টপিকঃ অতীতের কিছু স্মৃতিচারণ। ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৩ সাল। [ ১ম খন্ড ]

২০১৩ সালের মে মাসের ২৮ তারিখে শাহরাস্তি উপজেলার মেহের এর উপলতায় একটি মেসে উঠলাম। মেসের মালিকের নিজস্ব কয়েকটি ব্যবসা আছে কালীবাড়ি ও ঠাকুরবাজার এলাকায়। যাহোক মেস খুঁজতে যেয়ে পোস্টার দেখে তার ঠাকুরবাজারে তার দোকান বিনিময়  স্টোর এ গিয়ে কথা বললাম। সশরীরে মেস দেখতে এসে দেখলাম একতলা টিনশেড বিল্ডিংয়ের লম্বা একটি মেস যাতে একপাশে সিঙ্গেল রুম অন্যপাশে ফ্যামিলি রুম রয়েছে। ফ্যামিলি রুমগুলিতে দুইটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর ও এবটি টয়লেট এর ব্যবস্থা আছে। ভাড়া মাত্র ২০০০/- টাকা ( পরে অন্য ভাড়াটেদের থেকে জেনেছি ভাড়া প্রকৃতপক্ষে ১৮০০/- টাকা) , বিদ্যুৎ, পানির বিল সব মেস মালিকের। এছাড়া দুইমাস এর মধ্যেই গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি চালু হলে ভাড়া শুধুমাত্র ২৫০ টাকা বেড়ে যাবে বলে মেসমালিক আশ্বস্ত করলেন। অন্যদিকে সিঙ্গেল সিট ভাড়া মাত্র ৮০০/- টাকা।

আমি ফ্যামিলি রুম ভাড়া নেবার কথা মালিককে জানাতেই তিনি দুটি Condition এর কথা বললেন। প্রথমত, কোন অবস্থাতেই মেসে মেয়েমানুষ আনা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আমার পরিচিত কারো রেফারেন্স লাগবে যে কিনা এই এলাকায় থাকে। রেফারেন্সের জন্য দ্বারস্থ হলাম মাসখানেকের পরিচিত কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সাভিসের কালিবাড়ী শাখা এবং নিজস্ব ক্রোকারিজ দোকান মেসাস হানিফ এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্তাধিকারী ৩৩ থেকে ৩৫ বছর বয়সী লিটন ভাইয়ের সাথে। বিগত কয়েক মাসে চার - পাঁচটি সরকারী চাকুরীর আবেদন করবার সময় কয়েকটি উনার Continental Courier Service এর মাধ্যমেই করেছিলাম। এই সুবাদে সামান্য পরিচয় হয়েছিলো। যাহোক শেষ পযন্ত মেসমালিক লিটন ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলে আশ্বস্ত হলেন।

২০১৩ সালের জুন মাসেই হাজীগঞ্জে অবস্থিত Community Medicine Research & Improvement Society এর অধীনে ছয় মাস মেয়াদী পল্লী চিকিৎসক Course এ অ্যাডমিশন নেই। অবশ্য এর আগে বা পরে কয়েকবারই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোড অনুমোদিত হাজীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ভতি সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপারে যাতায়াত করেছিলাম। কিন্তু পরে বিভিন্ন সাত - পাঁচ ভেবে আর ওখানে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা বা এক / দুই বছর মেয়াদী মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এর কোন Course এ Admission নেই নি।

আমার ক্লাস ছিল প্রতি সপ্তাহে তিনদিন সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা। আর শুক্রবার দিন দুপুর দুটো থেকে বিকাল পাঁচটা পযন্ত। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার। আমাদের পাঠদান করতেন মূলত একজন এম. বি. বি. এস. চিকিৎসক। আজ আর তা নামটি মনে পড়ছে না। চাঁদপুর জেলা সদরে অবস্থিত নোভা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে উনি চাকুরী করতেন। পরবতীতে বিভিন্ন কাজে চাঁদপুর সদরে গেলে সন্ধ্যায় উনার চেম্বারে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করেছি। এছাড়া কিছু ক্লাস নিতেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক [ এবং মালিক ও বটে smile ] মোঃ আলতাফ হোসেন ডি. এইচ. এম. এস.। আমাদের এখানে যে তিনটি Course ছিল তা হলো যথাক্রমেঃ ১। তিন মাস মেয়াদী আর.এম.পি Course ২। ছয় মাস মেয়াদী এল. এম. এ. এফ Course ৩। এক বছর মেয়াদী D.M.S Course।

পড়ালেখার সুবাদে পুরো হাজীগঞ্জ শহরটা ঘুরে দেখবার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। হাজীগঞ্জ শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ডাকাতিয়া নদী। তাছাড়া শহরটি অনেক পুরনো হওয়ায় এখানে দেখবার মতো অনেক কিছু ছিল। এর মধ্যে একটি হাজীগঞ্জ মডেল ইউনিভাসিটি কলেজ।

জুন মাসের শুরু থেকেই মেসে আমি নিজে কেরোসিনের চুলোতে রান্না করে খেতাম। মাঝে মাঝে সময় না থাকলে নিকটস্থ ঠাকুরবাজারে কোন হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসতাম। এর মধ্যে এক শুক্রবার হাজীগঞ্জে ক্লাস খেকে ফিরবার পথে ১৭৫/- টাকায় খাঁচাসহ একজোড়া কোয়েল পাখি কিনে আনলাম। জীবনের প্রথম Android Smartphone Symphony W60 হাজীগঞ্জ গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে ৮৩০০/- টাকা দিয়ে কেনা।

