টপিকঃ ভৌগলিক মানচিত্র ও অন্যান্য: (প্রথম পাঠ)

ভৌগলিক মানচিত্র ও অন্যান্য: (প্রথম পাঠ)

>‘লাইফ অব অ্যাপোলোনিয়াস অব টায়না” গ্রন্থে ফাভিয়াস ফিলোস্ট্রাটাস-এর এক উক্তি প্রাচীনকালের মানুষের ভৌগোলিক জ্ঞানের বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করে । ফ্রাভিয়াস (এ, ডি, ১৭৫-২৪৯) বলেছেন -‘পৃথিবীর সমগ্র জলভাগের সঙ্গে যদি স্থলভাগের সম্পর্কের তুলনা করা হয় তলে দেখা যাবে দুটোর মধ্যে স্থলভাগ ক্ষুদ্রতর।’

>সে সময়কার মানুষরা যদি আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি না দিয়ে থাকে তবে ফাভিয়াস কি ভাবে জেনেছিলেন এই গ্রহের উপরি-পৃষ্ঠের বেশিরভাগ দখল করে আছে মহাসমুদ্রসমূহ ?

>প্লেটো নিশ্চয় আমাদের এই পৃথিবী এবং মহাদেশগুলোর বিশালকৃতি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন । কারণ তিনি বলেছেন, ‘ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অধিবাসীরা এই পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র দখল করে রেখেছে ?

>খৃষ্টপূর্ব প্রথম অব্দে স্টাবো লিখেছিলেন, “আমরা যে ভূ-ভাগে বাস করছি, সেটা ছাড়াও এক কিংবা আরো অধিক ভূ-ভাগ রয়েছে যেখানে আমাদের চেয়ে ভিন্ন ধরনের মানুষের বাস । তিনি আরো বলেছিলেন —‘এথেন্সকে যদি সমান্তরাল করে আরো পশ্চিমে বাড়িয়ে দেওয়া হয় তবে হয়তো আটলান্টিক ছাড়িয়ে এক নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সেই ভিন্ন ধরনের মানুষ বা জাতির বাস।

এই উক্তির মধ্যে উত্তর আমেরিকার প্রত্যক্ষ উল্লেখ লক্ষণীয়। অথচ কলম্বাসের সময় প্রায় সবারই এরকম ধারণা ছিলো যে পৃথিবী হচ্ছে সমতল ।

নিনা পাণ্টা এবং সান্ত মারিয়া নামের জাহাজগুলো যদি অনেক দূরে চলে যায় তবে সেগুলো নিশ্চয় এই সমতল এলাকার কিনারা ডিঙ্গিয়ে উল্টে পড়ে যাবে ।

ধারণা যখন এরকম ছিলো, তখন সহজে অনুমান করা যায় যে, প্রথম আন্ত আটলান্টিক যাত্রার সময় নাবিক জোগাড় করা খুব কষ্টকর ব্যাপার ছিলো । এসব ঐতিহাসিক তথ্য থেকেই অনুমিত হয় যে পঞ্চদশ শতাব্দীর ইউরোপ-বাসীর তুলনায় প্রাচীন ব্যক্তিদের ভৌগলিক জ্ঞান অনেক উন্নতমানের ছিলো ।

>হেরোডোটাসের বর্ণনা অনুযায়ী খৃষ্টপূর্ব ৫০০ অব্দে মিলেটাসের সম্রাট অ্যারিস্টাগোরাসের ব্রোঞ্জের তৈরি এক ট্যাবলেটের ওপর অনেক সমুদ্র, পথ-ঘাট এবং পাহাড়-পর্বত খোদাই করা ছিলো ।

>বাবিলনের কাদামটির ট্যাবলেটের মতো এটাও হয়তো বিশ্বের প্রাচীন ম্যাপের একটি । যদি প্রাচীনকালের মানুষ নিজেরাই দূরবর্তী অঞ্চলসমূহ আবিষ্কার করে থাকে, তবে একমাত্র তখনই তাদের পক্ষে সেসব অঞ্চল সম্বন্ধে এমন নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া সম্ভব ।

>মার্সেলাইস-এর প্রাচীন ভূগোলবিদ এবং জ্যোতির্বিদ পিথিয়াস (খৃষ্টপূর্ব ৩৩০ অব্দ) আটলান্টিকের আর্কটিক সার্কেল পর্যন্ত প্ৰমণ করে মাপ-রাত্রির সূর্যের বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা দিয়ে গিয়েছিলেন ।

অতীতের জ্ঞানী ব্যক্তিরা কি আমেরিকা সম্বন্ধে জানতেন ? তাই অনুমান দৃঢ় হয় প্রথম শতাব্দীর ট্রাজেডি নাটক লেখক সেনেকার বিখ্যাত পদ্যাংশে:—

দেয়ার শ্যাল কাম এ টাইম

হোয়েন দি ব্যাণ্ডস অব ওশেন

শ্যাল বি লুজেণ্ড,

অ্যাণ্ড দি ভাষ্ট আর্থ শ্যাল বি লেইড ওপেন,

অ্যানাদার টিফীজ শ্যাল ডিসক্লোজ নিউ ওয়াল্ডস,

অ্যাণ্ড ল্যাণ্ড শ্যাল বি সিন বিয়ণ্ড থুল,

*থুল কিংবা আইসল্যাণ্ড ছাড়িয়ে নতুন প্রদেশ বলতে শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকাকেই বোঝায়। টিফীজ ছিলে উপকথার জাহাজ আরগস-এর চালক । কয়েক শতাব্দীর পর যা নতুন পৃথিবী হিসেবে আবিষ্কৃত বা পরিচিত হয়েছিলো, সেনেকার এই লাইমগুলোয় তারই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। আমাদের এই কাল গণনা আরম্ভ হওয়ার পাঁচ শতাব্দী আগে প্লেটো আটলান্টিক মহাসাগর এবং আমেরিকা সম্বন্ধে লিখেছিলেন । তার বক্তব্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আড়াই হাজার বছর কিংবা তারও আগে তারা আমেরিকার অবস্থান সম্পর্কে অবগত ছিলেন ।


>>প্রাচীন ভারতের পবিত্র গ্ৰন্থ ‘বিষ্ণু-পুরাণ'-এ এক মহাদেশ সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে ‘মহাদেশের টে। স্থল ভাগ, নর্থপোলের পাদদেশে তার অবস্থান, দুই স্থলভাগের আকৃতি ধনুকের মতো এবং এই মহাদেশের সম্মুখভাগে রয়েছে দুধের সাগর ।”

>>বর্ণনা শুনে মিথলজিক্যাল ননসেন্স মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে তা নয়। বরং আমেরিকা মহাদেশের সঙ্গে এই বর্ণনার মিল লক্ষ্যণীয়। আমেরিকার দুটি ভাগ---উত্তর ও দক্ষিণ। আমেরিকার মুখ মেরু সাগরের দিকে, এবং আমেরিকার উত্তরও দক্ষিণ ভাগের আকৃতি কিন্তু ধনুকের কথাই মনে করিয়ে দেয় ।

--- ভারতীয় পবিত্র গ্রন্থের এই অধ্যায়ের এই বর্ণনার পরপরই একটি প্রশ্নের উদয় হয় - আমেরিক সম্পর্কিত এই তথ্যাদি এবং গ্রীণল্যাণ্ড থেকে প্যাটাগোনিয়া পর্যস্ত নিখত আকৃতির ধারণা প্রাচীন ভারতীয়রা কোথেকে সংগ্রহ করেছিলো ?

ভৌগোলিক সার্ভের জন্যে প্রয়োজন ট্রান্সপোর্ট এবং যন্ত্রপাতি । কিন্তু কলম্বাসের দেড় হাজার বছর আগে ভারতে সমূদ্রগামী জাহাজ ছিলনা।

---বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি আরেকটি অমীমাংসিত রহস্য ।

-- তিব্বতের এক প্রাচীন বইয়ে অদ্ভূত এক চার্ট পাওয়া গেছে । চার্টের কারুকাজ বিশিষ্ট চারকোণে এবং আয়তকার ক্ষেত্রগুলোয় অজ্ঞাত সব দেশের নাম লেখা ! ডায়াগ্রামে চারটি মৌলিক পয়েন্ট রয়েছে— সবচেয়ে উ চু’তে পূর্বদিক, পশ্চিম হচ্ছে নিচে, দক্ষিণ দিক ডানে এবং উত্তর হচ্ছে বায়ে ।

-- রাশিয়ার ফিলোলজিষ্ট ব্রোনিস্লাভ কুজেনস্তভের সিন্ধান্ত এটা একটি ম্যাপ । তিনি ম্যাপটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন । তার মতে জায়গাগুলো হচ্ছে পারস্যের শহর প্যাসারগাদী (খৃষ্টপূর্ব চতুর্থ— সপ্তম শতাব্দী ) আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, লিন, উত্তর পারস্য এবং কাম্পিয়ান সাগর ।

>তিববতীদের ভৌগোলিক জ্ঞান এবং বহু শতাব্দী আগে থেকেই পারস্য এবং মিশরীয়দের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ আমরা এ থেকে পাই, প্রাচ্যবিদরা অবশ্য সম্প্রতিমাত্র এরকম ভাবছেন ।

-- ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৪০ সালের একটা ম্যাপ চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করেছে ১৪৯১ সালে স্প্যানিশ’র সান সালভেদরে পৌছানোর ৪০০ বছর আগেই নরওয়ে জলদস্যু আমেরিকার বুকে পা রেখেছিলো ।

কৌতূহল উদ্দীপক ব্যাপার নরওয়ে জলদস্যুরা ন্যাভিগেশনের কাজে যে বিশেষ ধরনের ক্রিষ্টাল ধ্যাহার করেছিলো, সূর্যের মুখোমুখি ধরলে শোদ্ভন্ন তাপহাওয়াতেও সেটি তার রং বদলাতো ।

--- রাশিয়ার আজারবাইজান বিজ্ঞান অ্যাকাডেমী ১৯৬৪ সালে এক তথ্য আবিষ্কার করে। ত্রয়োদশ শতাব্দীর এক বিজ্ঞানী নাসিরুদিন তুসী কলম্বাসের ২৫০ বছর আগেই আমেরিকার কথা জানতেন । জ্যোতিবিদ তুসী তার এক বইয়ে এটনাল আইল্যাণ্ড-এর উল্লেখ এবং এর ভৌগলিক স্থানাঙ্ক নির্দেশ করেছেন । এই স্থানাঙ্কসমূহ একত্রীত করলে যে সীমারেখা তৈরি হয় তা দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলের । নাসিরুদ্দীন তুসী বহু দূরবর্তী এই মহাদেশ সম্পর্কিত তথ্য কোথেকে সংগ্রহ করেছিলেন ? ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ভূমধ্যসাগরীয় জাহাজসমূহ জিব্রাল্টার থেকে ব্রাজিল পর্যন্ত আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার মতে বড় ও ক্ষমতাসম্পন্ন ছিলো না ।

----ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে পিরি রেইস নামে তুরস্কের এক কাটোগ্রাফার ২১০টি নিখুত অঙ্কিত ম্যাপের এক সংকলন করেন । এই সংকলন বা এ্যাটলাসের নাম ছিলো বুক অব দি সি’জ ।

--তুরস্কের জাতীয় যাদুঘরে এ্যাডমিরাল পিরি রেইসের তৈরি ১৫১৩ ও ১৫২৮ সালের দুটো ম্যাপ রয়েছে। প্রথম ম্যাপে ব্রিটেন, স্পেন, পশ্চিম আফ্রিকা, অ্যাটলাণ্টিক, উত্তর আমেরিকার কিছু অংশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বভাগের সম্পর্ণ আউটলাইন অঙ্কিত । ম্যাপের তলদেশে দেখা যাচ্ছে অ্যান টার্কটিকার কোষ্ট লাইন পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে আফ্রিকার নিচ দিয়ে চলে গেছে । এই ম্যাপ বা চার্টটির দশা খুব জীর্ন, তবে অনুমান করা হচ্ছে যে আদি অবস্থায় ম্যাপে আরো তিনটি অংশে ভারত মহাসাগর, সম্ভবতঃ অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ এবং এশিয়া অঙ্কিত ছিলো । এরকম অনুমান করা হচ্ছে কারণ ম্যাপ দু’টোকে অন্য কোনো এক বৃহৎ ম্যাপের অংশ বিশেষ বলে মনে হয় ।

---১৫২৮ সালের দ্বিতীয় ম্যাপে দেখা যাচ্ছে গ্রীনল্যাণ্ড, ল্যাবরাডোর, নিউফাউণ্ডল্যাণ্ড, কানাডার কিছু অংশ এবং উত্তর আমেরিকার পূর্বউপকুল ফ্লারিড পর্যন্ত। ম্যাপ দু’টোর ভৌগলিক দিক-নির্দেশ সাম্প্রতিককালের আগে বোঝা যায় নি। বিখ্যাত সুইডিশ এক্সপ্লোরার নরদেন স্কোল্ড দীর্ঘ সতের বছর ম্যাপের দিক-নিদেশ ব্যাখ্যার চেষ্টায় রত ছিলেন । তার কাজ সম্পন্ন করেন আমেরিকান কাটোগ্রাফার আরলিংটন ম্যালরী ।
ম্যাপ দুটোর দিক-নির্দেশ  বোঝার পর খুটিনাটির যথার্থতা দেখে চমৎকৃত হতে হইয়রছেন । ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকার পরম্পরের মধ্যকারের সে দূরত্ব ম্যাপে দেখানে হয়েছে তা নিখুত । অথচ অষ্টাদশ শতাব্দীর আগে - ভিগেটরদের পক্ষে সঠিকভাবে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা সম্ভব ছিল না । সুতুরাং আমারা বলতে পারি ষষ্ঠদশ শতাব্দীর ম্যাপ পরপর্তীকালের নৌ বিজ্ঞানের চার্টের তুলনায় অনেক উন্নতমানের ছিলো ।

