সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (২০-০৮-২০১৫ ২১:২০)

টপিকঃ ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

ঢাকার অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহরের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সভ্যতার মায়াজাল।প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলো আর হিন্দুধর্মীয় তীর্থস্থানগুলো মূলত জেলাটির ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থানের অংশ।যার আঁতুড়ঘর বলা যেতে পারে "Gold city" খ্যাত সোনারগাঁও কে।সেখান থেকেই শুরু করা যাক।হাজীগঞ্জ দুর্গ ও বাংলার তাজমহল ছাড়া এ পোস্টের ভ্রমণ কাহিনীগুলো অন্ত:ত দশ বছর আগের।স্মৃতি থেকে লেখা,তাই ছবিগুলো সংগৃহীত।

পানাম নগরী
ঊনিশ শতাব্দীর ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক এ পানাম নগরী।সুপ্রাচীনকালে প্রতিষ্ঠিত এ পানাম নগরী মূলত ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন সময়কার এক ঐতিহ্যের সাক্ষী।কাপড়ের ব্যবসার জন্য বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের যে খ্যাতি এখনো বজায় আছে তার শুরু হয় তখন থেকেই।সেসময় ধনী ধনী সব হিন্দু সওদাগরদের বাস ছিল পানাম নগরীতে। সে বাড়িগুলোর বিশেষত্ব হচ্ছে এগুলো খুবই চিকন ইট দ্বারা নির্মিত।পানাম নগরীতেও যে জিনিসটি চোখে পড়ার মত।খুব বেশি সংস্কার করা না হলেও এখানে এসে প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে পারবেন।প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় হলেও ভাঙা ভাঙা সিঁড়ি, কামরা গুলো দেখে বেহাল দশা ফুটে ওঠে।তবুও সোনারগাঁয়ে তথা নারায়ণগঞ্জে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণই এ পানাম নগরী।
http://i66.fastpic.ru/big/2015/0818/3c/2aef6f40d622613fce49c99e268c393c.jpg


লোকশিল্প জাদুঘর
পানাম নগরীর পাশেই অবস্থিত লোকশিল্প জাদুঘরটি বিভিন্ন ঐতিহ্যের ধারক।ব্রিটিশ শাসনকালীন বা তারও আগের সময়কার বিভিন্ন রাজ-রাজা বা অভিজাত পরিবার কর্তৃক ব্যবহৃত জিনিসপত্রের সমাহার মিলে এখানে। তাদের ব্যবহৃত তলোয়ার, বন্দুক,থালা, বাটি,পাত্র, পাথরজাত দ্রব্য, বিভিন্ন মূর্তি এমনকি নকশি কাঁথারও সন্ধান মেলে সেখানে।প্রাচীন একটি ভবনেই জাদুঘরটি তৈরি সে হিসেবে সেটিও ঐতিহ্যের একটি অংশ। নবাব সিরাজদ্দৌলার ব্যবহৃত বিশাল একটি সুউচ্চ চৌকির দেখা মেলে যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। সম্ভবত এগুলোকে পালং বলে।বাইরে একটি নান্দনিক সাদা ঘোড়ার ভাস্কর্যের দেখা মেলে। সাথে রয়েছে সৌন্দর্যমন্ডিত একটি লেক।
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0818/e7/4aa3570fea0bca1803968912c91d34e7.jpg
ভেতরের অংশের ছবি:
http://i67.fastpic.ru/big/2015/0818/5e/87fbd701061367f4b5bf40fd2996415e.jpg

বাংলার তাজমহল
সোনারগাঁও শহরে অবস্থিত বাংলার তাজমহলটির নাম দেয়া হয়েছে প্রেমের তাজমহল। মূলত ভারতের আগ্রার তাজমহলের একটি রেপ্লিকা বলা যেতে পারে এ তাজমহলকে।যারা তাজমহল দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন নি, তারা তাজমহলের নকশাটিকে খুব ভালভাবে, খুব কাছ থেকে দেখে নিতে পারবেন, আগ্রার তাজমহলের ভেতরে ঢোকা যায় কিনা আমি জানিনা। তবে বাংলার তাজমহলের ভেতরে ঢোকা যায়না। মার্বেল পাথরের নকশায় আগ্রার তাজমহল সাজানো হলেও বাংলার তাজমহলের নকশা সাজানো হয়েছে টালি দিয়ে।আর অনেকগুলো পানির ফোয়ারা দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো জায়গাটা। অন্তত তাজমহলের ফিল বা অনুভূতিটা অনুভব করবেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।আসল তাজমহলের নকশাটি সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা নিতে পারবেন।
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0818/39/4fe578f13fb42d1cbea378827bbb3f39.jpg

