টপিকঃ কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

>>বইঃ কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস
>>লেখক: সুমিতা দাস
>>প্রকাশনী: পিপলস বুক সোসাইটি, কলকাতা। 


আধুনিক ইতিহাসচর্চার একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা সম্পৃক্ত ইতিহাস (connected histories) রচনা। জাতিরাষ্ট্র অঞ্চল দেশ মহাদেশ ইত্যাদি ঐতিহ্যগতভাবে সীমায়িত ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে সীমায়িত না থেকে নানা অঞ্চল, দেশ, মহাদেশের মধ্যে যোগসূত্রের উপর আলোকপাত করে ইতিহাস রচনাকে নতুন মাত্রা দেওয়া। এই ধরনের ইতিহাস রচনার সাথে সাথে নতুন প্রশ্ন ও পদ্ধতিও উঠে আসে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সাম্রাজ্যবাদের উপর ধ্রুপদী ইতিহাস রচনায় জোর দেওয়া হতো শাসক-রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্যবাদের ক্ষমতা কেন্দ্রের উপর। শাসক-রাষ্ট্র কেমন করে উপনিবেশের উপর প্রভাব ফেলেছে, ঔপনিবেশিক ক্ষমতা, সংস্কৃতিকে গ্রাস করেছে- তার উপর। এর সাথে যুক্ত ছিল ঔপনিবেশিক প্রতিরোধের ইতিহাস। এই ক্ষমতা-প্রতিরোধের মডেলের বাইরে গিয়ে নতুন ইতিহাস রচনার স্বাক্ষর রাখল সম্পৃক্ত ইতিহাস যেখানে শাসক-রাষ্ট্র/উপনিবেশ পরস্পরযুক্ত, এককে বাদ দিলে ওপরের ইতিহাস রয়ে যায় অধরা, অসম্পূর্ণ। ধ্রুপদী ইউরোপ কেন্দ্রিক ইতিহাস চর্চা থেকে সরে গিয়ে মানব সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসকে একটু কম একপেশে দৃষ্টি দিয়ে বিশ্লেষণই সম্পৃক্ত ইতিহাসের উদ্দেশ্য। তবে একটি সমস্যা থেকেই যায়। সম্পৃক্ত ইতিহাস লিখতে গেলে চাই বিভিন্ন সমাজ ও সভ্যতা সম্বন্ধে সমপরিমাণ জ্ঞান আর ধ্রুপদী ইতিহাস চর্চায় এই সমতার পরম অভাব। সুমিতা দাস তার বইয়ের ভূমিকায় বলেছেন আমাদের চিন্তাজগৎ প্রায় পুরোপুরি ইউরোপ বা আমেরিকা-যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক। আমেরিকার ইতিহাস বা পশ্চিমি ইতিহাস বলতে বুঝি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বা পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাস। আমেরিকার ইতিহাস যে নানান সভ্যতার মিশেল দিয়ে তৈরি, এবং বিশ্ব ইতিহাস যে একাধিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র, তা ফুটে উঠেছে কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা ।
>>এছাড়া পাবেন কিছু প্রশ্নের উত্তর,  প্রশ্নগুলো এরকম : ১) কলম্বাস যখন আমেরিকায় গেলেন তখন আমেরিকার জনসংখ্যা কীরকম ছিল ? ২) সেখানকার অধিবাসীদের জীবনযাত্রা কীরকম ছিল— তারা কি শিকার করে আর ফলমূল সংগ্রহ করে জীবন নির্বাহ করতেন (হান্টার্স অ্যান্ড গ্যাদারাস), নাকি কৃষি ছিল? ভ্ৰাম্যমাণ উপজাতি, নাকি স্থায়ী গ্রাম ছিল ? শহর ছিল ? ৩) যদি বলেন শহর ছিল, তাহলে কত বড় শহর ছিল ?
>> জানতে পারবেন, ভুট্টা, আলু, লংকা, টমেটো, পেঁপে, নানা ধরনের বিন, কুমড়ো, চীনাবাদাম, কাজুবাদাম, আনারস, সূর্যমুখী, পেয়ারা, সবেদা, আতা, শাকালু, রাঙালু, স্কোয়াশ, ক্যাপসিকাম, ট্যাপিওকা, অ্যাভোকাডো, তামাক, রবার, অ্যামারান্থ, ভ্যানিলা, কোকো। কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকার অধিবাসীদের কৃষিজ আবিষ্কারের এই তালিকাটি ভোজনরসিক বাঙালির মনে ধরবে।
>>এ কথা আজ বহুল প্রচারিত যে আমেরিকান সভ্যতা মূলত ইউরোপীয় সভ্যতার ধারাবাহিকতা। ইউরোপীয়রা আমেরিকা মহাদেশ দুটিতে গেলেন, গড়ে উঠল আমেরিকান সভ্যতা— এই তত্ত্ব বিশ্বাস করানোর আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ইউরোপীয়দের ভ্রমণবৃত্তান্তগুলি পড়লে মনে হয় ঐ অঞ্চলকে সভ্যতার আলোকে আলোকিত করার জন্যই ইউরোপীয়রা ঐ অঞ্চলে পা রেখেছিলেন।
>>ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ইউরোপীয়রা যে সম্পদের নেশায় আমেরিকা মহাদেশ দুটিতে পাড়ি দিয়েছিলেন— তা অক্ষমের ভ্রান্ত অভিযোগ হিসাবে দেখানো হয়।
>>অথচ ইউরোপীয়রা আসার বহু আগে থেকে আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সেই ইতিহাসই এই গ্রন্থে লেখক নিপুণতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক কালের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে ১২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের

>>আগেও উত্তর আলাস্কা অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠেছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই অঞ্চলে শিকারের নানাবিধ সরঞ্জামের সন্ধান পেয়েছেন। নিউ মেক্সিকোর ক্লোভিস অঞ্চলে সূক্ষ্ম কারুকার্যকরা ছুচোলো বর্শার খোজ পেয়েছেন তারা। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে, এই বর্শাগুলির সময়কাল ১২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। মোটামুটি একই সময়ে দক্ষিণ আমেরিকাতেও যে অধিবাসীরা সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন, তারও বিস্তর প্রমাণ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা পেয়েছেন। সে সব অঞ্চলের অধিবাসীরা প্রথমে ম্যামথ শিকার করতেন। তারপর ম্যামথ অন্তহিত হবার পর তারা বাইসন শিকার করে ক্ষুগ্নিবৃত্তি করতেন।
>>তারপর ক্রমবিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমেরিকান আদিবাসীরা কৃষিজ উৎপাদনের কৃৎকৌশল আয়ত্ত করলেন। ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলের আমেরিকানরা শস্য, স্কোয়াশ, বিন ইত্যাদি কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদন করতে শিখলেন। কৃষিজ উৎপাদন সংক্রান্ত জ্ঞান ক্রমে আরও উত্তর দিকে বিস্তৃত হতে থাকে। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ নিউ মেক্সিকো ও আরিজোনার উপত্যকা অঞ্চলে আরও উন্নত মানের শস্য উৎপাদিত হয়। তারও বেশ কিছু পরে ঐ অঞ্চলে আদিম সেচ ব্যবস্থার নিদর্শন আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, মেক্সিকোর পাশ্ববর্তী অঞ্চলে ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ সুবিন্যস্ত গ্রামীণ জীবন গড়ে উঠেছিল। খ্রিস্টিয় প্রথম শতকে মেক্সিকো, ফিনিক্স, আরিজোনা প্রভৃতি অঞ্চলের অধিবাসীরা বল খেলার মাঠ, পিরামিড ধরনের কাঠামো ও বেশ উন্নত মানের সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। সুতরাং এ বিষয়ে কোন সংশয় নেই যে আমেরিকার আদি মানুষেরা তাদের মতো করে সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। প্রখ্যাত আমেরিকান সাহিত্যিক জ্যাক লন্ডনের বেশ কিছু লেখায় উত্তর আমেরিকার জনজাতিদের কথা উঠে এসেছে।
>>এই সুদীর্ঘ সভ্যতার ইতিহাস বিস্মৃতির অন্তরালে তলিয়ে গেছে। মায়া, অ্যাজটেক, ইনকা প্রভৃতি সভ্যতার কথা স্কুল ইতিহাসের পাঠ্যবইতেও স্থান পায় না। আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের (রেড ইন্ডিয়ান) বিতাড়িত করে তাদের ভূমিতে গড়ে উঠেছে আধুনিক ‘মার্কিন সভ্যতার ইমারত— এ কথাই বা ক’ জন শিক্ষিত মানুষ মনে রেখেছেন? আসলে এ সমস্ত কিছুকে বিস্মৃতির অন্তরালে পাঠিয়ে দেওয়া ইউরোপীয়দের এক সচেতন প্রয়াসের অনিবার্য পরিণতি। কেন এই সচেতন প্রয়াস ? তার প্রধান কারণ, পৃথিবীর যাবতীয় সভ্যতার উৎসমুখ ইউরোপ কেন্দ্রিক, এই মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা।
>>মানুষের কাছে অস্বস্তিকর তথ্যগুলি সচেতনভাবে লোপাট করতে চেয়েছে। ইতিহাসের বিচারে তারা কলঙ্কিত হতে চায় নি। আমেরিকার ইতিহাসও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ফরাসি ঐতিহাসিক জাঁ শ্যেন্যের (Jean Chesneaux) Pasts and Futures or What is History For গ্রন্থে  লিখেছিলেন, “বিশ্বের ইতিহাসের সেটুকু অংশেরই অস্তিত্ব আছে, যেটুকু অত্যাচারীরা আমাদের জানতে অনুমতি দিয়েছে”।
>> আমেরিকা মহাদেশের হারিয়ে যাওয়া সভ্যতাগুলির ইতিহাস এক সূত্রে গেথেছেন এই গ্রন্থের লেখক।

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (৩১-১২-২০১৫ ১২:৫৮)

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

বইদু'খানার PDF স্ক্যানগুলো ছাড়ুন তো দেখি দাদা...

নেটিভ এ্যামেরিকানদের ব্যাপারে ছোটোবেলা থেকেই প্রচণ্ড আগ্রহ। একদম ছোটো ক্লাসে হায়াওয়াথা এবং পোকাহোন্টাস-দের কাহিনীগুলো পড়াতো জেনারাল ইংলিশ সাবজেক্টে।

আরেকটু বড় হবার পর ফি বছর আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীতে ইনকা বা মায়ানদের নিয়ে একটা না একটা কিশোর উপন্যাস থাকতোই - শৈলেন্দ্র সেন (নামটি সম্ভবতঃ ভুল) না কি যেন নামের একজন লেখক শুধুমাত্র রেড ইণ্ডিয়ানদের নিয়েই প্রতিবছর গল্প লিখতেন। এছাড়া সেবা-র ওয়েস্টার্ণ সিরিজও প্রিয় ছিলো। ওখানেও নেটিভ এ্যামেরিকানরা রহস্যময়, বিপজ্জনক ভূমিকায় আবির্ভূত হতো।

এখন আমার আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো প্যালিও-আর্কিওলজী। ওদের উৎপত্তি, সভ্যতা, কালচার, টেকনোলজী ইত্যাদি নিয়ে উদগ্র কৌতূহল আছে। (ছোটোবেলায় এরিখ ফন দানিকেনের গাঁজাখুরি বই পড়ে রোমাঞ্চিত হতাম, এখন সিরিয়াসলী ইন্টারেস্টেড)

আনুমানিক ২৫ হাজার থেকে ১০-১২ হাজার বছর বেরিং ল্যাণ্ড ব্রীজ বলে একটি শুষ্ক ভূখণ্ড ছিলো। ওটার ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে সাইবেরিয়া / কামচাটকা থেকে অজস্র প্রাগৈতিহাসিক মানুষ বেরিং সাগর অতিক্রম আমেরিকার আলাস্কায় আগমন করেছিলো। সাইবেরিয়া থেকে আলাস্কা অব্ধি পুরো এলাকাটাকে বেরিঞ্জিয়া বলেন আর্কিওলজিস্টরা। ১০-১২ হাজার বছর আগে সর্বশেষ আইস এইজ সমাপ্ত হবার কারণে সী লেভেল রাইজ করলে বেরিং ল্যাণ্ড বৃজ সাগরের তলে চলে যায়। এভাবেই মানব প্রজাতীর দু'টি শাখা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এবং ওপাড়ের মানুষদের সম্পর্কে আমরা পরিপূর্ণভাবে বিস্মৃত হয়ে পড়ি। এ পাড়ে (ওল্ড ওয়ার্ল্ড - ইউরোপীয়ান কংকিস্টাডোর-দের দেয়া নাম) এবং ও পাড়ে (নিউ ওয়ার্ল্ড) সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে মানব সভ্যতার বিবর্তন চলতে থাকে। এ পাড়ে অজস্র সভ্যতা, ধর্ম, সৃষ্টিতত্ব, জ্ঞান-তত্ব, সাম্রাজ্য ইত্যাদি আবির্ভূত হয় আবার বিলীনও হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার, এরা সকলেই নিজেকে পৃথিবীর সেরা বলে দাবী করলেও আটলাণ্টিক সাগরের ওই পাড়ে মানুষের ভাই-বেরাদার-দের আরেকটি মহাপরিবার যে মহাসমারোহে নিজেরাই সভ্যতা, সাম্রাজ্য, ধর্মব্যবস্থা ইত্যাদি সৃষ্টি করে চলেছে - সে ব্যাপারে একদমই অন্ধকারে ছিলো ওল্ড ওয়ার্ল্ডের অধিবাসীরা।

অবশেষে, ১০,০০০ বছরের দীর্ঘ বিচ্ছেদের অবসান ঘটান কৃস্টোফার কলাম্বাস নামের একজন কৃমিনাল ১৪৯২ সালে। the rest is history.... কল্পনা করতে পারেন, ভারতীয় উপমহাদেশের সমস্ত রাষ্ট্র/সমাজ-ব্যবস্থা, সাম্রাজ্য, সভ্যতা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে, ৯৫ শতাংশ অধিবাসীকে গণহত্যা, প্লেগ ইত্যাদি উপায়ে বিলীন করে দেয়া হয়েছে। আমরা যারা প্রজন্ম ফোরামে ঢুঁ মারছি তারা বাকী ৫% যারা কোনোক্রমে টিকে গিয়েছি...

কলাম্বাসের আগমনের পর ঠিক তাই ঘটেছিলো ওই মহাদেশে। ওপরে কানাডা থেকে নীচে আর্জেণ্টিনা অব্ধি সমগ্র মহাদেশ জুড়ে এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, near total whole-sale destruction, সংঘটিত হয়েছিলো।

এবার কল্পনা করতে পারেন,  ১৪৯২ খৃস্টাব্দে তিনটি জাহাজ নিয়ে আটলান্টিক পাড়ী দেবার জন্য ইউরোপের স্পেন থেকে রওনা হননি মহামতি কলাম্বাস... বরং মধ্য আমেরিকার মেহিকো কিংবা পেরু থেকে যাত্রা করছেন আতাহুয়ালপা কিংবা মণ্টেযুমা-র কোনো কমাণ্ডার....  big_smile

যাকগে, ঈদানীং Buddy Levy-র Conquistador এবং Charles Mann -এর 1491 এবং 1493 বইগুলো পড়ছি খাপছাড়াভাবে।  তবুও বাংলা বই পেলে ভালোই হয়।

আগ্রহীদের জন্য এই বিষয়ে আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বইঃ
The Last Days of the Incas - Kim MacQuarrie
The Conquest of the Incas - John Hemming
Conquest: Montezuma, Cortes and the Fall of Old Mexico - Hugh Thomas

PS: কলাম্বাস মোটেও প্রথম আমেরিকা "আবিষ্কার" করেন নি। কলাম্বাসের কমপক্ষে ৫০০ বছর আগে থেকেই নর্ডিক, ভাইকিং এবং সম্ভবতঃ রাশানরা গৃণল্যাণ্ডের মাধ্যমে আমেরিকায় যাতায়াত করছিলো। এছাড়া, ওলমেক নামের একটি রহস্যময় বিলুপ্ত সভ্যতা আছে মধ্য আমেরিকায় - ওদের রেখে যাওয়া স্ট্যাচু থেকে জানা যায় তাদের দৈহিক গঠন নিগ্রো-দের মতো ছিলো। সম্ভবতঃ কয়েক হাজার বছর পূর্বে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে একটি সভ্যতা আটলাণ্টিক পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় স্থানান্তরিত হয়েছিলো। তবে কলাম্বাসের গুরুত্ব হলো, তাঁর আবিষ্কারের পর ইউরোপের সাথে চিরস্থায়ী যোগাযোগ সৃষ্টি হয় আমেরিকা মহাদেশের।

Calm... like a bomb.

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সমালোচক (৩১-১২-২০১৫ ১৪:২৩)

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

আমিতো শুনেছিলাম কলম্বাস ভারত আবিষ্কার করেছেন
সরি ভাস্কোদাগামার সাথে উল্টিয়ে ফেলেছি
আচ্ছা ভারতও কি বিচ্ছিন্ন মানব জাতী নিয়ে গঠিত?

অটঃ ব্রাসুদা আফ্রিকা না কোথায় গেলেন সেই ট্রিপের ছবি টবি কই ??

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০১-০১-২০১৬ ১১:১১)

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

সমালোচক লিখেছেন:

আমিতো শুনেছিলাম কলম্বাস ভারত আবিষ্কার করেছেন
সরি ভাস্কোদাগামার সাথে উল্টিয়ে ফেলেছি

টার্কিশ এবং মুরিশ ইসলামিক সভ্যতা ইউরোপকে ভারতবর্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলো। ভারত ও চীন থেকে ইউরোপগামী অতি-লাভজনক ট্রেড রূট-গুলো নিয়ন্ত্রণ করলো মুসলিমরা - এবং তা থেকে মোটা অংকের অর্থ তারা কামাতো। ইসলামিক এম্পায়ারকে পাশ কাটিয়ে অল্টারনেট ট্রেড রুট খুঁজে বের করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলো ইউরোপীয়ান মনার্কীগুলো। পর্তুগীয, স্প্যানিশ, অস্টৃয়ান ইত্যাদি অঞ্চলের মনার্কীগুলো বহুকাল ধরে চেষ্টা করছিলো ভারত বর্ষে যাবার সমুদ্রপথ আবিষ্কার করার। সেই "মাল্টি-ন্যাশনাল" প্রচেষ্টারই একটি সফল অধ্যায় হলো কৃস্টোবাল কলাম্বাস - যাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন কাস্তিল, স্পেইনের রাণী ইসাবেলা। ইনি সেই রাণী ইসাবেলা যিনি রাজা ফার্দিনান্দের সাথে মিলিত হয়ে ইউরোপ থেকে মুসলিম মুরিশ ও ইহুদী বিতাড়িত করেছিলেন। আয়রনিক, চতুর যায়নিস্ট ও মাথামোটা সালাফিস্ট-দের কল্যাণে আজ মুসলিম ও ইহুদীদের মধ্যে তেলে-বেগুনে শত্রুতার সম্পর্ক, কিন্তু মাত্র কয়েকশ বছর আগেও এদের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো ভাই-ভাই - তাদের কমন শত্রু ছিলো রোমান ক্যাথলিক সাম্রাজ্যগুলো। lol

সমালোচক লিখেছেন:

আচ্ছা ভারতও কি বিচ্ছিন্ন মানব জাতী নিয়ে গঠিত?

