টপিকঃ ভুট্টা র-হস্য

ভুট্টা র-হস্য
--------------
ভুট্টা (ইংরেজি Maize, বৈজ্ঞানিক নাম Zea mays) একপ্রকারের খাদ্য শষ্য। ভুট্টা কীভাবে আবিষ্কার করা হলো তা নিয়ে পণ্ডিতদের চুল খাড়া। কেউ বলছেন, ভুট্টা একটা নতুন সৃষ্টি, প্রায় শূন্য থেকে সৃষ্টি। কেউ বলছেন, ভাগ্যের অসম্ভব সাহায্য লেগেছে এই সৃষ্টিতে। আবার কেউ বলছেন, এটা সবচেয়ে প্রাচীন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
ব্যাপারটা কী? বর্তমানের ভুট্টার শিষে দানাগুলি মঞ্জরীপত্র দিয়ে ঢাকা থাকে, ফলে ভুট্টার দানা পেকে গেলেও নিজে থেকে মাটিতে পড়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না— মানুষের সাহায্য লাগে। এরকমটি, বলা বাহুল্য, প্রকৃতিতে ছিল না। আসলে, বুনো গম বা ধান গাছ যেমন প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, তা দেখতে ও খেতে গম বা ধানের মতোই, বুনো ভুট্টা গাছ কিন্তু প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। সত্যি বলতে কি, নিজে থেকে বংশবিস্তার করতে পারে না এমন কোনো গাছ প্রকৃতি থেকে পাওয়া সম্ভবই নয়।
বেশিরভাগ বিজ্ঞানী ভুট্টার পূর্বপুরুষ হিসাবে যে গাছটিকে চিহ্নিত করেন, সেই টিওসিন্টে বা জিয়া ঘাসের দানার সঙ্গে ভুট্টার তফাত বিস্তর। ঘাসজাতীয় এ গাছ দেখতে ভুট্টা গাছের মতো নয়। তার এক একটি শিষ লম্বায় মাত্র ইঞ্চিখানেক, তাতে পাথরের মতো শক্ত ৭-১২টি দানা থাকে। দানাগুলো
খাওয়া যায় না, খেলে তার খাদ্যমূল্য হত এক দানা ভুট্টারও কম, এবং এগুলি যথারীতি পাকলেই ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, গম বা বালির ক্ষেত্রে তাদের জিনে (প্রাকৃতিকভাবে) একটিমাত্র পরিবর্তন (মিউটেশন) ঘটলেই দানা-না-ছড়ানো গম বা বালি পাওয়া যেত, সেগুলি সংগ্রহ করতে পারলেই সমস্যা অনেকটা মিটে গেল, টিওসিন্টের ক্ষেত্রে তা নয়। এপর্যন্ত কোনও দানা-না-ছড়ানো টিওসিন্টে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় নি।
তাহলে কী করে সৃষ্টি হলো ভুট্টা? এ নিয়ে মূলত দুটি মত।
>> এক, আদি আমেরিকানরা হয়ত ভুট্টার কোনো এক বুনো পূর্বপুরুষের সঙ্গে একটি ঘাসের মিলন ঘটিয়ে সংকর ভুট্টার সৃষ্টি করে, আর তারপর বীজ বাছাই করে প্রজনন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আধুনিক ভুট্টার সৃষ্টি করে।
>>দুই, টিওসিন্টেতে প্রাকৃতিকভাবে অদ্ভূত অনেকগুলি পরিবর্তন (মিউটেশন) পরপর ঘটে যায়, আর তারপর আদি আমেরিকানরা তার থেকে প্রজনন নিয়ন্ত্রণ করে ভুট্টা সৃষ্টি করে। এবং তৃতীয় একটি মত হল, টিওসিন্টের মধ্যে থেকে পছন্দের গুণগুলি খুঁজে খুঁজে বের করে নিয়ন্ত্রিত প্রজননের মাধ্যমে ভুট্টার সৃষ্টি করে আদি আমেরিকানরা।
যেভাবেই হোক, ভুট্টা আবিষ্কার হয়। আবিষ্কার হয় দক্ষিণ মেক্সিকোয়। সেখানে ভুট্টার বৈচিত্র্যও দেখবার মতো। লাল, নীল, হলুদ, কমলা, কালো, গোলাপি, প্রায় সাদা, নানা রঙের। ছোট্ট ভুট্টা, যার দানাগুলো চালের দানার আকারের এবং লাল। দু ফুট লম্বা ভুট্টা। কোনও ভুট্টা থেকে রুটি-জাতীয় খাদ্য ততিয়া তৈরি হয় ভালো, কোনোটা থেকে আবার এক ধরনের পানীয় বানানো হয়, কোনো থেকে পপকর্ন। মেক্সিকোতে এখনও অন্তত ৫০ রকম ভুট্টা পাওয়া যায়।
আমেরিকার অনেক জায়গাতেই প্রধান খাদ্য ছিল ভুট্টা। মায়া সৃষ্টিকাহিনী পোপোল ভু-তে বলা হয়েছে, মানুষ সৃষ্টি হয়েছে ভুট্টা থেকে। মানুষ সৃষ্টি না করলেও মধ্য আমেরিকার মানবসভ্যতা সৃষ্টিতে ভুট্টার ভূমিকা প্রধান।
দক্ষিণ মেক্সিকোতে ভুট্টা আবিষ্কার হয়। তার পর সেখানে তৈরি হয় ওলমেক সভ্যতা। মধ্য-আমেরিকার প্রথম সভ্যতা।
***সূত্র: কলম্বাস পূর্ব আমেরিকার মুছে দেওয়া সভ্যতার ইতিহাস -- সুমিত দাস

