টপিকঃ আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

আজ সকালে কন্যাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে ভাঙ্গাগাড়ীতে পুরনো সিডি খুঁজছিলাম, কিশোর কুমারের একটা বাংলা সিডিও পেলাম, চালু করতেই সেই ঐশ্বরিক দরাজ গলা বেজে উঠলো।

“ তারে আমি চোখে দেখিনি , তার অনেক গল্প শুনেছি,

গল্প শুনে তারে আমি অল্প অল্প ভালোবেসেছি।।

আসতে যেতে ছলকিয়া যায়রে  যৌবন,

বইতে পারে না তারও বিবশমন ;

ভালোবাসার ভালো কথা শুনে নাকি শিহরিয়া যায় শুনেছি।। 

চোখেতে তার স্বপ্ন শুনি ভীড় করে থাকে,

মরণ শুনেছি হাতছানি দিয়া ডাকে,

বিষের আবার ভালোমন্দ কীরে  যখন আমি মরতে বসেছি !!! ”



কিশোর কুমার , মান্নাদে আমাদের আগের দুই প্রজন্ম আগের হলেও এঁদের  গান আমাদেরকেও মাতিয়ে রেখেছিল। বাংলাব্যান্ডের উত্থানের সমসাময়িক সময়ে ফিতা ক্যাসেটের যুগে এঁরাই ছিলেন আমাদের সবচেয়ে কাছের।

গানের লাইনটি আবার  খেয়াল করুন , ‘আসতে যেতে ছলকিয়া যায়রে  যৌবন,

বইতে পারে না তারও বিবশমন !’  দৃশ্যকল্পটি কেমন? যৌবন ছল্‌কে পড়ছে, উদ্ভিন্ন বাঁকগুলো আপনাকে মুগ্ধ করছে। যদিও আমি আমার কন্যাকে স্কুলের গেটে নামিয়ে অপেক্ষারত , তারপরেও ভন্ডামি না করে বলতে পারি, আমার ‘পুরুষচোখ’  কিন্তু ঠিক ঠিকই অতিক্রমকারিণী সকলের , যাঁদের যৌবন ছল্‌কে যাচ্ছিল তাদের দেখছিল।

বর্তমানের একাধারে নারীদের উপর  নিরবিচ্ছিন্ন যৌননিপীড়নের হেডলাইন দেখতে দেখতে আমি বিপর্যস্ত ও  ক্লান্ত। পুরুষ হিসাবে আমি লজ্জিত। মনোবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা কুইক রেন্টাল টোটকা দিয়ে এই ভয়াবহ অসুস্থতা থেকে উঠে আসার পথ , উত্তরনের বাৎলাচ্ছেন।

কিন্তু আমার মনে হয়, পুরোপুরি উৎপাটন করা সম্ভব না হলেও এই অসুস্থতার সার্বিক নিরাময় সম্ভব। এবং সেটা শুধুমাত্র  শৈশবে সঠিক যৌনশিক্ষার মাধ্যমে।

বালককে বুঝতে হবে, সে শিশ্নধারী মানুষ ঠিক আছে, কিন্তু বালিকা শিশ্নহীন দ্বিতীয় লিঙ্গের দুর্বল কেউ না। বালককে নারীর মাহাত্ম্য বোঝাতে, নারীর মর্যাদা শেখাতে  খুব বেশী সময় লাগারতো কথা না।  বালকের মা আছে, বোন আছে, অন্য শ্রদ্ধেয়া আত্মীয়ারা আছেন। তাঁদের উদাহরণ দিয়ে তাকে নারীর মর্যাদা শেখাতে হবে।

রহস্যময় দৈহিক বাঁক নিয়ে যে নারী সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, সে একজন  মানুষ এবং তোমার চেয়েও অধিকতম মানুষ। বংশগতির ধারা বয়ে নিয়ে যাওয়ার  জন্য পুনরুৎপাদনের  বিশাল শারীরিক যন্ত্রনার দায়িত্ব প্রকৃতি তাঁকে দিয়েছে। বালককে বুঝতে হবে , বোঝাতে হবে  নারী শুধুমাত্র স্তন ও যোনীর সমষ্টি একটা ভোগের বস্তু নয় !