ভারতবর্ষের গল্প বেশ ইন্টারেস্টিং। আরেকটু আগে থেকে শুরু করি...

প্রায় ৭২-৭৫ হাজার বছর আগে পূর্ব আফ্রিকা থেকে অল্প কিছু মানুষ (সংখ্যায় ৬-৭০০ থেকে কয়েক হাজার হতে পারে) সাগর পাড়ী দিয়ে মিডল ঈস্টে আগমন করেছিলো। আফ্রিকান সাভানায় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটায় খাবার/শিকারের অভাব হয়েছিলো, যে কারণে দু'পেয়ে বানরগুলো ক্রস-কন্টিনেন্টাল ট্রাভেল কোম্পানী গঠন করতে বাধ্য হয়েছিলো। খুব সম্ভবতঃ হর্ণ অভ আফৃকায় বর্তমানের জিবুতি বা ইরিত্রিয়ার কোনো উপকূল থেকে গালফ অব এ্যাডেন উপসাগর পাড়ি দিয়ে ইয়েমেন-এ এসেছিলো তারা। সে সময় পৃথিবীতে আইস এইজ চলার কারণে বিশাল পরিমাণ জল এ্যান্টার্টিকায় বরফ আকারে বন্দী ছিলো, তখন হয়তো সী লেভেল  অনেক নীচুতে ছিলো। হয়তো ওরা ভেলা বানিয়ে নয়তো সরাসরি পায়ে হেঁটে সাগর অতিক্রম করেছিলো। যেভাবেই পাড়ি দিক, ওই সিঙ্গল পয়েণ্ট থেকে আদিম মানুষ ক্রমান্বয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক হাজার বছর ওরা ফার্টাইল ক্রিসেণ্ট (বর্তমানের ইসরায়ল, জর্ডান, লেবানন) এলাকায় কৃষি টেকন‌লজী আবিষ্কার করে ওখানেই স্থিতু হয়ে চাষবাস করে বসবাস আরম্ভ করে। সেকালে ওই এরিয়াগুলো সবুজ-সফলা, চাষোপযোগী ছিলো। কিন্তু তখনকার সেটলড মানুষ অতিরিক্ত চাষবাস করে পুরো অঞ্চলটাকে মরুভূমি বানিয়ে ফেলে। খাবারে টান পড়ায় অগত্যা তারা আবারও মাইগ্রেট করতে শুরু করে। এক গ্রুপ ইউরোপে চলে যায়, অন্যরা ইউরেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আগমন করে। ৪৫-৫০ হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় আগমন করে আদিম মানুষ।

ভারতের আদি অধিবাসী (বলা উচিৎ first arrival) বলতে তামিল ভাষী দক্ষিণ ভারতীয় দ্রাবিড়-দের বোঝায়। আফঘানিস্তান, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের মরহুম ফায়ারফক্স-দার পৈত্রিক আবাসস্থল রংপুর অব্ধি বিশাল ১০-১২ হাজার বছর পুরণো সভ্যতা ছিলো - ইণ্ডাস ভ্যালী সিভিলাইযেশন বা হরপ্পা-ময়েঞ্জোদাড়ো সভ্যতা। এই সভ্যতা আনুমানিক ৮-৯ হাজার বছর আগে decline হওয়া শুরু করে।

কাস্পিয়ান হ্রদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বর্তমানের রোমানিয়া, ইউক্রেন, আযেরবাইজান ইত্যাদি) একটি জনগোষ্ঠী বাস করতো। এদেরকে "কুরগান" কালচার নামে ডাকা হয়, সাধারণ মানুষ এদের আর্য বা এরিয়্যান নামে চেনে। পৃথিবীর প্রথম ঘোড়া-র ডমেস্টিকেশন, এবং চাকা আবিষ্কার করে এরাই। এই দুই টেকনোলজীর বদৌলতে এরা খুব দ্রুত পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে (স্বভাবতঃই)। আনুমানিক ৮-৯ হাজার বছর আগে এরা পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে, এদের একটা গ্রুপ পৌঁছে যায় এশিয়া মাইনর অব্ধি (বর্তমানের ইরান)। ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কয়েক সহস্রাব্দ কাটায় এই ইউরোপীয়ান যাযাবররা। ইউরোপ থেকে আসবার সময় স্যুটকেসে করে প্যাগান ধর্মটাও ইমপোর্ট করে এনেছিলো এরা। এদের এক গ্রুপ চাষবাস আরম্ভ করে ইরানে সেটলড হয়ে পড়ে - ওরা যরথ্রুস্তবাদ ধর্মের জন্ম দেয়। অন্য গ্রুপটা যাযাবর - এরা পশু চরায়, হামলা করে চাষী জনগোষ্ঠীর খাদ্য, সম্পদ ইত্যাদি ছিনিয়ে নেবার জীবনপদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে; এদের দেবতা ইন্দ্র। একই উৎস থেকে এলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম লাইফস্টাইল, জীবনের ফিলোসফী-র পার্থক্যের কারণে কৃষিজীবি (settled society) ও যাযাবর (nomads) একে অপরের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে আরম্ভ হয়।

আনুমানিক ৩.৫-৪+ হাজার বছর আগে এ্যারিয়ান যাযাবররা আরো পূর্ব দিকে মাইগ্রেট করা আরম্ভ করে। আর্য্যদের প্রথম পায়োনীয়ার গ্রুপটা পাঞ্জাব ক্রস করে ভারতে প্রবেশ করছিলো, ওরা হয়তো মৃত্যুপথযাত্রী হরপ্পা নগর-সভ্যতাগুলোর সংস্পর্শে এসেছিলো। দুই সভ্যতার মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছিলো কিনা জানা যায় না। লং স্টোরী শর্ট - আর্য্যরা (সাউথ ইণ্ডিয়া বাদ দিলে) পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে, লোকাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে মিলিত হয়ে হাইবৃড প্রজন্মের সৃষ্টি করে। ভারতবর্ষের স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের এলিমেণ্টগুলো গ্রহণ করে এরাও একটি স্বতন্ত্র ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করে - সনাতন ধর্ম।

বিচ্ছিন্ন মানবগোষ্ঠী বলে কিছু নেই সম্ভবতঃ। এ্যাট দ্যা এণ্ড অব দ্যা ডে, উই অল আর আফৃকান এইপস - দ্যা থার্ড শিম্পাঞ্জী।

সমালোচক লিখেছেন:

অটঃ ব্রাসুদা আফ্রিকা না কোথায় গেলেন সেই ট্রিপের ছবি টবি কই ??


প্রায় পৌনে বছর খানেকের মতো কাটালেও মোবাইল দিয়ে ছবিটবি খুব একটা তুলি নাই। রাস্তাঘাটের ছবি দেখে আর কি করবেন?

বছর দুয়েক আগে প্রথমবার ঈস্ট আফ্রিকায় ফ্লাই করে এক অদ্ভূত অনুভূতি হয়েছিলো.... গ্রেট আফ্রিকান রিফট ভ্যালীর ওপর দিয়ে আমাদের প্লেন যাচ্ছিলো, আর প্লেনের জানালা দিয়ে নীচের পাহাড়-পর্বত দেখতে দেখতে বারবার মনে হচ্ছিলো হাজার হাজার বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা এসব এলাকায় বিচরণ করতো! পরে বুজুমবুরায় (বুরুণ্ডি) ল্যাণ্ড করার পর অনুভূতিটা ছিলো এরকম: returning to long-forgotten motherland...

এ বছর জানুয়ারীতে গিয়েছিলাম ডুবাই হয়ে। ইয়েমেনের ওপর দিয়ে গিয়ে প্লেন যখন গালফ অব এ্যাডেন ক্রস করছিলো, শিরশিরে অনুভূতি হচ্ছিলো  (যার কারণ ওপরে বর্ণিত আছে)। তবে যাওয়ার সময় বদরুদ্দিন নামের এক হাফ-এ্যারাবিয়ান, হাফ-আফৃকান (কমোরোস আইল্যাণ্ডের অধিবাসী) সহযাত্রী-র পাল্লায় পড়েছিলাম। সারা রাস্তা বকবক করে মাথা ধরিয়ে দিয়েছিলো। ও ব্যাটা আবার ফ্রেঞ্চ আর আরবী ছাড়া আর কিছু জানে না - তবুও বকরবকর করেই যাচ্ছিলো। আমার উইণ্ডো সীটটা ব্যাটা মেরে দিয়েছিলো - ভাঙা ভাঙা ফ্রেঞ্চে তাকে বলার পরেও পাত্তাই দিলো না মর্কটটা। এ কারণে যাওয়ার সময় ছবিটবি খুব একটা তুলতে পারি নি। ভেবেছিলাম ফেরার পথে গালফের ফটো তুলবো। কিন্তু প্রায় ছয় মাস পরে যখন ফেরার সময় হয় - ততদিনে ইয়েমেনে লেগে গেছে হুথিদের যুদ্ধ। (আমরা যখন ফিরি সম্ভবতঃ তার মাস খানেক পরেই সৌদী আরবের বম্বিং রেইড আরম্ভ হয়) যে কারণে আমাদের ফ্লাইট পুরো মিডল ঈস্ট বর্জন করে আরব সাগরের ওপর দিয়ে অন্য রূটে গিয়েছিলো।  sad

দেখি একটা টপিক দিবো।

পিএসঃ বদ্রুদ্দিন এখনো আরবীতে কি কি সব হাবিজাবি ওয়াটস্যাপ মেসেজ করে - কিছুই বুঝি না।  sick কয়েকদিন আগে জমি আর বাড়ীঘরের একগাদা ফটো, কিছু সার্টিফিকেটের স্ক্যান আর আরবীতে লম্বা মেসেজ পাঠালো - মনে হয় বাড়ীর লোকের জন্য মেসেজ ভুল করে আমাকে পাঠাইছে  lol টিপিকাল আফ্রিকান!  roll

পিপিএসঃ দুই সপ্তাহ পরে আবারও যাচ্ছি। এবারও মাস তিনেক থাকতে হবে। আজকে সকালে টিকেট করালাম।

Calm... like a bomb.

