টপিকঃ ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

পুরনো ঢাকার লালবাগে ঐতিহ্যের জোয়ারে গা ভাসাতে গিয়েছিলাম কিছুদিন আগে। দেশের অন্যতম প্রাচীনতম ও ঐতিহাসিক নগরী ঢাকা  ঘুরে দেখে এলাম ঢাকেশ্বরী মন্দির আর লালবাগ কেল্লা। দুটিই পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।ঢাকা নামকরণের বিভিন্ন ঐতিহ্যের কথনে বিভিন্ন মতবাদ  শোনা যায়, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের কারণেই এই নগরীর নামকরণ ঢাকা করা হয়েছে এটিও একটি প্রচলিত মতবাদ।বর্তমানে ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে জাতীয় মন্দিরের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। মূলত মন্দিরটি একটি দুর্গা মন্দির।  যেখানে দুর্গার বিগ্রহের নিয়মিত পূজা করা হয়।  আবার দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সময়কালীন পূজা আয়োজনের জন্য আরও একটি আলাদা মন্দির রয়েছে।সে মন্দিরে দুর্গাপূজার তিথিকালীন সময়ে সার্বজনীন দুর্গোৎসব পালন করা হয়।
প্রতিদিনের পূজার মন্দির:
http://i70.fastpic.ru/big/2015/1013/d6/fb1691170e3f0197dc26b6e317df59d6.jpg
সার্বজনীন পূজা আয়োজনের মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/1013/37/df6e4e3987d69ba478258bf2f2871b37.jpg
এছাড়া রয়েছে চারটি শিব মন্দির। কিছুটা ডোমের মত চোঙাকার করে মন্দিরের নকশা নির্মিত। প্রত্যেকটি মন্দির আলাদা আলাদা। কিন্তু চারটি মন্দির একই সাথে সহাবস্থান করে।প্রতিটি মন্দিরের ভেতর রয়েছে  আলাদা আলাদা করে চারটি শিবলিঙ্গ।
চারটি শিবমন্দির:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/1013/ab/aacb97843cf0b42fa92bf776f018b0ab.jpg
নিয়মিত পূজা মন্দিরের প্রবেশদ্বার:
http://i66.fastpic.ru/big/2015/1013/b5/e9c0aaca721fa5e3dd092d5ad78087b5.jpg
মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে অনেক ফুলগাছ আর বাঁ পাশে রয়েছে একটি নয়নাভিরাম লেক।শিবমন্দিরের পাশে রয়েছে একটি বড় আকৃতির আমগাছ।ঢাকেশ্বরী মন্দির ঐতিহ্যগত ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন, এটি ১২০০ খ্রিস্টাব্দের সময় নির্মিত বলে শোনা যায়, যদিও এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

অত:পর ঢাকেশ্বরী মন্দির ঘুরে পাড়ি জমাই পুরান ঢাকার আরেক ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন লালবাগ কেল্লায়। কেল্লায় প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি গেট। প্রথম গেটটি তোরণাকারে চৌকো সেপ নিয়ে গঠিত। সেটি অবশ্য দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। অপর গেটটি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।পুরো এলাকাটিকে বিভিন্ন শৌখিন গাছ এবং ফুলগাছ দ্বারা সাজানো হয়েছে।
প্রধান ভবন:
http://i65.fastpic.ru/big/2015/1013/63/ac253e60f4b8b3e18ccdb6dc9d414e63.jpg

http://i66.fastpic.ru/big/2015/1013/3d/f772ae38594e5f2efa7e5e91ee41123d.jpg

কেল্লার প্রধান ভবনটি প্রতি দুটি করে গম্বুজ সম্বলিত স্তম্ভসহ প্রতি পাশে তিনটি করে ফটক ও গম্বুজ দ্বারা নির্মিত। কেল্লার চার পাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সেই প্রাচীরগুলো আবার বিশেষ নির্মানশৈলীতে তৈরি, দেয়ালের পরতে পরতে আছে ছোট ছোট খোপ, এসব খোপের ভেতর বন্দুকযুদ্ধ করে শত্রুসেনাদের আক্রমণ করা হত।
প্রাচীরের একাংশ:
http://i67.fastpic.ru/big/2015/1013/7d/0f393f51999c2ead7472478f0fd9a27d.jpg
কেল্লার কেন্দ্রস্থলে দরবার হল রয়েছে।এছাড়া আছে দরবার হল ও মসজিদের মাঝে রয়েছে  পরীবিবির সমাধি।দরবার হলে আরবিতে লিখিত বিভিন্ন শিলালিপি দেখা যায়।পরীবিবির সমাধিটি মার্বেল ও কষ্টিপাথর দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছে।রয়েছে ছোটখাট একটি মিউজিয়ামও।
কেল্লার ডানপাশে পেছন দিকে রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী শিয়া মসজিদ। যার নির্মানশৈলীতেও লালবাগ কেল্লার ছাপ লক্ষ্য করা যায়, কেল্লার মতই ঈষৎ গোলাপী রঙে মোড়ানো মসজিদটি যার উপরে অবস্থান করছে কয়েকটি বিশালাকৃতি গম্বুজ। মসজিদটি অবশ্য কেল্লার জন্য সংরক্ষিত এলাকার বাইরে অবস্থিত।তবে সেটি মোগল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের অংশ কিনা তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
মসজিদের গম্বুজের উপর আকাশের বর্নিল খেলার একটি চিত্র:
http://i69.fastpic.ru/big/2015/1013/f8/8fd813bdd6b14e196e2b9479b69bf0f8.jpg

এইতো পুরান ঢাকার ছোট্ট সফরের ছোট্ট অভিজ্ঞতা, ফিরে আসবো আবার নতুন কোনো জায়গার সংকলন নিয়ে।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

দারুন দারুন দারুন
ছবিগুলো বেশ সুন্দর মাশা আল্লাহ smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

হুম ভালই বেড়ানো হচ্ছে  smile  পূজার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (১৩-১০-২০১৫ ২৩:২৩)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

দারুন দারুন দারুন
ছবিগুলো বেশ সুন্দর মাশা আল্লাহ smile

ধন্যবাদ অনেক অনেক

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

হুম ভালই বেড়ানো হচ্ছে  smile  পূজার অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

এখনো আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়নি। আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা সেই সাথে আমন্ত্রণ রইলো।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

মন্দিরের ছবি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ smile

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

ঘর হইতে দুই ফেলিয়া.....
এখনো ঢাকেশ্বরী মন্দির দেখা হয়নি আমার।

লালবাগে গিয়েছি কয়েকবার। সুন্দর ছবি তুলেছ দাদা, লিখেছও ভালো।
তবে আমার যতদূর মনে আছে (মনে হচ্ছে) তুমি যেটাকে প্রধান ভবন বলছো সেটা আসলে পরী বিবির মাজার। আমার ভুলও হতে পারে।
আর পিছন দিকে দিন্তু একটি গুহা বা টানেল ছিল।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

সুন্দর ছবি। তবে অনুভূতির প্রকাশ আরেকটু বেশি হলে ভালো লাগতো।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (১৫-১০-২০১৫ ২৩:০২)

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

ঘর হইতে দুই ফেলিয়া.....
এখনো ঢাকেশ্বরী মন্দির দেখা হয়নি আমার।

লালবাগে গিয়েছি কয়েকবার। সুন্দর ছবি তুলেছ দাদা, লিখেছও ভালো।
তবে আমার যতদূর মনে আছে (মনে হচ্ছে) তুমি যেটাকে প্রধান ভবন বলছো সেটা আসলে পরী বিবির মাজার। আমার ভুলও হতে পারে।
আর পিছন দিকে দিন্তু একটি গুহা বা টানেল ছিল।



মন্দিরটা ঘুরতে তেমন সময় বেশি লাগবেনা।
আর প্রধান ভবন বলতে দূর থেকে ফটক সম্বলিত বাইরে থেকে দেখা যাওয়া ভবনটার কথা বলেছি। পরীবিবির মাজার তো আছেই।
হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

গৌতম লিখেছেন:

সুন্দর ছবি। তবে অনুভূতির প্রকাশ আরেকটু বেশি হলে ভালো লাগতো।

পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-১১)

দারুন লাগলো ছবিগুলো। smile