সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন Shoumik (১৩-০৮-২০১৫ ১০:৩৭)

টপিকঃ ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

সময়টা অবসরেই যাচ্ছে।ভেবেছিলাম তৃতীয় খন্ডটা কিছুদিন পর দিবো কিন্তু আপনাদের আগ্রহে খুবই আনন্দ পাচ্ছি।ফোরামে আসার পর লিখেও খুব মজা পাচ্ছি। আজ দিলাম ধারাবাহিক তৃতীয় পর্ব।
বাংলাদেশের মতই ভারতে বাংলাভাষাভাষীদের সবচেয়ে বড় আবাসস্থল কলকাতা।এদেশীয়দের অনেক আপনজনের ও বাস রয়েছে  সেখানে।জাতিতে বাঙালি হওয়ায় মিল পাওয়া যায় অনেক।তবে ৭ দিনের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে পার্থক্যও দেখেছি অনেকটা।তা নিয়েই লিখছি।সব জায়গা ঘুরাও হয়নি, যতটুকু হয়েছে ততটুকুই শেয়ার করা হল:

**চাকচিক্য: বড় শহর হলেও আমাদের ঢাকার মত চাকচিক্য নেই কলকাতা শহরে।এত প্রাইভেট কার,এত বিশাল বিশাল ইমারত আর রেস্তোঁরা আপনার চোখে পড়বেনা কলকাতা শহরে।তবে তারা খুব সৌন্দর্যসচেতন। দর্শনীয় স্থানগুলো দেখলে মনে হবে কারও জুতোর ধুলোও পড়েনি। থুথু, পানের পিকের কথা তো দূরেই থাক।তবে রাস্তাঘাট গুলো যে বিশেষ পরিষ্কার তাও নয়।আমাদের দেশের মতই রাস্তাগুলো অপরিচ্ছন্ন তবে জায়গায় জায়গায় ময়লা আবর্জনার দেখা পাওয়া যায়না,রেলস্টেশনে হরেক রকম হকারের দেখা মেলে।ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের চেয়েও বেশি।আর যাই হোক,দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখে তারা।

**ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: যাবার পথে আপনার পাথরখচিত রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটার সময়ই একটা অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করবে।পুরো রাস্তাটা মারবেল দিয়ে সাজানো। ভেতরে আছে রানী ভিক্টোরিয়ার একটি বিশাল মূর্তি এবং অস্পষ্ট মনে পড়ে ঊনিশ/অষ্টাদশ শতকের অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় দুই/আড়াইশ বছরের পুরনো একটি ব্রিটিশ কামান চোখে পড়ে। রানী ভিক্টোরিয়ার ব্যবহৃত কিছু স্মৃতিচিহ্ণ ও আছে।সেগুলো কী সময়ের আবর্তে ভুলে গেছি। শোনা যায়,এর গঠন নাকি অনেকটা তাজমহলের মতই। সত্য কিনা জানিনা, তাজমহল যাওয়া হয়নি।তবে এটি পুরোটাই নির্মিত মার্বেল দিয়ে। মারাকানা মার্বেল নামে পরিচিত এ মার্বেলগুলো।

ছবিতে মেমোরিয়ালের চূড়া যেখান থেকে ভেতরে সূর্যের আলো স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়।

http://i70.fastpic.ru/big/2015/0813/36/e03cefc8be4976c818649fb96d611136.jpg

বাইরে থেকে পাথরখচিত রাস্তার ওপারে:
http://i71.fastpic.ru/big/2015/0813/13/c151842e136373f3b90f6184e26efc13.jpg

**হাওড়া ব্রিজ: এ এক অপার সৌন্দর্যের সেতু।দৈর্ঘ্যে আমাদের যমুনা সেতুর চেয়ে ঢের ছোটই হবে।কিন্তু আর্কিটেক্ট নকশাটা খুব সুন্দর।কলকাতায় আসলে আর হাওড়া ব্রিজ আসলে অন্ত:ত টেক্সিক্যাব নিয়ে একটা লং ড্রাইভ দিতে হবে আপনাকে। মাইক্রো বা প্রাইভেট কার হলে তো কথাই নেই।সেতুর নকশাটা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।আমাদের হাতিরঝিলে একটা ছোট্ট ছাউনি আছে ব্রিজের ওপর। সেরকম প্রায় ১০০টি হাতিরঝিল ব্রিজ বা তারও বেশি হতে পারে এ নকশার দৈর্ঘ্য।তবে নকশার সাথে কোনো মিল নেই। নকশাগুলো আরো বেশি ঘন ও সুন্দর।দিনের বেলা ড্রাইভ দেয়া হয়েছে কিন্তু রাতে আর পড়ন্ত বিকেলে থাকে অবর্ণনীয় সৌন্দর্য।রোলার কোস্টারের মত উঁচু থেকে নিচু, নিচু থেকে ক্রমাগত উঁচু হয়েছে নকশাটা।