পরিবারের কাছ থেকে শিক্ষাটা পেলে ভাল। নইলে শিক্ষায়াতনে। পরিবারের  একজন পুরুষকে দেখলে প্রথমেই আমরাতো তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করি না। পোশাক, জুতা, আর্থিক-সামাজিক অবস্থা হেনতেনর পরে তার বিশাল বপু বা স্থূলত্ব নিয়ে কথা হয়। কিন্তু একজন নারীকে দেখলে কেন প্রথমেই তাঁর স্তন নিতম্বের দিকে জুলজুলে নজর যাচ্ছে ? সমস্যাটা কোথায় ? তাঁর অন্যসব বৈশিষ্ট্য  কেন আলোচিত হয় না ? একজন কিশোরী , তরুণী আমার সামনে এসে প্রথমেই কেন  তাঁর বুক   আঁচল বা ওড়না দিয়ে ঢাকাঢাকি করা শুরু করে দেয়। কী তাঁকে ভীত করে তোলে  যে সামনের পুরুষটির ( হোক সে কিশোর, তরুণ , মধ্যবয়সী, বৃদ্ধ) সামনে সে ঠিক নিরাপদ নয়। কে তাঁর মনে  এই অনিরাপত্তা ঢুকিয়ে দিয়েছে?

বাদ দিই, তাত্ত্বিক আলোচনা। সাহস বা দুঃসাহস  করে যদি আমার প্রজন্মের যৌনশিক্ষার ইতিহাস আলোচনা করি , তাহলেও কী  কিছুটা ধারনা পাওয়া যাবে না !

অন্য সকলের মতোই আমারও কৈশোরের অসহনীয় বয়ঃসন্ধির একাকীত্ব, দেহের অনাকাঙ্ক্ষিত  বেড়ে ওঠা ছিল, ছিল মন খারাপ করা বিকেলবেলা। নিজেকে অপাঙতেয় , তুচ্ছ , অবহেলিত ভাবার  দুঃসহ দিনরাত্রি।  আমি মোটামুটি নজরে পড়ার মতো ভালো ছাত্র ছিলাম। পরিবারের ও শিক্ষকদের আলাদা একটা এক্সপেক্টেশনের ভার আমাকে বইতে হতো। কিন্তু  আমিও তো একটা কিশোর। আমার যে ছেলেবন্ধুটি , মেয়েদের স্কুলের সামনে যেয়ে সদ্য কিশোরীদের উদ্ভাসিত চাহনি, রহস্যময় বাঁক দেখে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে গল্প করতো ,তাতে  আমার মনটাওতো হু হু করে উঠতো।

সে ছিল এক কল্পনার রাজ্য। যদিও আমার শারীরিক মানসিক বৃদ্ধির সমানুপাত বৃদ্ধির  পরিমাপ নিয়ে আমার পরিবারে দ্বিধা আছে।আমার মানসিক বৃদ্ধি শরীরের তুলনায় শ্লথ।  আমি স্তন্যপায়ী ছিলাম ৬ বছর বয়স পর্যন্ত। এবং কেন জানিনা , আম্মাও আমার অত্যাচারকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন অতোগুলো বছর। বছর পাঁচেক পর্যন্ত আমার বেড়ে ওঠা নানাবাড়ি কুষ্টিয়াতে। অস্পষ্ট আবছা মনে আছে, হয়তো স্মৃতিতেই পুনঃনির্মিত হয়ে আছে। গ্রামের বাচ্চারা ছিল যৌনতার ব্যাপারে অকালপক্ক । সহচর-সহচরী  খেলার সাথীদের  হঠাৎ  বাল্যবিবাহ, তাঁদের যৌনতার অভিজ্ঞতার নিষিদ্ধ আলোচনা তাদেরকে পাকিয়ে দেয়। কোনটা শিশ্ন, যোনি, স্তন, কোনটার কী কাজ, সেটা আমাদের সময়ে আমাদের গ্রামের  খেলার সাথীরা ভালোই বুঝতো। পুরোপুরি নাগরিক হতে হতে ৭৯ সাল। প্রতি   ঈদে পার্বনে নানাবাড়ি যেতে হোত, যৌনজ্ঞানের  পার্থক্যটা তখন চোখে পড়ার মতো ছিল । মোরগ-মুরগী বা  কুকুরের সংগমে আমার বিন্দুমাত্র উৎসাহ না থাকলেও গ্রামের শিশুদের জন্য সেটা ছিল নিষিদ্ধ আনন্দ।

