টপিকঃ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় পদক্ষেপ

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দ্রুত গতিশীল করতে বিশেষত শিল্পায়নকে শক্তিশালী করতে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে একটি উন্মুক্ত নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্তৃপক্ষ  দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও শিল্প স্থাপনে বিভিন্ন সহায়তা প্রদানে দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছে এবং তাদের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সৃষ্টি করলেই শুধু চলবে না, বিদেশেও বাংলাদেশি বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সাম্প্রতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগমন থেকে শুরু করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে অবৈধভাবে যেসব বিদেশী বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হবে। পরপর কয়েক দফা জঙ্গী হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ইস্যুতে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থাহীনতার সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। তবে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে সরকারের বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপে তারা এখন সন্তোষ প্রকাশ করছেন। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের নাগরিকরা বাংলাদেশে কাজ করছেন। এর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারত। এরপরই রয়েছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ মধপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। এরা গার্মেন্ট খাতে প্রডাকশন ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজার, কাটিং মাস্টার এবং ডিজাইনারের মতো শীর্ষ পদে কাজ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল পাওয়ার স্টেশন, আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন হাউস, খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন কোম্পানি, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, নানা ধরনের পার্লার, এমনকি শোরুমের কর্মচারী হিসেবেও কাজ করছেন। অবৈধভাবে যেসব বিদেশী বাংলাদেশে অবস্থান করে অর্থনৈতিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ব্যাপারেও কঠোর হচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।সর্বোপরি উন্নয়নক্ষেত্রে বিনিয়োগকে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের স্বচ্ছ সাবলীল ধারায় যুক্ত করতে হলে ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা, অধ্যয়ন ও প্রায়োগিক ট্রেনিং কর্মসূচির সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। এ ব্যাপারে নির্মোহ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কেবল ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসায় উন্নয়ন নীতির সমন্বয় কমিটি গঠন করলে চলবে না। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে হবে। বিনিয়োগের খাত চিহ্নিত করা, বিনিয়োগ পরবর্তী পরিবেশের বিক্রিয়া অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি সমাজের উন্নয়নে ব্যবসার কর্তব্য ও নিষ্ঠা এবং অবদান প্রভৃতি বিষয়কে কার্যকর, বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করে এক্ষেত্রে সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে তা সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে।