টপিকঃ পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই

পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই
সাইয়িদ রফিকুল হক

আমাদের দেশের একশ্রেণীর নামধারী-মুসলমান ইসলামগ্রহণ করেছে সম্পূর্ণ হুজুগে। আর এদের মহান আল্লাহ ও তাঁর পবিত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশ্বাস খুবই সামান্য। আবার এদেরই কারও-কারও ঈমান নাই বললেই চলে—তবুও এরা নামধারী-মুসলমান। এরা ধর্ম না বুঝেই সমাজজীবনে ধর্মবিষয়ক নানারকম অবিশ্বাস্য কথাবার্তার জন্ম দিয়ে থাকে। আর এজাতীয় কথার মধ্যে একটি হলো: রমজান-মাসে শয়তান সম্পূর্ণ বন্দী থাকে! মানলাম, শয়তান বন্দী থাকে! কিন্তু দুনিয়াজুড়ে শয়তানী কি বন্ধ থাকে? জনমনে এই বিশ্বাসে এখন চিড় ধরেছে—গত ০১/০৭/২০১৬ তারিখে গুলশানের ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে’ বন্দুকধারী-জঙ্গীদের নৃশংস হামলার পর থেকে।

গুলশানের ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে’ কোনো ইহুদী-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধ কিংবা অন্য-কোনো ধর্মাবলম্বীর লোকজন নৃশংস হামলা চালিয়ে এভাবে নির্বিচারে মানুষহত্যা করেনি। এরা বাংলাদেশেরই মানুষ! আর এরা ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান! হ্যাঁ, এরা নামধারী-মুসলমান। তাই, এদের দাপট বেশি। এরা নিজেদের স্বার্থে পবিত্র কুরআনের ও কুরআনের জিহাদবিষয়ক আয়াতগুলোর ভুলব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা করছে। এরা এদের সন্ত্রাসীজঙ্গী-কর্মকাণ্ডের পক্ষে কুরআনের জিহাদীআয়াতগুলোকে অপব্যাখ্যা করে দেশের একশ্রেণীর উর্বর-মস্তিষ্কের নামধারী-মুসলমানের মগজধোলাই করছে। আর ওই নামধারী-মুসলমান নামক নরপশুগুলো অদৃশ্য জঙ্গীগডফাদারদের মগজধোলাই খেয়ে হাতে তুলে নিচ্ছে: স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, গ্রেনেড, ভয়াবহ বোমাসহ আরও বিবিধ মারণাস্ত্র।

এরা ইসলাম কায়েম করতে চায়। কে এদের ইসলাম কায়েম করতে বলেছে? এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এরা দিতে পারবে না। কিন্তু এদের কাছে কুরআন-হাদিস থেকে শুরু করে এখন সবকিছুরই অপব্যাখ্যা রয়েছে। এরা ইসলামধর্মকে এখন নিজেদের স্বার্থে, লোভে ও লাভের কাজে ব্যবহার করছে। আর নিজেদের মনগড়া-ব্যাখ্যার সাহায্যে জঙ্গীবাদকে জায়েজ ও হালাল মনে করে নির্বিচারে মানুষহত্যা করছে।

গুলশানের ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে’ যে-নারকীয় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে—তাকে ভয়াবহ শয়তানীঅপকর্ম না বললে ভুল হবে। বাংলাদেশের জঙ্গীনামধারী মানুষহত্যাকারী-সন্ত্রাসীরা পবিত্র রমজান-মাসে ইফতারের সামান্য পরে আহাররত মানুষকে জিম্মী করে নিজেদের অনৈতিক ও অযৌক্তিক দাবি আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে তারা উন্মত্তপশু-হায়েনার মতো নৃশংস হয়ে আহাররত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। আর এতে কমপক্ষে দেশী-বিদেশীসহ তিরিশজনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে! আর এখানে, বিদেশী ষোলোজন মানুষ এই মুসলমান-নামধারী-নরপশুদের হাতে নিহত হওয়ায় আমাদের ইসলামধর্ম ও প্রিয়-স্বদেশ বাংলাদেশ-সম্পর্কে বিদেশীদের মনে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে।

মনে রাখবেন: এটা কিন্তু পবিত্র রমজান-মাস! তবুও তাদের প্রকাশ্য শয়তানী বিন্দুপরিমাণ কমেনি। বরং আরও বেড়ে গেছে। এই রমজানের শুরুতে তারা দেশের বিভিন্নস্থানে হিন্দু পুরোহিত, মন্দিরের সেবায়েত ও গীর্জার পাদ্রীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আর মাত্র কয়েকদিন আগেও তারা আরেকজন পুরোহিতকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে! কিন্তু কীসের আশায়? আর কীসের নেশায় এসব করছে তারা? আসলে, এর পিছনে তাদের কোনো ন্যায়সঙ্গত যুক্তি বা দর্শন বা কোনো সঠিক ধর্মদর্শন নাই। তারা নিজেদের শয়তানীউদ্দেশ্যকে চরিতার্থ করার জন্য দেশব্যাপী চোরাগুপ্তা হামলাসহ প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষহত্যা করেছে? এগুলো কী? আর এগুলোকে কী বলা যায়? নিশ্চয়ই শয়তানী? সবকিছু দেখেশুনে তাই এখন বিবেক বলছে: এই পবিত্র রমজান-মাসেও আসলে বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই। এদের শয়তানী চলছে আর চলবে। আর এই শয়তানদের মোকাবেলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৪/০৭/২০১৬

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আর আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ভালোবাসি। আর আমি সকল মানুষের মঙ্গল চাই। আমি সবসময় সাহিত্য ভালোবাসি। আর দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য আমার লিখতে ভালো লাগে। তাই, মানুষ আর মানবতার পক্ষে বলি শক্ত-কঠিন কথা। আসুন, আমরা দেশ, জাতি আর মানুষের পক্ষে দাঁড়াই।

সাইয়িদ রফিকুল হক

Re: পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই

শয়তানই সত্য। বাকী সব মিথ্যা  lol

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই

শয়তানতো শয়তানই !

নিজে শিক্ষিত হলে হবে না- প্রথমে বিবেকটাকে শিক্ষিত করতে হবে

Re: পবিত্র রমজান-মাসেও বাংলাদেশের শয়তান বন্দী হয় নাই

শয়তান পরাজিত হবে। আর শয়তানকে আমাদেরই পরাজিত করতে হবে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর সঙ্গে রইলো শুভেচ্ছা।

আমি মানুষ। আমি বাঙালি। আর আমি সত্যপথের সৈনিক। আমি বাংলাদেশরাষ্ট্রকে ভালোবাসি। আর আমি সকল মানুষের মঙ্গল চাই। আমি সবসময় সাহিত্য ভালোবাসি। আর দেশ, মাটি ও মানুষের জন্য আমার লিখতে ভালো লাগে। তাই, মানুষ আর মানবতার পক্ষে বলি শক্ত-কঠিন কথা। আসুন, আমরা দেশ, জাতি আর মানুষের পক্ষে দাঁড়াই।

সাইয়িদ রফিকুল হক