http://i70.fastpic.ru/big/2015/0813/a1/618c7cb7ddce435c7a0738e57b934ba1.jpg

**যাতায়াত: এখানেই আপনি লক্ষ্য করবেন ঢাকার সাথে বিরাট ফারাকটা। ঢাকার মত কলকাতার রাস্তায় জ্যাম নেই। তবে মানুষ নেহায়েত কম নয়। মাঝে মাঝে সেখানেও বাসে ঝুলে বা দাঁড়িয়ে উঠে যেতে হয়।আরেকটা জিনিস আছে যেটার দেখা বাংলাদেশে পাবেননা। ট্রাম বলে এটাকে। ট্রেনের মতো বগি করেই তৈরি কিন্তু ট্রেনের চেয়ে ছোট।লাইন করেই চলে।রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাসের মৃত্যু হয়েছিল এ ট্রাম দুর্ঘটনাতেই। তবে এ যানে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা একেবারেই কম।আর একটা ব্যাপার হল মেট্রো রেল। মাটির নিচ দিয়ে চলে ট্রেনগুলো। তার উপর আবার ইলেকট্রিক ট্রেন।সাঁ সাঁ করে চলে।প্লাটফর্মে দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে খোলে আর বন্ধ হয়।আমাদের পুঁ ঝিক ঝিক রেল যার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। রিক্সার চেয়ে অটো আর ভ্যান বেশি জনপ্রিয়।বিশেষত কাছাকাছি স্থানে যাবার জনপ্রিয় বাহন অটো,যাকে আমরা স্কুটার বলি।তবে ভ্যানে আর রিক্সাতেও আমাদের দেশের মত দূরত্ব মেপে নয় বরং জনপ্রতি ভাড়া দিতে হয়। এ ব্যাপারটায় বেশ অবাক লেগেছিলো।

**জিনিসপত্রের দরদাম: জিনিসপত্রের দরদাম কিন্তু কলকাতাতেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেশি। শাক সবজি থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যগুলো বিশেষ করে।আর সব মাছই কিনতে হহয় ওজন করে।ভাগ/পিস হিসেবে নয়।পোশাক আশাকের ক্ষেত্রে বলা চলে মেয়েদের পোশাক সাধ্যের মধ্যে মনমত কিনতে পারবেন।শাড়ি,মেক্সি,সালোয়ার যা ইচ্ছে।হরেক রকমের বৈচিত্র পাবেন ডিজাইনে আর কাজে। কসমেটিক্সের ক্ষেত্রেও তাই।তবে ছেলেদের পোশাকে খুব বেশি পার্থক্য নেই।গড়িয়াহাটে আছে ভাল ভাল শাড়ির দোকান।আদি ঢাকেশ্বরী বা শ্রী গুরু বস্ত্রালয়ের যে অ্যাডগুলো জি বাংলা বা অন্যান্য চ্যানেলে দেখেন তার সবগুলোরই অবস্থান এখানে। তাছাড়া "পেন্টালুন" নামে একটি বড় শপিং মলও আছে।যেমনটা আমাদের বসুন্ধরা সিটি,তবে আধুনিকতার দিক থেকে বসুন্ধরাই এগিয়ে যোজন যোজন।