বছর সাতেক থেকে তেরো চৌদ্দ পর্যন্ত আমার যৌনচেতনা ছিলনা। অন্ততঃ আমার কিছুই মনে নেই।ক্লাস ফাইভে আমার সহপাঠিনী  মিতু প্রেম করা শুরু করলো বা অধুনা যেটাকে বলে ক্র্যাস খেল অপু নামের জনৈক নবম শ্রেনীর উদীয়মান গায়কের সঙ্গে। ওইটা আমার মনে আছে।

ক্লাস  সিক্সে স্কুলের পরিবর্তন। স্কুল পরিবর্তনের পরে , নতুন স্কুলের পোলাপানের সঙ্গে এলোমেলো সখ্যতা গড়ে উঠল। ফার্স্ট বয় থেকে লাস্ট বয় সবাই আমার বন্ধু ছিল। সবাই আমাকে আপন করে নিল।

বাসায় মামা চাচা ও গ্রামের আত্মীয়স্বজন অপর্যাপ্ত। দুই বেডরুম,ডাইনিং বাসাতে মাসের বেশীরভাগ দিন আমাকে নিজের বিছানা ছেড়ে দিয়ে ফ্লোরিং করতে হোত। দেশের বাড়ির কেউ না কেউ, হয় চিকিৎসা নয় এয়ারপোর্ট বা চিড়িয়াখানা দেখতে বাড়িতে জিইয়ে থাকত।   

বাসায় মামা , চাচা কেউ না কেউ যাওয়া আসার মধ্যে থাকতোই। তাদের ফিসফিসে নারীদেহ নিয়ে কথাবার্তা কানে বাজতো। হ্যাঁ, নারীর নগ্নদেহের ছবি একটা শিরশিরে অনুভূতি এনে দিত। মামা-চাচাদের কারো না কারো  অসাবধানে বিছানার তোষকের তলায় ফেলে রাখা নিউজপ্রিন্ট ছাপার পর্ন পত্রিকা হাতে পড়লো। বেশ কয়েকদিন লুকিয়ে লুকিয়ে  নেড়েচেড়ে দেখলাম। সম্ভবতঃ অর্ধনগ্ন ছবির একসেট প্লেয়িং কার্ডও লুকিয়ে লুকিয়ে কিছুদিন  দেখেছিলাম। তো, প নামের এক নতুন স্কুলবন্ধু স্বমেহনের ব্যাপারটা কেমন করে যেন মাথায় ঢুকিয়ে দিল। আমি জানি না, আমার সব বন্ধুদের সবাই, হয়তো নিজে নিজেই স্বমেহনের আনন্দ পেতে শুরু করেছিল। কিন্তু, এটা কেই আমরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করতাম না। এর মাঝে কেউ কেউ স্বমেহন যে খারাপ তা বলে তীব্র অপরাধবোধ ঢুকিয়ে দিল।  এটা খুব  খারাপ, পাপ হবে,  শরীর শুকিয়ে খারাপ হয়ে যাবে, স্মৃতিশক্তি নষ্ট হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। ক্লাস সেভেন বা ক্লাস  এইট পর্যন্ত যৌনমিলনের ব্যাপারে আমার জ্ঞানের পরিধি ছিল এই যে, শারীরিক মিলনে পুরুষাঙ্গ ও নারীর পায়ুপথ ব্যবহৃত হয়। অবশ্য এইটের  শেষের দিকে ক্লাসের অভিজ্ঞ ডেঁপো ছেলেদের জ্ঞান বিতরণে মানব-মানবীর শারীরিক মিলনের সব কিছু সূর্যালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেল !   

কিন্তু পড়াশোনার চাপে চিড়েচ্যাপটা , কৈশোরের একাকীত্ব স্বমেহনের দিকেই ঠেলে দিয়েছিল আমাকে ও আমাদেরকে।