হাজীগঞ্জ দুর্গ
নারায়ণগঞ্জের কিল্লারপুল নামক স্থানে মোগল সভ্যতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজীগঞ্জ দুর্গ। শোনা যায়, মোগল রাজা সুবাদার ইসলাম খাঁ দুর্গটি নির্মান করেন।দেয়ালের নির্মান শৈলীতে চারদিক থেকে শত্রুসেনাদের আক্রমণ করার রণকৌশলটি স্পষ্ট।মূল ফটকটি দিয়ে বেড়িয়ে যাওয়া ও ভেতরে ঢোকার উভয়ের জন্যই সিঁড়ি আছে।
http://i72.fastpic.ru/big/2015/0818/ae/0415044044742cef687999518fa6deae.jpg
দেয়ালগুলোতে ছোট ছোট খোপ, সৈন্যরা যাতে বন্দুক নিয়ে আক্রমন চালাবার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে পারে। নির্মানশৈলী দেখে মনে হয় সম্রাট সেনাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকেও বসতেন এ দুর্গে।
http://i70.fastpic.ru/big/2015/0818/e4/3c9323b605960fd8b841127a2d91d7e4.jpg
চারপাশে দেয়াল ঘেরা, মাঝখানে মাঠ, সেখানে এলাকার ছেলেরা ক্রিকেট খেলে।আর একটা ভাঙা ইমারতের ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে।তার ভেতরে ভাঙা সিঁড়িরও দেখা মেলে।তবে এ ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানটিকে রক্ষিত করবার জন্য কর্তৃপক্ষের কোন বিশেষ গরজ চোখে পড়ছেনা।বরং চারপাশে গড়ে উঠেছে ডাইং এর কারখানা।

লাঙ্গলবন্দ
বন্দর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশেষ তিথিতে এখানে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রাচীন কিছু হিন্দুদেবতাদের বিশাল আকৃতির মূর্তি আছে। নদে অনেকগুলো ঘাট আছে। রাজঘাট নামে একটি ঘাট সবচেয়ে জনপ্রিয়।স্নানের দিন সেখানে মেলা বসে। খাবার দাবার,খেলনা,ধর্মগ্রন্থ,ছোট খাটো অলংকারের দোকানের দেখা মেলে।বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা পুণ্যলাভের উদ্দেশ্যে স্নানের তিথিতে এখানে আসেন।তীর্থস্থান হিসেবে প্রতিদিনকার মত ব্যস্ততম না হলেও পুণ্যস্নানের সময় খুবই জমজমাট হয়ে উঠে পর্যটক ও পুন্যার্থীদের আনাগোনা।

শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম
হিন্দুধর্মের বিখ্যাত সাধক ও ব্রহ্মচারী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম নারায়নগঞ্জের বারদীতে অবস্থিত।এটি বাংলাদেশের অন্যতম জাগ্রত মন্দিরগুলোর একটি।প্রতিদিন ভোর থেকেই অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে এখানে।বাল্যভোগ ও রাজভোগ নামে হিন্দুধর্মানুসারীদের দু ধরনের ভোগের প্রচলন রয়েছে মন্দিরে।ভোরবেলার বাল্যভোগের উদ্দেশ্যেই অনেকে ভোরে মন্দিরে আসেন। বাংলা ১২৯৭ সনে ১৬০ বছর বয়সে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী এ মন্দিরস্থলেই দেহত্যাগ করেন। পরে তাঁর স্মরণেই এখানে মন্দির নির্মাণ করা হয়।অস্থায়ী টিনের ঘরকে আগে আশ্রম করা হলেও এখন সুন্দরভাবে জায়গাটি পাকা ও ভবন নির্মান করে মন্দিরটি আকর্ষণীয় করা হয়েছে।
http://i69.fastpic.ru/big/2015/0818/fb/ff4833313257e9aa695275433d8a0cfb.jpg

বিবি মরিয়মের মসজিদ ও সমাধি
নারায়ণগঞ্জের নগর খানপুর নামক স্থানে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট বিবি মরিয়ম মসজিদের সামনে বিবি মরিয়মের সমাধিটি অবস্থিত। সমাধিটির কারণেই মসজিদের নামকরণটিও তাঁর নামে করা হয়েছে। সেখানেই তাঁর নামে একটি কে.জি স্কুল ও মেয়েদের একটি উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়েছে। স্কুল এলাকার ভেতরেই ছোট্ট লোহার গেট লাগানো একটি ছোট্ট সুড়ঙ্গেরও দেখা মেলে।তবে এর সঠিক ইতিহাস এখনো জানা যায়নি। আর পুরো এলাকাটিই অরক্ষিত ও অঘোষিত ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে।তবে মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ পড়া হয় বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।