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: ভুট্টা র-হস্য

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ smile

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (৩১-১২-২০১৫ ০৫:২৫)

Re: ভুট্টা র-হস্য

gmakas লিখেছেন:

বর্তমানের ভুট্টার শিষে দানাগুলি মঞ্জরীপত্র দিয়ে ঢাকা থাকে, ফলে ভুট্টার দানা পেকে গেলেও নিজে থেকে মাটিতে পড়ে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না— মানুষের সাহায্য লাগে। এরকমটি, বলা বাহুল্য, প্রকৃতিতে ছিল না। আসলে, বুনো গম বা ধান গাছ যেমন প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, তা দেখতে ও খেতে গম বা ধানের মতোই, বুনো ভুট্টা গাছ কিন্তু প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। সত্যি বলতে কি, নিজে থেকে বংশবিস্তার করতে পারে না এমন কোনো গাছ প্রকৃতি থেকে পাওয়া সম্ভবই নয়।

ব্যাপারটা অতটা সোজা সাপটা নয়। হাস্ক বা শীষ দিয়ে ঢাকা অনেক প্লান্টই পাওয়া যায়। ইনফ্যাক্ট ভুট্টার পুর্বপুরুষ হিসেবে যে ন্যাচারাল টিওসিন্টের কথা বললেন সেটাই হাস্ক দিয়ে ঢাকা থাকে।
http://s9.postimg.org/vz0tf5mcv/screenshot_453.jpg


ভুট্টার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এক্সট্রিম এই যা। এর বিবর্তনীয় সুবিধা মনে হয় প্রাথমিক পর্যায়ে বীজকে প্রানীদের থেকে রক্ষা করা, এবং পরে পেকে যাওয়ার পর লম্বা সিজনাল গ্যাপকে পার হতে সাহাজ্য করা। মানে ধরুন ভুট্টা লাগানো হয় মার্চে এবং পেকে যায় অগাষ্ট। বীজটা যদি সক্ত শীষ দিয়ে ঢাকা না থাকত তাহলে মাটিতে পরার সাথে সাথে অঙ্কুরগম হওয়া শুরু করত। কর্ন হাস্ক ডিকম্পোজ হতে সময় নেয় ৬/৭ মাসের মত, এতে করে বীজটা আরেকটা অপটমাল সিজন ধরতে পারে।