এসএসসি পরীক্ষার পরপরই আমরা ঘোষনা দিয়ে বড়ো হয়ে গেলাম। এখন আমরা সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফিরতে পারব। আমরা কলেজছাত্র। এবং জ নামের এক বন্ধুর বাড়িতে আমাদের প্রথম  দলবেঁধে পর্ণছবি দেখা। ঢাকা কলেজে ভয়ঙ্কর মেধাবী মেধাতালিকার বন্ধুদের ছড়াছড়ি।  আমরা মিরপুরের ছেলেপেলে ছিলাম নিতান্ত মফস্বলী মফু ।  গভর্নমেন্ট ল্যাব বা ধানমণ্ডি বয়েজের পেন্টিয়াম ভার্সনের পোলাপানের কাছে আমরা ছিলাম ডস মুডের কম্পিউটার। একদিন কেউ একজন আমাদের মিরপুরবাসীকে জিজ্ঞাস করলো আমরা বাংলা পর্ন বা চটি পড়েছি কীনা। নেতিবাচক উত্তর পেয়ে সে বললো , তোরা তো এখনও শিক্ষিতই হস্‌ নাই, আয় তোদের শিক্ষিত করি। তো ওই চটি পড়ে আমরা অদ্ভুতুড়ে কিছু পশ্চিমবঙ্গীয় যৌনাঙ্গের ও মিলনপদ্ধতির নাম শিখলাম। বেশীরভাগ পুস্তিকা  বটতলায় ছাপানো, নীলক্ষেত উত্তম ভাঁড়ারঘর ছিল সকল কলেজগামী ছাত্রদের কাছে।

আমার ধারনা, আমাদের মানসিক গঠনে ওই সামান্য তথ্যবিকৃতি তেমন দীর্ঘমেয়াদী ছাপ ফেলতে পারে নাই। সমাজ ও পরিবারের এক্সপেক্টেশনের চাপ আমাদেরকে অনেকটা একমুখী করে রেখেছিল( স্বমেহনের ব্যপারটা ছাড়া। আমি পড়াশোনা করে কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারি স্বমেহন অত্যন্ত  স্বাভাবিক একটা  ব্যাপার। পাপ আর স্বাস্থ্যভঙ্গের ভুল বিকৃততথ্য যদিও আমার কৈশোরের একটা অংশ বিষময় করে দিয়েছিল। )

বয়েজ স্কুলে পড়লেও নানা কারনে কোচিং ও মহল্লার ভালোছাত্র হওয়ার বদৌলতে সতীর্থ সমবয়সী বান্ধবী ছিল। কিন্তু ওদের মানসিক পরিপক্বতা ছিল আমার বা আমদের চেয়ে বছর দশেক এগিয়ে। সম্পর্কটা ছিল নিতান্তই বড়োবোন-ছোটভাই টাইপের, বিকৃতিহীন স্বাস্থ্যকর।


ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি জীবনে নতুন করে কোন তাত্ত্বিক বা ব্যবহারিক জ্ঞানের সম্ভাবনা ছিল না।

যথারীতি কয়েকজন প্লেবয় বন্ধু ছিল, যাদের ব্যবহারিক জ্ঞান ওই পর্ণপত্রিকার গল্পের চেয়েও উত্তেজক ছিল। তারা তাদের যৌন অভিজ্ঞতার কথা বলত। আমরা অবদমিত মন নিয়ে তাদের রোমাঞ্চের ও মৈথুনের শীৎকার শুনতাম ও দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। তারপরে তো বিবাহিত জীবন, ‘দারা পুত্র পরিবার , তুমি কার কে তোমার !’

স্কুলকলেজের ডেঁপো  বন্ধুদের কেউ কেউ, ভীড়ের বাসে আরেকজনের সাথে ধাক্কা খেয়েছে বা ধাক্কা না  খেয়েই কল্পগল্প বানিয়ে বলেছে এটা বোঝা মুশকিল ছিল । যৌনতার ব্যাপারে ওই বয়সটা ছিল, সবকিছু বিশ্বাস করার, হা করে শোনার।


আমাদের প্রজন্মের মধ্যবিত্ত পরিবারের বেড়ে ওঠা অ্যাভারেজ একটা ছেলের যৌনজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অনেকটা আমার মতোই। ছোটখাট ভুল তথ্য ,স্বমেহন বা পর্ন ছাড়া আমি কোন বিকৃতি দেখিনা।



কিন্তু এর মাঝে  মধ্যবর্তী নতুন একটা বিকৃত প্রজন্ম  এসেছে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের শ্লীলতাহানি করছে, বা মাইক্রোবাসে তরুণীকে অপহরণ করে ধর্ষন করছে, তাদেরকে আমি চিনি না। দুর্ভাগ্য, এই বিকৃতদের সাথেই প্রতিমুহূর্ত বসবাস করতে হচ্ছে আমাকে আমাদেরকে !