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

@ইনভারব্রাস ভাইঃ সব কমেন্টগুলো পড়লাম।ধন্যবাদ। কাহিনী হইলো যে, আমরা যদি সবাই আর্য্যদের থেকে তৈরী হওয়া হাইব্রীড থেকে আসি, তাহলে আদিবাসীরা তাদেরকে কি হিসেবে আদিবাসী দাবী করে? আদিবাসীর মানে কি? বাংলাদেশে যেমন মনিপুরী, চাকমা, মারমা ইত্যাদি আদিবাসী জাতি আছে, তারা আসলে কিসের ভিত্তিতে আদিবাসী?

3 minutes and 57 seconds after:

ফায়ারফক্স ভাই মারা গেছেন? আহা, বড় ভালো মানুষ ছিলেন। ২০১১ এর মিটাপে দেখেছিলাম। মাইক্রোফোন নিয়ে কি কি জানি বলছিলেন। আমি আসলে খাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম, তাই মনযোগ দিয়ে শোনা হয়নি lol

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

আমাদের সরকার নিয়ম করেছে কাউকে আদিবাসী বলা যাবে না  donttell donttell

আমার কথা হলো হরপ্পা মহেঞ্জোদারো সভ্যতা যেহেতু আর্যরা এসে দেখেছে তারমানে তাদের আসার আগেই অন্য অধিবাসী ভারতে ছিল। 
আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে এখানে মাইগ্রেশনের মাধ্যমেই কি ১ম মানুষ আসে নাকি আলাদা ভাবে ন্যাচার সিলেকশনের মাধ্যমে বানরসপএসিস  থেকে মানুষ এসেছে। ঠিক বোঝাতে পারলাম না

মানে ১ম কবে মানুষের পদচারনা ভারতে শুরু হয়। নাকি ভূখণ্ড ভাগ হয়ে যাবার সময় বিভিন্ন মানব বিভিন্ন ল্যান্ডে আটকে পড়ে
অটঃ ম্যাকের  p বাটন কাজ করছে না তাই ফ্লুয়েন্টলি লিখতে পারছি না

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

@ইনভারব্রাস ভাইঃ সব কমেন্টগুলো পড়লাম।ধন্যবাদ। কাহিনী হইলো যে, আমরা যদি সবাই আর্য্যদের থেকে তৈরী হওয়া হাইব্রীড থেকে আসি, তাহলে আদিবাসীরা তাদেরকে কি হিসেবে আদিবাসী দাবী করে? আদিবাসীর মানে কি? বাংলাদেশে যেমন মনিপুরী, চাকমা, মারমা ইত্যাদি আদিবাসী জাতি আছে, তারা আসলে কিসের ভিত্তিতে আদিবাসী?

আদিবাসী-র সংজ্ঞা বিতর্কিত। ইংরেজী indigenous people শব্দের অর্থ অনেকটা first people in an area...

বাংলাদেশের আদিবাসীরা "মঙ্গোলয়েড মানব প্রজাতী" (চীন, পূ্র্ব এশিয়া)-র সদস্য। ছাত্রজীবনে মেডিকেল এ্যাণ্থ্রোপলজী টেক্সটবুকে মোটা দাগে চার ধরণের হিউম্যান রেইস-এর ব্যাপারে জেনেছিলামঃ ককেশয়েড (ইউরোপীয়, মিডল ঈস্ট এবং আমরা ভারতীয় উপমহাদেশবাসী), মঙ্গোলয়েড (সকম চায়নাম্যান যাদের দেখতে একই রকম লাগে), নিগ্রোয়ড (আফৃকান) এবং চতুর্থ গ্রুপটি সম্ভবতঃ অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপের এ্যাবোরিজিন। তবে এসব ক্লাসিফিকেশন সম্ভবতঃ এখন মলিকিউলার বায়োলজীর যুগে অর্থহীন হয়ে গিয়েছে।

সে যাকগে, মঙ্গোলয়েড মানুষের উৎস একটু মিস্টিরিয়াস। পিকীং ম্যানের ফসিল পাওয়া গিয়েছিলো চীনে - ওটা প্রায় সাড়ে সাত লাখ বছর আগের হোমিনিন। মানুষের বিবর্তনের দু'টো হাইপোথিসিস আছে - একটি হলো মাল্টি-রিজিওনাল এভোল্যুশন (MRE) - অর্থাৎ, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রজাতীর মানুষ বিবর্তিত হয়েছে একই সাথে। গত শতাব্দীতে মনে করা হতো পিকীং ম্যান হলো চীনাদের পূর্বপুরুষ। তবে এ ধারণাটি এখন প্রায় বাতিল - MRE এখন আর খুব একটা জোরালো থিওরী নয়।

অপর থিওরী - "আউট অব আফ্রিকা" - আধুনিক জেনেটিক্সের যুগে হালে পানি পাচ্ছে। যদিও এই থিওরীতেও প্রচুর গ্যাপ আছে, তবে বর্তমানের মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত ধারণাটি হলো - ৬০-৮০ হাজার বছর আগে পূর্ব আফ্রিকা থেকে কিছু মানুষ মিডল ঈস্টে আসে। মিডল ঈস্টে পা রাখা মানে পৃথিবীর সবচাইতে বড় ল্যাণ্ডম্যাস ইউরেশিয়ায় প্রবেশাধিকার পাওয়া - এবং তারা তাই করেছিলো। কয়েক হাজার বছরের ব্যবধানে ইউরোপ এবং এশিয়ার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ পূ্র্ব এশিয়ায় যারা গিয়েছে তারা ইন্দোনেশিয়া -> বোর্ণিও -> পাপুয়া নিউ গিনী এভাবে আইল্যাণ্ড হপিং করতে করতে এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ায় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলো। আরেক গ্রুপ, সাইবেরিয়া / কামচাটকা পেনিনসুলা হয়ে আলাস্কায় প্রবেশ করেছিলো। এভাবে এ্যান্টার্টিকা বাদ দিলে পৃথিবীর সকল মহাদেশে বিস্তার হয়েছিলো মানুষের।

অবাক ঠেকলেও আফ্রিকার অধিবাসীরা বাদে বাকী পৃথিবীর সমস্ত মানুষ পূর্বপুরুষদের ওই একটা ছোট্ট গ্রুপ থেকে উদ্ভূত। কিছুদিন আগে একটি ম্যাগাযিনে পড়েছিলাম - সমস্ত আফ্রিকানদের দেখতে একই রকম লাগে, আর বাকী পৃথিবীর ভিন্ন জাতী দৈহিকভাবে ভিন্ন। বাহ্যিক অবয়ব যেমনই হোক, অথচ কোষের ভেতরে ব্যাপারটি ঠিক উল্টো। জেনেটিকালী বরং আফ্রিকানদের মধ্যেই ভ্যারিয়েশন বেশি, আর তুলনামূলকভাবে বাকী পৃথিবীর সব মানুষ জেনেটিকালী হোমোজেনাস।  roll

এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে মানুষদের একটামাত্র গ্রুপই খ্রীস্টপূর্ব ৩১শে ডিসেম্বর, ৬৫০০০ তারিখে আফ্রিকা থেকে পলায়ন করেছিলো। নিঃসন্দেহে এর আগে ও পরে অজস্র মানুষ মাইগ্রেট করেছে - পার্থক্য, তারা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে নি, যা ওই একটি দল করতে সক্ষম হয়েছিলো।