---পিরি রেইসের বর্ণনানুযায়ী ১৫০১ সালে তার যখন একত্রিশ বছর বয়স তখন সে এবং তার চাচা ক্যাপটেন কামাল স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তারা স্পেনিশ এক সৈন্য কে বন্দি করে তার কাছ থেকে কতগুলো মূল্যবান ম্যাপ উদ্ধার করেন। সৈনিকের বক্তব্য অনুযায়ী সে ছিলো কলম্বাসের নাবিকদের একজন এবং আমেরিকা আবিষ্কারের সময় কলম্বাস এই ম্যাপগুলো ব্যবহার করেছিলেন । সৈনিকের এই বক্তব্য যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে কলম্বাসের জীবনী লেখক লাস কমাসের কিছু কথা আমাদের মনে পড়ে যায়।

-----কমাস বলেছিলেন তিনি যা আবিষ্কার করেছেন তা যে আবিষ্কৃত হবে সে সম্বন্ধে তিনি এতই নিশ্চিত ছিলেন যেন আবিষ্কৃত বস্তুটি তালাচাবি দিয়ে কোনো এক ঘরে রেখে দিয়েছেন ।” অর্থাৎ কলম্বাস ম্যাপ ব্যবহার করে জেনে-শুনেই আমেরিক আবিষ্কার করেছিলেন ।

---বন্দি সৈনিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিরি জানতে পারলেন –আলেক জান্ডারের সময়ের গ্রীসের একটি বই ইউরোপে অনুদিত হয়। কলম্বাস সেই অনুদিত বইটি সংগ্রহ করে স্পেনিশ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া জাহাজে বইয়ের নির্দেশ মতো যাত্র করলেন এবং দক্ষিণ আমেরিকায় পৌছে গেলেন । পুরো ব্যাপারটা আজগুবি মনে হলেও সত্য ।

>>>এই দু’টো ম্যাপ পর্যবেক্ষণ করে তুরস্কের অধ্যাপক আফেতিনান বলেন– একথা এখন স্পষ্ট যে, পিরি রেইসের হাতে সেই ম্যাপগুলোই এসেছিলো যেগুলো বিখ্যাত সেই আবিষ্কারক কলম্বাস ব্যবহার করেছিলেন । ১৫১৩ ও ১৫১৮ সালের এই দুই ম্যাপ বহু প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে । পিরির সময়কালীন ন্যাভিগেটরদের কাটোগ্রাফী সম্বন্ধে এমন যথার্থ জ্ঞান কি ভাবে অর্জন সম্ভব ?

>>প্রাচীন গ্রীকরা কি দক্ষিণ আমেরিকা সার্ভে করেছিল । ১৫১৩ সালের ম্যাপ বা চার্টটি শুধুমাত্র দক্ষিণ আমেরিকার কোস্টলাইন তুলে ধরেনি, এমন কি সে সময়ে ঐ মহাদেশের অনাবিস্কৃত ওরিনকো, আমাজান, পানামা, উরুগুয়ে প্রভৃতি নদীর উল্লেখও ঐ ম্যাপে রয়েছে । আর তাছাড়া, পিরি রেইস কি ভাবে বরফমুক্ত অ্যান্টার্কটিকার কথা জেনেছিলেন ? - এই নতুন মহাদেশ আবিষ্কারকদের নৌপথগুলো একটু আলোচনা করা যেতে পারে।

---১৪৯২ থেকে ১৪৯৮ সালের মধ্যে কলম্বাসের তিনটি অভিযাত্রার গন্তব্যস্থল ছিলো বাহামা, পোটোরিকো এবং হাইতি । ১৫০১ সালে ভেসপুচি ব্রাজিলের উপকুল থেকে যাত্রা করে মোণ্টেভিডে পর্যন্ত পৌছান। ১৫১৯ সালে ম্যাগেলেন এই একই রুট অনুসরণ করেন এবং একটি প্রণালী পার হয়ে যে প্রণালীতে পৌঁছান এখন সেট তার নিজের নামে পরিচিত । এরপর তিনি প্যাসিফিক-এ

পৌছান । ভেসপুটি কিং। ম্যাগেলেন কেউই নবভূমির ওপাশে অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকার নদীগুলো আবিষ্কার তো দুরের কথা, তীরে নেমে পোন রকম ল্যাণ্ড সাঙেও তার করেননি ।

---ক্রমশ----

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Gypsy Saleh (০৭-০৫-২০১৬ ১৬:৫৭)

Re: ভৌগলিক মানচিত্র ও অন্যান্য: (প্রথম পাঠ)

ভালো লেখা। তবে গোটা লেখাটা যথেষ্ঠ অগোছালো। এছাড়া এখানের তথ্যগুলোর যথার্থতা বোঝার কোন উপায় নাই।

hard to hate but tough to love