http://i72.fastpic.ru/big/2015/0813/96/465509372ceba6bfe6feebaaf149d496.jpg

**রসনাবিলাস: রসনাবিলাসে কলকাতাবাসীর জুড়ি নেই।বাংলাদেশি বাঙালিদের মতই তাদের খাদ্যাভ্যাস।তবে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের প্রতি তাদের আলাদা টান।আত্মীয়ের বাসায় পোলাও,মাংস,দই,মিষ্টি,বেগুনি খাওয়ালো।সাথে পদ্মার সর্ষে ইলিশ।এটা নাকি স্পেশাল আইটেম।তবে কলকাতা গেলে যে জিনিসটা কখনোই মিস করবেন না তা হল মিষ্টি। কত যে নাম আছে আর কত আকৃতির যে মিষ্টি আছে। কিছু নাম মনে করতে পারছি। ক্ষীরমোহন,রসমঞ্জুরী,রাজভোগ,বরফি,ছানার সিঙ্গারা ...... আপতত শুধু কলকাতার বিশেষ এ কটা মিষ্টির নামই মাথায় আসছে। এছাড়া রসগোল্লা, লালমোহন, কালোজাম এসব সাধারণ
মিষ্টিগুলো তো আছেই।তবে স্বাদে আমাদের দেশের তুলনায় অনন্য।বিবেকানন্দ রোডের মৌচাক দোকানের মিষ্টিটা খেতে পারেন বিশেষত।একনামেই সবাই চেনে। আর যা ই খান না খান,কলকাতার মিষ্টি খাবার সুযোগ হলে মিস করবেন না।
http://www.kolkatapages.com/blog/wp-content/uploads/2013/07/Rasgulla.jpg

আর চকলেটের নেশা থাকলে মিটিয়ে ফেলবেন, ভারতের ৫ রুপির চকলেট বাংলাদেশে ১৫ টাকায় কিনে পর্তা হয়না। স্নিকার্স,পার্ক,ডেইরি মিল্ক সহ নানা রকম চকলেট তৃপ্তি সহকারে খেতে পারবেন সুলভ মূল্যে। বিস্কুট,চানাচুর সহ মুখরোচক টিফিনজাত পণ্যগুলো খুব স্বাদের ও সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।চানাচুরে আমাদের যেমন ঝালের ট্রেডিশন,ওদের ঠিক উল্টো।মিষ্টি। শুধু মিষ্টি বললে অবশ্য ভুল হবে। টক ঝাল মিষ্টি। আর ফুচকা খেতে যেন জুড়ি নেই কারোই! জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ফুচকা।

**অভিজ্ঞতা:যখন ঘুরে এলাম কলকাতা সেখানে জিজ্ঞেস করলো কোন শহর ভালো বেশি, ঢাকা না কলকাতা! উম্, ঢাকাই। ঢাকার তুলনায় কলকাতাকে পানসেই মনে হলো।কিছুটা পরিচ্ছন্ন, গোছালো হলেও ঢাকার মত না।বলবো যে ঢাকা ঘুরে যে আনন্দ আর আভিজাত্য আছে, কলকাতা সে তুলনায় দুধের তুলনায় ঘোল বলতে পারেন,মাঠাও নয়। তবে নতুন অভিজ্ঞতা হল ওপার বাংলার জীবনযাপন দেখে,আতিথেয়তাটা ভালোই কিন্তু কোথায় যেন একটা কৃত্তিমতা আছে।যা হোক,এটাও তো একটা বড় অভিজ্ঞতা।জীবনটা সবকিছু মিলে কিছু  অভিজ্ঞতারই

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

সুন্দর বর্ণনা আর তাজমহল অনেক বিশাল আমি মিল খুঁজে পাইনি  smile

এক টুনিতে টুনটুনালো সাত রানির নাক কাঁটালো

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

বর্ণনা আর ছবি মিলে খুব সুন্দর পোষ্ট !

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

বেশ ভালো বর্ননা করেছেন। আগামীতে আরো সুন্দর ভ্রমণ পোস্ট পাব বুঝা যাচ্ছে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

RubaiyaNasreen(Mily) লিখেছেন:

সুন্দর বর্ণনা আর তাজমহল অনেক বিশাল আমি মিল খুঁজে পাইনি  smile

মিলটা আসলে মার্বেল দিয়ে নির্মিত এজন্যই বোধ হয়, আমারও ধারনা যে গঠনের দিক থেকে মিল নেই।

5 minutes and 34 seconds after:

আপনাদের ধন্যবাদ @ইলিয়াস n জলদস্যু ভাই  blushing

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

খুব সুন্দর ভ্রমন আর ছবিগুলো
smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: ছোট্ট জীবনে ভ্রমণ করা স্থানগুলো (পর্ব-৩)

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

খুব সুন্দর ভ্রমন আর ছবিগুলো
smile

ধন্যবাদ।