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

না না গৃহী জাহিদ'রে আমি চিনি না ....  notlistening  hehe

গৃহী জাহিদ লিখেছেন:

  আমি মোটামুটি নজরে পড়ার মতো ভালো ছাত্র ছিলাম। পরিবারের ও শিক্ষকদের আলাদা একটা এক্সপেক্টেশনের ভার আমাকে বইতে হতো। কিন্তু  আমিও তো একটা কিশোর। আমার যে ছেলেবন্ধুটি , মেয়েদের স্কুলের সামনে যেয়ে সদ্য কিশোরীদের উদ্ভাসিত চাহনি, রহস্যময় বাঁক দেখে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে গল্প করতো ,তাতে  আমার মনটাওতো হু হু করে উঠতো।

দুষ্ট ব্যাক্তি ছিলি, স্বীকার না করলে কি সমস্যা হইতো? কোন ফটিক এইসব গল্প করতো রে? হায়দারের বড়ি নাকি?  donttell

এই ফোরামে দুষ্টু কবি আছে একজন .... ... মিলবে ভাল।  hehe

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

গৃহী জাহিদ, আপনার শেষের দুটো লাইনই আমাকে ভাবিয়ে তুললো।  thinking

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

না না গৃহী জাহিদ'রে আমি চিনি না ....  notlistening  hehe

গৃহী জাহিদ লিখেছেন:

  আমি মোটামুটি নজরে পড়ার মতো ভালো ছাত্র ছিলাম। পরিবারের ও শিক্ষকদের আলাদা একটা এক্সপেক্টেশনের ভার আমাকে বইতে হতো। কিন্তু  আমিও তো একটা কিশোর। আমার যে ছেলেবন্ধুটি , মেয়েদের স্কুলের সামনে যেয়ে সদ্য কিশোরীদের উদ্ভাসিত চাহনি, রহস্যময় বাঁক দেখে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে গল্প করতো ,তাতে  আমার মনটাওতো হু হু করে উঠতো।

দুষ্ট ব্যাক্তি ছিলি, স্বীকার না করলে কি সমস্যা হইতো? কোন ফটিক এইসব গল্প করতো রে? হায়দারের বড়ি নাকি?  donttell

এই ফোরামে দুষ্টু কবি আছে একজন .... ... মিলবে ভাল।  hehe

5 minutes and 3 seconds after:

পরিবেশ প্রকৌশলী , এইটা আমার  একধরণের কনফেশন। আমাদের দুইটা পারভেজ ছিল, একটা এখন সেনাকর্মকর্তা আরেকজন ছিল কালো পারভেজ, বলতে পারিস ওর কাছে নানারকম স্কুপ নিউজ থাকতো  shame

আক্ষরিক অর্থে তোরা আমার চেয়ে অনেক মেধাবী ছিলি, কিন্তু রোল নাম্বার আগে থাকায় মানসিক চাপটা আমাকে বেশীই নিতে হোত।

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

ভাববার বিষয়।তবে শিশুদের কিভাবে এই শিক্ষা সুস্থ ভাবে দেয়া যায় তা অনেক মাবাবাই জানেন না। আর বাংলাদেশের স্কূল তো এব্যাপারে ধোয়া তুলসী পাতা।

আল্লাহ আমাকে কবূল করুন

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

আমার মনে হয় এটা দুইভাবে হতে পারে। বাবা-মাকেই স্কুলে ডেকে এনে প্রথমে ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের দুঃসহ সময়ে তাদেরকে কিশোর-কিশোরীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। যৌনতা আমাদের রক্ষণশীল সমাজে এতোটাই অনালোচ্য, গোপনীয় নিষিদ্ধ একটা ব্যাপার-- সবাই শুধু এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু এই স্যাটেলাইটের যুগে, ইন্টারনেটের যুগে এড়িয়ে গিয়ে আমরা সমস্যাকে বাড়িয়েই চলছি। বিকৃতিকে বাড়তে দিচ্ছি। আমার বড়ো মেয়ে দশে পা দিয়েছে। আমি ও আমার স্ত্রী তাকে স্বাভাবিক সুস্থ শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন নিয়াজ মূর্শেদ (২৫-০৬-২০১৫ ১৫:১৯)

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

গৃহী জাহিদ লিখেছেন:

আমার মনে হয় এটা দুইভাবে হতে পারে। বাবা-মাকেই স্কুলে ডেকে এনে প্রথমে ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের দুঃসহ সময়ে তাদেরকে কিশোর-কিশোরীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। যৌনতা আমাদের রক্ষণশীল সমাজে এতোটাই অনালোচ্য, গোপনীয় নিষিদ্ধ একটা ব্যাপার-- সবাই শুধু এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু এই স্যাটেলাইটের যুগে, ইন্টারনেটের যুগে এড়িয়ে গিয়ে আমরা সমস্যাকে বাড়িয়েই চলছি। বিকৃতিকে বাড়তে দিচ্ছি। আমার বড়ো মেয়ে দশে পা দিয়েছে। আমি ও আমার স্ত্রী তাকে স্বাভাবিক সুস্থ শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আমি আমার স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতা বলতে পারি। তখন স্কুলের টয়লেটের দেয়ালে অশ্লীল অনেক লেখা লিখে রাখতো। কলম বা পেন্সিল দিয়ে আজে বাজে ছবি এঁকে রাখতো দেয়ালে এত কম বয়সী ছাত্ররা। কেউ না দেখার ভান করলেও কারো চোখ এড়াতে পারে না সেইসব।

টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের ক্রিড়া শিক্ষক এসে সবার ব্যাগ তল্লাশি করতো। কারো ব্যাগে চটি বই পাওয়া যায় কিনা সেটা চেক করতো। স্কুলের কাছেই অনেকগুলো পেপার, ম্যাগাজিনের দোকান ছিলো। ছেলেরা এইখান থেকে অশ্লীল বই কিনে ব্যাগে লুকিয়ে রাখতো টিফিন পিরিয়ডে পড়ার জন্য। কারো ব্যাগে একবার পেলে সেই ছাত্রকে সরাসরি স্কুল থেকেই বের করে দিতো কিন্তু এসব করেও লাভ হয় নি। ছাত্ররা চটি বই কিনে স্কুলের আশে পাশের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখতো। টিফিন পিরিয়ডে বা ছুটি হলে বই বের করে দেখতো ও পড়তো আর লুকিয়ে লুকিয়ে হাসতো। এই স্কুল কিন্তু ঢাকার অন্যতম সেরা স্কুল। এই স্কুলেরই এই অবস্থা। অন্য স্কুলের কি অবস্থা সেটা কিছুটা হলেও বুঝা যায়।

যৌনশিক্ষা প্রয়োজন আছে কিন্তু সব কিছু খোলামেলা করে দিলে বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। যতটুকু না জানলেই নয় ঠিক ততটুকুই জানানো উচিত। আর বয়স বাড়লে এমনিতেই সব কিছু জেনে যাবে। সব চাইতে যেটা বেশি প্রয়োজন সেটা হলো পত্রিকা, বই, ম্যাগাজিনের দোকানে জোরদার তল্লাশি চালানো ও স্কুল পর্যায়ের ছাত্রের হাতে কোন অবস্থাতেই মোবাইল ফোন না দেয়া।

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

নিয়াজ মূর্শেদ, আমার মনে হয়,  এই গভীর সামাজিক সমস্যার কোন একটা  নির্দিষ্ট বা একমাত্র সমাধান নেই। সামাজিক  সচেতনতা বৃদ্ধি অবশ্যই দরকার। আমার ও আপনার মতের মিল নাই হতে পারে। কিন্তু আমার ও আপনার সৎ উদ্দেশ্য/আকাঙ্ক্ষা  কিন্তু একই। পত্রিকা বা মোবাইল বন্ধ করলেই হয়তো সবকিছু ঠিক হবে না। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানোর জায়গাটাতে কাজ করতে হবে। নারী কোন ভোগপণ্য নয় ;  নারী শুধুমাত্র স্তন ও যোনীর সমষ্টি একটা ভোগের বস্তু নয় ! সময় লাগবে , কিন্তু শুরু করতে হবে কাউকে বা কাউকে। ধন্যবাদ।

Re: আমার শৈশবের যৌনশিক্ষা, আমাদের বেড়ে ওঠা ও আধুনিক বিকৃত প্রজন্ম ।

লেখা থেকে শেখার অনেক আছে।

ছেলে মেয়ে মানুষ করা এ যুগে বড্ড ভয়ংকর
খুব ভয় পাই মাঝে মাঝে।
নষ্ট হওয়ার পথ বর্তঅমানে হাতের মুঠোয়।
আগে ত তাও বই টই ছিল আর এখন নেট ফেট অরে বাপ্স আল্লাহ তুমি জান কি হবে :-( :-(

আল্লাহ আমাদের সন্তান্দের সঠিক পথে পরিচালনা করুন।  আমীন

নষ

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর