টপিকঃ "হামলে পড়া" এক প্রজন্ম

হামলে পড়াটা প্রজন্মের বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। সমস্যাটা আমি শুধু পর্যবেক্ষণ করে আসছি। প্রজন্মের সমস্যায় একদম পড়িনি বলব না তবে তা আর সবার মত হামলে পড়ে নয়।
প্রজন্মের সমস্যা হলো, একটা হালফ্যাশন ট্রেন্ড বানিয়ে ফেলা। খেয়াল করে দেখবেন,  আজ থেকে ৮/১০ বছর আগে পুরুষদের হাফ শার্টের কদরটা ছিল চোখে পড়ার মত। তবে এখন তরুণ প্রজন্মকে দেখবেন তপ্ত গরমেও ফুল শার্ট পড়ে ঘুরে বেড়াতে নয়তো ভারী টি শার্ট।এইতো ৩/৪ বছর আগেই একটা ট্রেন্ড ছিল শর্ট শার্টের, ছেলেরা ইচ্ছে করে শর্ট শার্ট কিনতো। অনেক সময় তথাকথিত তখনকার সময়ের ব্যাকডেটেডদের  সেসব শার্টকে ব্লাউজ বলে কটাক্ষ করতে ও দেখা যেত।আবার,এখন দেখেন আবার লং শার্ট ফিরে এসেছে,সেই ব্যাকডেটেডদের এক কালারের শার্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।কিন্তু শর্ট ভালো না লং ভালো, কখনো বুঝার চেষ্টা করেছি কি? হালফ্যাশন বলে হামলে পড়েছি।
মেয়েদের ক্ষেত্রে চুড়িদারের খুব জনপ্রিয়তা ছিল বছর পাঁচেক আগে। আর জিপসি, মাসাকাল্লিদের দৌরাত্ম তো মুন্নি,শিলা,পাখি হয়ে সানি লিওন পর্যন্তও গড়িয়েছে।কিন্তু ট্রেন্ডের সাথে সেসব জামার তাৎপর্য মেলানোর কি কখনো চেষ্টা করেছি?মাঝখানে মেয়েদেরও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য শর্ট সালোয়ারের চল ছিলো বলে খেয়াল আসে।এখন উপর দিকটা চাপা নিচের দিকটা ঢোলা লম্বা কামিজ সাথে নেটের কাজের চল বেড়েছে ভালো।এত সম্ভারের মাঝে যখন যেটা চলে তখন সেটাই গায়ে চাপানোটা মর্ডাননেস কিনা খুব জানতে ইচ্ছে করে।
সবশেষ সংযোজন সেলফি।একদিন পেপারে পড়েছিলাম সম্ভবত ৮০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এক লোক নিজের ছবি নিজে তুলেই বন্ধুদের দেখাচ্ছিল।তখন তাকে দেখা হত একঘরে ব্যক্তি হিসাবে।কারণ তার বন্ধুরা বলেছিল যার ছবি তোলার জন্য কেউ নেই, সে সেলফি তোলে।কিন্তু এখন ব্যাক ক্যামেরার কথা তো প্রায় ভুলেই গেছি আমরা। ছবি তুলতে গিয়ে আধাশোয়া হয়ে পড়া, ইয়া লম্বা একটা হাত দেখা যাওয়া আর বিশাল বিশাল মুখ দেখা যাবার চেয়ে কি পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড গুলো দেখতে সুন্দর ছিল না?তাহলে কি সময়ের সাথে যেমন একবার করে শার্ট,সালোয়ার শর্ট থেকে লং আর লং থেকে শর্ট হবার মাধ্যমে তার মর্ডাননেস পাল্টাচ্ছে, একদিন কি ক্যামেরা ব্যাক টু ফ্রন্ট,ফ্রন্ট টু ব্যাক চক্র অণুসরন করে মর্ডাননেস এর সংজ্ঞা পাল্টাবে?
দুদিন পর পর কি হালফ্যাশন এভাবে চেঞ্জ হবে আর যা ই ট্রেন্ড বলে চালিয়ে দেয়া হবে আমরা কি মর্ডান প্রমাণ করবার জন্য তার উপর হামলে পড়ব?মস্তিষ্কে কি পুরোটাই মরচে পড়ে গেছে, বুদ্ধি লোপ পেয়েছে নাকি এছাড়া আমাদের করার কিছু নেই? যুগের সাথে তাল মেলাতে হবে বৈকি।তবে সে "তাল" বদলাতে এক যুগ সময় আর নিচ্ছে কোথায়?

Re: "হামলে পড়া" এক প্রজন্ম

এ আসলেই এক কঠিন প্রশ্ন! যুগের সাথে কি তাল মেলাতেই হবে? উত্তরটা আমার কাছে হ্যাঁ-ই। তাল মেলানোর দরকার আছে নইলে দ্রুত বাতিলের তালিকায় চলে যাবেন। যোগ্যতর না হলে বিপদ; পিছিয়ে পড়বেন। তবে, আমি সাধারণত যেটা ভাল এবং শালীন মনে হয়, সেটাকেই বেশি প্রাধান্য দেই। মাঝে মাঝে অবশ্য অদ্ভুত কিছু মেনে চলবার চাপ এবং তাগিদ অনুভব করি যেটা আমার রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রের সাথে মোটেও যায় না। তখন বেশ অসহায় বোধ করি।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: "হামলে পড়া" এক প্রজন্ম

তাল মেলাবার কথা আমিও বলছি। কিন্তু কখন কি বদলে যাচ্ছে, কিভাবে যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে তা বুঝাই যেন দায়! আর আমরা শুধু তার উপর হামলে পড়ছি,দশজনের সাথে মিলে একদিন সে হালফ্যাশনের গুণগান করছি আবার দুইদিন পর ভুলেও যাচ্ছি বা আগে একসময় যেটাকে ফ্যাশন বলছি তা দুদিনের মাথায়ই বলছি ব্যাকডেটেড।  isee

Re: "হামলে পড়া" এক প্রজন্ম

সব সময়ই তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করি । কখনো সফল হই কখনো ব্যর্থ ।