নিজের ক্লাস ও অন্যান্য ব্যস্ততার ফাঁকে অবসর পেলে অনেক দৃষ্টিনন্দন স্থানেই ঘুরে দেখতে গিয়েছি। জুন মাসেই গিয়েছিলাম কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন কুমিল্লা ওয়ার সিমেট্রি, রানী ময়নামতির প্রাসাদ ( অনেকের ভাষায় ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার)। অনেক ছবি তুলেছি, ভিডিও করেছিলাম। কিন্তু এর ৭৫% ই মোবাইল চুরি হয়ে যাওয়ায় পরে মোবাইল ফেরত পেলেও মেমোরী কাড আর পাইনি, যার ফলে ছবি, ভিডিওগুলি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

জুন মাসের শেষদিকে মেসমালিককে মেস ছাড়বার কথা জানিয়ে দিলাম। হাজীগঞ্জে মেস নেবার পেছনে কিছু কারণ ছিল। দিনে ৬০/- টাকা করে প্রতিমাসে ৭২০/- টাকা করে খরচ হতো শুধুমাত্র হাজীগঞ্জে ক্লাসে যাতায়াত করতে। দ্বিতীয়ত ব্যাচলার হয়ে ফ্যামিলি রুম ভাড়া নেয়ায় মেসেরই কিছু টাউট, বাটপার চাকুরীজীবীর পাল্লায় পড়ে বিভিন্ন কথা - বাতা / উটকো ঝামেলা যেমন সহ্য করতে হতো এতে করে এদের সাথে যেকোনদিন হাতাহাতি - মারামারি হওয়াটা অসম্ভব ছিল না। মেসমালিক ও তার ভাগ্নের কাছে একাধিকবার বিচার দিয়েও তেমন কোন প্রতিকার পাই নি। যাকগে জুন মাসেই হাজীগঞ্জে মেস খুঁজে বের করতে  হবে। অবশেষে জুন মাসের শেষ সপ্তাহে হাজীগঞ্জ মডেল ইউনিভাসিটি কলেজসংলগ্ন একটি উপযুক্ত মেস খুঁজে পেলাম। মরিয়ম শান্তি নীড়।

★একটি বিশেষ স্মৃতিঃ

শাহরাস্তিতে অবস্থানকালীন সময়ে গ্রামে আমাদের পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ৩৪ শতাংশ একটি জমির বিবাদ ও নিজ ছোটচাচা ও জ্যাঠাত ভাইদের থেকে প্রাপ্য পাঁচ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা ধার যা আমার পিতার জীবিতাবস্থায় তাঁকে / তাদেরকে ধার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল তা প্রদানের নিধারিত সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে যাওয়ায় মূল দরবারী আমাদের বাড়ির এক চাচাকে ফোন দিলে তিনি সবশেষ এক কথাই বললেন যে, দেখো বাবা, বাড়ির একটা লোকেও আমার কোন কথা শুনছে না। যদিও আমিই তোমাদের প্রাপ্য টাকা ও জমির ব্যাপারে দরবার / সালিশ - মিমাংসার চেষ্টা করেছি তারপরও এরা এখন আমার কোন কথাতেই কান দিচ্ছে না।
আমি তোমাকে বলবো তুমি প্রয়োজনে Police দিয়ে / আইনের আশ্রয় নিয়ে হলেও এদের জবর - দখল ঠেকাও।
এই নিয়ে বিগত এক সপ্তাহে চার - পাঁচবার উক্ত চাচার সাথে এসব বিষয়ে কথা বলে লাভ এটুকুই হলো যে, উনার শেষকথা / বক্তব্য উনি জানিয়ে দিলেন।

২০১৩ সালের জুন মাসেই আম্মার সাথে উক্ত দরবারী / সালিশকারী চাচার বক্তব্যের সারকথা নিয়ে আলোচনা করে ট্রেনে করে চাঁদপুর Court এ গিয়ে এডভোকেট মোঃ শহীদউল্ল্যাহ পাটোয়ারী এর থেকে Legal Notice পাঠিয়ে দিলাম বিবাদীদের নামে। যাতায়াত খরচ ব্যতীত উকিল নোটিশ পাঠাতে খরচ হয়েছিল ৩০০০/- টাকা মাত্র।

-------------------------------------------------------
মরিয়ম শান্তি নীড় মেসটি মূলত একটি দ্বিতল টিনশেড বাড়ি। নীচতলায় দুইটি ফ্যামিলি বাসা। একটিতে হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের একজন প্রফেসর সপরিবারে থাকেন। নীচতলায় সিঙ্গেল কয়েকটি সীটসহ একটি বড়সড় হলরুমও রয়েছে। দ্বোতলায় মূলত চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার মধ্যে মেসমালিক নিজে তার পরিবারসহ থাকেন। অন্য তিনটিতে মডেল কলেজের ছাত্ররা থাকে। বুয়া এসে তিনবেলা রান্না করে দিয়ে যায়। মেসমালিক একজন পঞ্চাশোধ ব্যক্তি। অনেক বছর আগে হাজীগঞ্জ শহরে এসে চালের আড়ত / গুদামে কাজ করতেন। পরবতীতে তিনি নিজেই হাজীগঞ্জ বাজারে নিজস্ব চালের আড়ত দিয়ে বসেন। মেস ম্যানেজার তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে। আমার সমবয়সীই হবে। এর সাথে কথা - বাতা ঠিক করলাম যে মেসে সিঙ্গেল একটি রুম দিতে হবে। ভাড়া ঠিক হলো ১৬০০/- টাকা।

আল্লাহ্ তা’আলার বাণীঃ আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”(২:১৭৭)

Re: অতীতের কিছু স্মৃতিচারণ। ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৩ সাল। [ ১ম খন্ড ]

ভাল লাগল পড়ে

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর