টপিকঃ ২য় বিশ্বযুদ্ধের বাণিজ্য .. !!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সেলিম রেজা নিউটন ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া ....

মাত্র তিন মিনিটের এই ছোট্ট ভিডিওটি দেখুন। যুদ্ধ মানে ব্যবসা। যুদ্ধ মানে এক্সট্রা-অর্ডিনারি মুনাফা। বড় বড় যুদ্ধগুলো প্রকৃতপক্ষে একেকটা বিশালকায় ব্যবসায়িক উদ্যোগ। হিটলারের ২য় মহাযুদ্ধের সময়কার যে জিনিসটাকে আমরা "নাৎসী ওয়ার-মেশিন" বলি, সেটা ছিল আসলে ইঙ্গ-মার্কিন কর্পোরেট বিজনেস-অ্যাফেয়ার মাত্র। ইঙ্গ-মার্কিন বিজনেস-গ্রুপগুলোর জন্য ২য় মহাযুদ্ধটা ছিল অতীব লাভজনক একটা গোপন ব্যবসা। এই বিজনেস-অ্যাফেয়ারের নানা রকম প্রক্রিয়া-প্রণালীতে অন্য অনেকের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়রের বাবা প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়রের বাবা দাদু-বুশের কোম্পানিও। (সাধে কি আর উপসাগরীয় যুদ্ধ! সাধে কি আর ইরাক-যুদ্ধ, আফগান-যুদ্ধ!)

দেখুন, ২য় মহাযুদ্ধে হিটলারের ফ্যাসিস্ট জার্মানিকে কিভাবে পূর্ণ সাহায্য-সহযোগিতা করেছে হেনরি ফোর্ড, কোকাকোলা, এবং অন্যান্য ইঙ্গ-মার্কিন বিজনেস-গ্রুপ। বিরাট "ফোর্ড গ্রুপ"-এর প্রধান হেনরি ফোর্ডকে হিটলার দিয়েছিল জার্মানির সর্বোচ্চ বেসামরিক নাৎসী পদক। মার্কিন ব্যবসায়ী লর্ড রথমেয়ারের "দ্য ডেইলি মেইল" পত্রিকায় হিটলারকে আখ্যায়িত করা হয়েছিল "এ গ্রেইট জেন্টলম্যান" হিসেবে।

গোটা যুদ্ধ জুড়ে জার্মান বোমারু বিমানগুলোর "খাদ্য" অর্থাৎ জ্বালানী তেলের জোগান দিয়ে গেছে "স্ট্যান্ডার্ড অয়েল", "এথিল গ্যাসোলিন কর্পোরেশন" ইত্যাদি মার্কিন তেল কোম্পানি। মহাযুদ্ধের পুরোটা কালপর্ব ধরে এই অয়েল সাপ্লাই জার্মানিতে গেছে সুইজারল্যান্ড হয়ে।

আবার, ওলন্দাজ (নেদারল্যান্ডস) রাজ-পরিবারের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিটি ছিলেন নাৎসী পার্টির সদস্য। তার উদ্যোগে হিটলারের জন্য উপহার হিসেবে হাজার হাজার টন ক্রুড অয়েল গেছে জার্মানিতে। বিনা পয়সায়। একেবারে মাঙনা। বিভীষিকার-ধ্বংসের-হলোকাস্টের জন্য নির্মিত মহা-যুদ্ধযন্ত্রের মাঙনা খোরাক।

নাৎসী হানাদারদের লুটের মাল হিসেবে সংগ্রহ করা অঢেল স্বর্ণ গলিয়ে গোল্ড-বিস্কুট বানিয়ে সেগুলোকে বিক্রি করার কাজে জার্মানিকে সাহায্য করেছিল বৃটেনের "ব্যাংক অফ ইল্যান্ড"। এই ব্যাংকের বিশাল ভল্টে সংরক্ষিত ছিল লুটের স্বর্ণ গলিয়ে বানানো অজস্র স্বর্ণ-বিস্কুটের ভাঁড়ার। সেসবের ওপরে খোদাই করে ছাপ মারা থাকত নাজি জার্মানির স্বস্তিকা-চিহ্ন।

