টপিকঃ অতীতের কিছু স্মৃতিচারণ। ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৩ সাল। [ ৩য় খন্ড ]

হাজীগঞ্জে আছি। ক্লাস করছি সপ্তাহে তিনদিন। বাকি চারদিন চাকুরী জুটানোর টেনশনেও ব্যস্ত আছি। নিজের মধ্যকার তাগিদ, ঢাকা থেকে ফোনে মায়ের কাজ - কমের তাগিদ এসব নিয়ে একপ্রকার দিন কেটে যাচ্ছিল। শাহরাস্তি থাকবার সময় এক পরিচিত দোকানদারের পরামর্শে চাঁদপুর গিয়ে বাস স্ট্যান্ডের কাছে ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্স এর প্রথম নিচতলায় প্রাণ - আরএফএল এর অফিসে গিয়ে সিভি, আবেদনপত্র জমা দিলাম। কিন্তু কমকতারা পরে বললেন, ঢাকায় হেড অফিস থেকেই শুধুমাত্র নিয়োগ দেয়া হয়। সাথে পরামর্শ দিল আপনি যেহেতু পড়ালেখায় আছেন তাই এখনই চাকুরীর  কোন দরকার নেই। তারপরও একটা চাকুরী জোটানোর চিন্তা নিয়ে কাজ করছি। নইলে শেষ পযন্ত গ্রামে গিয়ে একটা দোকান ভাড়া নিয়ে নিজে একটা Pharmacy দেব। সোনালী ব্যাংকের শাহরাস্তি শাখায় তিন বছর মেয়াদী ডিপোজিট স্কিমে রাখা ১.৫ লাখ টাকা মেয়াদপূতির আগেই ভেঙে ফেলতে হবে হয়তো। এদিকে আবার চাঁদপুর সদরে অটো বাইক কিনে চালানোর ব্যাপারে সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি দোকানে অটো বাইকের দাম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাও বলেছি। যাকগে। এরই মধ্যে একদিন কি মনে হতে আমার এইচ. এস. সির ক্লাসমেট ছনুয়া নিবাসী মানিককে ফোন দিলাম। পারষ্পরিক কুশল বিনিময় হতেই ওর ছোট ভাই রতনের খোঁজ নিলাম। মানিক বললো, আপনি জানেন না, আশ্চয! রতনের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমি একেবারে আকাশ থেকে পড়লাম। রতনের বড়ভাই মানিকই যেখানে অবিবাহিত সেখানে ছোট ভাইয়ের বিয়ে কি কারনে আগে হলো? প্রেমের বিয়ে নাকি? রতন বয়সে আমার ছয় থেকে সাত বছরের ছোট হবে। ফোনে কয়েকটি সমবয়সী মেয়ের সাথে সম্পক রাখে ( এদের মধ্যে জনাদুয়েক আত্মীয়) তাও জানি কিন্তু গভীর প্রেম বা হঠাৎ করে বিয়ে করার মতো তো কিছুই হতে পারে না। গ্রাম থেকে চলে এসেছি মাস দুয়েক হলো এর আগে রতন ছেলেটি কিছু বদছেলেদের সাথে মিশে কয়েকবার আমার সাথে বেয়াদবি করে শেষ পযন্ত চড়ও খেয়েছে। সে অনেক ঘটনা। পুরোটা লিখবার মতো সময় এখন নেই। রতনকে ফোন দিলাম। একজন মুসলমান অপর মুসলমান ভাইয়ের উপর আড়াই দিনের বেশি রাগ রাখতে পারে না। রতনও ফোন রিসিভ করে স্বাভাবিকভাবেই কথা বললো। বিয়ের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করতেই বললো, হ্যাঁ, রিয়াদ ভাই। বাড়িতে সৎ মা আর আপন মায়ের পীড়াপীড়িতে হঠাৎ করেই বিয়ে করতে বাধ্য হলাম। এ নিয়ে আরো কথা হলো। এর পরেরদিন জানতে পারলাম পুরো ঘটনাটিই ছিল দুই ভাইয়ের রসিকতা।

আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”(২:১৭৭)