ঐতিহ্যের এক কালজয়ী সাক্ষী প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ জেলা।রক্ষিত ও অরক্ষিত অসংখ্য নিদর্শনের অন্যতম কেন্দ্রস্থল।যেখানে ভ্রমণের ফলে ইতিহাস সম্পর্কে অর্জিত হয় এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরছেন দেখি

অসম্ভব ভাল লাগা পোষ্টে smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

সুন্দর ছবি আর ভ্রমন পোষ্ট  smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

সুন্দর ছবি আর ভ্রমন পোষ্ট  smile

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরছেন
দেখি
অসম্ভব ভাল লাগা পোষ্টে

অনেক ধন্যবাদ আপনাদের আপু।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

লাঙ্গলবন্দ আর বিবি মরিয়মের মসজিদ ও সমাধি ছাড়া বাকি সবগুলিতেই গিয়েছি।
চমৎকার লিখেছেন আপনি। তবে কোনটায় কি করে যাওয়া যায় বা যেতে হয় তাও যদি লিখে দিতেন তাহলে নতুনদের জন্য সুবিধা হত।

আর ছবি গুলি নিয়ে সমান্য ঝামেরা আছে। বিশেষ করে প্রথম আর শেষ ছবিটা নিয়ে। প্রথম ছবিটা কিন্তু পানাম নগরের না। আর শেষ ছবিটা শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমের না কি বিবি মরিয়মের মসজিদ ও সমাধির বুঝতে পারছি না।

বাংলার তাজমহল দেখে আমি আমার মিসেসকে বলেছিলাম -
যারা তাজমহল দেখেছে তাদের এটা দেখা উচিত না, কারণ এটা তাজমহলের কিছুই হয় নাই। এটা ভুলেও তাজমহলের রেপ্লিকা না।
যারা তাজমহল দেখে নাই তাদের এটা দেখা উচিত না, কারণ এটা দেখলে আসল তাজমহল সম্পর্কে তার ভুল ধারনা জন্মাবে।

হাজীগঞ্জ দুর্গ নিয়ে আমার একটা লেখা আছে - হাজীগঞ্জ দুর্গ ভ্রমণ চিত্র।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

লাঙ্গলবন্দ আর বিবি মরিয়মের মসজিদ ও সমাধি ছাড়া বাকি সবগুলিতেই গিয়েছি।
চমৎকার লিখেছেন আপনি। তবে কোনটায় কি করে যাওয়া যায় বা যেতে হয় তাও যদি লিখে দিতেন তাহলে নতুনদের জন্য সুবিধা হত।

আর ছবি গুলি নিয়ে সমান্য ঝামেরা আছে। বিশেষ করে প্রথম আর শেষ ছবিটা নিয়ে। প্রথম ছবিটা কিন্তু পানাম নগরের না। আর শেষ ছবিটা শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমের না কি বিবি মরিয়মের মসজিদ ও সমাধির বুঝতে পারছি না।

বাংলার তাজমহল দেখে আমি আমার মিসেসকে বলেছিলাম -
যারা তাজমহল দেখেছে তাদের এটা দেখা উচিত না, কারণ এটা তাজমহলের কিছুই হয় নাই। এটা ভুলেও তাজমহলের রেপ্লিকা না।
যারা তাজমহল দেখে নাই তাদের এটা দেখা উচিত না, কারণ এটা দেখলে আসল তাজমহল সম্পর্কে তার ভুল ধারনা জন্মাবে।

হাজীগঞ্জ দুর্গ নিয়ে আমার একটা লেখা আছে - হাজীগঞ্জ দুর্গ ভ্রমণ চিত্র।


কোথায় কি করে যেতে হয় আমার নিজেরই মনে নেই। এগুলো শিশুকালীন ভ্রমণ কাহিনী  lol
ছবিটা হচ্ছে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমের।
রেপ্লিকা মানে শুধু নকশার প্রতিচিত্র বলা যায়, তবে ঠিক বলেছেন যে এটি তাজমহলের ধারেকাছেও যায়না।
আর লাঙ্গলবন্দে সাধারণত খুব বেশি মানুষের সমাগম ঘটেনা স্নানের তিথি ছাড়া। তাই ঐদিন ছাড়া আসার মানেও হয়না।
আপনার লেখাটি পড়বো। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৬)

Shoumik লিখেছেন:

এগুলো শিশুকালীন ভ্রমণ কাহিনী

হা হা হা  lol2

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।