নাজি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বা শ্রমকারাগারগুলো ছিল আধুনিক দাসপ্রথার বিকট দৃষ্টান্ত। এইসব অসংখ্য শ্রমকারাগারের অসহায় মানুষদেরকে দাস হিসেবে খাটিয়ে মাঙনা শ্রমে উৎপাদন করা হতো কয়লা এবং আরও নানা রকমের পদার্থ। তারপর তাঁদেরকে পাইকারি হারে মেরে ফেলা হতো বিশাল বিশাল গ্যাসচেম্বারে ভরে। হাজারে হাজারে। মৃতদেহগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হতো সেখানেই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি খাটিয়ে। এভাবে "বৈজ্ঞানিক" পদ্ধতিতে অজস্র নিরাপরাধ মানুষকে স্রেফ ছাই করে দেয়া যেত। অল্প সময়ে। অল্প খরচে। এরকমই একটা মানুষ মারার ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স ছিল "অসউইৎজ"। এটা ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর মৃত্যু-স্থাপনাগুলোর একটা। হাজার হাজার বন্দি কঙ্কালসার মানুষকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো ট্রেনে করে। লম্বা রেললাইন ধরে বন্দি-ঠাসা সব আস্ত আস্ত ট্রেন ঢুকে পড়ত সরাসরি অসউইৎজ গ্যাসচেম্বার-স্থাপনার একেবারে ভেতরে। এই রেললাইন তৈরি করে দিয়েছিল সুনির্দিষ্ট কিছু মার্কিন বিজনেস-গ্রুপ। এমনকি গ্যাসচেম্বারগুলোতে ব্যবহারের জন্য বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করে দিত "স্ট্যান্ডার্ড অয়েল"-এর মতো প্রতিষ্ঠান।

এক কথায় বললে: মার্কিন মাল্টিন্যাশনাল বিজনেস-গ্রুপগুলো যদি চাইত তাহলে যেকোনো সময় বন্ধ করে দিত পারত হিটলারের মৃত্যু-যন্ত্রকে। সেটা তারা করে নি। করেছে উল্টাটা। স্কুলের বই, বইয়ের "ইতিহাস", এবং "সত্য" উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া (তথা -- নোম চমস্কির ভাষায় -- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "জেনারেল ইন্টেলেকচুয়াল কালচার") ২য় মহাযুদ্ধের এই মহাসত্যকে এতকাল ধরে বলতে গেলে গুপ্তসত্য বানিয়ে রেখেছে। ইঙ্গ-মার্কিন মিডিয়া-হাউজগুলো এ সংক্রান্ত যাবতীয় সত্য চেপে গিয়েছিল -- এখনও চেপে আছে -- কেননা তারা জানত মহাযুদ্ধের অতিকায় ধরনের দাস-শিবিরগুলোর মাঙনা শ্রমদাসত্ব থেকে মুনাফা করছে কারা। আমরা এতটা জানতাম না। এখনও জানি কি?

https://www.facebook.com/iAMCaveman420/ … 193372227/

"দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক স্বার্থে হয়েছে" এখানে এখানে কেউ লিখেছে? নাকি ভিডিওতে তা দেখানো হয়েছে!

২য় মহাযুদ্ধে পাঝচ কোটি লোক মারা গেছে। এটা "আলুপোড়া খাওয়ার" মামলা না। এটুকু খেয়াল না করলে হয়। যুদ্ধটা এক বছর আগে থামলেও কত জীবন বাঁচত সেটা কল্পনাও করা কঠিন।

এখানে কর্পোরেট বাণিজ্যের হিপোক্রিসিটাই দেখানো হয়েছে। হিটলারকে এক দিকে দানব বলে দেখানো। অন্য দিকে তারই সাথে এমন ধরনের লেনদেন করা যাতে করে সে বেশিদিন ধরে টিকে থাকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, জীবন ধ্বংস হয় আর কর্পোরেট মুনাফা বিকশিত হয়।

কোটি কোটি লোকের বাধ্যতামূলক শ্রমদাসত্ব, গ্যাস চেম্বারে কোটি কোটি ইহুদি হত্যা ইত্যাদির বিনিময়ে মুনাফা। ভাবা যায়!

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ২য় বিশ্বযুদ্ধের বাণিজ্য .. !!

স্টাটাসের তথ্যগুলো আসলেই সত্য কিনা তার জন্য রেফারেন্স দিলে ভালো হতো।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ২য় বিশ্বযুদ্ধের বাণিজ্য .. !!

একটা অ্যানালিসিস পড়লাম সেদিন। গার্ডিয়ানে সম্ভবত। ২০০১ সালে টুইন-টাওয়ারে হামলার পর থেকে আসলে যা হচ্ছে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরী করার জন্যে। এবং এখানেও একই উদ্দেশ্য। বানিজ্য!

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (০১-০২-২০১৬ ২২:৫৮)

Re: ২য় বিশ্বযুদ্ধের বাণিজ্য .. !!

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

স্টাটাসের তথ্যগুলো আসলেই সত্য কিনা তার জন্য রেফারেন্স দিলে ভালো হতো।

ভিডিওটা দেখে ডিগআউট করতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে আগালে অনেক তথ্যই সত্যকে নির্দেশ করবে -- অনেকটা প্ল্যানেট নাইন আছে ক্লেইম করার মত।
ফোর্ড, কোকাকোলা, তেল, আর গ্যাস চেম্বারের গ্যাস + রেইল লাইন নিয়ে করা তথ্যগুলো সম্ভবত যাচাই করা সম্ভব।