সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রুপকথা (১১-০৩-২০১৬ ১০:১৬)

টপিকঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরি

এ্‌ই টাকা কিভাবে চুরি করা সম্ভব, টাকা বাংলাদেশে আর এটা কিভাবে তারা চুরি করলো? তথ্যপ্রযুক্তি আমাদের জন্য শুধু আশির্বাদই নয় - অভিশাপও

http://www.reuters.com/article/us-usa-f … SKCN0WC0TC

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে  প্রায় ৮০০ কোটি টাকার (প্রায় ১০ কোটি ডলার) চুরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে,  বিদেশি হ্যাকারদের মাধ্যমে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে।  ‘হ্যাকড’ হওয়া অর্থের একাংশ ইতোমধ্যে আদায় সম্ভব করা হয়েছে। অবশিষ্ট অঙ্কের গন্তব্য শনাক্ত করে তা ফেরত আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ফিলিপাইনের এন্টি-মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের সাথে সক্রিয় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের  প্রথম দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাইবার অপরাধীরা।  প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চীনা হ্যাকারদের একটি দল বিপুল এ অর্থ  প্রথমে ফিলিপাইনের ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে অন্য কোথাও পাচার করে।

অর্থ চুরির বিষয়টি জানার পর দ্রুত তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সেখানে দুই কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তারা ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুদিনে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে এসেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ফিলিপাইনের দৈনিক দ্য ইনকোয়েরার পত্রিকায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ থেকে ১০ কোটি ডলার মানি লন্ডারিং হয়েছে বলে একটা খবর  প্রকাশ করে। ওই খবরে বলা হয়, দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে আসে। চীনা হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সেখানকার কোনো আর্থিক  প্রতিষ্ঠান থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়। হ্যাকার দল এ অর্থ  প্রথমে ফিলিপাইনে পাচার করে।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থ পাচারের এ ঘটনা তদন্ত করছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল।

জানা যায়, রিজার্ভের অর্থ কোন দেশে, কোথায় বিনিয়োগ বা সংরক্ষণ করা আছে তা সুইফট কোডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী সুরক্ষিত হিসেবে বিবেচিত এ নেটওয়ার্ক হ্যাক করে রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এ.এফ.এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক একাউন্টে রক্ষিত স্থিতি থেকে ‘হ্যাকড’ হবার সাম্প্রতিক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অর্থের একাংশ ইতোমধ্যে আদায় সম্ভব করা হয়েছে। অবশিষ্ট অঙ্কের গন্তব্য শনাক্ত করে তা ফেরত আদায়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইটেলিজেন্স ইউনিট ফিলিপাইনের এন্টি-মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের সাথে সক্রিয় রয়েছে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের এন্টি-মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষ তাদের দেশের আদালতে মামলা দায়ের করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোর ফ্রিজ আদেশ আদালত থেকে সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সাইবার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক ও তাঁর বিদেশি পরিদর্শক টিম এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের টীমের সাথে কাজ করছেন। ফিলিপাইনের এন্টি-মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের তদন্ত সম্পন্ন হবার সংগে সংগেই অর্থ ফেরত আদায়ের আদালতের আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং প্রয়োজনবোধে বিশ্বব্যাংকের চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার (এসটিএআর) প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে তদন্তলব্ধ তথ্যাদি অপ্রকাশিত রাখা হচ্ছে। একই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বৃহত্তর আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা সার্বিকভাবে নিশ্ছিদ্র করার প্রক্রিয়া জোরালোভাবে সচল রাখা হয়েছে ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিজ্ঞপ্তিতে আরোও বলা হয়, বিশ্বায়নের এই যুগে আর্থিক লেনদেনে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি অবলম্বনের বিকল্প নেই। এবং এই সত্যকে অনুধাবন করে প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন ব্যাংকিং সেবা উদ্ভাবন ও আত্মীকরণের মাধ্যমে দেশবাসীকে আন্তর্জাতিক মানের সেবাপ্রদানে দেশের আর্থিকখাত এক অভাবনীয় বিপ্লব সাধন করেছে। তবে ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে যেমন গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি এবং আধুনিক বিশ্বের ব্যাংকিং সেবাকে সকলের দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বাড়িয়ে তুলেছে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিকে। উন্নত বিশ্বে ব্যাংকিং খাতে সাইবার আক্রমণ অনেকটা নৈমিত্তিক ঘটনা হলেও বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন। আর্থিকখাতের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সাইবার অপতৎপরতার বিষয়ে অবহিত হওয়া মাত্রই তা মোকাবেলায় তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যেই ব্যাংকসমূহের অনুসরণীয় বিষয়ে সার্কুলার জারি করেছে এবং পরবর্তীকালে যাতে আর কোনো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

আরএ/এআর

সংবাদটি এখানে http://www.purboposhchimbd.news/2016/03 … %E0%A7%8D/

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১১-০৩-২০১৬ ২৩:৪২)

Re: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরি

জানা যায়, রিজার্ভের অর্থ কোন দেশে, কোথায় বিনিয়োগ বা সংরক্ষণ করা আছে তা সুইফট কোডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী সুরক্ষিত হিসেবে বিবেচিত এ নেটওয়ার্ক হ্যাক করে রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সুইফট কোড কোন নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নয়। বরং এটা একটা সার্বজনীন ব্যাংক ট্রানজেকসন লিখন পদ্ধতি। গুরত্বপুর্ন সুইফট কোড সংরক্ষন, বিতরণ, ব্যাবহারে আলাদা সিকিউরিটি ব্যাবস্থা ব্যাবহার করতে হয়।  roll

আপাতত খোড়াখুড়ি করতে মন চাইছেনা, কিন্তু ঠিক কোন কোন দেশের রিজার্ভ ব্যাংক থেকে, নিকট বা দুর অতীতে এরকম পুকুর চুরির "ঘটনা ঘটেছে" তার কারো জানা থাকলে জানাবেন।

অর্থ চুরির বিষয়টি জানার পর দ্রুত তৎপরতা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সেখানে দুই কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।

কি আমার দ্রুত তৎপরতা রে! আসল ঘটনা পুরাটাই রিপোর্টে চেপে গেছে তা হল... পুরো ব্যাপারটা ধরা পরেছে হ্যাকারের টাইপো জনিত ভুলের কারনে! টাকাগুলো পাচার করা হচ্ছিল বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার ভিয়া হয়ে। প্রথমটা ছিল ফিলিপাইন, দ্বিতীয়টা ছিল  শ্রীলংকা... শ্রীলংকটার যে সংস্থার ভিয়া হয়ে টাকাটা পাচার করার হচ্ছিল তার নাম ভুল টাইপ করা হয়েছিল। ব্যাপাটার কৈফিয়ত চেয়ে ওরাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে। তখন ব্যাপারটা ধরা পরে। এই জন্য তাইওয়ান ছাড়া বাকি দেশগুলোতে টাকা পাচার হতে পারেনি। পুরো ব্যাপারটা রক্ষা হয়েছে শুধু ভাগ্য গুনে। এখানে তৎপরতার কিছু নেই্।  দেশী রিপোটাররা জেনেশুনেই আসল ঘটনা গুলো চেপে যায়, না সত্যিই হাবাগোবা... বুঝতে পারিনা! mad

দেখা যাবে এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের শাস্তি না দিয়ে "দ্রুত তৎপরতার জন্য" পুরস্কৃত করা হচ্ছে...! এক যে ছিল মজার দেশ,...

Re: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরি

B positive type news.......

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ষ্টেটমেন্ট হলো.......তাদের তৎপরতায় ৮৫ কোটি ডলার চুরি ঠেকানো গেছে....সুত্র

দুদিন আগে ডেবিট কাডর্ কেলেংকারীতে বাংলাদেশ ব্যাংক এগিয়ে এসে ইর্ষ্টান ব্যাংকের ঘাড় ধরে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করেছিলো..........কিন্তু এখন এই বেড়ালের গলায় ঘন্টাটা বাঁধবে কে?

টিপসই দিবার চাই....স্বাক্ষর দিতে পারিনা......