টপিকঃ একজন জন্মান্ধ তিথি আর আমাদের স্বাধীনতা এবং বিপন্ন মানবতা ২০১৫।

তিথির মা তিথির জন্মের সময়ই মারা যায়। বাবাকে ও কোনদিন দেখেনি কারণ সে মা মারা যাওয়ার ৬ মাস আগেই ওর মাকে ছেড়ে চলে যায়। ১ দিনের শিশু তিথিকে আমাদের প্রিয় নিঃসন্তান কামাল ভাই আর নাজু ভাবি নিজ সন্তানের অভাব পূরণ করতে আপন করে নিয়েছিলেন। কেউ বুঝতে পারেনি তিথি জন্ম থেকেই দু’চোখে জন্মান্ধ আর বাক প্রতিবন্ধি, ও শুধু কানে শুনতে পায়। অনেক চেষ্টা করেও তিথির চোখের আলো আর মুখের কথা ফোটাতে পারেনি কামাল ভাই আর নাজু  ভাবি। দিন রাতে শুধু কেঁদেই চলেছেন। আজ তিথির বয়স ১৩। নাজু ভাবি সেদিন বাসায় এসে বললেন আজকাল প্রতিদিনের খবর শুনে তিথিকেও অঝোরে কাঁদতে দেখছেন, দেখেছেন তিথির কান্না, যে কান্না আজ জন্মান্ধ তিথির, সে কান্না আজ বেকারত্বের আশংকায় ৮০ লাখ গার্মেন্টস্ শ্রমিকের, যে কান্না আজ ৩ কোটি কৃষকের, ২ কোটি প্রতিদিনের রাজ যোগালী শ্রমিকের, যে কান্না  ২৫ লাখ এসএসসি- এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের, যে কান্না ৩০ লাখ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের , স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের।  যে কান্না ৮২ দিনের অবরোধের আগুনে পুড়ে ছারখার হওয়া ১২৭ জনের অসহায় পরিবারের। যে কান্না আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পরাধীন সাধারণ মানুষের, অসহায় স্বাধীনতার আর বিপন্ন মানবতার ২০১৫ এর।

Re: একজন জন্মান্ধ তিথি আর আমাদের স্বাধীনতা এবং বিপন্ন মানবতা ২০১৫।

সবই তো বুঝলাম, রানা প্লাজায় চাপা পড়ে কতজন মানুষ মরেছে, আর যারা মারা গেছে তাদের উপর নির্ভরশীল ছিলো কতটি পরিবার? কে কত করে ক্ষতিপুরন পেয়েছে? তাদের কান্না কি বন্ধ হয়েছে, সকল মৃত্যুই শুধু মাত্র একজনের মৃত্যু নয়, তার মৃত্যুর পর তার উপর নির্ভরশীল পরো পরিবারটিরই মৃত্যু হয়, সবাই তো তাদেরে নিয়ে রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, কান্না কাটি দেখাই দরদ দেখাই , তারপর? তাদের নিয়ে রাজনীতি করে সুফল ঘরে তোলে রাজনৈতিক দল - কিন্ত তারা কি পায়? সুতরাং তাদের কান্না নিয়ে উপহাশ বা রাজনীতি না করাই ভালে