হিউম্যান মাইগ্রেশন টাইমলাইনঃ
http://i.imgur.com/mh8UnXk.png

আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স) যদি ৬০ হাজার বছর আগে পৃথিবী ছাড়ে, তাহলে সাড়ে ৭ লাখ বছর পুরণো পিকীং ম্যান কি করে চীনাদের পূর্বপুরুষ হয়? ব্যাখ্যাটি হলো - পিকীং ম্যান চীনাদের পূর্বপুরুষ নয়, ওটা বিলুপ্ত এক মানব প্রজাতী (হোমিনিন)। প্রসঙ্গতঃ নিয়েণ্ডার্টাল মানব - এরাও ৩০-৩৫,০০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো (প্রায় নিঃসন্দেহে আমাদের পূর্বপুরুষের প্রতিযোগীতার কারণেই তারা নিশ্চিহ্ণ হয়ে গিয়েছে)। তেমনি পিকীং ম্যান এমন আরেকটি evolutionary dead-end... এরকম বিলুপ্ত মানুষের উদাহরণ আরো আছেঃ ডেনিসোভান মানুষ - এরা চীন ও রাশিয়ায় বাস করতো। ফ্লোরেসিয়েনসিস - হবিট সাইযের এই মানবরা ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে বাস করতো - এরা মাত্র ১০-১২ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে। একাধিক হোমিনিন প্রজাতীর মধ্যে আমরা হলাম সবচেয়ে নবীন - অন্যান্য প্রজাতীগুলো সর্বোচ্চ ২৫ লাখ বছর পুরণো, আর আমাদের উৎপত্তি বড়জোর দেড় থেকে সোয়া দুই লক্ষ বছর আগে। অন্যান্য প্রজাতীগুলো আমাদের লক্ষ লক্ষ বছর আগেই আফ্রিকা ছেড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপন করেছিলো (নিয়াণ্ডার্টাল-রা ইউরোপ ও মিডল ঈস্টে, ডেনিসোভান ও অন্যান্যরা এশিয়ায়)। কিন্তু এরা "সফল" হয় নি। যদিও এখানে "সাফল্য" শব্দটিই আপেক্ষিক - হোমো নিয়াণ্ডার্টাল প্রায় ২৫ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে বিচরণ করেছে, ওরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ৩২-৩৩ হাজার বছর আগে। আর আমরা হোমো স্যাপিয়েন্স আবির্ভূত হয়েছি মাত্র সেদিন - বড়জোর ২২০,০০০ বছর আগে। নিয়াণ্ডার্থালদের ১০ ভাগের ১ ভাগও আমরা পৃথিবীতে কাটাই নি - মিলিয়ন বা ১০ লক্ষ বছরতো বাদই দিলাম, আগামী ১০,০০০ বছরও মানবজাতী টিকবে কিনা ঘোর সন্দেহ। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই একমাত্র প্রাণী যারা স্বেচ্ছায় নিজেদের ধ্বংস করে দিতে সক্ষম...

"first people in an area" হিসেবে মণিপুরী, চাকমা, মারমা, হাজং প্রভৃতি জনগোষ্ঠীরা নিজেদের "আদিবাসী" দাবী করতেই পারে। তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, উপজাতীত্ব সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে, এবং এ ব্যাপারে সম্ভবতঃ আমরা বেশিরভাগই যত্নবান।

তবে আদিবাসী বলেই সাতখুন মাফ এমনটাও মেনে নেবার কারণ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অতীতে অনেক জলঘোলা হয়েছে। এটা সত্যি - কৃত্রিম হ্রদ তৈরী করার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রচুর নিম্নভূমি অধিগ্রহণ করেছিলো যার ফলে অনেক পরিবারকে স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছিলো। আদিবাসীদের নেতারা সে বঞ্চনার কথা বিদেশীদের কাছে ফলাও করে প্রচার করে। তবে যেটা উহ্য রাখে - তা হলো ওই হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্ল্যাণ্ট থেকে তারা নিজেরাও উপকৃত হচ্ছে,  পার্বত্য এলাকায় যে আধুনিকায়ন হচ্ছে, তার অন্যতম চালিকা ওই প্ল্যাণ্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ। কয়েক শ কিংবা হাজার মানুষের স্থানান্তরিত (একেবারে বাস্তূহারা তো নয়) হবার বিনিময়ে কয়েক কোটী মানুষ সুফল পাচ্ছে - এটাও বিবেচনা করা দরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের সাথে বাঙালীদের সম্পর্ক তিক্তই বলতে হবে। বাঙালী সেটলাররা ক্রমেই হিল ট্র্যাক্টসের গভীরে বসতি স্থাপন করছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে গায়ের জোরে জমি জবরদখল করে নিচ্ছে। হানাহানির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। স্বভাবতঃই চাকমা, মারমা ও উপজাতীয়রা তা নিয়ে নাখোশ। দোষ উভয় পক্ষেরই রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের অন্যান্য আদিবাসী, যেমন সিলেটের মনিপুরী, খাসিয়া প্রভৃতি উপজাতীদের সাথে সম্পর্ক মোটামুটি ভালোই মনে হয়েছে। অন্য স্থানে মানিয়ে চলতে পারলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে তা কেন হচ্ছে না তা ভাবার বিষয় বটে।

আদিবাসীরা কিছু বিশেষ সুবিধা, অধিকার দাবী করতেই পারে। তবে তা অযোক্তিক হলে মেনে নেয়া কঠিন। এ বছরই এমন এক ঘটনা ঘটেছে হাওয়াই-তে। হাওয়াইয়ের একটি দ্বীপের সর্বোচ্চ মাউনা কিয়া পাহাড়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ৩০ মিটার টেলিস্কোপ বসানো হবে। দেড় বিলিয়ন ডলারের প্রযেক্ট, পারমিশন, প্ল্যানিং ট্যানিং ইত্যাদি সব করা শেষ। এমন সময় কিছু বুড়ো হাওয়াইয়ান আদিবাসী এসে বাগড়া দিয়ে আবোলতাবোল বলা শুরু করে - ওটা নাকি পবিত্র পাহাড়, ওখানে নাকী পূর্বপুরুষদের আত্মা (প্রেতাত্মা? ) বাস করে ইত্যাদি ভগিচগি কারণে এখানে টেলিস্কোপ-মেলিস্কোপ বসানো যাবে না.... ওদের সাথে আবার যোগ দিয়েছে কিছু মাথামোটা আমেরিকান গরু এ্যাক্টিভিস্ট... এসব পড়লে মেজাজটাই খিঁচড়ে যায়...  angry হাওয়াইয়ান গভর্নমেন্ট প্রতিবাদ সমাবেশ নিষিদ্ধ করে, এদিকে এরাও আবার পাল্টা আমেরিকান সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে দিয়েছে। যাকগে, টেলিস্কোপটি ২০২৪ সালে উদ্বোধন করার কথা, তবে এসব গ্যাঁড়াকলে পড়ে এখন‌ো কাজই আরম্ভ করতে পারে নি।

তবে বাহ্যিক অবয়ব ভিন্ন হবার কারণে কেউ যদি নিজেদের ভিন্ন প্রজাতীর মানব মনে করে তা নিছক অজ্ঞতাপ্রসূত ধারণা। চামড়া ছিলে গেলে আদিবাসী-বাঙালী, শ্বেতাঙ্গ-নিগ্রো, ইহুদী-মুসলমান, মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার, ইরাকী-আমেরিকান, ইন্ডিয়ান-পাকিস্তানী-র মধ্যে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায় না।

১ প্রজন্ম পিছিয়ে যান, পরিবারের সকল বায়োলজীকাল ভাই-বোন সহ আপনি একই উৎস থেকে আগত।
৫-১০ জেনারেশন পিছিয়ে যান, আপনার সমস্ত পরিচিত-অপরিচিত দেশী-প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনের উৎস এক জোড়া মানব মানবী।
১০০ বা ২০০ প্রজন্ম পিছিয়ে যান, সমস্ত ভারতীয় উপমহাদেশ-বাসী আপনার ভাই-বোন।
৫০০ জেনারেশন পিছিয়ে যান - আপনার গ্রেট... দাদা-দাদী মিডল ঈস্টে গম-ধান চাষবাস করার টেকনলজী আবিষ্কার করছে নয়তো বাইসন/ম্যামথ শিকার কিংবা ফলমূল কুড়াচ্ছে।
২০০০ জেনারেশন পিছিয়ে যান - পেটে ক্ষিধে নিয়ে আফ্রিকার কোনো এক সাগরতীরে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছে কোনোমতে এই জলাশয় পাড়ি দিয়ে ওপাড়ে গেলেই কলা-মূলা নিশ্চয় জুটবেই...

জাতীয়তা, রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সীমানা, ভিসা ইত্যাদি নিয়ে আমার একটু ভিন্ন (এবং বিতর্কিত) ধরণের চিন্তাভাবনা আছে। এখানে অফটপিক হয়ে যাবে, কেউ যদি আগ্রহী হন তবে অন্য টপিকে আলোচনা হতে পারে।

পিএসঃ নিয়ান্ডার্থাল মানুষ অবলুপ্ত হয়ে গেলেও পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নি। আফ্রিকান বাদে বাকী সকল মানুষের মধ্যে নূন্যতম ১.৫ থেকে ২.৫% ডিএনএ এসেছে নিয়াণ্ডার্থাল মানব থেকে। ইউরোপীয়ানদের মধ্যে গড়ে ৫-৬% নিয়াণ্ডার্থাল জীন আছে। লাল চুল বা দাড়ী-ওয়ালা মানুষদের মধ্যে আরো বেশি (২০% পর্যন্ত হতে পারে) - লাল-চুলের জীন এসেছে সরাসরি নিয়াণ্ডার্থাল থেকে। এছাড়া নিয়াণ্ডার্থালদের সাথে ইয়ে-টিয়ে করার কারণে কিছু রোগব্যাধীও (লুপাস, ডায়াবিটিস ইত্যাদি) আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছি।

আমার টাইপ ২ ডায়াবিটিস ধরা পড়েছিলো কয়েক বছর আগে... লাগতা হ্যায় জেলাল ভাই ও আমার গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট... গ্র্যাণ্ডফাদার (অথবা গ্র্যাণ্ডমাদার) কিঞ্চিৎ রসিক মানুষ ছিলো...  lol

Calm... like a bomb.

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

invarbrass লিখেছেন:

জাতীয়তা, রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সীমানা, ভিসা ইত্যাদি নিয়ে আমার একটু ভিন্ন (এবং বিতর্কিত) ধরণের চিন্তাভাবনা আছে। এখানে অফটপিক হয়ে যাবে, কেউ যদি আগ্রহী হন তবে অন্য টপিকে আলোচনা হতে পারে।

জ্বী আমি খুবই আগ্রহী। তবে আমি মূর্খ মানুষ হওয়ায় শুধু পড়বো smile

ইট-কাঠ পাথরের মুখোশের আড়ালে,
বাধা ছিল মন কিছু স্বার্থের মায়াজালে...

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

সমালোচক লিখেছেন:

আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে এখানে মাইগ্রেশনের মাধ্যমেই কি ১ম মানুষ আসে নাকি আলাদা ভাবে ন্যাচার সিলেকশনের মাধ্যমে বানরসপএসিস  থেকে মানুষ এসেছে। ঠিক বোঝাতে পারলাম না

মানে ১ম কবে মানুষের পদচারনা ভারতে শুরু হয়। নাকি ভূখণ্ড ভাগ হয়ে যাবার সময় বিভিন্ন মানব বিভিন্ন ল্যান্ডে আটকে পড়ে
অটঃ ম্যাকের  p বাটন কাজ করছে না তাই ফ্লুয়েন্টলি লিখতে পারছি না

হ্যাঁ, আপাততঃ জেনেটিক্স সমর্থিত হাইপোথিসিসটি হলো - পৃথিবীর সকল মানব গোষ্ঠী একই উৎস থেকে মাইগ্রেট করেছে (আফৃকা মহাদেশ বাদে)।

অন্য হাইপোথিসিস - মাল্টিপল কো-ইভোল্যুশন - যার ব্যাপারে আপনি লিখেছেন - এটা এখন আর জোরালো মনে করা হয় না। কারণ জেনেটিক এ্যানালাইসিস ঘুরে ফিরে একই সোর্স - আউট অব আফ্রিকা - হাইপোথিসিস-কে সমর্থন করছে। যেমন, ৩/৪ দিন আগেই একটা গবেষণার খবর বের হলো - পৃথিবীর সকল নীল চোখ মানব-মানবীর উৎস একজন মাত্র ব্যক্তি যে কয়েক হাজার বছর আগে ইউরোপে বাস করতো। মানুষের চোখের রং বাদামী - এটা নিয়ন্ত্রিত হয় কয়েকটি জীন দ্বারা। ওই বিশেষ পুরুষ বা নারীর একটি ডিফেক্টিভ জীন ছিলো - যার কারণে বাদামী রঙটি গঠিত না হয়ে নীল রংটিই প্রকাশিত হয়। চোখের ধুসর, সবুজ ইত্যাদি রঙের জন্য আলাদা জীন আছে। নীল রঙটি একটু বিশেষ কারণ এটার জন্য কোনো আলাদা জীন নেই, বরং বাদামী রঙের জীন-টি সাপ্রেসড হয় বলেই এই রংটি প্রকাশিত হয়।

মাইটোকণ্ড্রিয়াল ডিএনএ (mtDNA) এ্যানালাইসিস করে জানা গেছে পৃথিবীর (আবারও - আফ্রিকানরা এই পার্টী থেকে বাদ) সমস্ত মানুষ একজন মহিলা-র বংশধর। (এই বিষয়ে একখানা টপিক লিখিতে চাইয়াছিলাম - কিন্তু উহা জন্মের আগেই মৃত হইয়া গিয়াছে)। এটাকে আবার বাইবেলের ঈভ/হাওয়া-র কল্পকাহিনী বলে ধরে নেবেন না। এই মাদার শুধুমাত্র নন-আফ্রিকান, মাইগ্রেন্ট মানুষদের মাতা।

এর মানে এই নয় যে যাযাবরদের গ্রুপে ওই একজন ছাড়া আর কোনো মহিলা ছিলো না বা তারা গর্ভবতী হয় নি। আরো মহিলা নিঃসন্দেহে ছিলো, এবং নিঃসন্দেহে তারাও গর্ভধারণ করেছিলো - কিন্তু কোনো না কারণে তাদের বংশধারাগুলো স্থায়ী হয়নি। শুধুমাত্র ওই একটি মহিলার ব্লাডলাইন-ই টিকে গিয়েছে... আপাততঃ...

সিক্স বিলিয়ন হিউম্যান বিয়িংস।

ওয়ান মাদার।  neutral

মোদ্দা কথা - সব মানুষই (আফ্রিকান বাদে) একই সোর্স থেকে এসেছে। কিন্তু হাজার হাজার প্রজন্ম ধরে ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার কারণে ওদের বিবর্তন হয়ে ত্বকের বর্ণ, চুল, দৈহিক গড়ন/কাঠামো ইত্যাদিতে পরিবর্তন এসেছে। একটি সাম্প্রতিক startling discovery হলো - শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয়ানরা ফর্সা হয়েছে মাত্র হাজার পাঁচেক বছর আগে। তার আগে ও ব্যাটারা আমাদের বাকী সবার মতোই কালুয়া ছিলো। বিষুব রেখা থেকে কয়েক ডিগ্রী দূরে থাকায় ইউভি বি রেডিয়েশনের স্বল্পতা এবং কমজোর সূর্যালোক থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণের উদ্দেশ্যে স্কিনের ডি-মেলানািইযেশনের কারণে ওখানকার মানুষের ত্বক ফর্সা হতে বাধ্য হয়।

এটাকে রেসিযম বলা যাবে না, তবে পুরুষরা কেন pale skin রমণীদের পছন্দ করে তার রহস্যও এখানে নিহিত। ফর্সা ত্বক = মানে ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ কম (মেলানিন হলো ন্যাচারাল সানব্লকার - সূর্যরশ্মি প্রতিরোধ করে) = মেলানিন কম থাকা মানে অধিক পরিমাণ সূর্যালোক, বিশেষ করে আল্ট্রাভায়োলেট বি রশ্মি ত্বকে প্রবেশ করছে = ইউভিবি রে নারীর দেহে অধিক পরিমাণে ভিটামিন ডি তৈরী করতে সাহায্য করছে = প্রেগন্যান্সীতে বিরাট পরিমাণে ভিটামিন ডি প্রয়োজন হয়, এই ভিটামিন ডি৩ ভ্রুণের মস্তিষ্ক গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এছাড়া হাড় ও অন্যান অঙ্গ গঠনের জন্যও পর্যাপ্ত ডি ভিটামিন প্রয়োজন...

সমালোচক লিখেছেন:

আমার কথা হলো হরপ্পা মহেঞ্জোদারো সভ্যতা যেহেতু আর্যরা এসে দেখেছে তারমানে তাদের আসার আগেই অন্য অধিবাসী ভারতে ছিল।

মহেঞ্জোদারো-ও যে first-comer তা বলা যায় না। গুজরাটের খাম্ভাট উপকূলে সাগরের তলে নিমজ্জিত দ্বারকা নগরটি সম্ভবতঃ হরপ্পা সভ্যতা থেকেও পুরণো...  এতো প্রাচীন হওয়া সত্বেও শহরটির নির্মান শৈলী দেখলে অবাক হতে হয়। সী লেভেল রাইজিংয়ের কারণে কয়েক হাজার বছর আগে ২০-২৫ মাইল ব্যাপী পুরো নগরটিই যেহেতু সাগরের তলে নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছে, তাই এটার কার্বন ডেটিং করা বেশ কঠিন। নগরসভ্যতাটি অন্ততঃ ১০-১২ হাজার বছরের পুরণো হবে বলে ধারণা করেন আর্কিওলজিস্টরা।
http://i.imgur.com/PzTSf9G.jpg
http://i.imgur.com/H34fPtn.jpg
http://i.imgur.com/ITD3JH1.jpg
হিন্দুত্ববাদীরা দাবী করেন, দ্বারকা নগরটি ছিলো শ্রীকৃষ্ণের আবাসস্থল।

জাপানীরা মনে করে ওরাই জাপানের আদিবাসী। কিন্তু পরে জানলাম, ওদের আগমনের বহু আগে থেকেই জাপানে শ্বেতাঙ্গ মানুষের বসবাস (বিশেষ করে হোক্কাইদো অঞ্চলগুলোতে)... এরা সম্ভবতঃ সাইবেরিয়া থেকে মাইগ্রেট করেছিলো। কিন্তু চীনারা মেইনল্যাণ্ড থেকে দলে দলে আগমন করায় ওরাই মেজরিটী হয়ে দাঁড়ায় এবং ইতিহাস নিজেদের মতো করে তৈরী করে। বাংলাদেশের আদিবাসীদের কাহিনীও সম্ভবতঃ একই রকম।

আর্য্যরা পৃথিবীতে অনেক কিছুই ছড়িয়ে দিয়েছে- সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভাষা। ইংরেজী, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, আনাতোলিয়ান, তুর্কী, ফার্সী, বাংলা, হিন্দী এবং বিলুপ্ত সংস্কৃত ও ল্যাটিন - পৃথিবীর ৮০% মানুষের মুখের ভাষা কাস্পিয়ান হ্রদের তীরবর্তী ৫-৭ হাজার বছর আগের কুরগান জনগোষ্ঠী থেকে উদ্ভূত। আর্কিওলজিস্টরা এটাকে প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয়ান (PIE) ভাষা বলেন। নীচে PIE-এর ফ্যামিলী ট্রীঃ
http://i.imgur.com/2MXIdEr.jpg

গাছটির একটি বিশেষ শাখা-প্রশাখা যুম করে দিলামঃ  wink
http://i.imgur.com/GhZGODl.jpg
ওদ্দ্যাপাক!  surprised "রংপুরী" নামে যে বাংলা থেকে স্বতন্ত্র একটি উপভাষা আছে এবং তা যে সাইযেও ঢাউস তা আজ প্রথম জানলাম!  mad

