টপিকঃ ... লোডশেডিং

রাস্তায় পথিক কম।
হলুদ হয়ে আসা গোধুলি আজকাল সচরাচর দেখা যায় না।

৯৫-৯৬ এর দিকের বিকেলের রঙ ছিল ফ্যাকাসে হলুদ।
আর এই হলুদ বিকেলের পর ছিমছাম শহুরে বাড়িগুলোতে নেমে আসতো ... লোডশেডিং।
মুহূর্তের জন্য কাজ ফেলে জড়সড় হয় সবাই। মোমবাতি নইলে হ্যারিকেন জ্বলে ওঠে ঘরে ঘরে।

রাস্তাগুলো একটু ফাঁকা ফাঁকাই ছিল তখন।
চাঁদের আলো বেশি।

গরম থেকে বাঁচতে পাড়ার ব্যাচেলর ছেলেরা বাসার সামনের রাস্তায় নেমে আসে।
ছিমছাম নীলচে জোছনার আলোতে মফস্বল এক অন্য রূপ নেয়।
কোন ছেলে পাশের বাড়ির মেয়েটিকে শুনিয়ে শুনিয়ে গান গেয়ে উঠে।
বাড়ির ভেতর থেকেও ভেসে আসে আনমনা গুনগুন।

নীরব শহরে কোন এক বাসা থেকে ভেসে আসে জোরে জোরে পড়ার আওয়াজ।

বাড়ির মুরুব্বীরা চেয়ারে আলোচনায় বসেন।

ছোট বাচ্চারা কিছুক্ষণের জন্য এই সেই খেলায় মেতে ওঠে, লুডু খেলা, মোমবাতির আলোতে ভুডু খেলা, ইকনো কলম চিবানো, নইলে ভূতের গল্প শোনা, নইলে চকলেট খেয়ে আনমনে চকলেট এর প্যাকেটটা হ্যারিকেনের কাঁচে লাগাতে ব্যস্ত থাকে।

বাসার পাশে দিয়ে শুকনো পাতায় মড়মড় আওয়াজ তুলে অন্ধকারে সবাইকে ছুঁয়ে যায় রাতের বাতাস।

এলাকার বড় ভাই পাশের বাড়ির মেয়েটিকে শুনিয়ে হালকা কাশি দেন, পায়ের আওয়াজ কাছে আসে। মুচকি হাসে তরুণীর মন।

তারা একসাথে দেখে সন্ধ্যার আকাশে মেঘের রঙ। পুকুরের ধারের কেয়াগাছে ফুল ফুটেছে কিনা এ খবরই তাদের কাছে খুব জরুরি হয়ে ওঠে।
শহরজুড়ে নেমে আসা ছোট্ট এক চিলতে আঁধারের মাঝে অনেক নতুন নতুন গল্প রচনা হয়ে যায়।

সব আলো নিভে যাক।
ভালোবাসা দিবস কাটুক ভালোবাসায়।

Re: ... লোডশেডিং

সুন্দর লেখা