি ।
যৌবনে একবার মান্টো হাওয়া পরিবর্তনের জন্য কাশ্মীর বেড়াতে যান। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যে ঘেরা কাশীরের উপত্যকায় অবস্থানকালে মানেটা এক মর্মান্তিক ঘটনার সন্মুখীন হন যা তার ব্যক্তি ও সাহিত্য-জীবনে দারুণ প্রতিক্রিয়ার স্বষ্টি করে। এই ঘটনা  মান্টো  বিস্তারিতভাবে তার ‘ভিগোও একটি চিঠি” নামক নিবন্ধে লিপিবদ্ধ করেছেন । মানেটার জীবনের এই ঘটনা তার সংবেদনশীল বিশেষ গল্পগুলি উপলব্ধি করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। বুকে বিরাট বেদনার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে মান্টো অমৃতসর ফিরে এসে পড়াশুনায় মনোনিবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন । আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে মান্টোর স্বাস্থ্য দিন দিন ভেঙে  পড়ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এক্সরে করার পর তা’র যা দুৰ্গা রোগ ধরা পড়ে । ফলে মান্টোর পড়াশুনায় এখানেই চিরদিনের জন্য ছেদ পড়ে যায় ।
>>সাহিত্য-জীবনের উন্মেষঃ
পিতার মৃত্যুর পর আলীগড় থেকে বাড়ী ফিরে মান্টো চাকরির সন্ধানে লাহোর চলে যান এবং সেখানে করম চান্দ নামক জনৈক ব্যক্তির ‘পারেস” নামক পত্রিকায় ৪০ টাকা বেতনে চাকরি নেন । কিছুদিন পর পত্রিকায় মালিকের সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়ায় মান্টো চাকরি ছেড়ে দিয়ে ভাগ্যের অন্বেষণে বোম্বে যাত্রা করেন ।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে বোম্বে ছিল ভারতের অন্যতম সর্বাধুনিক সুন্দর শহর। ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল বোম্বে । তাছাড়া বোম্বে ছিল ভারতের চলচিত্র নির্মাণের প্রাণকেন্দ্ৰ। এখানে চিত্ৰজগতে উর্দু লেখক ও কবিদের ছবির কাহিনী লিখে ভাগ্য উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ ছিল। মান্টো বোম্বের ‘মোসাব্বির’ সিনেমা সাময়িকীর ভারপ্রাপ্ত-সম্পাদক নিযুক্ত হন। প্রকৃতপক্ষে এখানেই মান্টোর সক্রিয় সাহিত্যজীবনের সূচনা । দীর্ঘদিন বোম্বে অবস্থানকালে মান্টো  গভীরভাবে সেখ:নিকার চিত্ৰজগতের জীবনধারা পর্যালোচনা করেন এবং তার গল্পের জন্য বিষয়বস্তু ও চরিত্র সন্ধানে উদ্যোগী হন ।
‘‘গানজে ফারিশতায়’ তার প্রথম লেখনী ছায়াছবির বিশেষ চরিত্রগুলি জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে এবং অধিকাংশ ‘গল্পে বোম্বে শহরের জীবনযাত্রার বিচিত্র রূপ উদ্ভাসিত হয়েছে । বোম্বে শহরের সাথে তাঁর নাড়ীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাই বোম্বেকে তিনি দ্বিতীয় জান্মভূমি বলে আখ্যায়িত করেন। ১৯৪৯ সালে বোম্বে শহরেই মান্টোর বিয়ে হয়। বোম্বে শহরেই তাঁর প্রথম সন্তান “আরিফ’ ভূমিষ্ঠ হয় ।
১৯৪১ সালে মান্টো সিনেমা সাময়িকী মোসাব্বির-এর চাকরি ছেড়ে দিয়ে অল ইণ্ডিয়া রেডিওর দিল্লী কেন্দ্ৰে চাকরি নেন । দিল্লী বেতারের জন্য মানেটা শতাধিক উর্দু ফিচার ও নাটক রচনা করেন যা শ্রোতাদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। বেতারের মাধ্যমে মান্টোর সুখ্যাতি সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। রেডিওতে চাকরির সময় মান্টো যথারীতি উর্দু গল্প লিখতে থাকেন এবং দেশের বিশিষ্ট উর্দু পত্রিকায় তাঁর গল্প নিয়মিত প্ৰকাশিত হয়।
প্রায় দেড় বছর দিল্লী অল-ইণ্ডিয়া রেডিওতে কাজ করার পর মাণ্টো পুনরায় বোম্বে ফিরে আসেন এবং বোম্বে ফিলিমিস্তিান লি:-এ সংলাপ রচয়িতা ও কাহিনীকার নিযুক্ত হন। এই কোম্পানীর জন্য তিনি কয়েকটি ছবির কাহিনী রচনা করেন ।
“আটদিন’ ছবিতে মাণ্টো  স্বয়ং অভিনয় করেন । বিশিষ্ট চিত্র-প্ৰযোজক ও পরিচালক সোহরাব মোদী পাক-ভারতের বিখ্যাত উর্দু কবি, গীর্জ। গালিবের জীবনকাহিনী নিয়ে একটি ছবি নিৰ্মাণ করেন। এই ছবির কাহিনাকার হলেন সা’দত হাসান মাণ্টো ।
বোম্বে শহরে কর্মব্যস্ত জীবন অতিবাহিত করার পর ১৯৪৮ সালে মাণ্টো  লাহোর চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৫৫ সালের ১৮ই জানুয়ারী তিনি লাহোরে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর।
১৯৫০ সালে মান্টো স্বভাবসিদ্ধ বিদ্রুপে লেখেন, ‘এক দিন হয়তো পাকিস্তানের সরকার আমার কফিনে একটা মেডেলও পরিয়ে দেবে। সেটাই হবে আমার চরম অপমান।’ পাকিস্তানের জন্মের ৬৫ বছর উপলক্ষে গত অগস্টে পাক সরকার ঠিক সেটাই করেছে। সাদাত হাসান মান্টোকে তারা ‘নিশান-এ-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে ভূষিত করেছে,
>>>যিনি তাঁর ‘এপিটাফ’-এ লিখে গিয়েছিলেন, ‘এই সমাধিতে টন-টন মাটির তলায় শুয়ে আছে সেই ছোটগল্পকার, যে ভাবছে, খোদা, নাকি সে নিজে, কে বেশি ভাল গল্পকার!’ মৌলবাদীদের হামলার ভয়ে মান্টোর পরিবার তাঁর সমাধিতে এটা খোদাই করার সাহস পায়নি।

