টপিকঃ দলের মধ্যে নেই অথচ দেশের জন্য সোচ্চার!

বিএনপির সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সম্মেলনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে নীতিনির্ধারণী বক্তৃতা দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর প্রস্তাব করেছেন। তাঁর বক্তৃতা থেকে মনে হয়, তিনি যেন উপলব্ধি করেছেন যে বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার প্রস্তাব তিনি করেছেন। প্রস্তাবটি কতখানি আন্তরিক ও উপলব্ধিগত, তা এখনো দেখার বিষয়। খালেদা জিয়া যদি কখনো ক্ষমতায় যান, তখন তিনি সংবিধানে পরিবর্তন আনবেন কিন্তু সেসব তো অনেক পরের কথা। আপাতত যেটা তাঁর হাতের মধ্যে রয়েছে সেখানে তো তিনি একক কর্তৃত্ব ও একচ্ছত্র ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ বা ক্ষমতার ভাগাভাগি করতে পারতেন। আমি বলছি, তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের কথা। তিনি দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে। খুব ভালো কথা। কিন্তু দলের অভ্যন্তরেও কি তিনি সেই নীতি প্রয়োগ করেছেন? কয়েক দিন আগে যে দলের কাউন্সিল অধিবেশন হয়ে গেল, সেখানে তো চেয়ারপারসনের হাতেই সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখা হয়েছে। সেখানে তো কোনো ভারসাম্য রাখা হয়নি। চেয়ারপারসন ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ক্ষমতার ও দায়িত্বের ভাগাভাগি করা যেত। না, সে পথে তিনি যাননি। দলের মধ্যে গণতন্ত্র নেই অথচ দেশের গণতন্ত্রের জন্য তিনি সোচ্চার। দলের মধ্যে সামান্যতম গণতন্ত্র নেই, সেখানে একচ্ছত্র নেতৃত্ব তাঁকে তৃপ্ত করছে অথচ তিনি ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করার প্রস্তাব করছেন। হাসিও পায়। দুঃখও হয়। আমাদের বড় রাজনৈতিক দলের এমন স্ববিরোধিতা ও প্রতারণামূলক আচরণ রাজনীতিকে কলুষিতই শুধু করছে না, নিকৃষ্ট মাত্রায় পরিবারতন্ত্রের জন্ম দিচ্ছে।

Re: দলের মধ্যে নেই অথচ দেশের জন্য সোচ্চার!

দলের মধ্যে নেই অথচ দেশের জন্য সোচ্চার! ভালোই বলেছেন, তবে এক মুখী  yahoo yahoo
সব দলের ক্ষেতেই আপনার কথাটা প্রযোজ্য নয় কী?