টপিকঃ ওদন্তপুর বিশ্ববিদ্যালয়

**ওদন্তপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ওদন্তপুর ছিল নালন্দা মহাবিহারের নিকটবর্তী একটি সংঘারাম। উত্তর ভারতের শেষ সম্রাট হর্ষবর্ধনের পর বিখ্যাত নালন্দার খ্যাতি ক্রমেই স্নান হতে থাকে, কিন্তু পাল বংশের রাজত্বকালে ওদন্তপুরের নাম প্রসিদ্ধি লাভ করে। পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের রাজত্বকালে বিহার (প্রাচীন মগধ) রাজ্যের অন্তর্গত এ ওদন্তপুর বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। পাল রাজগণ চারশত বৎসর অষ্টম হতে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত টিকে ছিল। এ সুদীর্ঘ কাল বাঙ্গালী বৌদ্ধজগতের গুরুস্থানীয় ছিল। পাল নৃপতিগণ প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ মহাবিহারগুলো আন্তর্জাতিক বিদ্যাকেন্দ্ররূপে পরিগণিত ছিল। তথাকার প্রসিদ্ধ আচাৰ্য্যগণ উত্তরে দুর্গম হিমগিরি অতিক্রম করে তিব্বতে সদ্ধর্মের নবালোক বিকীর্ণ করেছিলেন এবং দক্ষিণে দুর্লংঘ্য জলধির পরপারে সুদূর সুবর্ণ দ্বীপ, মালয় উপদ্বীপ, যবদ্বীপ, বালিদ্বীপ, বোর্ণিও প্রভৃতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপনিবেশে বৌদ্ধধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতির বাণী বহন করে বৃহত্তর ভারত গঠনে সুদৃঢ় ভিত্তি রচনা করেছিলেন। ওদন্তপুর বিহারে বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন বিশেষতঃ মহাযান শাস্ত্র শিক্ষার সুব্যবস্থা ছিল। এ বিহারের গ্রন্থাগার সুবিখ্যাত ছিল। উপযুক্ত বিবেচিত হলে যে কোন ছাত্র বিনা বেতনে পাঠের সুযোগ পেত। পালযুগের বিখ্যাত আচাৰ্য্য শীলরক্ষিত ওদন্তপুর বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন। সুপ্রসিদ্ধ বৌদ্ধাচার্য অতীশ দীপঙ্কর শ্ৰী জ্ঞান ছাত্রাবস্থায় এ বৌদ্ধাচাৰ্য্য শীলরক্ষিতের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। আচাৰ্য্য শীলরক্ষিত অতীশ দীপঙ্করকে শ্ৰী জ্ঞান' উপাধিতে অভিহিত করেন। তিব্বতের রাজধানী লাসায় ওদন্তপুর বিহারের অনুকরণে ব-সময়া (Bsam-ya) প্রসিদ্ধ বিহার স্থাপিত হয় ।
তিব্বতে মহাযান বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারর আদিপর্বে বাঙ্গালী বৌদ্ধাচাৰ্য্যদের অবদান স্মরণীয় । অষ্টম শতাব্দীতে তিব্বত রাজ খৃ- স্ৰং-লদে-বৰ্তমান। গৌড় দেশীয় আচাৰ্য শান্তরক্ষিতকে তিব্বতে নিমন্ত্রণ করেন। শান্তরক্ষিত নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন। রাজ নিমন্ত্রণে তিনি দুবার তিব্বতে গমন করেন ও তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম সংস্কার করেন। তিব্বতরাজ মগধের ওদন্তপুর বিহারের অনুকরণে লাসায় বিহার নিৰ্ম্মণপূর্বক শান্তরক্ষিতকে ঐ বিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। শান্তরক্ষিত ও পদ্মসম্বভ বৌদ্ধ গ্রন্থ তিব্বতীয় ভাষায় অনুবাদ করেন। শান্ত শক্ষিত ১৩ বৎসর অধ্যক্ষপদে নিযুক্ত ছিলেন। তার শিষ্য কমলশীল তিব্বতে পৌছার পূৰ্ব্বে শওরক্ষিত পরলোকগমন করেন। কমলশীল গুরুদেবের আরদ্ধ কাৰ্য্য সম্পন্ন করেন।
পাটলিপুত্রের (পাটনা) সন্নিকটে ওদন্তপুরী বিহার স্থাপিত হয়। ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার মঠাধ্যক্ষ ছিলেন। অট্টালিকা ছিল বিস্ময়কর।
>>পণ্ডিত - পণ্ডিত অভয়কর গুপ্ত ব্যতীত অন্য কোন পণ্ডিতের নাম পাওয়া যায় না। তিনি ।।দশ শতকের শেষভাগে ও দ্বাদশ শতকের প্রথমাদ্ধে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ছিলেন বলে যায় ।
সূত্রঃ উপমহাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়—শ্রী ইন্দ্র কুমার সিংহ

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