টপিকঃ চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

http://i.imgur.com/AFvMSNk.jpg

ছোটবেলায় একটা গল্প শুনেছিলাম। শিক্ষামুলক গল্প। এক মা এর নিজের একটি বাচ্চা আছে। আবার একটা সৎ বাচ্চা আছে। দুজনেই ছোট বাচ্চা। তো মা সৎ সন্তানটাকে কোলে কোলে রাখতো সারাক্ষন। কখনোই নিচে নামাতো না। অপরদিকে নিজের ঔরসজাত বাচ্চাকে সবসময় রাস্তায় হাটাতো। কোলে নিতোনা বললেই চলে। কোনো যায়গায় গেলে হাটিয়ে হাটিয়ে নিতো আর সৎ সন্তানকে কোলে নিয়ে যেত। সবাই তো তাকে বাহবা দিতে লাগলো তার এই মহানুভবতায়। একদিন একজন জিজ্ঞেস করলো যে সে কেন নিজের বাচ্চাকে রাস্তায় হাটায়, কষ্ট করায়, আর অপরের বাচ্চাকে কোলে কোলে রাখে। জবাবে মা বলে, তারা বড় হলে কোল বলে কিছু থাকবেনা। কন্টকপূর্ন রাস্তায় তাদের চলতে হবে। তাই আমার বাচ্চাকে আমি হাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছি ভবিষ্যতের জন্য তৈরী করতে। সে যাতে ভবিষ্যতে এই কষ্টের পথ এখন থেকেই অতিক্রম করা শিখে। আর সৎ বাচ্চাকে কোলে কোলে রেখে পঙ্গু করছি। ছোটবেলায় এ গল্পের মানে বুঝতামনা। মানুষকে জিজ্ঞেস করে পরে জানতে পেরেছিলাম মানে।
যাই হোক, এ গল্প বলার কারন হলো অনেক প্যারেন্টসদের দেখি তাদের সন্তানকে মাত্রাতিরিক্ত আগলে রাখে। একা কোথাও যেতে দেবেনা। কোথাও গেলে ৩০ বার ফোন করে খোজ খবর নেয়া। পৃথিবীটা কঠিন। সর্বদা ফ্যামিলিকে পাওয়া যাবেনা। অনেক সময় নিজের বুদ্ধি খাটিয়েও অনেক কিছু করা লাগবে। প্যারেন্টসরা এমন করার কারনে তার মধ্যে এই বাধাসমূহ অতিক্রম করার ক্ষমতা থাকেনা। বাস্তব জীবনে তারা কাল্পনিক পঙ্গু হয়ে যায়। বর্ম চকচক করলেও সেটা পড়া রাজপূত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি। বাস্তবতা মানুষকে অনেক কিছু শিখায় যা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শেখা অসম্ভব। এসব অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতে সাহায্য করবে।
smile

এম. মেরাজ হোসেন
IQ: 113
http://www.iq-test.cc/badges/4774105_3724.png

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

সুন্দর লেখা।
আমার বাব-মা কে ধন্যবাদ আমাকে স্বাধীনভাবে বড় হতে দেওয়ার জন্য। বাসায় যতদিন ছিলাম (ssc পর্যন্ত) নিজেদের ক্ষেতে মাঝে মাঝে কাজ করেছি, প্রয়োজনে গাছে উঠেছি (বিশেষ করে নারিকেল পাড়তে tongue ), নদীতে সাতার কেটেছি। এগুলোর অবশ্যই দরকার আছে বলে আমি মনে করি।

IMDb; Phone: OnePlus 8T; PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

লেখা দারুন হয়েছে

You are the one who thinks that i didn't get the point, so do i think of you...what a coincidence!!

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

মেরাজ০৭ লিখেছেন:

অনেক প্যারেন্টসদের দেখি তাদের সন্তানকে মাত্রাতিরিক্ত আগলে রাখে।

আমার এক বোনকে বারবার বলেও বুঝাতে পারি না। তবে এবার তার ছেলে দড়ি ছিড়বে।

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

সুন্দর লেখা !
কিন্ডারগার্টেন বা বাচ্চাদের স্কুলের সামনে গেলে দেখা যায় অভিভাবকরা কিভাবে একটা বাচ্চাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

চমৎকার বলেছেন ছবিটাও অনেক মজার হয়েছে। তবে শহরে মানুষ হওয়া বাচ্চগুলোর ক্ষেত্রে মা-বাবাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। শহরের সমস্যা তো সবারই জানা আছে।প্রতিদিনই একটা দুটো মিসিং কেস।

আল্লাহ আমাকে কবূল করুন

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

সেইটা আমি যখন আমার ভাইস্তা আর ভাগ্নীকে দেখি খুব খারাপ  লাগে।অথচ আমরা এই বয়সে কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়িয়েছি,খেলে বেরিয়েছি আমাদের মা বা তো আমাদের নিয়ে এতটা টেনশন করত না।আর এখন মা বাবারা  ছেলে মেয়েদের চোখের আড়ালি করতে দেয় না।নজরে রাখুন আদর করে মানুষ করুন সমস্যা নেই কিন্তু এই ভাবে  পঙ্গুতের মত মানুষ করলে বড় হয়ে সব জায়গায় ঠেকে ঠেকে শিখা লাগবে।যা মা বাবা আর সন্তান কারও জন্যই ভাল হবে না।

অন্যের কাছ থেকে যে ব্যবহার প্রত্যশা করেন আগে নিজে সে আচরন করুন।

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

বোরহান লিখেছেন:

সুন্দর লেখা।
আমার বাব-মা কে ধন্যবাদ আমাকে স্বাধীনভাবে বড় হতে দেওয়ার জন্য। বাসায় যতদিন ছিলাম (ssc পর্যন্ত) নিজেদের ক্ষেতে মাঝে মাঝে কাজ করেছি, প্রয়োজনে গাছে উঠেছি (বিশেষ করে নারিকেল পাড়তে tongue ), নদীতে সাতার কেটেছি। এগুলোর অবশ্যই দরকার আছে বলে আমি মনে করি।

পাই পাই করে বিল্ডিং বেয়ে উঠতে পারলেও নারিকেল গাছে উঠা শেখা হলই না!

Re: চকচকে বর্ম পড়া রাজপুত্র কখনো যুদ্ধক্ষেত্র দেখেনি

একজন পরিচিত কিন্ডার গার্ডেন-এর শিক্ষক বলেছিল যে;

তার স্কুলের বাচ্চাদের প্রায় অভিভাবক/ভাবিকারা বাচ্চাদের পরীক্ষার খাতায় নম্বর বেশী দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের পার্সোনালী টাকা বা উপহার সরবরাহ করে (সবাই না) । শুধু মাত্র একটি বা দুটি নম্বর বেশী দেবার জন্য শিক্ষকের দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া অভিভাবিকা সম্পর্কেও বলল।

এই ভাবে নাম্বার বেশী নিয়ে কি লাভ হয় তা জানার জন্য প্রশ্ন করতেই সে বলল, এই ধরনের অভিভাবকেরা বেশীর ভাগই অল্প শিক্ষিত অথচ স্থানীয়দের মাঝে তুলনামূলক বেশী টাকার মালিক। তারা তাদের সমগোত্রীয়দের সাথে বড়াই বা বাহাদুরী দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই কাজ গুলি করে থাকে। তাদের মানষিকতা এমন যে, টাকা দিয়েই সব কিছু সম্ভব তা টাকা যে পথেই আসুক।

কচি বাচ্চাদের পিছনে "কুলির মোট (বইয়ের বোঝা)", ৪~৫ টা টিউটর, কম্পিউটার গেম ইত্যাদি। ভাবখানা এমন এসব দিলেই বাচ্চারা বিল-গেটস হয়ে যাবে।

মন্তব্যঃ আমি জানি না এই "কুলির মোট" বহনকারী কোমলমতি শিশুরা জীবনের বোঝা নিতে পারবে কি না। বার বার অঞ্জন দত্তের একটা গানের কলি মনে আসছেঃ  "চশমাটা খসে গেলে মুশকিলে পড়ি, দাদা আমি এখনও যে স্কুলে পড়ি।।"

(স্বগোক্তি:  ও মোর আল্লাহ কি লিখতে কি লিখলাম ? )

????????????????????????????????????????????????????????????????????
Nothing Like Anything
????????????????????????????????????????????????????????????????????