মানুষের সাহায্যের কথা যদি বলেন, তাহলে অন্যান্য শষ্য এমনিক প্রানীও (কিছু জাতের মুরগী, কুকুর... মানুষে সাহায্য ছাড়া বংশবিস্তার করতে পারেনা) মোটামুটি একই তালিকায় পরবে। ধরুন হাই-ইয়েল্ড কিছু গোলআলু আমি আমার পেছনের বাগানে ফেলে দিলাম (প্রাথমিক সুবিদার্থে দয়া করে ভূমিকর্ষণ ও করে দিলাম)। এর পর দশ বছর পরে সেখানে গেলাম। আপনার কি মনে হয়? গিয়ে দেখব আলুতে বাগান সয়লাব? মোটেও না। বছর বছর ভুমিকর্ষণ, সার, কিটনাশক, এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি/সুর্য্যালো ছাড়া বংশবিস্তার তো দুর, গাছই বাচবে না। ধান, ভুট্টা, আলু এগুলোকে এক্সট্রিম ফার্মের মুরগীর সাথে তুলনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে ভুট্টা আলাদা কিছু নয়।

তবে যে ক্ষেত্রে ভুট্টাকে ক্রেডিট দিতে হবে তা হল, এর জিনেটিক এনডিওরেন্স! দশকের পর দশক ধরে গবেষকদের অত্যাচার শুধু সহ্যই করে যাচ্ছে না বরং উত্থিত হচ্ছে। অন্যান্য প্লাটকে হালকা জিনেটিক চেঞ্জ করলেই কাইত হয়ে যায়। কিন্তু ভুট্টা নয়, তাকে যতই চেঞ্জ করুর বিপুল বিক্রমে এগিয়ে চলে। ভুট্টার বছর ভিত্তিক উৎপাদন হার দেখুন...

http://s9.postimg.org/b0unh2mi7/screenshot_452.jpg
পরিবর্তন শুরু হয়েছে মোটে চল্লিশের দশক থেকে, যদিও কর্নকে ডোমেস্টিকেটেড করা হয়েছে প্রাগইতিহাসিক আমলে!  এই ইমপ্রুভমেন্ট পুরাটাই মুলত জিনিটিক। কর্নকে সুপারকর্ন বানানোর  এই যাদু  কার্য নিত্য সাধন করা হয় মুলত আইওয়ার কর্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। এবং এর সিক্রেটও রক্ষা হয় নিউক্লিয়ার সিক্রেটের মতই। অনলাইনে সার্চ করে কনংক্রিট কিছুই পাবেননা। কিন্তু এটা ভেবে দেখুন ইন্ডিয়ার ভুট্টা উৎপাদন হার মোটে দুহাজার পাউন্ড প্রতি/একর সেখানে আমেরিকার ভুট্টা উৎপাদন হার নয় হাজার পাউন্ড প্রতি/একর!!!! কর্ন ইন্সটিটিউট তাদের জিনেটিক সিক্রেট একটা পিডিএফ ফাইল ইমেল কর দিলে, সারা ইন্ডিয়ার খাদ্য সমস্যার সমাধান হয়ে যায়!  kidding

কর্ন এমন একটা শষ্য যা দিয়ে সব কিছু বানানো যায়। এন্ড আই মিন সব কিছু! রুটি, বিস্কুট, তেল, চিনি, মদ, দুধ, কাগজ, প্লাস্টিক, গ্যাসোলিন সব কিছু! কয়েক বছর আগে নেটফ্লিক্সে কর্ন নিয়ে একটা ডকুমেন্টরি দেখেছিলাম...  নামটা এখন মনে আসছেনা ("কিং কর্ন ২০০৭" না অন্য আরেকটা সম্ভবত ডিস্কভারীর বানানো) অবিশ্বাস্য কান্ডকারখানা!

Re: ভুট্টা র-হস্য

আমেরিকার এই সিক্রেট গরীব দেশ গুলোকে দিলেই হয়, কত লোক আফ্রিকা, এশিয়ায় না খেয়ে মরে যাচ্ছে  waiting

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন bdlove24 (০৮-০৪-২০১৬ ০১:১৩)

Re: ভুট্টা র-হস্য

Banadeshi Best Music Download website BDLOVE24.COM