পিএসঃ জাপানী জাতীর উৎপত্তি নিয়ে খুব মজার একটি কাহিনী আছে। চীনের প্রথম সম্রাট চীন (যাঁর নামে দেশটির নাম) -তাঁর খুব খায়েশ ছিলো অমরত্ব লাভ করবেন। অমরত্বের টেকনোলজী আবিষ্কারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁর এক মন্ত্রীকে। ও ব্যাটা ছিলো মহা-ধুরন্ধর। বিভিন্ন আউলফাউল এক্সপেরিমেণ্ট (নির্ঘাৎ হোমিওপ্যাথী  lol ) করে রাজাকে এটাসেটা দিয়ে বলতো এটা খেলে অমরত্ব লাভ হবে। রাজামশাইও বুদ্ধির ঢেঁকী না একেবারে ওয়েল ট্যাংকারের ব্যারেল, (রাজাগজাদের বুদ্ধি অবশ্য ওই লেভেলেই সচরাচর থাকে) সরল মনে তা গিলতেন - কিন্তু কিছুতেই কিছু হতো না, তাঁর শরীর খারাপ হতেই থাকে। শেষমেষ ধান্দাবাজ মন্ত্রী কোনো এক দ্বীপে নাকি অমরত্বের দাওয়াইয়ের খোঁজ পাওয়া গিয়াছে, কিন্তু উহা উদ্ধার করিতে অভিযান চালাইতে অজস্র লোকবল ও ধনদৌলত প্রয়োজন হইবেক ইত্যাদি বলে কেচ্ছা ফেঁদে বসে। ভগ্নস্বাস্থ্যের রাজামশাই তখন মরিয়া, তিনি সব দাবী দাওয়া মেনে নেন। আর ওই ধান্দাবাজ মন্ত্রী কয়েক জাহাজ ভর্তী নারী-পুরুষ ও সম্পদ নিয়ে সেই যে চম্পট দিলো, আর তার টিকিটিরও দেখা মিললো না। চাইনীজ মীথোলজী বলে - ওই ফাটকা মন্ত্রী ও তার সাথের লোকজনই জাপান দ্বীপপুঞ্জ কলোনাইয করেছিলো। কাহিনীর বাকী অংশটি ট্র্যাযিক - সম্রাট চীন অমরত্বের ঔষধীর আশায় থাকতে থাকতেই মৃত্যু বরণ করেন। সবচেয়ে বড় আয়রনীটা হলো - অমরত্বের এক্সপেরিমেণ্ট করতে গিয়ে ফন্দিবাজ মন্ত্রী তাঁকে তরল মার্কারী (পারদ) পান করিয়েছিলো কিছুদিন। খুবই টক্সিক ওই মার্কারীই সম্রাটের লিভার ড্যামেজ (সিরোসিস) করে অকাল মৃত্যু ত্বরান্বিত করেছিলো।

36 minutes and 3 seconds after:

ছায়ামানব লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

জাতীয়তা, রাষ্ট্র, নাগরিকতা, সীমানা, ভিসা ইত্যাদি নিয়ে আমার একটু ভিন্ন (এবং বিতর্কিত) ধরণের চিন্তাভাবনা আছে। এখানে অফটপিক হয়ে যাবে, কেউ যদি আগ্রহী হন তবে অন্য টপিকে আলোচনা হতে পারে।

জ্বী আমি খুবই আগ্রহী। তবে আমি মূর্খ মানুষ হওয়ায় শুধু পড়বো smile

ওই আলুচনা কিন্তু আবু বকর আল বাগদাদী-র ইউনাইটেড খিলাফতী স্টেটের মতোই কিছুটা... তবে বাগদাদীরটা হলো বিষাক্ত পলিটিকাল মতাদর্শ, আর আমাদেরটা হলো পলিটিকাল ইতিহাসের অদ্ভূত কাহিনী... ঠিক ১০০ বছর আগে গ্রীষ্মের এক রাতে দু'জন আধ-মাতাল ইউরোপিয়ান ডিপ্লোম্যাট, এক বোতল শ্যাম্পেইন, একটি কাঠের রুলার, পেন্সিল ও একটি ম্যাপ নিয়ে যা করেছিলেন তা গত শতাধিক বছর ধরে কয়েক বিলিয়ন মানুষের জীবনমরণ প্রভাবিত করে চলেছে... যাকগে, অনেকদিন আগে পড়া বিষয়। ওই বিষয়ে নিয়ে লেখার আগে আমার নিজেরই ফ্যাক্টসগুলো ঝালাই করে নেয়া প্রয়োজন...  mad

Calm... like a bomb.

১০

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

খোদা দারুন সব তথ্য

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (০১-০১-২০১৬ ০১:৫৬)

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

invarbrass লিখেছেন:

আনুমানিক ২.৫-৩ হাজার বছর আগে এ্যারিয়ান যাযাবররা আরো পূর্ব দিকে মাইগ্রেট করা আরম্ভ করে .... ভারতবর্ষের স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের এলিমেণ্টগুলো গ্রহণ করে এরাও একটি স্বতন্ত্র ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করে - সনাতন ধর্ম।

আরেকটু আগে হওয়ার কথা না বেদইতো দেড় দু হাজার খ্রিস্টপুর্ব (টোটাল ৪ হাজার বছর) পুরোনো..  thinking

invarbrass লিখেছেন:

আমার টাইপ ২ ডায়াবিটিস ধরা পড়েছিলো কয়েক বছর আগে... লাগতা হ্যায় জেলাল ভাই ও আমার গ্রেট-গ্রেট-গ্রেট... গ্র্যাণ্ডফাদার (অথবা গ্র্যাণ্ডমাদার) কিঞ্চিৎ রসিক মানুষ ছিলো... 

পিওর স্যাপিয়ান মানে নিয়াণ্ডার্থাল জিন ব্যাতিত স্থায়ী আফ্রিকান যারা, ওরা কি ডায়বিটক এ্যামিউন?

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০১-০১-২০১৬ ১১:২০)

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

সদস্য_১ লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

আনুমানিক ২.৫-৩ হাজার বছর আগে এ্যারিয়ান যাযাবররা আরো পূর্ব দিকে মাইগ্রেট করা আরম্ভ করে .... ভারতবর্ষের স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের এলিমেণ্টগুলো গ্রহণ করে এরাও একটি স্বতন্ত্র ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করে - সনাতন ধর্ম।

আরেকটু আগে হওয়ার কথা না বেদইতো দেড় দু হাজার খ্রিস্টপুর্ব (টোটাল ৪ হাজার বছর) পুরোনো..  thinking

দুঃখিত, আমারই ভুল।  dontsee স্মৃতি থেকে লিখছিলাম, ব্রেইনের মেমরী স্টিকে ব্যাড সেক্টর পড়ছে...  mad আপনি ঠিকই ধরেছেন - ফিগারটা আসলে "৩.৫ থেকে ৪+ হাজার বছর" হবে। সিদ্ধার্থ গৌতম নিজেই জন্মেছিলেন ২.৫ হাজার বছর আগে।

ঠিক করে দিচ্ছি।

আর্য্যরা হঠাৎ একদিন সকালে গাট্টিবোঁচকা বেঁধে সদলবলে ভারতবর্ষে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে নি। হাজার বছর ধরে অজস্র ছোটো ছোটো আর্য্য গ্রুপ ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলো, যে কারণে সঠিক টাইমলাইন পাওয়া যায় না। এই গ্রুপগুলো ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসতি, পরবর্তীতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর আধিপত্য স্থাপন করে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলো। দুঃখজনকভাবে, প্রাচীন ভারতীয় আদিবাসীদের সম্পর্কে ইতিহাস প্রায় ব্ল্যাংক...

ইণ্ডিয়ার কলোনাইযেশন ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া একটু ফ্রাস্ট্রেটিং ব্যাপার। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন এসেছে ওয়েস্টার্ণ আর্কিওলজিস্টদের গবেষণা থেকে। পুুরো ভারতীয় উপমহাদেশ ব্যাপী বিস্তৃত বিশাল ও প্রাচীন এক সভ্যতা ছিলো তাই তো ঘুণাক্ষরেও জানতো না কেউ। যতদিন পর্যন্ত না ১৯ শতকে বৃটিশরা এসে পাকিস্তানে রেললাইন বসাতে গিয়ে মহেঞ্জোদাড়োয় খোঁড়াখুঁড়ি করে ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করলো....  আর্য্য ইনভেশন (এখন বলা হয় ইন্দো-এরিয়ান মাইগ্রেশন) থিওরী প্রথম উদঘাটন করেছিলেন বৃটিশ আর্কিওলজিস্টরা। এমনকী, সংস্কৃত ভাষার সাথে ইউরোপীয় ভাষাগুলোর যোগসূত্রও আবিষ্কার করেছিলেন একজন বৃটিশ... নামটা ঠিক মনে আসছে না, তবে দারুণ ইন্টারেস্টিং এক চরিত্র। ইনি সম্ভতঃ ঈস্ট ইণ্ডিয়া কোং-এর কর্মচারী হিসাবে ভারতবর্ষে এসেছিলেন, এসে ভাষার প্রেমে পড়ে যান। টোলে গিয়ে পণ্ডিতদের কাছে সংস্কৃত ভাষা শেখেন। সংস্কৃত নিয়ে গবেষণা করতে করতেই তিনি ল্যাটিন-এর সাথে অদ্ভূত মিল আবিষ্কার করেন। প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয়ান ভাষা পরিবারের ব্যপারে তো জানলামই। আমাদের উপমহাদেশের বড়বড় ডিসকভারীগুলো বিদেশীরাই এসে করে দিয়ে গিয়েছে....

আগের পোস্টে দ্বারকা-র নিমজ্জিত নগর-সভ্যতার উল্লেখ ছিলো। বিদেশী আর্কিওলজিস্টরা ওটার আনুমানিক বয়সকাল ধরেছেন ৮-১০ থেকে বড়জোর ১২-১৩ হাজার বছর। কিন্তু ভারতীয় গো-এষণা-বিদরা বুক চিতিয়ে ওই ধ্বংসস্তূপের বয়স দাবী করে থাকেন মিনিমাম ৭০ হাজার থেকে ১ লক্ষ বছর!  surprised ইহারা কোন ব্র্যাণ্ডের গঞ্জিকা সেবন করেন তা চেখে দেখতে কৌতূহল জাগে...

সে যাকগে, বৃটিশদের খোঁচাখুঁচির কারণে সংস্কৃতের ইতিহাস মোটামুটি জানা যায়। কিন্তু তামিল ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতাশাজনক। সংস্কৃতের চেয়েও পুরণো এই ভাষাটি কোথা থেকে এলো, কারা প্রথম এ ভাষাটি ব্যবহার করতো, বিবর্তন - এসব সম্পর্কে বেশি কিছু পাওয়া যায় না। বড়জোর ৫ হাজার বছর পূর্বে প্রোটো-দ্রাবিড়ীয় ভাষার অস্তিত্ব জানা যায়।

সদস্য_১ লিখেছেন:

পিওর স্যাপিয়ান মানে নিয়াণ্ডার্থাল জিন ব্যাতিত স্থায়ী আফ্রিকান যারা, ওরা কি ডায়বিটক এ্যামিউন?

নাহ, ডায়াবেটিস বিশাল একটি ডিজিজ - জেনেটিক্স বাদ দিলেও সেডেণ্টারী লাইফস্টাইল ও ক্যালরী ওভারেজ প্রধান কারণ।

ঈস্ট আফ্রিকানদের প্রায় সব দিক দিয়েই আমাদের তুলনায় সু-স্বাস্থ্যবান মনে হয়েছে আমার কাছে। ওদের ফিজিক জেনেটিকালী-ই এ্যাথলেটিক ধরণের, প্রচুর খাটতে পারে। ওসব দেশে এখনো জাংক-ফুড কালচার ঢোকেনি, ইণ্ডাস্টৃয়ালাইজেশন সেভাবে শুরু হয় নি। টিপঃ ভালো বিজনেস ব্রেইন-ওয়ালা কেউ যদি অল্প সময়ে টাইকুন হতে চান, ঈস্ট ও সেণ্ট্রাল আফ্রিকা একটি আদর্শ স্থান হতে পারে।  cool

ওদের ডেইলী ফিজিকাল এ্যাক্টিভিটি লেভেল অনেক বেশি। মানুষজন হেঁটে চলাচল করতে বা কায়িক পরিশ্রম করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে; এলাকাগুলো অসমতল, পাহাড়ী হওয়ায় নিয়মিত চড়াই উৎরাই পার হতে হয়। বাজারে সব্জী, ফল-মূল যা পাওয়া যায় সবই মোটামুটি অর্গানিক, চাষবাসে কেমিকেল ফার্টিলাইজার ব্যবহার এখনো ওভাবে শুরু হয় নি। ক্যান্সারের প্রকোপ কমই মনে হলো।

অনেকটা ৭০/৮০-র দশকের ভারত বা বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি। ৩টি দেশের ফার্মাসিউটিকাল মার্কেটের ব্যাপারে ছোটোখাটো সার্ভে করেছিলাম - ওখানে খুব বেসিক ড্রাগ যেমন এ্যান্টিবায়োটিক, এ্যান্টিম্যালেরিয়াল, এ্যাণ্টি-ভাইরাল, পেইন কিলার ইত্যাদি যা না হলেই নয়, এসবই মূলতঃ বেশি ব্যবহৃত হয়। এশিয়ার মতো হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ইত্যাদি লাইফস্টাইল ড্রাগের তুলনামূলকভাবে ডিমাণ্ড কম। হাসপাতালগুলোতে ঢুঁ মেরেছিলাম। ভারত বা বাংলাদেশে যেমন মাছের বাজার থাকে, ওখানকার হাসপাতালে ভিড় ভাট্টা কম, ছিমছাম।

তবে ভবিষ্যৎের চিত্র ভয়াবহ। পুরো আফ্রিকা বেশ জোরেশোরে উঠে আসছে। WHO-র কয়েক বছর বছর আগের পলিসি দেখেছিলাম, ওরা প্রেডিক্ট করছে আগামী দুই দশকের মধ্যে মধ্যে ডায়াবেটিস সহ লাইফস্টাইল রোগগুলো মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে এই মহাদেশে...

পৃথিবীর সকল পপুলেশনই ডায়াবেটিসে susceptible... নেটিভ আমেরিকানদের রীতিমতো ম্যাসাকার করে দিচ্ছে লাইফস্টাইল ডিজিজগুলো। আমেরিকা ও আলাস্কার নেটিভ আমেরিকান পপুলেশনের মধ্যে ডায়াবিটিস ইনসিডেন্স নিয়ে গুগল করে দেখুন - অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা। তবে এরকমই হয় সাধারণতঃ - একটি জীনপুলে যখন নতুন কিছু অনুপ্রবেশ করে, শুরুর দিকে হ্যাভক বর্ষণ করে থাকে। হাজার হাজার বছর ধরে শতশত প্রজন্মের পর প্রজন্মের পর স্ট্যাবিলিটি লাভ হয়।

তবে গত ৫০০ বছর ধরে নেটিভ আমেরিকানদের ভাগ্য অনবরত মন্দই হয়ে চলেছে। অর্ধ সহস্রাব্দ আগে ইউরোপীয়রা ভয়াবহ রোগ আমদানী করে প্রায় ৯৫% জনসংখ্যা বিলীন করে দিয়েছিলো। ছিঁটেফোঁটা যাও-বা টিকে আছে, আমেরিকান ম্যাকডোনাল্ডস, কোকা-কোলা আর জ্যাক ড্যানিয়েলসের প্রকোপে তাদের অবস্থাও সঙীন। ইহুদীরা নিজেদের "দুর্ভাগ্যের" গীত গাইতে গাইতে চোখের জলে বালতি উপচে ফেলে, কিন্তু যাদের ওপর চলতে থাকা ৫০০ বছর ব্যাপী গ্রেট আমেরিকান জেনোসাইডের বর্ণনা করতে গেলে রীতিমতো দুঃখের সাগর বয়ে যাবে, তাদের ব্যাপারে সচরাচর কিছু চোখে পড়ে না, বলাই বাহূল্য বিশেষ কারণে আমেরকিান সাদা চামড়া-রা তা চেপে যেতে চায়...

কলাম্বিয়ান এক্সচেঞ্জ আসলেই ভারসাম্যহীন ছিলো। ১৪৯২ সালে কলাম্বাস আমেরিকায় এক্সপোর্ট করেছিলেন প্লেগ, পক্স, টাইফয়েড, টাইফাস, মীজলস, টিবি, কলেরা, ডিফথেরিয়া এবং বিভিন্ন এসটিডি রোগসমূহ। ফেরার পথে ইমপোর্ট করে এনেছিলেন সিফিলিস ও অল্প কিছু রোগ। প্রথমদিকে বেশ কিছু লোক সিফিলিসে মারা গেলেও ইউরোপীয় চিকিৎসকরা কয়েক দশকের মধ্যে সিফিলিসকে বাগে আনতে সক্ষম হন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাগরের অপর পাড়ের চিত্র ছিলো ভিন্ন। "নতুন বিশ্বে"র প্রতি ২০ অধিবাসীর মধ্যে ১৯ জনই মৃত্যুবরণ করেছিলো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ হত্যা হয়েছিলো বলে অভিযোগ আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৫০ লক্ষ ইহুদী হত্যা করা হয়েছিলো বলেও অভিযোগ আছে। সম্ভবতঃ দু'টো সংখ্যাই ইনফ্লেটেড - প্রকৃত সংখ্যা যাই হোক, এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত "জেনোসাইড"। কিন্তু যখন, ৪ শতাব্দীরও বেশি সময়কাল ধরে ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটানো হয়, এ ঘটনাকে কি বলা যায়? confused  whats_the_matter

চেয়ারম্যান মাও, কমরেড স্টালিন, রাইখসফিয়রার হিটলার, কিং লিওপোল্ড, জেঙ্গিস খাঁ আর পল পট-দের কয়েক ডজনবার বৃড করালেও তাদের সম্মিলিত কির্তী মনে হয় সমতূল্য হবে না কলাম্বাস, করটেয, পিযারো, এ্যামহার্স্ট এ্যাণ্ড কোং-এর ভূমিকার...

Calm... like a bomb.

১৩

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

https://s3.amazonaws.com/lowres.cartoonstock.com/families-human-migrates-migration-anthropology-people-bstn463_low.jpg

https://s3.amazonaws.com/lowres.cartoonstock.com/art-cavemen-neanderthal-cave_painting-cave-research-aban43_low.jpg

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

১৪

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

@invarbrass
অসাধারণ কিছু তথ্য শেয়ার করা জন্য ধন্যবাদ। এই লেখা গুলো নিয়ে যদি কপি-পেস্ট করে হাল্কা এডিট করে একটি নতুন টপিক খুলতেন (পিন পয়েন্ট শিরনাম সহ )। তাহলে গুগল সার্চ করে অনেকে এই লেখা গুলো পড়াত - জ্ঞানের পরিধি বাড়ত ।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: কলম্বাস-পূর্ব আমেরিকা মুছে যাওয়া সভ্যতার ইতিহাস

অসাধারণ সব পোস্ট। অনেক সময় নিয়ে পড়লাম। অনেক কিছুই নতুন করে জানতে পারলাম। ধন্যবাদ ভাইয়েরা।

বই পাগল। ভ্রমণ পিপাসী।