বেঁচে থাকতে মান্টো সমাজে যথাযথ মর্যাদা পাননি এটাই তাঁর দুঃখ । আশা ছিল তার সাহিত্য ও শিল্পপ্রতিভার মর্যাদা তিনি পাবেন । এই আশা নিয়ে তিনি এইজগৎ থেকে বিদায় নিয়েছেন। মৃত্যুর কয়েক দিন পূবে তিনি লিখেছেন,
“আমার বর্তমান জীবন নানা দুৰ্যোগ ও দুর্ভোগে পরিপূর্ণ। দিন-- রাত কঠোর পরিশ্রমের পর আমার দৈনন্দিন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য সামান্য উপার্জন করি। এই বেদনা আমার যক্ষ্মা রোগের ন্যায় সর্বদা বুকে টনটন  করে। জদি আমি চোখ বুজি তবে আমার স্ত্রী ও শিশু-কন্যার দেখা-শুনার দায়িত্ব কে নেবে ?”
উপরোক্ত কথাগুলি বর্তমান সমাজের সংকীর্ণতা ও দীনতার বিরুদ্ধে একজন সত্যিকারের সৃজনশীল শিল্পীর বলিষ্ঠ প্ৰতিবাদ ছাড়া আর কিছু নয় ।
>>মানবদরদী মাণ্টো
সা’দত হাসান মান্টো মূলত একজন বাস্তববাদী লেখক, মানবতার সেবক ও শিল্পী । তাঁর স্বজনশীল প্ৰতিভাকে বুঝতে হলে মান্টো মানুষের সম্পর্কে কি মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করতেন তা আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।
**উদু-সাহিত্যের বিশিষ্ট মহিলা সমালোচক মমতাজ শিরীন বলেছেন, “মানুষের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শ অত্যন্ত মহান । মানবিক গুণাবলী ও ব্যক্তিত্বের যথাযথ বিকাশসাধন। তখনই সম্ভব যখন সে সমাজের বাধা-বিপত্তি ত্ত গোড়ামির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আমিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয় ।”
মান্টোর গল্পে আমরা এমন সব চরিত্রের সাক্ষাৎ পাই যা বাহ্যত চরিত্রহীন ও মানবতাবোধ হারিয়ে বসেছে বলে অনুমিত হয়। কিন্তু এইসব চরিত্র এর পরও মানুষ হিসেবে পাঠকের মনে চির জাগরূক থাকে। মানুষ ও সমাজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মান্টো লিখেছেন,

“পৃথিবীতে যতগুলি পাপ আছে, ক্ষুধা তাদের মা-স্বরূপ । ক্ষুধা মানুষকে পাপের পথে ধাবিত করে, ক্ষুধা সতীত্ব বিকিয়ে দিতে বাধ্য করে। ক্ষুধার জ্বালা বিষম জ্বালা । এর আঘাত অত্যন্ত মারাত্মক । ক্ষুধা মানুষকে পাগল করে তোলে। কিন্তু পাগল মম দ্বারা ক্ষুধা সৃষ্টি হয়
না ।”

মান্টো সমাজের নীচুর তলা থেকে গল্পের চরিত্র গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সমাজের এই নির্যাতিত ও নিপীড়িত পতিতাদের প্রতি মান্টোর সহানুভূতির অন্ত নেই। সমাজের ভুল বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবিচারের ফলে এই নিপীড়িত গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে অথচ সমাজ এদের গ্রহণ করতে বাজী নয় । কিন্তু যখন মাণেটা সমাজের এই অবহেলিত ও নির্যাতিত মানুষকে বুকে তুলে নেন এবং শিল্পীর শক্তিধর লেখনীর মাধ্যমে এদের চরিত্রকে জীবন্ত করে। তোলেন তখন আমরা সকলে সমস্বরে বলে উঠি, ‘মানবতা বেচে আছে, মানবতার মৃত্যু নেই।” এখানেই মানেটার শিল্পীপ্রতিভার মূল বৈশিষ্ট্য ও সাফল্য নিহিত ।
>>>জীবনের প্রতিচ্ছবি
মানুষ সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা ও পর্যালোচনার পর মান্টো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, মানুষ কখনও পাপ নিয়ে জান্মায় না । ভাল মন্দ পারে ‘বাইরে থেকে তার মনে ও কলপনায় প্রবিষ্ট হয়। কেউ এই পাপকে সযত্নে প্ৰতিপালন করে থাকেন, অবশ্য সকলে তা করেন না ।
তাঁর বক্তব্য হচেছ, বাল্যকালে মানুষ নিষপাপ ও সৎ থাকে। পারিপাশ্বিকতা পরে মানুষকে বিপথগামী হতে বাধ্য করে। মান্টো স্বচক্ষে  যা দেখেছেন, বিনা দ্বিধায় সুস্পষ্ট ভাষায় তা পাঠকদের কাছে পেশ করেছেন। কারণ, মূলত তিনি বাস্তবধর্মী লেখক । তাই যে দৃষ্টিভঙ্গিতে মানবজীবনকে তিনি উপলব্ধি করেন। অন্যকে তা উপলব্ধি করাতে চেষ্টা করেন । মান্টো কোন বিশেষ আদর্শকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, তাই অনেকে তার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বিশেষ মতাদর্শের নয় বলে মান্টোর শিল্পীপ্ৰতিভাকে অস্বীকার করা সাহিত্যের নৈতিকতার পরিপন্থী । মান্টো সাহিত্যকে রাজনৈতিক প্রচারণার উর্ধে রেখে সামাজিক সমস্যা ও শ্ৰেণী বিভেদকে দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন—এটাই একজন সাহিত্যিকের প্রধান কর্তব্য । 

উর্দু সাহিত্যের বিশিষ্ট সমালোচক ডঃ আহসান ফারুকী মান্টো সম্পর্কে বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে উর্দু সাহিত্যে গল্পের ধারা মান্টো  থেকে শুরু । এই ব্যাপারে মতভেদ থাকতে পারে। প্ৰেমচান্দ-এর পর সবচেয়ে শক্তিধর উর্দু গল্পলেখক হলেন মান্টো । প্ৰেমচান্দ সাহিত্যকে সমাজের বহিজীবনের সাথে ঘনিষ্ঠতর করেছেন আর মান্টোর গল্প উর্দু সাহিত্য কে আরও গভীরে নিয়ে গেছে।”

যখন মান্টো  অন্ধকার গলির পতিতালয়ের সুগন্ধি, সুলতানা, খুলীয়া, বাবু গোপীনাথ প্রভৃতি চরিত্রকে প্রকাশ্য রাস্তায় নিয়ে আসেন তখন সমাজ  এইসব চরিত্রহীনা ভ্ৰষ্টাব্দের বরদাস্ত করতে পারে না । ফলে, মান্টো  লেখাকে অশ্লীল বলে আখ্যায়িত করা হয়। অনেকে তাকে অকথ্য ভাষায় তির স্কার করেছেন ; কিন্তু এই বিরূপ সমালোচনার মাঝে একটি বলিষ্ট আওয়াজ সর্বদা ধবনিত হয়েছে: ‘মান্টো একজন খ্যাতনামা শক্তিধর উদু লেখক ।”

তাছাড়া মান্টোর গল্পের কথা অত্যন্ত সহজ ও সরল । মান্টো উর্দু সাহিত্যের সর্বাধিক নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত লেখক। অশ্লীলতার অভিযোগে  এই স্পষ্টবাদী মানবদরদী লেখককে বহুবার আদালতের আসামীর কাঠগড়ায় হাজির হতে হয়েছে। কিন্তু প্ৰতিবারই মান্টো বেকসুর খালাস পেয়েছেন! শত নির্যাতন ও হুমকির মাঝেও মান্টো নিজ বিশ্বাস ও সংকল্পে অটল ছিলেন ।
মান্টো  মূলত গল্প লেখক, এছাড়াও তিনি নাটক ফিচার, প্রবন্ধ রচনা করেছেন; তন্মধ্যে ‘মানেটাকে মজামিন’ এবং “জানাজে” উল্লেখযোগ্য।
মান্টো  একটিমাত্ৰ উপন্যাস রচনা করেন ; তা তার নিজের মনঃপূত হয়নি। ক্ষুধা, অভাব, অনটনের তাড়নায় তিনি ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে  যে সব উর্দু গল্প রচনা করেছেন তাঁকে তা উর্দু সাহিত্যে চির অমর করে রাখবে। নিজের লেখনীর খ্যাতি ও অমরতা সম্পর্কে মান্টো  ছিলেন  খুবই আস্থাবান। এ সম্পর্কে একটি ছোট ঘটনা:
রাওয়ালপিণ্ডি কলেজের জনৈক ছাত্ৰকে মান্টো অটোগ্রাফ দিয়ে তারিখের স্থানে ফাঁকা রেখে দেন। ছাত্ৰটি তারিখ না লেখার জন্য অনুযোগ করলে মানেটা উত্তর দেন, “আমার তারিখ মৃত্যুর পর লেখা হবে।”
________________________------------------------------_____________________
>>>আমার স্কান করা একটি বই
বইঃগল্প লেখক ও অশ্লীলতা( মান্টোর গল্প সংকলন) HQ-PDF
লেখকঃ সা’দত হাসান মান্টো
প্রকাশকঃ মুক্তধারা ১৯৭৬
https://www.pdf-archive.com/2016/09/21/ … u-848akas/
>>>মান্টোর কিছু গল্প, অনলাইনে যা ছড়িয়ে আছে। কেও একটা ইপাব বানালে ভাল হয়।

গল্প: ‘ঠান্ডা গোশত’ (অনুবাদ)
http://www.somewhereinblog.net/blog/mehrin210/29085277
সাদাত হাসান মান্টোর গল্প শরীফন অনুবাদ : জাফর আলম
http://archive.ittefaq.com.bd/index.php … E0ODkyNQ==
মান্টোর গল্পঃ তোবা টেক সিং
http://www.sachalayatan.com/sumadrihotmailcom/44627
টোবাটেক সিং | সাদাত হাসান মান্টো--অনুবাদ : মাহদী আব্দুল হালিম
http://www.aaj24.com/%E0%A6%9F%E0%A7%8B … %AE/BDNews
সাদাত হাসান মান্টোর গল্প : তোবা টেক সিং--অনুবাদ : সুমাদ্রী
http://www.galpopath.com/2014/03/blog-p … 6.html?m=1
উর্দু অনুবাদ গল্প গ্রন্থ কোকোজান - সা'দত হাসান মান্টো / এ বি এম কামালউদ্দীন
https://userscloud.com/vghneya26rjd
সাদাত হাসান মান্টোর তিনটে গল্প( ঠান্ডা গোস্ত, লোকসান, কেরামত)
http://www.dolchhut.com/2014/04/mantoapril.html?m=1
সাদাত হাসান মান্টো: একশ পাওয়ারের বাল্ব — সামসুদ্দোজা সাজেন
https://shorbojon.wordpress.com/2013/12 … %E0%A6%BE/
সূত্রঃ ব্লগ, পত্রিকা, বই।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: সা’দত হাসান মান্টো

gmakas লিখেছেন:

মান্টোর গল্পঃ তোবা টেক সিং
http://www.sachalayatan.com/sumadrihotmailcom/44627

সুনীলের পূর্ব‌‌‌পশ্চিমে এই গল্পের উল্ল্যেখ আছে। পাগলদের গল্প। পার্টিশানের পর ভারত আর পাকিস্তানের দুই দেশের কর্তাদের টনক নড়লো যে দুই দেশের পাগলা গারদেই তো কিছু হিন্দু আর মুসলমান পাগল রয়ে গেছে। পাকিস্তানে ইসলামিক স্টেট, লাহোর করাচীরপাগলা গারদে হিন্দু পাগলদের কেন পোষা হবে সরকারী খরচে ? তাই হিন্দু পাগলদের পাঠাতে হবে ইন্ডিয়ায়, কিন্তু পাগলরাতো বোঝেনাই, দেশভাগ কাকে বলে! এক সর্দারজী, সে তো কিছুতেই যেতে চায় না লাহোর ছেড়ে, তাকে জোর করে টেনে হিঁচরড়ে নিয়ে যাওয়া হলো , তারপর সে গুলি খেয়ে মরে পড়ে রইল দুই দেশের সীমানার মাঝখানে হাত পা ছড়িয়ে। টাচিং গল্প। ধন্যবাদ পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য।

hard to hate but tough to love